নিশীথিনী

জঘন্য দাঁতের ছিবড়ে খাওয়া কামড় সয়ে গেছে রেবার। এখন আর স্তন যুগল এতোটা ব্যাথা হয় না। হতো এক সময় ব্যাথা। সে ব্যাথার কোন মা বাপ ছিলো না। স্তন বৃন্ত গুলো কামড়ে একাকার করতো এক একটা বলীয়ান পুরুষ। সে কামড়ে যতোটা না ক্ষতবিক্ষত হতো দেহটা, তার থেকে মনটা থেকে রক্ত ঝরতো বেশি। পৃথিবীর কোন ভদ্র সমাজ সে রক্ত দেখতে পেতো না।
এখন আর রক্ত ঝরে না মন থেকে। মনটা আবেগহীন হয়ে গেছে। অথবা মরে গেছে। প্রাণহীন দেহে এখন ভদ্র শকুনেরা ফিস্ট বসায়। উন্মত্ত হোলি খেলা হয় প্রায় রাতে।
ভোর হলে ক্লান্ত দেহে রেবা ঘরে ফেরে। সকালের নরম রোদ ওর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।

জঘন্য দাঁতের ছিবড়ে খাওয়া কামড় সয়ে গেছে রেবার। এখন আর স্তন যুগল এতোটা ব্যাথা হয় না। হতো এক সময় ব্যাথা। সে ব্যাথার কোন মা বাপ ছিলো না। স্তন বৃন্ত গুলো কামড়ে একাকার করতো এক একটা বলীয়ান পুরুষ। সে কামড়ে যতোটা না ক্ষতবিক্ষত হতো দেহটা, তার থেকে মনটা থেকে রক্ত ঝরতো বেশি। পৃথিবীর কোন ভদ্র সমাজ সে রক্ত দেখতে পেতো না।
এখন আর রক্ত ঝরে না মন থেকে। মনটা আবেগহীন হয়ে গেছে। অথবা মরে গেছে। প্রাণহীন দেহে এখন ভদ্র শকুনেরা ফিস্ট বসায়। উন্মত্ত হোলি খেলা হয় প্রায় রাতে।
ভোর হলে ক্লান্ত দেহে রেবা ঘরে ফেরে। সকালের নরম রোদ ওর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন।
শেরাটনের পাশ দিয়ে যখন ফাঁকা রাস্তায় ক্লান্ত দেহটাকে টেনে নিয়ে যায় মৃত্যুপুরীর মতো আবাসে, তখন দেঝা হয় অফুরান জীবনী শক্তি রোদটার সাথে। ও যেনো মুহূর্তে ফিরে যায় সেই ছোট বেলায়, বাবার হাত কাধে চড়ে টাট্টু ঘোড়া খেলার সময়ে, সেই ছোটবেলা থেকেই ওর সূর্যের সাথে বন্ধুত্ব।
আজো হাটছিলো রেবা। আগের মতই ক্লান্ত অবসন্ন। গতোরাতের জানোয়ারটা ওকে নিংড়ে ফেলেছিলো। একটুও মায়া দয়া দেখায় নি। যেনো গাটের পয়সা উসূল করার ঐকান্তিক চেষ্টা! জানোয়ারটা আবার কি একটা ব্যাংকের অফিসার। শালা মুখোস পরা শয়তান!
সেই পায়রার ঘুপচির মতো ঘরে ফিরতে আর ইচ্ছা হয় না রেবার। সিমেট্রির নিস্তব্ধতা ওর বাড়িতে। প্রতিদিনের টাকাটা মা নেয় ওর হাত থেকে নিদারুন লজ্জায়। তার দৃষ্টিতে থাকে না কোন প্রাণ। বেশ্যাদের মায়েরাও প্রাণহীন হয়।

অথচ এমন তো হবার কথা ছিলো না রেবার! রেবাও তো স্বপ্ন দেখতো আকাশ ছোঁয়ার। হ্যাহ! বেশ্যার স্বপ্ন! না, স্বপ্ন দেখতো রেবা অনেক আগে। তখন রেবা ছিলো সুলক্ষণা এক কন্যা। ইউনিভার্সিটির মেধাবী মুখ, তার থেকেও বেশি হলো সুন্দরী মুখ। রেবার পরিচয় ছিলো ওর চোখ। কতো উপমা সেই চোখের! আজ আর কেও চোখ দুটো দেখে না। শীতল হয়ে গেছে এক সময়ের বারমুদা ট্রায়াঙ্গেলের মতো রহস্যময় চোখ দুটো।
না, এই বিপুল রহস্যময়তা ধরা পরে নি অফিসের বসের কাছে। চাকরির প্রথম দিন থেকেই চেটেপুটে খেয়েছে সে রেবার শরীর, চোখ দিয়ে। তারপর মিথ্যে কাজের অজুহাতে নানা টালবাহানা শেষে দুই বন্ধু মিলে ছিবড়ে খেয়েছে শরীর, পালা করে। নিজেদের উন্মত্ততার চলমান ছবি সংরক্ষনে পিছপা হয় নি।
এরপর? ব্যাবসার পণ্য হয়েছে রেবা। ক্লায়েন্ট দের মনোরঞ্জনে রেবার শরীরটা তো ট্রাম কার্ড! হ্যা, হুমকি দিয়েছিলো রেবা, গোমর ফাঁস করে দেবে জানোয়ারগুলোর। কিন্তু ওইযে, রেবার সমস্ত সামাজিক সম্ভ্রম মিশে ছিলো ছোট্ট একটা চার জিবি মেমরি কার্ডে!

তারপর? হ্যা, আজ রেবা দেহপসারিনী। বৃদ্ধা মাতার মুখে দুমুঠো ভাত তুলে দেবার জন্য আজ রেবা নিশিথিনী। রেবার আজ অনেক নাম। বেশ্যা, মাগী, বাজারের মেয়ে! বাবার আদরের মেয়েটা আজ শয্যাসঙ্গিনী।
কিন্তু সেই নর পিশাচ গুলো? ওরা তো বেঁচে আছে স্বর্গে। বউ বাচ্চার সুখের সংসারে।
হাইরে পৃথিবী! বেশ্যার কোন পুংলিঙ্গ নেই!

রেবার সকালের রোদ টা অনেক প্রিয়। ওর বাবাকে দেখা যায় ভোরের নিস্তব্ধ আলোয় আকাশ থেকে হাসছে। সে হাসি ওর শরীর হিমেল বাতাস হয়ে জুড়িয়ে দেয়। অন্তত কিছুক্ষণের জন্য সে হয়ে যায় গ্লানিহীন, পুতপবিত্র। বাবা রাতে আসে না। রাতটা যে বড়ো কুৎসিত!

১৭ thoughts on “নিশীথিনী

  1. নিশীথিনী নামে হুমায়ুন আহমেদের
    নিশীথিনী নামে হুমায়ুন আহমেদের একটা গল্প আছে এক কথা অসাধারন । আপনার গল্পটা আসলেই ভালো লাগার মত একটা গল্প এবং বাস্তবতার সাথে মিল আছে ……………ভালো হয়ছে

  2. কঠিন বাস্তবতা…
    আরও বড় হলে

    কঠিন বাস্তবতা…
    আরও বড় হলে আরও অনবদ্য হত!
    সাহিত্য জীবনের মতই আপত্তিকর…
    লিখতে থাকুন!! :রকঅন: :রকঅন: :রকঅন:

  3. অপ্রাসঙ্গিক তবুও একটা কথা বা
    অপ্রাসঙ্গিক তবুও একটা কথা বা প্রশ্ন না রেখে পারছি না।আমাদের দেশে স্বীকৃত অস্বীকৃত অনেকগুলো পতিতালয় আছে।সংসদে অবশ্য পতিতালয় শব্দটিকে একটু মার্জিতভাবে! উল্লেখ করা হয় নিষিদ্ধ পল্লি হিসেবে।কথা হল দেশের ইসলামী দল বা গোষ্টিগুলো এসব পতিতালয় বন্ধ ও পতিতাদের সামাজিকভাবে পুনর্বাসনের জন্য কোন আন্দোলন, বক্তৃতা, বিবৃতি দিতে পারে না! কেন?

    চমৎকার ভাবে বাস্তবতাকে তুলে ধরেছেন।অসংখ্য ধন্যবাদ ।সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে আমার সবারই এদের পক্ষে কলম ধরা উচিৎ।সব নিষিদ্ধ পল্লিকে নিষিদ্ধ ঘোষনা করে পতিতাদের পুনর্বাসনের দাবী তোলা উচিৎ।

  4. একটা মেয়ে পতিতা হয়ে জন্মায়
    একটা মেয়ে পতিতা হয়ে জন্মায় না, পরিস্থিতি তাকে পতিতা করে। তাদের পুনর্বাসন সময়ের দাবী।

  5. গল্প চমৎকার লেগেছে।
    পড়ে

    গল্প চমৎকার লেগেছে।
    পড়ে দীর্ঘশ্বাস পরেছে।
    এ যন্ত্রণা যে ভোগ করে সেই বুঝে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *