এই ঋণ কখনো শোধ হবার নয় ।।।

বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৬ ডিসেম্বর উজ্জ্বলতম দিন। দীর্ঘ ৯ মাসব্যাপী মুক্তিযুদ্ধের সমাপ্তি ঘটলে একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বরে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের জয়যাত্রা শুরু হয়। জাতীয় জীবনের আকাশে চারদিক ঘিরে শ্রাবণের ঘনকালো মেঘ যে হিংস্র আস্ফালনে এতদিন নৃত্য করছিল তার অবসান ঘটে এই দিনে। এ দিনে সূর্যের নির্মল আলোর বন্যায় চারদিক ঝলমলিয়ে ওঠে। তাই এ দিন আমাদের বিজয় দিবসও। এ বিজয় যেমন শত্রুর বিরুদ্ধে বিজয়, তেমনি সকল প্রকার সঙ্কীর্ণতার বিরুদ্ধেও বিজয়। পরনির্ভরশীলতা ও মানবিক বৈকল্যের বিরুদ্ধে ও বিজয়। সবার ওপরে এ বিজয় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সর্বগ্রাসী বিজয়। বিজয়ের পতাকা ছিনিয়ে দেশকে শএুমু্ক্ত করে জয়ের মালা আমাদের গলেই। এ বিজয় আমাদের অহংকার। এ বিজয় কড়া নেড়ে উঠে মুক্তিযুদ্ধের চেত নায়। সবক্ষেএে প্রেরণার উৎস।।।।
আজ এই গান টা খুব মনে পড়ছে এই রেললাইনের ধারে মেটোপথ তার পাড়ে দাড়িয়ে এক মধ্য বয়সী নারী এখন রেয়েছে হাত বাড়িয়ে, খোকা ফিরবে, ঘরে ফিরবে, কবে ফিরবে, নাকি ফিরবে না।।।। এই গানটা শুনলে বুকের ভিতর কেমন যেন একটা মোচড় দিয়ে উঠে।। এখন হয়ত অনেক মা আছেন ছেলের প্রতিক্ষায়। আগুনের দব দব শিখার মত জ্বলছে তাদের বুকের ভিতর। স্বাধীনতা ৪২ বছর পরেও মা যেন প্রতিক্ষা প্রহর গুনেই চলছেন ছেলের জন্য । ছেলে যুদ্ধে গিয়েছিল মাকে কথা দিয়েছিল বিজয়ের পতাকা ছিনিয়ে দেশকে শএুমু্ক্ত করে মায়ের কোলে ফিরে আসবে। দেশত স্বাধীন হল ছেলে যে ফিরে আসে না দিন যায় রাত যায় প্রতিক্ষায় প্রহর বেড়েই যায় । মায়ের কোলে তার মহাযোদ্ধা ছেলে ফিরে আসে না, কে বলবে তার খোকা দেশের জন্য শহিদ হয়ে সোনার বাংলা উপহার দিয়ে গেছে এই নতুনত্ব কে। শহীদের রক্তের ঋণ দিয়ে স্বাধীনতা দিয়ে গেছে আমাদের। তা শোধ করার সামর্থ্য আমাদের নেই , মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের যে উপহার দিয়েছেন তা আমরা শ্রদ্ধায় মাথা নোয়াই। । আমাদের উঁচু শীর শ্রদ্ধায় নত করি একাত্তরের সব বীর সৈনিকের স্মরণে।।এই রক্তের ঋণ কখনো শোধ হবার নয়।করতেও পারব না জীবনে।।।।।

৯ thoughts on “এই ঋণ কখনো শোধ হবার নয় ।।।

  1. না না না … তোমাদের এই ঋন
    না না না … তোমাদের এই ঋন কোন দিন শোধ হবে না ।
    মুক্তিযুদ্ধের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী।

    তখনি হয়তো অপেক্ষার পালা শেষ হতে পারে যখনি সব রাজাকারের শাস্তি নিশ্চিত হয়ে যাবে ।
    জয় বাংলা

  2. ” মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানী

    ” মাগো আর তোমাকে ঘুম পাড়ানী মাসী হতে দেবনা
    তোমার মাথার খোঁপারই ফুল বাসী হতে দেবনা … ”

    —- আপনার লেখা পড়ে পাশাপাশি উপরের গানটার কথাও মনে পড়লো । আমাদের মা আজও দু’হাত বাড়িয়ে রেখেছে তাঁর খোকাকে একটি আলিঙ্গনে বেঁধে নেবার জন্য । আমাদের মা এ দেশের সুখ – সমৃদ্ধির আশায় আজও দিন গুনছে । আমরা আমাদের মা – মৃত্তিকার খোঁপার ফুল বাসী হতে দিতে পারিনা ।

  3. আমি লজ্জিত বোধ করি। কারন
    আমি লজ্জিত বোধ করি। কারন যাদের রক্তের বিনিময়ে এক দেশ এবং পতাকা পেয়েছি তাদের যথার্থ সম্মানিত করতে, বুক খালি হয়ে যাওয়া সেইসব মায়েদের আমরা মূল্যায়ন করতে পারিনি। পাঁচ বছরের মার প্যাঁচের রাজনীতিতে মজে গিয়ে একাত্তরের রাজাকারের গাড়িতে সেই রক্তভেজা পতাকা উড়তে দেই আমরা। আমি লজ্জিত।

    1. প্রথম আলোতে প্রকাশিত শিশিরের
      প্রথম আলোতে প্রকাশিত শিশিরের সেই কার্টুনের কথা আপনার মনে আছে … ওই যে যেদিন জাতীয় স্মৃতি সৌধে রাজাকার নিজামি, মুজাহিদি মন্ত্রী হবার পর শ্রদ্ধা !!! জানাতে গিয়েছিলো তার পরের দিনের প্রথম আলোতে দেখেছিলাম – শহিদ জননী জাহানারা ইমাম তার অশ্রুভেজা আঁচল দিয়ে ওই নরপশুদের পায়ের চিহ্ন মুছে দিচ্ছেন । ওই কার্টুন টি আমি সংগ্রহ করে রেখেছিলাম । পরে হারিয়ে ফেলেছি । আমার দেখা সেরা কার্টুন । বেশ কিছুদিন আমি মানসিক অসুস্থতায় ভুগেছি ওই কার্টুনের গভীর তাৎপর্য অনুধাবন করে ।

      এরকম আরও একটি কার্টুন দেখার সময় কি আসন্ন ???

    2. যাদের বিনিময়ে দেশ ও পতাকা
      যাদের বিনিময়ে দেশ ও পতাকা পেয়েছি তাদের সম্মান করব কি করে?,দেশ ও পতাকা কে ই সম্মান করতে শিখিনি “আমরা”!

      আগে তো দেশ ও পতাকার প্রতি সম্মান রাখতে হবে তখন ই সেই বীর দের প্রতি সম্মান আসবে!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *