“বদলী” (একটি প্রতিগল্প) মূলঃ ‘রাঁধুনী’- সফিক এহসান

মূলঃ ‘রাঁধুনী‘- সফিক এহসান!


মূলঃ ‘রাঁধুনী‘- সফিক এহসান!

বাতিটা নেভাতেই মনে হল মশারির ভেতর একটা মশা ঢুকেছে। এই মশারির ভেতর মশা ঢুকাটা অস্বাভাবিক বা নতুন কিছু না। বেশ কয়েক জায়গায় বড় বড় কয়েকটা ছিদ্র আছে। (ছিদ্র না বলে বলা উচিৎ ভোগলা।) সেগুলো দিয়ে অনায়াসে বড় সাইজের কয়েকটা বোলতা ঢুকে পড়তে পারে। আসার সময় ভাল করে দেখার সুযোগ পাইনি। তাড়াহুড়ো করে পুরোনো ট্রাঙ্ক থেকে এই ছেঁড়া মশারিটাই নিয়ে চলে এসেছি। নতুন একটা কেনা দরকার। আবার ইচ্ছাকৃত করে কিছু ভোগলা নিজেই করেছি মশারীর ছাদে, যাতে ফ্যানের বাতাস বেশী লাগে। আমার আম্মার বুদ্ধি এইটা আম্মা বলে মশা নাকি উপর থেকে কখনই ডূকে না তারা কামরাতে আসে পাশ থেকে; পরে দেখলাম আসলেই সত্য একটা পর্যবেক্ষণ। এ ‘মা’ আজীবনই ছেলের একটু আরামের জন্যে সারাদিন ভাবে। তারপর ‘মা’-কে ফোন দিয়ে কথা বললাম। আমার মা আর বাবা থাকেন আমাদের গ্রামের বাড়িতে। আব্বা বলে তোদের এই মেকী শহরে আমি নাই; আমার সকাল-বিকাল পাড়াময় অবিরাম না হাঁটলে শান্তি লাগে না। তোরা শহরে থাক আমি বাবা আমার পৈত্রিক ভিটা ছেড়ে কোথাও যাচ্ছি না। শহুরে এই যান্ত্রিকতা সবসময় আব্বার কথাগুলো মনে করিয়ে দেয়।

পরশু থেকে অফিস আগামীকাল বেশ কিছু কেনা কাটা করতে হবে। ঘরে প্রায় কিছু নেই বললেই চলে। টুকিটাকি মালপত্র আর কাপড়ের ব্যাগগুলো পাশের ঘরে রেখেছি। এই ঘরে কেবল পুরোনো একটা চাদরের ওপর আমি আর আমার ওপর টাঙ্গানো এই ছেঁড়া মশারিটা। তা টাঙ্গাতে গিয়েও কত ঝামেলা! ফ্যান এখনও লাগানো হয়নি বলে উপরের কসরত করে কাঁটা জানালাগুলোও অকেজো। ওদিকে বাড়িওয়ালার ১৪৪ ধারার নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেয়ালে তিন তিনটা পেরেক গাড়তে হয়েছে। আরেকটা গাড়তে হয় নি; জানালার সাথে লম্বা রশি দিয়ে বেঁধে দিয়েছি। তবে কালকের মধ্যে একটা ব্যবস্থা করে ফেলতে হবে।

শ্রবন্তী কবে আসবে তার কোন ঠিক নেই। পাশে তাকে নিয়ে ঘুমায় নি বিয়ের পরে খুব একটা, এইবার দীর্ঘ দিনের বিরতির মানসিক প্রস্তুতি নেয়াটাও চরম বেদনার। কীভাবে সামনের দিনগুলো কাটবে জানিনা। আমাদের বিয়ে হয়েছে আজ ৩ বছর হতে চলল। ভার্সিটির শেষের দিকে এসে আমাদের পরিচয় ও প্রেম আর ফলশ্রুতিতে বিয়ে। সুখেই কাতছিল মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান বলে চাকুরীর এমন অযাচিত বদলিটাও উপেক্ষা করতে পারি নি। দয়াবান বাড়িওয়ালার ভদ্রতার আপ্যায়নটি না হলে আজকে রাতে উপোষ করতে হত বা হোটেলে খেতে হত বউকে মিথ্যা বলে। বিয়ের পর উপলক্ষ্য ছাড়া তেমন হোটেলের খাওয়া খাওয়াই হয়নি। আমরা দুজনই চাকুরীজীবী তাই অফিস থেকে ফিরে একসাথে রান্না করতাম আমরা। সকল কাজ ভাগাভাগি করে আমরা করতাম খুব বেশী সময় লাগত তা কিন্তু না। ১ থেকে ১.৫ ঘণ্টাই আমাদের সব কাজ শেষ হয়ে যেত তারপর গল্প করা আর টিভি দেখা কখনও কখনও বাড়ির চাঁদে গিয়ে আকাশ দেখা এমনই ছিল দিনগুলো।

এইসব ভাবতে ভাবতে লক্ষ্য করলাম মশাটা কানের কাছে পুন পুন করা বারিয়ে দিয়েছে। বোধহয় পুরুষ মশা শুনেছি পুরুষ মশারা নাকি রক্ত খায় না। শুধু মাঝে মাঝে পুন পুন করতে করতে কানের ভেতর ঢুকে পড়ার চেষ্টা করে। আমি মশাটার সাথে গল্প জুড়ে দিলাম- কী মশা ভাইজান, আছেন কেমন? আপনাদের এলাকায় নতুন আসলাম। আচ্ছা, আপনাদের এখানে হাড়ি পাতিল পাওয়া যায় কোথায় বলতে পারেন? আপনার ভাবী না আসা পর্যন্ত আমাকেই রান্না করে খেতে হবে। আর তো কোন উপায় নেই- নাকি বলেন?
মশাটা জবাব দিলো- পুন পুন, পুন পুন!
মশার সাথে কথা বলতে গিয়ে হঠাৎ একটা জরুরী কথা মনে পড়ে গেল। পৌঁছেই শ্রাবন্তীকে একটা ফোন করার কথা ছিলো, করা হয়নি। চায়না মোবাইলের এ এক সুবিধা একবার চার্জ দিলেই এক সপ্তাহ; বউ আসার আগে মনে করে চার্জ করে দিয়েছে সে কীভাবে বুঝতে পেরেছিল কে জানে? এসেই দেখি এই বাসাটার সকেট সব নষ্ট কালই সাড়াতে হবে, ভাবতে ভাবতেই তাকে কল দিলাম। তারপর নিছক ছেলেমানুষী আর টিনেজ প্রেমালাপ…

কবে তোমার বদলী আদেশ হবে? আমার বউ প্রচণ্ড ভাল ছাত্রী ছিল সে এখন একটি ব্যাংকে কাজ করছে ২ বছর ধরে। বদলীর জন্যে সকল কাজই নাকি সম্পন্ন করেছে কিন্তু আদেশ হতে আরও মাসখানেক সময় লাগবে। হঠাত একটা বুদ্ধি এল মাথায় বললাম ‘এক কাজ কর তুমি ১৫ দিনের ছুটিটা নিয়ে চলে আস আমরা দুজনে মিলে সব সাজিয়ে ফেলি তারপর না হয় বদলীর আগে আবার বুঝিয়ে দিয়ে এস।’ ব্যাংকের চাকরীর এই এক সুবিধা চাকরি কনফার্ম হলেই ১৫ দিনের বার্ষিক ছুটি থাকে বাধ্যতামূলক, নাম দিয়েছে LFA অর্থাৎ Leave Fair Allowance. এইটাই পুঁজিবাদের মসজিদ খ্যাত আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চাকুরিকরার ভাল দিক। আমরা মধ্যবিত্ত আর নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানেরা আজীবন এই পুঁজিবাদী যাঁতাকলে পিষ্ট হয় আর সমালোচনা করি কঠোর আর নির্মম বাস্তবতা সুযোগ পেলেই নিজের স্বার্থেও ব্যবহার করতে বাধ্য থাকি। বউতো খুশিতে আত্মহারা সে ভুলেই গেছিল যে ১ বছরের পর থেকে সে এই ছুটি পায়।

নতুন জায়গায় ঘুম সহজে আসতে চায় না। তার ওপর মেঝেতে শুয়ে অভ্যাস নেই। তবুও সারা দিনের ক্লান্তিতে এক সময় ঘুমিয়ে পড়লাম। এদিকে চিলিং ফ্যানের শুন্যতারও একটা সমাধান হল নিচে ঘুমানোর কারণে। আর আমার কানের কাছে পুরুষ মশাটা পুন পুন করে উড়তে লাগলো যথারীতি। মনে হয় আমাদের মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের মত অনবরত প্রতীবাদরত কিন্তু কাজের না। মশাটার কি ক্লান্তি নাই? নাকি আমৃত্যু সে এই পুনপুন করতেই থাকবে?

আজ সকালে বেশ কিছু কেনাকাটা করলাম এই নতুন সংসারের জন্যে দাম বেশি নিলো কিনা বুঝতে পারছি না। চুলাটার দাম যে বেশি নিয়েছে কোন সন্দেহ নেই। এইটুকুন একটা স্টোভের দাম চারশ’ আশি টাকা হতেই পারে না। আর বাসায় সিলিং ফ্যান লাগানো আর নানান কাজ শেষ করে নিজের পছন্দের ডাল-ভাত-ডিমভাজি আর আলুর ভর্তা তৈরি করে ফেললাম। ভালই পরিশ্রম হল গোটা দিন সবশেষ করতে করতে দুপুর গড়িয়ে বিকাল।তারপর একটা গল্পের বই পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। দরজায় ধাক্কাধাক্কির শব্দে ঘুম ভাঙলো। খুলে দেখি বাড়িওয়ালা এসেছেন। ভদ্রলোকের নাম মোছাদ্দেক আলী। দোতলার ফ্ল্যাটে স্ত্রী নিয়ে থাকেন। কোন ছেলে মেয়ে নেই। সন্ধ্যার দিকে তিনি ঘুরতে বের হন। প্রত্যেক ফ্ল্যাটে গিয়ে গিয়ে ভাড়াটেদের খোঁজ খবর করেন। আমাকে দেখে বললেন: ঘুমিয়েছিলেন নাকি? বিরক্ত করলাম বোধহয়।

আমি তাড়াতাড়ি দরজা ছেড়ে দিয়ে বললাম: আরে না তাতে কী হয়েছে? আসুন ভেতরে আসুন।
মোছাদ্দেক সাহেব ভেতরে ঢুকতে ঢুকতে বললেন: মালপত্র দেখি কিছু আনেননি এখনও।
আমি লজ্জায় পড়ে গেলাম। ঘরে আসবাবপত্র বলতে কিছু নেই। এক কোনায় শুধু একটা মাদুর বিছানো; ওটার ওপর এতোক্ষণ আমি শুয়ে ছিলাম। তাকে আমি কোথায় বসাই?
মোছাদ্দেক সাহেব নিজেই আমার সমস্যার সমাধান করে দিলেন। সরাসরি মাদুরের ওপর বসে পড়ে বললেন: ভাবীকে কবে আনবেন?
আমিও বসতে বসতে বললাম: এইতো, মাসখানেকের মধ্যেই।
: নতুন বাসা কেমন লাগছে? কোন অসুবিধা হচ্ছে নাতো?
: না, এমনিতে ফ্ল্যাটটা চমৎকার, কোন অসুবিধা হচ্ছে না। তবে আপাতত খাওয়া দাওয়াটাই সমস্যা। আপনাদের এদিকে কাজের লোক পাওয়া যায় না?
মোছাদ্দেক সাহেব চিন্তিত ভঙ্গিতে মাথা চুলকিয়ে বললেন: অল্প কয়েকদিনের জন্য লোক পাওয়া মুস্কিল। তবে দেখি কী করা যায়।
ভদ্রলোক অনেকক্ষণ পর্যন্ত গল্প করলেন। কোন ফ্ল্যাটের লোকজন কেমন সে সম্পর্কে আমাকে ধারনা দিলেন, এই বাড়িটা করতে গিয়ে কত সমস্যায় পড়েছেন তার খুটিনাটি বিবরণ দিলেন। আরও কতো প্যাঁচাল!
তবে লোকটি সত্যিই ভদ্রলোক। না করা সত্ত্বেও জোর করে তাদের ফ্ল্যাটে নিয়ে গিয়ে রাতের খাবারটা খাইয়ে দিলেন। আর বলতে লাগলেন এইবেলা আর কষ্ট করার দরকার নাই আমার সাথে খেয়ে নিন আগামী কাল আপনার রান্না আমি টেস্ট করে দেখব নে।

পরদিন সকাল বেলা। অফিসে যাবার জন্য তৈরী হচ্ছি। দেখি বাড়িওয়ালা বার-তের বছরের একটা ছেলে নিয়ে হাজির। ছেলেটার নাম রাসেল; এতিম। বড় রাস্তার পাশের একটা হোটেলে টেবিল মোছার কাজ করতো। আজ সকালে একটা কাঁচের প্লেট ভেঙে ফেলার অপরাধে চাকরিটা চলে গেছে। ঘরের সব কাজ করতে পারে। টুকটাক রান্না-বান্নাও নাকি জানে। তিনবেলা খাওয়া-পড়া দিলেই চলবে, কোন বেতন লাগবে না। আমি হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম। ওর ওপর বাজার-ঘাট, রান্না-বান্নার দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়ে আমি অফিসে গেলাম।

সন্ধ্যাবেলা এসে দেখি ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ। অনেকক্ষণ ডাকাডাকির পর ঘুম ঘুম চোখে রাসেল দরজা খুলল। আমি অবাক হলাম: এতো সন্ধ্যায় ঘুমিয়ে পড়েছিস! খাবার-দাবারের খবর কী?
রাসেল চোখ কচলে হাসি মুখে জানালো: খবর খুব ভালো খালুজান। ওস্তাদের কাছ থিকা আমি সব রান্নাই হিগছি। খাইয়্যা দেখেন কিমুন টেষ্ট অইছে। আমি হাত মুখ ধুয়ে খেতে বসলাম। আয়োজন নেহাত খারাপ করেনি। আলু ভর্তা, পটল ভাজি, ছোট মাছের তরকারি আর ডাল। খেতে গিয়ে আমার মুখ বেকে গেল। রাসেলের রান্নার হাত আমার মতোই- “ভাল”! আলু ভর্তার আলু কাঁচা কাঁচা রয়ে গেছে। পটল ভাজিতে লবণ দিতে মনে ছিলো না। তরকারিতে হলুদটা একটু বেশি হয়ে গেছে। তবে ডাল আর ভাত ফার্ষ্ট ক্লাস।
খেতে খেতে রাসেল বলল: পরথম দিন তো তাই দিশা পাই নাই। কাইল আর এমুন রান্না খাইতে অইব না। সব সাইজ কইর‌্যা ফালামু, দেইখেন ভাইজান।
ছেলেটার স্মৃতিশক্তি কম। সকালে যখন এসেছিলো তখন আমাকে মামা ডেকেছে। খেতে বসার আগে ডেকেছিলো খালুজান। এখন আবার ভাইজান ভাইজান করছে। সেটা কোন সমস্যা না। আমার দরকার ওর রান্না; এর পর যদি খালাম্মাও ডাকে তাতেও কিছু এসে যায় না!
পরদিন অবশ্য সত্যি সত্যি ওর অদক্ষ হাতের রান্না আমাকে আর খেতে হয়নি। কারণ, সকাল বেলা উঠেই দেখি ঘরের দরজা হাট করে খোলা। রাসেল আমার মানিব্যাগ আর হাত ঘড়িটা নিয়ে উধাও। টেবিলের ওপর আমার মোবাইলটা ছিলো, সেটা তেমনি পড়ে আছে। বোধহয় ওটার দাম সম্পর্কে ওর কোন ধারনা নেই। ভাল করে খুঁজে দেখলাম আরও কিছু নিয়েছে কিনা। কাপড়ের ব্যাগের পকেটে হাজার পাঁচেক টাকা ছিলো। সেগুলো ঠিকই আছে। নেবার মধ্যে শুধু সেই ছেঁড়া মশারিটা নিয়ে গেছে। এতো কিছু থাকতে ঐ মশারিটা ওর পছন্দ হলো কেন সে এক রহস্য।
বাড়িওয়ালাকে বলতেই তিনি গম্ভীর ভাবে মাথা দুলিয়ে বললেন: বড্ড ভুল হয়ে গেছে ভাই সাহেব। কোন কিছু না জেনে শুনে এভাবে রাস্তার একটা ছেলেকে কাজে নেয়া উচিৎ হয়নি। আপনি বরং এক কাজ করুন- ভাবী না আসা পর্যন্ত আপনি বরং আমাদের সাথেই খাবেন একা একা আর কষ্ট করে রান্না বান্নার জামেলায় যাওয়ার দরকার নেই।

আমি হাসি মুখে তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলাম। অন্যের ওপর বোঝা হয়ে থাকাটা আমার পছন্দ নয়। পরদিন শুক্রবার। বেলা করে ঘুম থেকে উঠা আমার পুরনো অভ্যেস। দরজায় কে যেন কড়া নাড়ছে। বিরক্ত স্বরে জিজ্ঞেস করলাম: কে? এদিকে হাত ঘড়ি দেখে মাথা বিগড়ায় গেল বাজে বেলা ১২ টা ২৩ মিনিট। তাড়াহুড়ো করে জিগ্যেস করলাম। কোন উত্তর এলো না। শুধু আগের থেকে আরও জোরে কড়া নাড়তে লাগলো। ভিক্ষুক-টিক্ষুক হবে হয়তো না বাড়িওয়ালা কে জানে!! আমি বিরক্তির সাথেই দরজা খুললাম এবং দরজা খুলেই আনন্দে চিৎকার করে উঠলাম: আরে- তুমি!

দরজার ওপাশে শ্রবন্তী হাসি হাসি মুখ করে দাঁড়িয়ে আছে। হাতের ব্যাগটা নামিয়ে রেখে বলল: চলে এলাম। তুমি ভালো আছো? কেন জানি না, ওকে দেখে খুশিতে আমার চোখে পানি এসে গেল। তাই দেখে শ্রাবন্তী বলল: কি ব্যাপার কাঁদছো কেন? আমি মাথা ঝাকিয়ে বললাম: ধুর! কোথায় কাঁদছি? আসলে পেঁয়াজ কাটছিলাম তো!

~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~~
আমি নবরূপে গল্পটি লিখলাম, পাঠকের এমন উপস্থাপন কেমন লাগল?
(উৎসর্গ: আমার মা সহ পৃথিবীর সকল ‘মা’-কে যারা চরম মানসিক নির্যাতনেও আপন পুরুষদের নিজের আঁচলে আগলে রাখেন পরম আদরে এবং গল্পটির মূল লিখক সফিক ভাইকে… )

৩৯ thoughts on ““বদলী” (একটি প্রতিগল্প) মূলঃ ‘রাঁধুনী’- সফিক এহসান

    1. ধন্যবাদ…
      ভাল

      ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      ভাল লেগেছে জেনে প্রীত হলাম!!

  1. হুম… নিজের গল্পের আপডেট
    হুম… নিজের গল্পের আপডেট ভার্সন- খারাপ হয় কিভাবে?

    কিন্তু তারিক ভাই- আমার গল্পের ম্যাসেজটা কি এই গল্পে এসেছে? আমার গল্পে আমি আমাদের সমাজের একটা বাস্তব জীবনের চিত্র তুলে ধরতে চেয়েছি। যেখানে ঘরের বৌ-এর প্রতি বাস্তব দৃষ্টিভঙ্গীটা ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি…
    আর আপনি লিখেছেন একটা সুন্দর ভালোমানুষী গল্প। একটা ভালো মানুষ স্বামীর গল্প… একটা কাঙ্খিত সমাজের গল্প…

    হয়তো আপনার গল্পটাই এই সমাজে এখন বেশী দরকার… কিন্তু, লেখক কি সব সময় সমাজের কথা চিন্তা করে লিখতে বাধ্য? সাহিত্য কি শুধুই নীতিকথা? বাস্তবতা উঠে আসতে পারে না এখানে?

    নব্বই দশকের একটা কথা মনে পড়ে গেল… আমি যদিও তখন অনেক ছোট ছিলাম, নাটক বোঝার বয়স না! তবুও মনে আছে- হুমায়ূন আহমেদ-এর “কোথায় কেউ নেই” নাটকের বাকের ভাইকে নিয়ে প্রচুর হৈ চৈ হচ্ছে। আমি “বাকের ভাই সমাচার” জানি না, বুঝিও না, তবু সবার দেখাদেখি সারাদিন মিছিল করে বেড়াই- “বাকের ভাইকে ফাঁসি দেয়া- চলবে না, চলবে না!!!”

    পরবর্তিতে হুমায়ূন আহমেদ অনেক হতাসা নিয়ে তার আত্মজীবনি মূলক লেখায় বলেছিলেন- তিনি ঐ সময় এমন অনেক হুমকিও পেয়েছেন যে- “বাকের ভাইয়ের কিছু হলে আপনাকে ছেড়ে দেয়া হবে না। আপনাকেও ফাঁসিতে ঝুলানো হবে!”
    অথচ হুমায়ূন আহমেদ-এর মূল ম্যাসেজটা কেউ ধরতে পারলো না! তিনি নিজেকে “ব্যর্থ নাট্যকার” আখ্যা দিয়ে বলেছিলেন- বাঙ্গালী নাটকের “বাকের ভাই” চরিত্রে অভিনয়রত “আসাদুজ্জামান নূর”-এর প্রতি যে মমতা অনুভব করেছে তা যদি বাস্তবের বাকের ভাইদের প্রতি করতো, তাহলে আমার এই নাটকটা লিখতেই হতো না!

    তিনি বোঝাতে চেয়েছিলেন- আমাদের সমাজের হাজারও “বাকের ভাই” এই সব “কুত্তাওয়ালী”দের ষড়যন্ত্রের স্বীকার হচ্ছে প্রতিনিয়ত… তাদেরকে বাঁচাও…
    অথচ আমরা, সাধারণ দর্শকেরা সেই ম্যাসেজ বুঝতে তো পারিই নি, উলটো ভুল প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি… গালাগাল দিয়েছি স্বয়ং সেই চরিত্রের স্রষ্ঠাকেই!

    তারিক ভাই- আপনার লেখনি ভালো লেগেছে, প্রতি-গল্পটা কেমন হয়েছে সে কথা বাকিরা বলবে কমেন্টে…
    আমি শুধু একটা কথাই বলব- কীপ ইট আপ… সাথেই আছি!
    :ফুল:

    1. সফিক ভাই! আপনি যে ম্যাসেজ যে
      সফিক ভাই! আপনি যে ম্যাসেজ যে জন্যে দিতে চেয়েছিলেন সেই কারণটাই আমার অপছন্দ!! আপনার গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র আর আমার প্রতি গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র একই ও সমস্যাটাও!!!
      আপনি যেইটাকে সমস্যা দেখায়ছেন সেইটা আমার এইখানে সমস্যায় মনে হয় নি বরং এই সমাজের সবাই যেমনটা ভাবে তেমনটা থেকে সবার চিন্তাকে পরিত্রাণ দেয়…
      আপনার গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র যদি ঋণাত্মক কোন ব্যাপারকে সমর্থন দেয় তবে আপনার গল্পের থিম প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া স্বাভাবিক… ভাল থাকবেন!!
      আপনার জন্যেও :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:
      শুভ ব্লগিং…

      1. “একটা দুর্ঘটনা সারা জীবনের
        “একটা দুর্ঘটনা সারা জীবনের কান্না”
        এই থিমটা একটা মুভির মাধ্যমে ২ ভাবে প্রকাশ করা যায়।
        ১. “বোঝে না সে বোঝে না” মুভিটার মত একটা হাসি-খুশি ছিনেমার একেবারে শেষ প্রান্তে এসে একটা এক্সিডেন্টের করুন পরিনতি দেখিয়ে।
        ২. একজন সতর্ক ড্রাইভার-এর জীবনী দেখিয়ে যিনি কোন এক্সিডেন্ট না ঘটিয়ে নির্বিঘ্নে গাড়ি চালিয়ে গেলেন- আর কারো জীবন নষ্ট হলো না!

        ব্যাপারটা হচ্ছে- আমি একটা…

        যাক সে কথা। একই কথার পুনঃরাবৃত্তির কী দরকার?
        সমাজে অনেক ধরনের লেখক থাকবে, কেউ সুনীলের মত রোমান্টিক, কেউ নজরুলের মত বিদ্রোহী, কেউ রবী ঠাকুরের মত প্রেমীক, কেউ হুমায়ূন, কেউ জাফর ইকবাল, কেউ সমরেশ, কেউ বা শীর্ষেন্দু…

        সবাই সুখে থাকুক… শুভ ব্লগিং…
        :বুখেআয়বাবুল:

        1. সফিক ভাই আপনি আগের গল্পেও একই
          সফিক ভাই আপনি আগের গল্পেও একই ধরনের ভুল করেছেন আপনি নায়কের মুখে খারাপ জিনিস ব্যাপার তুলে দিলেতো পাঠক ভুল বুঝবেই…
          আমাদের দেশের শিল্পের রীতিতে একটা ভিলেন চরিত্র থাকে যাকে দিয়ে খল পার্ট বা খারাপ বিষয় জনগনের কাছে তুলে ধরা হয়…
          আমিও জানি ও মানি ‘সাহিত্য জীবনের মত আপত্তিকর’; তবে আপনার লিখার সাবলীলতায় খল বা নেগেটিভ ব্যাপার নায়কের মাধ্যমে ফুটে উঠে যা অপ্রত্যাশিত ও অগ্রহণযোগ্য অন্তত আমার কাছে… ভাল থাকবেন…
          সুখে থাকুন.. শুভ ব্লগিং… :গোলাপ:

          1. পার্থক্যটা এখানেই। আপনি
            পার্থক্যটা এখানেই। আপনি যেটাকে “খারাপ ” হিসাবে বিবেচনা করেন আমি সেটাই বাস্তবতা বলি…

            আপনি সব সময় সমাজটাকে আমূল পরিবর্তন করে দিতে চান।
            আর আমি চাই সমন্বয় করতে…
            কারণ আমার ধারণা পরিবর্তন রাতারাতি আসে না। দীর্ঘ দিনের ধ্যান ধারণা রাতারাতি বদলে দেয়া যায় না। সেটা হজম করতে সময় দরকার! এটাই
            … 🙂

          2. সমাজটাও মাছ বাজারের মত যদি
            সমাজটাও মাছ বাজারের মত যদি মাছ বিক্রেতার হাঁকানো ১০০০ টাকার প্রতিমূল্য ২০০/৩০০ টাকা না বলেন তবে আপনি তা ৫০০/৬০০ টাকা দিয়ে নিতে পারবেন না। একইভাবে এমন ভিন্ন বা বিপরীত শ্রোতে বয়ে যাওয়া সমাজকে পাল্টাতে হলে পুরাপুরি ১০০% উল্টা বা ১৮০ ডিগ্রিতে দাঁর বায়তে হবে না হয় সমন্বয় সম্ভব না। মিথ্যা-ভুল-আর মৌলবাদের সাথে সমন্নয় করতে গেলেই তা আপনাকে গিলে খাবে… সাধু সাবধান…

  2. সবাইকে ধন্যবাদ… তবে
    সবাইকে ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: তবে তুলনামূলক বিশ্লেষণ আশা করেছিলাম!!

    1. অনেকে বোধহয় খেয়ালই করেনি যে
      অনেকে বোধহয় খেয়ালই করেনি যে এটা একটা প্রতিগল্প এবং একই ভাষার আরেকটা গল্পেও সে কমেন্ট করেছে!

      বাচাল যাত্রির তালিকায় নাম ওঠানো দিয়ে কথা! এতো কিছু দেখার সময় কই?

      (কাউকে খাট করার জন্য বলিনি… কেউ আঘাত পেয়ে থাকলে নিজ গুণে ক্ষমা করে দেবেন…)

    1. দাদা আমার একটু বলার আছে। এই
      দাদা আমার একটু বলার আছে। এই গল্পটা আমি সফিক-ভাইয়ের গল্পের ভাবের প্রতীবাদে প্রতিগল্প হিসেবে লিখেছি… মূলটা পড়ে যদি একটু বলতেন!! :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  3. আসল বদলী প​ড়ে এখানে বিশ্লেষন
    আসল বদলী প​ড়ে এখানে বিশ্লেষন করতে হল​। আসল বদলীতে আমার এটা খারাপ লেগেছে যে মেয়েদেরকেই কেন হোম সুইট হোম বানাতে হবে? আর প্রতিগল্পে আসল গল্পের বিপরীতে যেটা ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন তা হ​য়নি লিংকন ভাই সরি। কারন শেষ পর্যন্ত ফলাফল এক।মেয়েটি তার কাজকর্ম ফেলে তার হাসবেন্ডের কাছে এসেছে সারপ্রাইস দেয়ার জন্য। আসলে কারো মানসিকতাই ভিন্ন না। হ​য়ত শেষটুকু এমন হতে পারত​- ফোনের কর্কশ আওয়াজে আমার ঘুম ভেঙে গেল​। ধুরুছাই করে ফোনটি নিয়ে দেখলাম শ্রাবন্তীর ফোন। ফোন ধরতেই অস্থির গলায় বলল,”তুমি ফোন ধরছিলে না কেন? আমি কত চিন্তা করছিলাম সে খেয়াল আছে?” আমার মুখে মুচকি হাসি ফুটে উঠলো কিন্তু একি, আমার চোখে পানি! হাসতে গিয়ে হ​য়ত ফোঁপানোর আওয়াজ চলে এসেছিল​, শ্রাবন্তী ব্যাস্ত হ​য়ে জিজ্ঞেস করলো,”কি হ​য়েছে? তুমি কাঁদছো!”,”ধুর কোথায় কাঁদছি, আসলে পেয়াজ কাটছিলাম তো!”।(আমার এই কাহিনী বদল খারাপ লাগলে সরি। আমি জিনিসটার মিনিং দেখাতে চেয়েছি জাস্ট।)

    1. মেয়েটি তার কাজকর্ম ফেলে তার
      মেয়েটি তার কাজকর্ম ফেলে তার হাসবেন্ডের কাছে এসেছে সারপ্রাইস দেয়ার জন্য।
      এইটা ভুল হইল ভাই! আমি লিখেছি শ্রাবন্তির ব্যাংকের চাকুরিতে LFA থাকে সে ১৫ দিনের ছুটিতে এসে নতুন সংসার গোছাতে এসেছে। আবার গিয়ে পোস্টিং নিয়ে একেবারে আসবে!! তারপরও আমি পুরুষ হিসেবে নারীর সমান অধিকার নিয়ে লিখেছি বলে হয়ত কিছু দুর্বলতা থেকেই যাবে। কিন্তু যেইসব আইন আপনাদের কোন অবদান বা নির্দেশনা ছাড়ায় সবাই মাঞ্ছে তার কি হবে? তবে আপনি যা বুঝাতে চেয়েছেন আমি তাই করতে চেয়েছি! কিন্তু সফিক-ভাই তা করেন নি বলেই আমার প্রতিগল্পটি লিখা! মূল গল্পের শিরোনামও ছিল চরম আপত্তিকর… যাহোক আপনাকে ধন্যবাদ!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      1. আমার বাবা ব্যাংকে চাকরি করে
        আমার বাবা ব্যাংকে চাকরি করে বিধায় আমি জানি যে এত দ্রুত কেউ ১৫ দিনের ছুটি পায়না। তাই আমি ব্যাপারটা ওভাবে নিয়েছিলাম। যাই হোক, ভুল মেনে নিলাম।

        1. আর ভুল স্বীকারের সৎ সাহস
          :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
          আর ভুল স্বীকারের সৎ সাহস থাকায় :bow: :bow: :bow:
          আমি ব্যংকে চাকুরীরত বন্ধুর সাথে কথা বলেছি! কোন কোন ব্যাংক (বেসরকারি) ১ বছর পর থেকেই LFA দেয়!! ভাল থাকবেন…

    2. রাইন, হোম সুইট করার দায়িত্বটা
      রাইন, হোম সুইট করার দায়িত্বটা তাহলে কে নেবে?
      শুধু সমাজ বিজ্ঞান না, একটু জীব বিজ্ঞান ও পড়েন…

      আমি কখনও এটা বলিনি যে এটা শুধুই নারীর কাজ! আমি বলেছি, নারী ছাড়া সম্ভব নয়…

      ম্যাসেজটা বোঝার চেস্টা করুন।

      1. বার বার একই কথা বলছেন শফিক
        বার বার একই কথা বলছেন শফিক ভাই!! কোন জীববিজ্ঞানী কি বলেছে?
        আপনি কিসের কথা বলছেন বার বার? যদি একটু বুঝিয়ে বলতেন!!

        1. মোবাইলে আছি ভাই, 1 লাইন লিখতে
          মোবাইলে আছি ভাই, 1 লাইন লিখতে 5 মিনিট লাগে! এতো বড় ব্যাখ্যা দেওয়ার সময় আপাতত নাই। পরে দেব ইনশাল্লাহ…

          শুধু এটুকু বলি- কিছু কাজে মেয়েরা যত দক্ষ ছেলেরা ততটা নয়, এটা বৈজ্ঞানিক অভিমত।
          এটা বলার উদ্দেশ্য এই নয় যে ঐ কাজগুলো ছেলেরা করবে না।
          আপনি আমার “নারী বনাম স°-সার” লেখাটির শেষ কমেন্টটা পড়েন…

          1. সফিক এহসান ভাই, অযাচিতভাবেই
            সফিক এহসান ভাই, অযাচিতভাবেই ঢুকে পরলাম একটা মন্তব্য করার জন্য। বিংশ শতকের নারীবাদীরা রবীন্দ্রনাথ , শরতচন্দ্রের লেখা কেন প্রত্যাক্ষান করেছিল জানেন? কারণ, তাদের গল্প নারীদের উত্তম মানের ঘরনীঈ করত। আপনার লেখার প্রতিফলন বাস্তব হলেও তা তাইই করবে। স্বামীর ভালবাসায় অশ্রুসিক্ত চোখ দেখে নারী উত্তমমানের রাঁধুনী হবার স্বপ্ন দেখবে, নিজেকে আরো বেশি সক্রিয় করবে সুইট হোম বানাতে- যেটা সমাজ প্রত্যাশা করে না। তাই আপনি লেখায় যদি তার কিঞ্চিত প্রতিবাদ করতেন তাহলে এমন হত না’

          2. ভাই, আমি এইটাই বুঝাতে চেয়েছি!
            ভাই, আমি এইটাই বুঝাতে চেয়েছি! অবশেষে কেউ আমার মনে কথাটা নিজের ভাষায় বলে দিল… ধন্যবাদ!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

            আর শফিক ভাই আপনার জীববিজ্ঞানের অভিমত পড়ার অপেক্ষায় রইলাম… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

      2. সব্ দায়িত্ব মানুষ নিজের
        সব্ দায়িত্ব মানুষ নিজের ইচ্ছায় নেয় না, কিছু তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে নেয় যেটাকে বলে জোর করা। কিছু আবার না চাইলেও চাপিয়ে দেয়া হ​য়। কে নেবে, এই প্রশ্নের জবাব কেন পুরুষেরা দিচ্ছে? আমি মেয়ে, ধরেন এই প্রশ্নের জবাবে আমি বললাম আমি নিবো না, তখন ফলাফলটা কি বানাতে চাইবেন? দোররা? জুতাপেটা? মানসিক নির্যাতন ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল? হোম সুইট করার দায়িত্বটা তাহলে কে নেবে?= এই প্রশ্নের উত্তর পুরুষ মেয়েদের গলা থেকে বের করে নেয় ওইসব উপায়ে।

  4. গল্প পড়েছিলাম। কিন্তু
    গল্প পড়েছিলাম। কিন্তু পরীক্ষার দৌড়ে থাকায় নিয়মিত মন্তব্য করা হয়নি। আপনার উপস্থাপনা ভালো লাগছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. ধন্যবাদ…
      আর

      ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      আর পরীক্ষা শেষে আপনাকে ইস্টিশন সর্বক্ষণ পাবে আশা করি… ভাল থাকবেন!!

  5. গল্পটা ভাল হয়েছে। কিন্তু আমি
    গল্পটা ভাল হয়েছে। কিন্তু আমি সফিক এহসানের সাথে একজায়গায় একমত যে এটা বাস্তব দৃশ্য হল না, প্রত্যাশিত সমাজের দৃশ্যকল্প হল।
    কিন্তু আপনি যে ব্যাপারটা তুলে ধরতে চেয়েছেন সেটাও খানিকটা বুঝতে পেরেছি খুব সম্ভবত। আপনি নারীবাদীদের সুরে রবীন্দ্র, শরটচন্দ্রকে প্রত্যাক্ষান করার মত করে সফিক এহসানের গল্পটির খুঁত ধরেছেন। তবে এখানে আবারো বলি সফিক এহসানের প্রয়োজন ছিল বাস্তব গল্পের সাথে নারীদের রাঁধুনি মনোভাব পরিবর্তনের কিছু দৃশ্য তুলে ধরার। আপনার মত করে পরিবর্তিত সমাজের দৃশ্য তুললে সেটা আর বাস্তব থাকে না।

      1. ভাই! কালে কালে যদি একই শ্রোতে
        ভাই! কালে কালে যদি একই শ্রোতে গা ভাসাবেন তো আর এই নারী তেঁতুল থেকে মানুষ হতে পারবে না!! আজ শিল্পীরা, কবিরা, গায়কেরা, চলচ্চিত্রে সর্বত্রই নারীর জাগরনের বা সমধিকারের সুর নতুন সুরে বাজাতে হবে!! না হয় উত্তরণ সুদুরপরাহতই থেকে যাবে…
        আমি আগের কাউকেই ছোট করছি না! তবে আমাদের আধুনিক সাহিত্যিক বা কবিতো ওনারা কেউ না… একটু বিশদ আলোচনা দরকার আপাতত এটুকুনেই ক্ষান্ত দিলাম!!

        ভাল থাকবেন। এমন তথ্যের আধান-প্রদান আমার ধারনাগুলোকে আরও স্পষ্ট করবে… আপনাকে ও সবাইকে ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

        1. কালে কালে গা ভাসানো না
          কালে কালে গা ভাসানো না ব্যাপারটা হল আপনি যদি প্রত্যাশিত সমাজের গল্প লেখেন তখন তা সমাজের বাস্তবতার বাইরে চলে যায় এবং তখন লেখার মন্তব্য এমন হয় যে ‘বাস্তবতা আর স্বপ্ন দেখা এক নয়’। আওনার গল্পের ভাল দিক এই তা নারীর মর্যাদা কেমন হওয়া উচিত তা দেখিয়েছে কিন্তু নারীর প্রতি কেমন আচরণ করা হয় তা দেখানো হয়নি। একজন লেখকের দু’টো প্রেক্ষাপটই তুলে ধরা উচিত। দু’টোর যোগসুত্রই লেখার মধ্যে পেলে লেখাকে একপাক্ষিক মনে হবে না। যেমন আপনার লেখায় তেমন কোন সমস্যাই ফুটে উঠেনি। বিশেষত মানুষ যে বাস্তবে মোবাইলে চার্জ না থাকার মত আকস্মাত ঘটিত সমস্যায় পড়ে সেই ব্যাপারটা একেবারে মিলিয়ে গেল। এইখানে গল্পটা একপাক্ষিক। সেই কারণে বলছি-লেখায় বাস্তবতা ও প্রত্যাশার যোগসুত্র থাকা উচিত। সফিক ভাইয়ের মত একান্তই বাস্তব হবে না আবার সম্পূর্ণ প্রত্যাশারও হবে না

          1. আমার কাছে মনে হয় সমস্যার
            আমার কাছে মনে হয় সমস্যার সমাধান বর্ণনায় সমস্যার সর্বাপেক্ষা কঠোরতম সমালোচনা বা সর্বোত্তম পন্থা… একটু নতুন করে ভাবতে চাই! নিজের কাজ – লিখনি – চিন্তা না বদলালে সমাজ বদলানোর কথা বলি কীভাবে?
            যাক সবারই নিজ নিজ চিন্তার ক্ষেত্র ও ধারা আছে, স্বকীয় ধারায় সবাই মানব কল্যাণে শিল্পের চর্চা করুণ তাই চাই…
            শুভ হোক মুক্ত ব্লগিং চর্চা… শুভ হোক মানবতার হুংকার…

          2. আমার তা মনে হয়না। লেখক অবশ্যই
            আমার তা মনে হয়না। লেখক অবশ্যই স্বপ্নু দেখবেন। কিন্তু লেখককে দেখাতে হবে কিভাবে বাস্তবতার সাথে মিল রেখে স্বপ্ন দেখা যায়। আপনার কথাই মেনে নিলাম

            যাক সবারই নিজ নিজ চিন্তার ক্ষেত্র ও ধারা আছে, স্বকীয় ধারায় সবাই মানব কল্যাণে শিল্পের চর্চা করুণ তাই চাই…
            শুভ হোক মুক্ত ব্লগিং চর্চা… শুভ হোক মানবতার হুংকার…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *