হায় ঈশ্বর ! ঘুম যদি দিলেই তা ভেঙে দিলে কেনো ???

রাত গভীর । মাথার কাছে কে যেন এসে বসলো । নিঃশব্দে । শ্বেত-শুভ্র অশরীরী অস্তিত্ব । আলোকিত-উদ্ভাসিত চার ধার । ঈশ্বর ! আমার মাথার কাছে ? লম্বা ফুরফুরে চুল আমার মাথায় । লতানো ঘন চুলের মাঝে ঈশ্বরের শান্ত আঙুল । করুণার ছোঁয়া । বিলি কাটে । আহা ! বুকের ভেতর থেকে শান্তির প্রবাহ কোনো স্রোতোস্বিনীর জলে গিয়ে মেশে । কি শান্তি । স্বর্গের সিরিতে আমার পা । আমি ব্যকুল ,চন্ঞ্চল ,দিশেহারা ।
ঈশ্বর ! একটু বসো প্রিয়তম । দয়াময় আমি যে আর পারছিনা । বুকের ভেতর মরুভূমি । দিগন্ত বিস্তৃত ধূ-ধূ মাঠ । বৃদ্ধ ঘোড়ার খুড়ের শব্দ । ক্লান্ত জকিআমি । বিষবৃক্ষের ছায়ায় বসে ভুল অংকের হিসাব মেলাই ।


রাত গভীর । মাথার কাছে কে যেন এসে বসলো । নিঃশব্দে । শ্বেত-শুভ্র অশরীরী অস্তিত্ব । আলোকিত-উদ্ভাসিত চার ধার । ঈশ্বর ! আমার মাথার কাছে ? লম্বা ফুরফুরে চুল আমার মাথায় । লতানো ঘন চুলের মাঝে ঈশ্বরের শান্ত আঙুল । করুণার ছোঁয়া । বিলি কাটে । আহা ! বুকের ভেতর থেকে শান্তির প্রবাহ কোনো স্রোতোস্বিনীর জলে গিয়ে মেশে । কি শান্তি । স্বর্গের সিরিতে আমার পা । আমি ব্যকুল ,চন্ঞ্চল ,দিশেহারা ।
ঈশ্বর ! একটু বসো প্রিয়তম । দয়াময় আমি যে আর পারছিনা । বুকের ভেতর মরুভূমি । দিগন্ত বিস্তৃত ধূ-ধূ মাঠ । বৃদ্ধ ঘোড়ার খুড়ের শব্দ । ক্লান্ত জকিআমি । বিষবৃক্ষের ছায়ায় বসে ভুল অংকের হিসাব মেলাই ।

আকাশের গভীরে ডুবে যায় আষাঢ়ের পূর্ণিমা চাঁদ মধ্য রাতে । আমারস্বপ্ন তখন ক্ষয়ে যায় । যেভাবে ক্ষয়ে যায় যৌবন তার শব্দের আঘাতে । ক্ষয়ে যায় বৃক্ষ , পাথর , নক্ষত্র ও ইদুর । ইতিহাস ক্ষয়ে যায় প্রেসের লাইনো কম্পোজে ।
আমি শুয়ে থাকি । ঈশ্বর , তোমার অস্তিত্ব আমার আত্মার সিঁড়ি ভাঙে । এভাবেই শব্দ ভাঙে প্রতিধ্বনি । যেমন হৃদয় বুকের পাঁজর ভাঙে । তুমি ভাঙো আমার হৃদয় এবং কলমীলতা পুকুরের নীল জল । ইতিহাস ভাঙে সত্যের সিঁড়ি । রাত গড়িয়ে যায় – মসজিদের আজানের ধ্বনি ভেসে আসে গভীর নৈশব্দে স্নায়ু তন্ত্রে । আমি শুয়ে আছি ।
শুয়েছি সেই কখন । ঘরের বুক সেলফ , আলনা , চেয়ার , টেবিল , পানির পাত্র । সবই তখন জীবিত ছিলো । এতোক্ষনে হয়তো মরে গিয়ে থাকবে ।প্রাণহীন জড় পদার্থরাও কখনো কখনো মরে যায় । আমি যেমন মরে গিয়েও বেঁচে আছি । এতোক্ষন বোধকরি অচেতনই হয়েছিলাম । কপালে স্নিগ্ধ সুন্দর হাত রাখেন বাবা । তার চিকন-শান্ত আঙুল আমার চুলের অরণ্য চিরে চিরে যায় । কন্ঠে সুধা । বলেন
– ”খোকা , বাবা আমার একটু ঘুমো । তুই বড্ড ক্লান্ত । কাল সারারাত জোছনায় ঘুরেছিস । আমি দেবতার আকাশে বসে দেখছি । জোছনায় ছোট ছোট ঢেউ তোকে আছড়ে দিচ্ছে । যেমন মানুষদেরকে আছড়ে দিচ্ছে দ্রব্যমূল্য । আচড়ে দিচ্ছে আমলাদের সুদৃশ্য সোনার বাধানো দাঁত । যেমন সুন্দরী কিশোরীর চম্পক আঙুলে সযত্নে লালিত নখের আদর প্রেমিকের বুকে । এবার খানিকটা জিরিয়ে নে বাপ । মানবসন্তান তুই , সাধ্য কি দেবতার কন্যা চাঁদের সাথে লড়াই করবি ?”

আশ্চর্য ! আমি কি পাগল হয়ে যাবো ? বুক সেলফের বইগুলো ফকফক করে হাসছে । ব্যঙ্গ করে বলছে ..

-”নিজের হাতে থরে থরে জ্ঞান সাজিয়ে রেখে অজ্ঞান হয়ে শুয়ে আছো ? নির্বোধ কোথাকার !”
কি সব বিশ্রী ভাবনা আসে আজকাল । আগে এমন তো হতোনা । বয়স বাড়ছে আমার ? উহু । বরং কমছে । কমে আসছে একদিন , একদিন করে । ক্ষয়ে যাচ্ছে জীবনের শক্তি । কি হবে বেঁচে ? যখন বেঁচে থাকি স্মৃতিগুলো এসে ভিড় করে মনের ফুটপাতে । মিছিল কর বলে

-”পতন চাই । পতন চাই ।”

পতিত হতে চাইনা । হয়তো চাই । মাঝে মাঝে অবশ্যই চাই । একটা আধূলী নিয়ে আমি এক ছটাক সুখ কিনতে চাই ।
ভীষন গরম ।কানের কাছে মশা । অনেকগুলো দল বেঁধে সমস্বরে বলে

-” কেরানীদের রক্ত খেয়ে স্বর্গে যাবো গো ।”
তালি দেয়া মশারী আমার । লজ্জা !লজ্জা ! কিসের লজ্জা এতো ? মধ্যবিত্তের এই লজ্জা ভূষন ডোবালো । যেমন আমাকে ডুবিয়েছে আমার বিনয় । প্রেমের নাও বেয়ে অবশেষে এই লাজের আঘাতে হাল-বৈঠাচুড়মার হয়ে গেল । একজন শিক্ষিতাসুন্দরী তার শরীরে সবটুকু তাজা ঘ্রাণ আমার নাকে শুঁকিয়ে মাংসের স্বাদ দিচ্ছে অন্যকে । বোকা , আপদমস্তক , আমি বোকা । ঈশ্বরও স্বপ্নের মাঝে তাই বলেন

-”হে বৎস , তুমি কি চাও তোমার নিবুর্দ্ধিতার জন্য আমি তোমাকে ধ্বংস করে দেই ?”

আমি কড়জোড়ে বলি

-”না প্রভু , আমি বাঁচতে চাই । প্রেমহীন , তবুও প্রান ভিক্ষে চাই ।।”

এই ঘরে এসেছি অল্পদিন । একা পরিচিত পরিজন ছেড়ে স্বেচ্ছা নির্বাসনে । সারা ঘর শূণ্য । বুকের ভেতরে শূণ্য । পরিপূর্ণ শূণ্যতা । এখানে সবাই ঘুমোচ্ছে । শুধু সামনের জানালায় এক রমনীর ছায়া । প্রতিরাতে এই সময়ে । ছায়াও অনেক সময় পরিচিত মন হতে পারে । কেনো যেনো মনে হয় তন্দ্রা নয়তো ? এভাবে ছায়ার দিকে তাকিয়েও কখনো সুখ । জানালায় রমণীর ছায়া কেঁপে ওঠে ।একজন সুপুরুষ আসে কাছে । সম্ভবতঃ স্বামীর বিছানা থেকে অলখে উঠে আসা স্ত্রীকে আলিঙ্গনে বেঁধে নিয়ে যাবে সুখের সৈকতে । আসলে তাই । পা টিপে টিপে এসে শৈল্পিক বাহুর খাঁচায় বেঁধে ফেলে । প্রিয় স্বামীর সোহাগে নেতিয়ে পড়ে আদরিণী । অর্ধেক শরীর ভাজ হয়ে আসে স্বামীর বক্ষে । তন্দ্রার মুখ তখন দেবতার দিকে । তিনি ঠিকই চিনে নেন ।
আলো নিভে যায় । ওরা জ্বলে ওঠে । ঈশ্বরের আকাশে জ্বলজ্বলে নক্ষত্র । একাকী আমি । মধ্য যৌবনের ভূল অঙ্ক নিয়ে ব্যস্ত ।তন্দ্রা আর দাঁড়ায় না ।।

ঘুম ভেঙে যায় আমার । হায় ঈশ্বর ! ঘুম যদি দিলেই তা ভেঙে দিলে কেনো ? এইটুকু ঘুমের জন্যই কি আমাকে এতো রাতে জাগিয়ে রেখেছিলে ।।

৫ thoughts on “হায় ঈশ্বর ! ঘুম যদি দিলেই তা ভেঙে দিলে কেনো ???

  1. অসাম লিখেছেন ।এই গল্পটি
    অসাম লিখেছেন ।এই গল্পটি ইস্টিশন ব্লগে আমার পড়া শ্রেষ্ট অনুগল্প ।
    অজস্র ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *