তত্ত্বাবধায়ক সরকারঃ ন্যাড়া কি আর বেলতলায় যায়?

১৮বছর পূর্বে,

“পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয।তত্তাবধায়ক সরকার কি আমি তা বুঝি না,আমি মানি না,আমি মানবো না”-বেগম খালেদা জিয়া

এই সময়ে,

“চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হলেও তত্ত্বাবধায়কের দাবী থেকে আমরা এক ইঞ্চিও সরবো না।নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে”-বেগম খালেদা জিয়া


১৮বছর পূর্বে,

“পাগল আর শিশু ছাড়া কেউ নিরপেক্ষ নয।তত্তাবধায়ক সরকার কি আমি তা বুঝি না,আমি মানি না,আমি মানবো না”-বেগম খালেদা জিয়া

এই সময়ে,

“চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হলেও তত্ত্বাবধায়কের দাবী থেকে আমরা এক ইঞ্চিও সরবো না।নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে সরকারকে বাধ্য করা হবে”-বেগম খালেদা জিয়া

দেখা যাচ্ছে,তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আজকের যাবতীয় বক্তব্য-পাল্টা বক্তব্য আর যত তর্ক-বিতর্ক, দৃশ্যকল্প কিন্তু পুরোটা ৯৬এর মতো নয়।ইহা সত্য,নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা আওয়ামী লীগের আন্দোলনপ্রসূত।তবে বিএনপির মাগুরা-মিরপুর জালিয়াতি টাইপ নির্বাচনে ব্যাপক ভোট ডাকাতিই নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুতে সেসময় আন্দোলনকে তরান্বিত করেছিল।যে প্রশ্ন উঠা সাভাবিক,একদা তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে জোটবদ্ধ হয়ে আন্দোলনরত সেই আওয়ামী লীগেরই আজ কেন তত্ত্বাবধায়কে বিস্তর অনীহা?কেন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থায় কুনুভাবেই ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়?

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের মৌলিক দায়িত্ব হচ্ছে অবাধ,সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্নের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করা।সেক্ষেত্রে ২০০১সালে লুতফর রাহমান ও ২০০৬সালে ইয়াজউদ্দিনের তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান হিসেবে ঘোরতর দলীয়পরায়ন,অদক্ষতা তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার প্রতি ব্যাপক আস্থাহীনতার সৃষ্টি করে।সর্বশেষ অনির্বাচিত একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ভুতের মত চব্বিশটি মাস রাষ্ট্রক্ষমতায় চেপে বসে।যদিও অন্তর্বর্তীকালীন এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং বাদবাকী অন্যান্য উপদেষ্টাগণ নিজেদের দক্ষতা,সুনাম এবং নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সমর্থ হয়েছিলেন।তবে অসাংবিধানিক ও অস্বাভাবিক উপায়ে তাদের এই দীর্ঘ সময়ব্যাপী ক্ষমতায় বসে থাকাকে জনগন ও রাজনৈতিক দলগুলো সাগ্রহে গ্রহন করেনি।পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতার আলোকে, আওয়ামী লীগ এখন আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে সন্দেহাতীত নয়।

৯৬এর নির্বাচনে ৩৮শতাংশ ভোটপ্রাপ্তিতে আওয়ামী লীগ ১৪৬টী আসনে জয়লাভ করে ক্ষমতায় আসে।২০০১সালে নির্বাচনে ৪৬শতাংশ ভোটে ২১৫টি আসন লাভ করে বিএনপি।অন্যদিকে আওয়ামী লীগ পূর্বের তুলনায় ৩শতাংশ বেশী ভোটলাভেও,৪১শতাংশ ভোটে অবিশ্বাস্যভাবে আসন পায় মাত্র ৬০টি।তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রধান লুতফর রাহমানের গণতান্ত্রিক বলয় হতে বিচ্যুতিতে
মাত্র ৫শতাংশ ভোটের ব্যবধানে অস্বাভাবিকভাবে বিএনপি ২১৫আসন লাভ করে,নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভরাডুবি ঘটে।২০০৬এ সংবিধান পাশ কাটিয়ে ইয়াজউদ্দিনের অবৈধ ক্ষমতাগ্রহনকে কেন্দ্র করে জালিয়াতির অভি্যোগে আওয়ামী লীগ ২০০৭সালের নির্বাচন বর্জন করে।

আওয়ামী লীগ তত্ত্বাবধায়কের দুপিঠই চাক্ষুস করছে বিধায়,লীগ তার সিদ্ধান্তে অটল থাকবে সন্দেহ নাই।অন্যদিকে বিএনপির নেত্রী এবং অন্যান্য নেতাগন বিভিন্ন সময়ে দেয়া বক্তব্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবী আদায়ে অনঢ় থাকার কথা ব্যাক্ত করেছেন।আসছে দিনগুলোতে তারা কঠোর আন্দোলনের প্রস্তুতি নিতে চায়।এসব আন্দোলন বেগবান করতে যে বিষয়টির সবচেয়ে বেশী প্রয়োজন সেটি হচ্ছে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব।৯৬এ তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে আওয়ামী লীগের অসহযোগ আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ছিল।দাবী আদায়ে নির্মিত জনতার মঞ্চ শেষ পর্যন্ত বিজয় মঞ্চে পরিনত হয়েছিল।যে কারণে ১৫ই ফেব্রুয়ারী প্রহসনের নির্বাচনে বিএনপি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েও এক মাসের মাথায় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যাবস্থার জন্য বিল পাশ করতে হয়েছিল।
টিকে থাকতে হলে বিএনপিকে আন্দোলনে যেতেই হবে।তবে শিকড় যত গভীরেই প্রোথিত থাকুক না কেন,১/১১ এর মত ঘটনা বিএনপিকে অনেকটাই নড়বড়ে করে দিয়েছিল।উত্তরজীবি হিসেবে তখন থেকেই তারা,ক্রমে মৌলবাদীদের নিয়ন্ত্রনে চলে আসছে।পাঁচ সিটি কর্পোরেশনে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থীর জয় কিংবা আওয়ামী প্রার্থীর পরাজয় নয়,জয় হয়েছে উগ্র মৌলবাদের।নেত্রীর এসব উপলদ্ধির প্রয়োজন নাই।নেত্রী এখন আর চালনা করেন না চালিত হন।কাজেই জামাত-হেফাজতের কোলে উঠে সামনের বৈতরণীগুলো পার হওয়ার চেষ্টা চলবেই।

সর্বশেষ যে কথাটি বলা প্রয়োজন,জনগনের ভোটে সরকার নির্বাচিত হয়।আপনি আমি ভোট প্রদানের মাদ্ধমেই সরকারকে পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ করে দেই।মানলাম দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না।সুতরাং তত্ত্বাবধায়কের মানেই হচ্ছে সরকারের উপর আমার আস্থা নাই।যে সরকারের অধীনে নির্বাচন সম্পন্নেই আমার অনাস্থা,সেই একই সরকারকে কি আস্থা হতে রাষ্ট্র পরিচালনার মত একটি মহাগুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহনের সুযোগ করে দেয়া?

৮ thoughts on “তত্ত্বাবধায়ক সরকারঃ ন্যাড়া কি আর বেলতলায় যায়?

  1. আমাকে যে যেই ট্যাগই দিক না
    আমাকে যে যেই ট্যাগই দিক না কেন, আমি তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে। গনতন্ত্রের বিকাশে এটা একটা বড় বাঁধা। আর শেষের প্রশ্নটা অত্যন্ত যৌক্তিক।

  2. শেষের প্রশ্নটা অত্যন্ত
    শেষের প্রশ্নটা অত্যন্ত যৌক্তিক এবং একই ভাবে সমর্থন এবং সহমত প্রকাশ করলাম :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি: :চিন্তায়আছি:

  3. শেষের প্রশ্নটি আমার কাছে
    শেষের প্রশ্নটি আমার কাছে যুক্তিযুক্ত মনে হয়নি।সরকার পরিবর্তনে যে ভোটাররা মুল ভুমিকা পালন করে তাদের কাছে গনতন্ত্র, স্বৈরতন্ত্র সহ যত সব তন্ত্র মন্ত্র আছে সবটাই অজানা।এদের আস্থা বলে কিছু নেই।এই ভোটগুলি পরিবর্তিত হয় মুলত দৃশ্যমান উন্নয়ন ও দ্রব্যমুল্যের তারতম্যের উপর।
    অন্যদিকে বাকী যে ভোটারগন রহিয়াছেন তারা সব অনিরপেক্ষ ভোটার।এদের রায় একরকম নির্ধারিতই থাকে।তবে এই সমস্থ ভোটারগন নিজ দলের উপর অখুশি হলে ভোটদান থেকে বিরত থাকে।যেটা বিগত সিটি নির্বাচনে পরিলক্ষিত হয়েছে।

  4. মন্দের ভালো হিসেবে সমর্থন
    মন্দের ভালো হিসেবে সমর্থন কিংবা চাওয়া-পাওয়ার ভিত্তিতে রায় প্রদানের কথা আমি বলিনি।যা বলতে চেয়েছি,আমার আস্থার অভাব অথচ ভোটের নিদারুন অপচয়ে ঠিকই রাষ্ট্রের পরিচালনার সুযোগ করে দিতে চাইছি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *