দুনিয়া কাঁপানো চলচ্চিত্র পরিচালক ‘সের্গেই আইজেনস্টাইন ’ ও তার অন্যতম মাস্টারপিস ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’

‘ফ্রঁসোয়া ত্রুফো’ আর ‘আকিরা কুরোসাওয়া’’র পর আজ এমন এক চলচ্চিত্রকার সম্পর্কে আপনাদের জানাব যিনি এই দুনিয়ার বিশুদ্ধতম চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সের্গেই আইজেনস্টাইন যিনি চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী ভাষা ‘মন্তাজ’ এর জনক বলে বিখ্যাত।

সের্গেই আইজেনস্টাইন (1898-1948)


‘ফ্রঁসোয়া ত্রুফো’ আর ‘আকিরা কুরোসাওয়া’’র পর আজ এমন এক চলচ্চিত্রকার সম্পর্কে আপনাদের জানাব যিনি এই দুনিয়ার বিশুদ্ধতম চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করেছেন। সের্গেই আইজেনস্টাইন যিনি চলচ্চিত্রের অন্যতম শক্তিশালী ভাষা ‘মন্তাজ’ এর জনক বলে বিখ্যাত।

সের্গেই আইজেনস্টাইন (1898-1948)

তাঁর জন্ম সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের রাগা শহরে ১৮৯৮ সালের ২৩ জানুয়ারি। তিনি শুধু সফল ও দুনিয়া কাঁপানো চলচ্চিত্র নির্মাতাই ছিলেন না তিনি তাত্ত্বিক চলচ্চিত্রবোদ্ধা ও সফল চিত্রনাট্যকার ও ছিলেন। মধ্যবিত্ত পরিবারে জন্ম নেয়া সের্গেই আইজেনস্টাইন বাবার মত স্থাপত্যশিল্পে পড়াশুনা না করে পুরকৌশলে পড়াশুনা শুরু করেন। একপর্যায়ে রুশ বিপ্লবে যোগ দিতে তিনি আর্মিতে যোগদান করেন যা তাঁকে তাঁর পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন করে, এইখানে উল্লেখ্য তাঁর পিতা ছিলেন তাঁর রাজনৈতিক আদর্শের বিপরীতের একজন ব্যক্তি। ১৯১৮ সালে তিনি রাশান রেড আর্মিতে যোগ দেন। দুনিয়া কাঁপানো দশদিন খ্যাত অক্টোবর বিপ্লবের পর তিনি চলে যান পেট্রোগ্রাডে,পরে ১৯২০ সালে তিনি বেলারুশের রাজধানী মিনস্কে একটি কম্যান্ড পজিশনে স্থানান্তরিত হন। অক্টোবর বিপ্লব নিয়ে তাঁর ভাল কাজের ফল স্বরূপ তিনি পড়াশুনার জন্যে জাপান ভ্রমণের সুযোগ পান। এর মধ্যদিয়েই তিনি থিয়েটারের সাথে যুক্ত হয়ে পরেন এবং ধীরে ধীরে থিয়েটারের ব্যক্তি থেকে ক্রমে একজন চলচ্চিত্রকর্মী হয়ে উঠেন।

তারপর তাঁর অনবদ্য সকল চলচ্চিত্রের নির্মাণ দেখতে থাকে গোটা বিশ্ব স্ট্রাইক (১৯২৪), ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ (১৯২৫), অক্টোবর (১৯২৭) এবং আলোড়ন সৃষ্টিকারী ঐতিহাসিক চলচ্চিত্র অ্যালেকজান্ডার নেভস্কি (১৯৩৮) ও ইভান দ্যা টেরিবল(১৯৪৪,১৯৫৮); এই ইভান দ্যা টেরিবল ট্রিলজি বিশ্ব চলচ্চিত্রের প্রথম ও সফলতম ট্রিলজি। ডি.ডব্লিউ. গ্রিফিথ যখন তাঁর ইন্টলারেন্সবার্থ অফ এ নেশন‘ নিয়ে নির্বাক ছবিতে দুনিয়া কাঁপাচ্ছেন তখন এই প্রতিভাবান পরিচালকের আগমন। বলতে গেলি তিনি চার্লি চ্যাপলিনের মহাকাব্যিক সকল ফিল্ম আর ফ্রিটয ল্যাং এর ‘মেট্রোপলিস’(১৯২৭) এর হাত ধরেই নির্বাক চলচ্চিত্র সবাক হয়। তাঁরা হচ্ছে যুগসন্ধিক্ষণের চলচ্চিত্র নির্মাতা। এই চলচ্চিত্রবোদ্ধার জীবনাবসান ঘটে ১৯৪৮ এর ২৩ জুলাই।

ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ (১৯২৫)

সের্গেই আইজেনস্টাইন সর্বমোট ২৫ টির মত স্বল্পদৈর্ঘ্য ও পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণ করেন। অনেক চলচ্চিত্র গবেষকের কাছে ‘অক্টোবর’ তাঁর সেরা সৃষ্টি অনেকে বলবেন ‘অ্যালেকজান্ডার নেভস্কি’ তাঁর মহাকাব্যিক আর একদল থাকবেন তাঁর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ (১৯২৫) এর পক্ষে। শিরোনাম থেকেই অনেকে বুঝে ফেলেছেন আমার পছন্দ ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ (১৯২৫), হ্যাঁ তাই। তার কারণ এই নয় যে এই মুভিটিকে তাবৎ দুনিয়ার বিশুদ্ধতম চলচ্চিত্র ধরা হয়ে থাকে বা এও নয় যে চলচ্চিত্রটিতে সর্বপ্রথম সবাক চলচ্চিত্রের অন্যতম ভাষা মন্তাজের সার্থক ব্যবহার হয়েছে প্রচুর যা আমি জেনেছি পোস্টটি লিখতে বসে তার থেকে বড় কারণ ২০০৫ অথবা ২০০৬ সালের দিকে তাঁর নির্মিত দেখা গোটা ৫ ফিল্মের মধ্যে এই একটি ফিল্মই আমাকে বিশ্ব চলচ্চিত্রের দিকে বেশী ঠেলে দিয়েছে।


October (Ten Days that Shook the World) (1928)

এই চলচ্চিত্রটির পটভূমি এতই বড় যে তা ১৯০৫ সালের জাপান-রাশিয়া যুদ্ধের সময়কার একটি সাবমেরিনের বিদ্রোহকে কেন্দ্র করেই এর কাহিনী শুরু হয়ে ১৯১৭ সালের সেই মহাজাগতিক দুনিয়া কাঁপানো বিপ্লব অক্টোবর বিপ্লবে গিয়ে শেষ হয়। ৫টি ভাগে বিভক্ত মাত্র ৬৬ মিনিটের এই ফিল্মটি এতই শক্তিশালী যে এই চলচ্চিত্রটিকে গোটা দুনিয়ার তাবৎ চলচ্চিত্রবোদ্ধারা সর্বকালের সেরা তালিকায় ১০ এর ভিতরে রাখেন এই নির্বাক ফিল্মটিকে। অনেক আগে দেখার কারণে আমি বিস্তারিত ব্যাখ্যায় যাব না, তবে আমার কাছে বারবার অবাক লাগত তিনি কীভাবে তখন এমন বিশাল পটভূমিতে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেছেন।


আইজেনস্টাইন এর অন্যতম মাস্টারপিস ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’এর আরেকটি জনপ্রিয় পোস্টার

ফিল্মটির প্রধান চরিত্রগুলোঃ
Aleksandr Antonov — Grigory Vakulinchuk (Bolshevik Sailor)
Vladimir Barsky — Commander Golikov
Grigori Aleksandrov — Chief Officer Giliarovsky
Ivan Bobrov — Young Sailor Flogged While Sleeping (as I. Bobrov)
Mikhail Gomorov — Militant Sailor
Aleksandr Levshin — Petty Officer
N. Poltavseva — Woman With Pince-nez
Konstantin Feldman — Student Agitator
Beatrice Vitoldi — Woman with the baby carriage

নির্বাক যুগের এমন কিছু চলচ্চিত্র সকল দর্শকেরই দেখা উচিৎ মাত্র ১০০ বছরের মধ্যে বিশ্ব চলচ্চিত্র আজ কোথায় তা বুঝার জন্যে। বিশ্ব চলচ্চিত্রের বিশুদ্ধতম চলচ্চিত্রের একটা তালিকায় দেখা গেল এই মহান চলচ্চিত্রটি এক নম্বর স্থান দখল করে আছে।

বিশুদ্ধতম চলচ্চিত্রের একটা তালিকা

পরবর্তীতে অন্য আরেক মহান চলচ্চিত্র নির্মাতার শ্রেষ্ঠ কোন চলচ্চিত্র নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হব। সেই পর্যন্ত ভাল থাকুন; শুভ হোক চলচ্চিত্র দেখাদেখি!!

৩২ thoughts on “দুনিয়া কাঁপানো চলচ্চিত্র পরিচালক ‘সের্গেই আইজেনস্টাইন ’ ও তার অন্যতম মাস্টারপিস ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’

  1. ব্যাটলশিপ পটেমকিন এর ডাউনলোড
    ব্যাটলশিপ পটেমকিন এর ডাউনলোড লিঙ্ক টা দিতে পারবেন? দিলে ভাল হত। আগ্রহ জন্মেছে দেখার 🙂 :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. ভালো লাগলো এতোদিনে ইস্টিশনে
    ভালো লাগলো এতোদিনে ইস্টিশনে ফিল্ম নিয়ে লেখার কেউ হয়েছে। আমি প্রতিদিন একেকটা দুর্দান্ত মুভি দেখি আর ভাবি লিখবো, কিন্তু হয়ে ওঠেনা।
    সের্গেই আইজেনস্টাইনের রেট্রো দেখেছিলাম এক বসাতেই। টানা তিনদিন না চারদিন যেন। সবগুলো মুভি যেদিন দেখা শেষ করলাম মনে হয়েছিল, আজ কালকের মধ্যে মরে গেলে একটুও খারাপ লাগবে না

    1. অনেক ভাল লাগছে! ধন্যবাদ…
      অনেক ভাল লাগছে! ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      ফিল্ম নিয়ে আমার লিখা পূর্বের পোস্টদ্বয় দেখুনঃ
      ১) ফ্রান্স নিউ ওয়েব ফিল্মের অন্যতম জনক ‘ফ্রঁসোয়া ত্রুফো’ ও তাঁর মাস্টারপিস ‘দ্যা ৪০০ ব্লোজ’
      ২)বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার ‘আকিরা কুরোসাওয়া’ ও তাঁর মাস্টারপিস ‘রশোমন’

  3. আর আপনি ত্রুফো ব্যাটাকে নিয়ে
    আর আপনি ত্রুফো ব্যাটাকে নিয়ে লিখেছেন আর আমি মিস করে গেছি :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:
    দ্য ৪০০ ব্লোজ আমার অতিপ্রিয় মুভির একটি। চমৎকার লিখেছেন।

    1. সবই ঠিক আছে ধন্যবাদ
      সবই ঠিক আছে ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      কিন্তু ‘ফ্রঁসোয়া ত্রুফো’কে ত্রুফো ব্যাটা বলাটা খুব কষ্ট পাইলাম… :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:
      :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

  4. কয়েকদিন আগেই ‘সের্গেই
    কয়েকদিন আগেই ‘সের্গেই আইজেনস্টাইন ’ ও তার অন্যতম মাস্টারপিস ‘ব্যাটলশিপ পটেমকিন’ নিয়ে একটা বইয়ে পড়লাম। রিভিউ ভাল্লাগছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. আতিক ভাইয়ের ভাল লেগেছে শুনে
      আতিক ভাইয়ের ভাল লেগেছে শুনে আমারও অনেক অনেক ভাল লাগছে… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: কি বই? কোথায় পাইছেন?

      1. বই নাকি ম্যাগাজিন?ম্যাগাজিনে
        বই নাকি ম্যাগাজিন?ম্যাগাজিনে পড়েছিলাম।বইয়ের কথা জানি না,জানলে পড়তাম

        1. আতিক ভাইতো মুখ খুলছে
          আতিক ভাইতো মুখ খুলছে না!
          এদিকে আপনি আবার স্বপ্নকথক থেকে ছন্নছাড়া হয়ে গেলেন কেন?

  5. ভালো লাগলো ,সের্গেই
    ভালো লাগলো ,সের্গেই আইজেনস্টাইন’ বিশ্বের শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রকার যার অবদান অই সময় রাশিয়াসহ বিশ্বে শিল্প চলচ্চিত্রে বিরাট প্রভাব ফেলেছিল ।

    1. স্টুডেন্ট ও দেবাশীষ ধর-কে
      স্টুডেন্ট ও দেবাশীষ ধর-কে ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      অবশ্যয় লিখব! ভাল ফিল্মের দর্শক সৃষ্টিতে লিখব!!
      আশা করি আপনাদের পাশে পাব… ভাল থাকবেন!!

  6. এই রিভিউ টা সবকিছুকে ছাড়িয়ে
    এই রিভিউ টা সবকিছুকে ছাড়িয়ে গেছে :পার্টি: :পার্টি: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. রাইয়ান ভাই ধন্যবাদ!! ভাল
      রাইয়ান ভাই ধন্যবাদ!! ভাল থাকবেন…
      আর একটা কথা বলি কিছু মনে করবেন নাঃ

      ” Dream as if you’ll live forever. Live as if you’ll die tomorrow.”— James Dean

      “Live as if you were to die tomorrow. Learn as if you were to live forever.”― Mahatma Gandhi

          1. ধরতে পারছেন।এইটাই মেইন
            ধরতে পারছেন।এইটাই মেইন কারন।৫তারিখ সে আমারে নিয়ে বহুত মজা নিছে

  7. মুভি টুভি তেমন একটা দেখা হয়না
    মুভি টুভি তেমন একটা দেখা হয়না বলে ‘সের্গেই আইজেনস্টাইন’ আমার কাছে অপরিচতই বটে।আপনার পোস্টটি পড়ে সের্গেই আইজেনস্টাইন সম্পর্কে অনেক কিছুই জানলাম ।কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি ।

    1. বাঙ্গালী সম্পর্কে একটা ভিন্ন
      বাঙ্গালী সম্পর্কে একটা ভিন্ন ধারনা দিলেন!! ভাই আপনি মাইন্ড খাইয়েন না…
      ৫ সিটিতে জনগন যেমন অকৃতজ্ঞের মত আচারন করল তাই সন্দিহান ছিলাম!!
      যাহোক ধন্যবাদ আপনাকে… মুভি-টুভিও মাঝে মাঝে দেখতে হয়!! 😉

    1. অফুরন্ত ধন্যবাদ
      অফুরন্ত ধন্যবাদ ব্রহ্মপুত্র… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: ভাল থাকবেন!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *