অনাগত অস্তিত্ব

মায়ের সাথে খুব একটা রাগারাগি করে দরজাটা বন্ধ করে দিলো নীলু । কেনো যেনো অসহ্য মনে হচ্ছে সবাইকে । ইমরানকে একটা ফোন দেওয়া দরকার । ঘড়ির কাটা নয়টায় যাওয়ার অপেক্ষা করছে সে । ঘুম ভাঙ্গালে ইমরান রাগ করে খুব । তবু উপায় নেই । ডক্টরের সিরিয়াল এগারোটার দিকে ।

ড্রয়ার থেকে চিঠিগুলো এনে গন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করলো ও । রোজই করে । তারপর রেখে দিলো যথাস্থানে । সেকেন্ডের কাটাটা চলছে না । ঘড়িটা আটকে গেছে আটটা পয়ত্রিশে । মোবাইলে সময় দেখলো নীলু । সাড়ে নয়টা ।
ইমরান ফোন ধরছে না । ধরেও না কখনো । তবুও বারবার ফোন দিয়েই যাচ্ছে সে । আরো তিনবার দিবে । রোজই দেয় ।

এই রিকশা যাবেন ? স্কয়ার । পঞ্চাশ টাকা দিয়েই তো যাই ।

মায়ের সাথে খুব একটা রাগারাগি করে দরজাটা বন্ধ করে দিলো নীলু । কেনো যেনো অসহ্য মনে হচ্ছে সবাইকে । ইমরানকে একটা ফোন দেওয়া দরকার । ঘড়ির কাটা নয়টায় যাওয়ার অপেক্ষা করছে সে । ঘুম ভাঙ্গালে ইমরান রাগ করে খুব । তবু উপায় নেই । ডক্টরের সিরিয়াল এগারোটার দিকে ।

ড্রয়ার থেকে চিঠিগুলো এনে গন্ধ নেওয়ার চেষ্টা করলো ও । রোজই করে । তারপর রেখে দিলো যথাস্থানে । সেকেন্ডের কাটাটা চলছে না । ঘড়িটা আটকে গেছে আটটা পয়ত্রিশে । মোবাইলে সময় দেখলো নীলু । সাড়ে নয়টা ।
ইমরান ফোন ধরছে না । ধরেও না কখনো । তবুও বারবার ফোন দিয়েই যাচ্ছে সে । আরো তিনবার দিবে । রোজই দেয় ।

এই রিকশা যাবেন ? স্কয়ার । পঞ্চাশ টাকা দিয়েই তো যাই ।
রিকশাওয়ালা উঠেন বলে বিশ্রীভাবে হাসে । নীলুর বিরক্ত লাগে । অন্য রিকশায় উঠে সে ষাট টাকা দিয়ে । ইমরান থাকলে বেশ একটা হাসাহাসি করতো । আরেকবার ফোন দিবে কি না ভাবে নীলু । দিয়ে লাভ নেই ।
একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে ও ।

একসময় সারা রাত গল্প করতো ইমরান ওর সাথে । তারপর ঘুম ঘুম চোখে দুজনেই ক্লাসে যেতো । ক্লাস শেষেই টিএসসি । রাত করে বাড়ি ফেরা । মায়ের চোখ রাঙ্গানী । মা সবই জানতো । মায়েরা সব জানে ।
আকাশটা কেমন যেনো । বৃষ্টি হবে মনে হয় । খুব একটা গরম গেছে কয়েকদিন । নীলুর ব্যাগে ছাতা নেই । থাকেও না কখনো ।

হাসি হাসি মুখের স্কার্ফ পরা ডক্টরটাকে দেখতে বিরক্ত লাগতেছে নীলুর । কি কি সব লিখে দিলো প্রেসক্রিপশনে । ওজন মাপলো । আটচল্লিশের চেয়ে একটু বেশি । ইমরান দেখলে খুশিতে মরেই যেতো ।
চাচা যাবেন ? আজিমপুর ।
আজিমপুরে ইমরান থাকে । ইমরানের কাছে যাচ্ছে ভাবতেই বেশ ভালো লাগে । ছেলেটা একটা কাজও সময় মতো করতে পারে না ।

রিকশা থেকে নেমে দুই পা না হাটতেই বৃষ্টি শুরু হল । শরীরের হালকা খয়েরী থ্রিপিজটা শরীরের সাথে লেপ্টে গেছে । ইমরানের দেওয়া গিফট । ভিজে ভিজেই হাটতে লাগলো নীলু । তারপর একজায়গায় দাড়িয়ে একটু স্থির হয়ে নিলো ।

বড় একটা ফুটবলের মতো ফুলে উঠা পেটটাতে হাত বোলালো সে । তারপর ইমরানের কবরটা ধরে বসে পরলো পরম মমতায় । আর একমাস সোনামনি । ডক্টর বলেছে একমাসের মধ্যেই আমাদের বাবুটা আসবে । তুমি কোলে নিবা না ? বলো না সোনা । নিবা না ?

১৪ thoughts on “অনাগত অস্তিত্ব

  1. খুব সংক্ষেপে খুব আবেগী একটি
    খুব সংক্ষেপে খুব আবেগী একটি গল্প লিখেছেন।
    ভালো লেগেছে। :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:
    শেষের সমাপ্তি যে এমন হবে বুঝতেই পারি নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *