পূর্বের ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণতা

বর্তমান জলবায়ু সংকট পূর্বের ধারণার চেয়েও অনেক বেশী তীব্র ও চরম বলে প্রতিভাত হচ্ছে।

জাতিসংঘের বর্তমান আবহাওয়া পূর্বাভাসে ব্যবহৃত বিশ্বের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য জলবায়ু মডেলগুলোর সাম্প্রতিক দেয়া তথ্য থেকে জানা যায় আমাদের বিশ্ব পূর্বের ধারণার চেয়েও অনেক বেশী দ্রুত গতিতে উষ্ণ হচ্ছে।

একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক অলাদা আলাদা অবস্থার অধীনে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পরিমাপ করার জন্য বিশ্ব জলবায়ু গবেষণা কার্যক্রম (The World Climate Research Programme) ৩০ টিরও অধিক জলবায়ু মডেল ব্যবহার করছে। ২০২১ সালের জাতিসংঘের প্রতিবেদনের জন্য তৈরী করা ২০১২ সিমুলেশন হালনাগাদ করার জন্য এই প্রকল্পের অধীন দুইটি ফরাসী গবেষণাগার সাম্প্রতিককালে দুইটি নতুন জলবায়ু মডেল তৈরী করেছে। উভয় জলবায়ু মডেল ধারাবাহিকভাবে দেখায় যে ২১০০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা পূর্বের পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক বেশী তীব্র আকার ধারণ করবে।

আমাদের এই দুইটি মডেলের মাধ্যমে আমরা দেখতে পাই যে এসএসপিআই ২.(SSP1 2.6 ) হিসেবে পরিচিত পরিস্থিতি ( scenario) – যা সাধারণত আমাদেরকে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রার নীচে থাকতে দেয়আমাদেরকে কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় নিয়ে যায় না,” প্যারিসে অবস্থিত পিয়েরে সিমন ল্যাপলেস ক্লাইমেট মেডেলিং সেন্টার (Pierre Simon Laplace Climate Modelling Centre ) প্রতিষ্ঠানের প্রধান অলিভিয়ার বাউচার এএফপি নিউজ এজেন্সিকে জানান।

যদি বর্তমান ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকে তাহলে ২১০০ সালের মধ্যে গড় তাপমাত্রা ৬ থেকে ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াসের মধ্যে উঠে আসতে পারে, যা পূর্বকার ধারণার চেয়ে ১ ডিগ্রী সেলসিয়াস উপরে। এটা হল অন্যতম শোচনীয় পরিস্থিতি, তবে এমনকি সবচেয়ে আশাজাগানিয়া পরিস্থিতিও আমাদের জন্য খারাপ খবর বহন করে। এই নতুন অবস্থার ফলে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নীচে থাকার একমাত্র উপায় হল পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের খুবই তাৎপর্যপূর্ণঅভিবাসন প্রচেষ্টা (“very significant” migration efforts)। এটা একটা বিশাল চ্যালেঞ্জ, এমনকি এটা বিবেচনা করার আগেই যে বিশ্বের সবচেয়ে বেশী গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণকারী দেশগুলো তাদের স্বআরোপিত লক্ষমাত্রা অর্জনের পথে নেই।

এই নতুন মডেল উচ্চ বিশ্লেষণ ক্ষমতা সম্পন্ন জলবায়ু মডেলিং এর উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত, যার মধ্যে আছে সুপার কম্পিউটারের প্রক্রিয়াকরণ ক্ষমতা যা গবেষকদের জলবায়ু পরিবর্তনকে পূর্বের চেয়ে অধিক যথাযথতা সহকারে ধারণা করার সক্ষমতা প্রদান করে। সামষ্টিক ভাবে সিএমআইপি৬ ( CMIP6) নামে পরিচিত এই মডেলগুলো ব্যবহৃত হবে ২০২১ সালের জলবায়ু পরিবর্তনের পরবর্তী মেজর প্রতিবেদন তৈরিকারী আন্তসরকারী প্যানেলকে (Intergovernmental Panel ) শক্তিশালী করতে। এটা হল ষষ্ঠ মূল্যায়ন প্রতিবেদন, জাতিসংঘকে জলবায়ু পরিবর্তন এবং এটার সম্ভাব্য প্রভাবের বৈজ্ঞানিক দৃষ্টভঙ্গি সরবরাহ করতে একটা বৈশ্বিক প্রচেষ্টা।

বাউচার আরো জানান, “আমরা এখন আরো উন্নত মডেলের অধিকারী। এগুলোর আছে উচ্চ বিশ্লেষণ ক্ষমতা এবং এগুলো বর্তমান জলবায়ু প্রবণতাকে আরো সঠিকভাবে পরিবেশন করে।

২০১৫ সালে সংগঠিত প্যারিস জলবায়ু চুক্তির (Paris Climate Agreement ) সময় ১৯৫ টি সদস্য রাষ্ট্র গ্রীনহাউজ গ্যাস নিঃসরণ কমাতে সম্মত হয় বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা ২ ডিগ্রী সেলসিয়াসের নীচে রাখতে। যখন এটা বোধগম্য যে ২ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা সমাজে এবং জীব বৈচিত্রে বড় ধরনের ক্ষতি সাধন করবে, বিশ্বের প্রবাল দ্বীপগুলোকে পুরোপুরি ধ্বংস করে ফেলবে। সুতরাং এটাকে স্বাভাবিকভাবেই একটা বাস্তব সংগত লক্ষ্যমাত্রা হিসেবে ধরা হচ্ছে।

তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *