সিরিয়াল নং চৌত্রিশে. . .

এনিমেল প্লানেট চলছে টিভিটাতে । জীবজন্তুর ধস্তাধস্তি দেখছে সবাই প্রচুর আগ্রহ নিয়ে । আলতাফ সাহেব বিরক্তি নিয়ে বসে আছেন । গন্ডারের বাচ্চা প্রসব করা দেখার মধ্যে এত ইন্টারেস্টিং কি আছে ঠিক বুঝতে পারছেন না ।

আলতাফ সাহেব বসে আছেন এপলো হসপিটালে । ডক্টরের সিরিয়াল তার চৌত্রিশ । সাড়ে ছয়টা বাজতেছে তার ঘড়িটাতে । ঘড়িটা গত বছর তার মেয়ে সাউথ আফ্রিকা থেকে পাঠিয়েছে । চমত্‍কার দেখতে । যদিও আশি টাকা দামের ঘড়ির সময় আর এই ঘড়ির সময়ে তেমন কোনো পার্থক্য খুজে পান না তিনি ।


এনিমেল প্লানেট চলছে টিভিটাতে । জীবজন্তুর ধস্তাধস্তি দেখছে সবাই প্রচুর আগ্রহ নিয়ে । আলতাফ সাহেব বিরক্তি নিয়ে বসে আছেন । গন্ডারের বাচ্চা প্রসব করা দেখার মধ্যে এত ইন্টারেস্টিং কি আছে ঠিক বুঝতে পারছেন না ।

আলতাফ সাহেব বসে আছেন এপলো হসপিটালে । ডক্টরের সিরিয়াল তার চৌত্রিশ । সাড়ে ছয়টা বাজতেছে তার ঘড়িটাতে । ঘড়িটা গত বছর তার মেয়ে সাউথ আফ্রিকা থেকে পাঠিয়েছে । চমত্‍কার দেখতে । যদিও আশি টাকা দামের ঘড়ির সময় আর এই ঘড়ির সময়ে তেমন কোনো পার্থক্য খুজে পান না তিনি ।

পৌনে সাতটা বাজতেছে । এসির মধ্যেও ঘামছেন আলতাফ সাহেব । তার আগেরজন মিনিট দশেক আগে ভেতরে গেছেন । এই দশ মিনিট সময় যেন অনন্তকাল মনে হচ্ছে । কি কি বলতে হবে তা তিনি মুখস্থ করে এসেছেন । মনে মনে গুছিয়ে নিলেন । বুকে বাম পাশে ব্যাথা । পানি খেলে চিনচিন করে । কিছুটা শ্বাসকষ্ট আছে । রিউম্যাটিক ফিভারের চিকিত্‍সা চলতেছে পনেরো বছর । একুশ দিন পর পর একটা করে বেনজাপেন বারো লাখ ।

রিসিপশনের মেয়েটা কফি কালারের ব্রা পরেছে । কাগজ সাবমিটের সময় তিনি দেখেছেন । এটা তার অনেক পুরোনো একটা অভ্যাস । বদভ্যাসও বলা যেতে পারে ।

কেমন আছো আলতাফ ?
আলতাফ সাহেব চমকে ডক্টরের দিকে তাকায় । মোটা ফ্রেমের চশমার পেছনে চির চেনা সেই চোখ । ডান চোখের নিচে তিলটা । হালকা পাক ধরা চুলে কিছুটা অচেনা লাগছে বটে । কিন্তু সেই চেনা হাসিটা ছাব্বিশ বছরের ব্যাবধানেও মিলিয়ে যায় নি ।

শুষ্ক একটা হাসি দেওয়ার চেষ্টা করলেন আলতাফ সাহেব । ব্যাপারটাকে স্বপ্ন ভাবার চেষ্টা করলেন । অথবা কোনো দুঃস্বপ্ন ।
ছাব্বিশ বছর আগে নিজে হাতে মেরে ফেলা প্রেমিকা এখন তার সামনে বসে হালকা শব্দ করে কফি খাচ্ছে ভাবতেই গা গুলিয়ে উঠছে তার !

#অর্ফি

১২ thoughts on “সিরিয়াল নং চৌত্রিশে. . .

  1. ব্রা এর কথা আনার বিরোধিতা
    ব্রা এর কথা আনার বিরোধিতা করতে চেয়ে ছিলাম পড়ে বুঝলাম তার চরিত্র তুলে ধরেছেন এর মাধ্যমে

    গল্প টা বেশি ছোট হয়ে গেছে

  2. যদিও আশি টাকা দামের ঘড়ির সময়

    যদিও আশি টাকা দামের ঘড়ির সময় আর এই ঘড়ির সময়ে তেমন কোনো পার্থক্য খুজে পান না তিনি ।

    — এইখান টা চমৎকার বলেছেন ।
    — ভাই/ বোন কি হ্যালুসিনেশন এ ভুগছেন ? খুবই খারাপ লক্ষণ !!!

  3. গল্পের আলোচনা বা সমালোচনায়
    গল্পের আলোচনা বা সমালোচনায় যাচ্ছি না। আপাতত পাঠকের সমালোচনা করি। অনুগল্প সম্পর্কে পাঠকের ধারণা আরও পরিষ্কার থাকা উচিৎ। ছোট গল্পের একটা সর্বজনগ্রাহ্য সংজ্ঞা রবীন্দ্রনাথ দিয়ে গেছেন। “শেষ হইয়াও হইল না শেষ”। অনুগল্পের সংজ্ঞা এখনও কেউ দিয়েছেন বলে জানা নেই। যেহেতু অনুগল্প, ছোটগল্পের চেয়ে ক্ষুদ্র পরিসরের, তাই এখানে বিস্তারিত বর্ননা চাওয়াটা বোকামি। ছোট, অল্প কিছু কথায় একটা গল্প ফুটিয়ে তোলার মাঝেই অনুগল্প লেখকের কৃতিত্ব। এই বিষয়টা মাথায় রেখে অনুগল্প পড়লে এবং মন্তব্য করলে ভালো হয়। কাউকে জ্ঞ্যান দেওয়া উদ্দেশ্য নয়। জাস্ট শেয়ার করলাম। :খুশি:

    1. হুম আপনার কাছে হয়তো গল্পই
      হুম আপনার কাছে হয়তো গল্পই শ্রেয় । অনুগল্প ও কিন্তু অনেক সমৃদ্ধ হয় । কারণ, গল্প হোক আর অনুগল্প হোক ” গল্প ” কিন্তু কমন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *