অসমাপ্ত চুম্বন

ওরা দুজন দাড়িয়ে আছে ।
কোলাহল ছাপিয়ে । আর সব থেকে একটু দুরে ।
প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে । ওরা বৃষ্টিতে ভিজছে ।
রমনা আর সোহরাওয়ার্দীকে যুক্ত করেছে যে ব্রীজটা , ওটার উপরে ওরা দুজন ।
একেবারে কাকভেজা হয়ে আছে । মেয়েটার ভেজা চুল গালের সাথে মিশে আছে । ছেলেটা মিশে আছে মেয়েটার সাথে ।
রাত তখন আটটা । সোডিয়াম লাইটগুলো নিভে গেছে । নিভে গেছে আকাশের চাঁদটাও ।
প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে । ওরা বৃষ্টিতে ভিজছে ।


ওরা দুজন দাড়িয়ে আছে ।
কোলাহল ছাপিয়ে । আর সব থেকে একটু দুরে ।
প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে । ওরা বৃষ্টিতে ভিজছে ।
রমনা আর সোহরাওয়ার্দীকে যুক্ত করেছে যে ব্রীজটা , ওটার উপরে ওরা দুজন ।
একেবারে কাকভেজা হয়ে আছে । মেয়েটার ভেজা চুল গালের সাথে মিশে আছে । ছেলেটা মিশে আছে মেয়েটার সাথে ।
রাত তখন আটটা । সোডিয়াম লাইটগুলো নিভে গেছে । নিভে গেছে আকাশের চাঁদটাও ।
প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছে । ওরা বৃষ্টিতে ভিজছে ।

বৃষ্টির ফোঁটা গুলো কেমন সবুজ মনে হয় । চারপাশের সবুজের আধিক্যের জন্যেই হয়তো । মেয়েটার চশমায় সব ঝাপসা হয়ে ধরা পরে । তবু তাকে কেমন নির্ভার মনে হয় । যেনো পৃথিবীর সবচেয়ে নিরাপদ জায়গায় আছে সে । প্রচন্ড বৃষ্টিতে কিছুটা বিভ্রান্ত ছেলেটা । সঙ্গীকে আঁকড়ে ধরে থাকে প্রাণপণে । হঠাত্‍ হঠাত্‍ দুই একটা বাস যায় ব্রীজটার নীচ দিয়ে , বৃষ্টিতে জমে যাওয়া পানিতে সাঁতার কেটে । অসতর্ক হয়েও অন্য দিকে চোখ যায় না ওদের । একে অন্যকে দেখে অদ্ভুত মাদকতা নিয়ে । ওদের দৃষ্টিতে লোভ নেই , কাম নেই , ক্ষুধা নেই । কেবল অদ্ভুত এক কৌতুহল নিয়ে ওরা তাকিয়ে থাকে ।

দূর থেকে ওদের দেখছি আমি । কেমন চেনা চেনা লাগছে সবকিছু । আকাশী জামাটা ভিজে নীল হয়ে গেছে মেয়েটার । কাধে একটা স্কুল ব্যাগ । ওদের দেখে ক্যামন যেনো অস্বস্তি লাগছে আমার । সময় তো আর কম হলো না । তেইশটা বছর । অথচ একই রকম সবকিছু ।

মনে পরে , আমিও ঠিক এমনি এক ঝুম বৃষ্টির অন্ধকার সন্ধ্যায় দাড়িয়ে ছিলাম ব্রীজটার উপর । বিভ্রান্ত চোখে প্রাণপণে আঁকরে রেখেছিলাম বালিকাকে । বালিকার আকাশী জামাটা ভিজে নীল হয়ে গিয়েছিলো । কাঁধ থেকে ঝুলে থাকা স্কুল ব্যাগটাও ভিজে শেষ । বৃষ্টির রং ছিল ঠিক নিকেল সালফেটের মতো সবুজাভ । বালিকার চশমার ফ্রেম বেয়ে ফোটা ফোটা পানি পরছিলো । ঝাপসা আলোয় ঝাপসা চোখে আমাকে জড়িয়ে ধরেছিলো নিশ্চিন্তে । বালিকাকে সেই শেষ দেখা ।

বাস্তবে ফিরে এলাম । আকাশের হঠাত্‍ ঝলকানিতে দেখা যাচ্ছে ছেলেটার ডোরাকাটা গেন্জীটা ধরে থাকা মেয়েটার হাত । পরম ভালোবাসায় চুমু খেলো একে অন্যকে । এতটুকু কেঁপে উঠলো না ওরা । ভিজে একাকার দুজনে কোনো দিকে ভ্রুক্ষেপ নেই । মেয়েটাকে কিছুটা উচিয়ে ধরে আবারো । অবাক হলাম না এতটুকু । এমনটাই তো হওয়ার কথা ।

তেইশ বছর আগে , এই ব্রীজে দাড়িয়েই থরো থরো ঠোঁটে প্রথম চুমু দিয়েছিলাম বালিকাকে । নিজেকে সম্পূর্ণ সমর্পন করে ভালোবাসাটুকু গ্রহণ করে নিয়েছিলো ও । আমার ডোরাকাটা গেন্জীটা চেপে ধরে মায়াবী বৃষ্টিতে মিশে গিয়েছিলাম দুজনা । বালিকার সাথে সেই শেষ দেখা । তেইশ বছর আগে ।

ও রিকশা করে ফিরেছিলো বাসায় । সেই রাতে হঠাত্‍ প্রচন্ড জ্বর । কিছু বুঝে উঠার আগেই তিন দিনের মাথায় মরে গেলো । আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম । আমার হয়ে আকাশটা কেঁদেছিলো সারা সকাল , সারা দুপুর , সারা সন্ধ্যা । বালিকাকে সেই শেষ দেখা , প্রথম চুম্বনের দিন ।

অবিরাম বৃষ্টি ঝরছে । ঝুম বৃষ্টি । মায়া বৃষ্টি ।

৬ thoughts on “অসমাপ্ত চুম্বন

  1. ওলা ওলা এক বাশশা আছিল, খাইয়া
    ওলা ওলা এক বাশশা আছিল, খাইয়া দাইয়া নাই।(সিলেটি ভাষা!বুঝলে আমি দোষি নয়, না বুঝলে আরো ভাল)

    ভাল্লাগছে ।

Leave a Reply to সৈয়দ গোলাম শহিদ শাহিন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *