বৃষ্টি দিবস

বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভেজা নাকি ভাল। এতে মন ফ্রেস হয়, বয়স কমে যায়, অনেক ধরনের অসুখ সেরে যায়, আরও কী কী যেন কবি-সাহিত্যিকরা বলে। আমি অবশ্য তাদের কারও কথায় উৎসাহিত হয়ে ভিজতে নামিনি। ভিজতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। কারণ, আমি ছাতা নিয়ে বের হইনি। তার দরকারও ছিল না। সকালে ঝকঝকে রোদ ছিল, ফুরফুরে বাতাস ছিল। তাছাড়া এফ.এম. রেডিওতে বলেছিল- খুবই সুন্দর একটা সকাল আজ। বেড়াতে যাবার জন্য আজকের দিনটি খুবই চমৎকার।

বছরের প্রথম বৃষ্টিতে ভেজা নাকি ভাল। এতে মন ফ্রেস হয়, বয়স কমে যায়, অনেক ধরনের অসুখ সেরে যায়, আরও কী কী যেন কবি-সাহিত্যিকরা বলে। আমি অবশ্য তাদের কারও কথায় উৎসাহিত হয়ে ভিজতে নামিনি। ভিজতে হয়েছে বাধ্য হয়ে। কারণ, আমি ছাতা নিয়ে বের হইনি। তার দরকারও ছিল না। সকালে ঝকঝকে রোদ ছিল, ফুরফুরে বাতাস ছিল। তাছাড়া এফ.এম. রেডিওতে বলেছিল- খুবই সুন্দর একটা সকাল আজ। বেড়াতে যাবার জন্য আজকের দিনটি খুবই চমৎকার।
সেই ‘খুবই চমৎকার’ রোদেলা দিনটিতে হঠাৎ করে যে এমন ঝুম বৃষ্টি শুরু হবে কে জানত? বছরের প্রথম বৃষ্টি যে শরীর ও মনের জন্য কতটা ভাল তা এখন হারে হারে টের পাচ্ছি। ঠান্ডায় শরীর জমে যাচ্ছে। নির্ঘাত আগামী তিন দিন আমার গলা দিয়ে কোন স্বর বেরুবে না, মিনিটে চারবার করে নাক ঝাড়তে হবে, টনসিল-মামস্ যা যা আছে ফুলে একাকার হয়ে যাবে, আরও সম্ভাব্য ও অসম্ভাব্য বেশ কিছু ঠান্ডা জনিত রোগ ঘাড়ের ওপর চেপে বসবে।
কিন্তু আপাতত রোগ শোকের চেয়েও বেশি ভয় হচ্ছে ভাবিকে নিয়ে। এমনিতেই সে আমাকে দু’চোখে দেখতে পারে না। অবশ্য সে কাউকেই দু’চোখে দেখতে পারে না, চার চোখ লাগে। ভাবির ‘হাই মায়োপিয়া’; চশমা ছাড়া দূরের জিনিস কিচ্ছু দেখন না। সেই চশমা পরেও তিনি আমার দিকে ভ্রু কুচকে তাকান। আমার সব কাজেই তার সীমাহীন বিরক্তি। এর মধ্যে অসুখ-বিসুখ বাধালে তো মহাবিপদ! ঘাড় ধরে গ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দেবারও সম্ভাবনা আছে। আমি সেই বিপদের আশঙ্কায় (এবং প্রচন্ড ঠান্ডায়) কাঁপতে কাঁপতে বাসায় ফিরছি।
একটা রিক্সা নিতে পারলে ভাল হতো। কিন্তু রিক্সা নেয়া যাচ্ছে না। পকেটে একটা টাকাও নেই। একটু ভুল বললাম; পকেটে দুই টাকার একটা নোট আছে। তিনি দিন ধরে ওটাকে পকেটে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি, চালানো যাচ্ছে না। বাসের কন্ট্রাক্টর টাকাটা দেবার সময় বলেছিল: দুই টেকার নুটের কুনো অচল নাই ভাইজান। চোখ মুইনজ্যা খালি পহেডে ভরেন।
বাস্তবে দেখা গেল ঘটনা সম্পূর্ণ উল্টো। অন্য কেউ তো দূরের কথা ভিক্ষুকও নিতে চায় না। মুখ কালো করে বলে: গরিবরে ঠকায়েন না ছার; টেকাডা বদলাইয়া দেন।
হেঁটে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। ভাইয়াদের বাড়িটা টিনশেড। দুইটা বেডরুম, ড্রইং রুম, বাথরুম-কিচেন সবই আছে। ঢাকা শহরে ‘ভাল বাসা’ বলতে যা বুঝায় আরকি। শুধু একটাই সমস্যা- বৃষ্টি হলেই বাড়ির সামনে এক কোমর পানি জমে যায়। তারপরেও তুলনামূলক ভাড়া কম। পুরো বাড়িটা ভাইয়া একাই ভাড়া নিয়েছেন। মাসের পাঁচ তারিখে বাড়িওয়ালা এসে ভাড়া নিয়ে যায়।
আমি কলিং বেলে হাত রাখলাম এবং সাথে সাথে মাঝারি ধরনের একটা শক খেলাম। বৃষ্টিতে ভিজে কলিং বেলের সুইচ আর্থিং হয়ে গেছে। দ্বিতীয়বার বেল টেপার সাহস হলো না, গেটে কড়া নাড়লাম। গেট খুলল ভাইয়ার একমাত্র ছেলে তুহিন। তার মুখ পাথরের মত থমথমে। চেহারাই বলে দিচ্ছে বাড়িতে দশ নাম্বার বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। প্রচন্ড ঝড় অপেক্ষামান। আমি ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলাম: কি হয়েছেরে?
তুহিন গম্ভীর স্বরে জবাব দিলো: আব্বুর পকেট থেকে দুইশ’ টাকা চুরি গেছে। আব্বুর ধারণা আমি নিয়েছি। বলেছে- কাল সকালের মধ্যে টাকাটা যদি তার পকেটে রেখে দিই তাহলে কিছু বলবে না। নয়তো কাল সকালে আমাকে কাবাব বানানো হবে। আম্মুর অবশ্য ধারণা…
তুহিন কথা শেষ করলো না। তার কোন প্রয়োজন নেই। ভাবির ধারণা যে কী তা আমি খুব ভাল করেই জানি।
: চাচ্চু, আমাকে দুইশ’ টাকা ধার দিতে পারবে? তাহলে আব্বুর পকেটে রেখে দিতাম।
আমি একটা দীর্ঘশ্বাস ফেললাম। দশ বছরের এই ছেলেটার মধ্যে যতটুকু মহত্ব আছে তার অর্ধেকও যদি সব মানুষের মধ্যে থাকতো! তাহলে হয়তো পৃথিবীটা আরো অনেক বেশি সুন্দর হতো। আমাকে এই অপ্রত্যাশিত অপমান থেকে বাঁচানোর জন্য সব দোষ সে নিজের মাথায় নিতে চাচ্ছে। অথচ এর জন্য আমাদের দু’জনের মধ্যে কেউই দায়ী না।
তুহিন মিনমিন করে আবার বলল: আছে দুইশ’ টাকা?
আমি মুখে একটা কৃত্তিম হাসি ফুটিয়ে বললাম: নারে, দুইশ’ টাকা নেই; দুই টাকা আছে। তাও আবার অচল নোট!
তুহিন মাথা নিচু করে গেটের কাছে দাঁড়িয়ে রইল। আমি ঘরে ঢুকলাম। আমি এই বাসায় আছি পেয়িং গেষ্ট হিসেবে। কারণ, ঢাকা শহরে আমার আর কোন আত্মীয়-স্বজন নেই। বি.কম. পাশ করে বছর তিনেক চাচার সাথে গ্রামে ক্ষেতের কাজ করেছিলাম। বাবা মা মারা যাবার পর থেকেই চাচাই আমাদের দুই ভাইকে মানুষ করেছেন। তিনি আমাকে ঢাকায় পাঠিয়ে দিলেন। বললেন: তোরে কি আমি এতো কষ্ট করে লেখা পড়া শিখাইছি ক্ষেতে কাম করার জন্যে?
চলে এলাম ঢাকায়। চাকরির খোঁজে এসেছি শুনে ভাবি রাজ্যের বিরক্তিতে ভ্রু কুচকে বলেছিল: ঢাকায় কি চাকরির মেলা বসেছে নাকি? আর তাছাড়া চাকরি পেলেও থাকবে কোথায়? তোমার ভাইয়ার অবস্থা তো জানই। আমাদের হয়েছে ভাত আনতে তরকারী ফুরায় অবস্থা। সব কিছুর দাম বাড়তি। এই বাজারে স্বসম্মানে বসবাস করা যে কী কষ্টের তা যারা আছে কেবল তারাই জানে।
আমি বীরদর্পে ভাবিকে কথা দিয়ে বসলাম যে, একমাসের মধ্যেই আমি একটা চাকরি যোগার করে ফেলব। এবং প্রতি মাসের পাঁচ তারিখের মধ্যে থাকা খাওয়া বাবদ ভাবির হাতে তিন হাজার টাকা তুলে দেব।
একথা শুনেও ভাবি খুব একটা খুশি হলেন না। হবার কথাও না; মানুষ সব কিছু সহ্য করতে রাজি হয় কিন্তু ঝামেলা পোহাতে রাজি হয় না। খামোখা বাড়তি ঝামেলা নিজের কাধে নেয় কেবল বেকুবেরা। ভাবি বেকুব তো নয়ই, বেকুবের স্ত্রীলিঙ্গ ‘বেকুবিনী’ও না। তবে ভাইয়ার জন্য আমাকে ফেলতেও পারলেন না। আমিও সিন্দাবাদের ভুতের মত ভাই-ভাবির কাঁধে চেপে বসলাম। কিন্তু অনেক চেষ্টা চরিত্র করেও চাকরি যোগার করতে পারলাম না। ক্রমেই একমাস শেষ হয়ে গেল। ভাবির মুখও দিন দিন কালো হয়ে যেতে লাগলো। আমি ভাবির কালো মুখ ফর্সা করার জন্য (ক্রিম ঘষতে… থুক্কু) বাজার-ঘাট করা, ইলেক্টিক বিল দেয়া এসব করতে লাগলাম। ভাইয়া গম্ভীর ভাবে বললেন: ভাইয়ের বাড়িতে এসে একটা বি.কম. পাশ ছেলে বাজার-ঘাট করবে এটা ভাল দেখায় না। তুই তারচেয়ে যতদিন ভাল কোন চাকরি না পাস ততদিন ছোটখাট কিছু একটাই কর।
ভাইয়ার পরামর্শে সাইবার ক্যাফেতে একটা চাকরি নিলাম। বেতন সাতাশ শ’ টাকা। এখনও সেই চাকরিতেই আছি। মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে বেতন পাই। পেয়েই ভাবির হাতে পঁচিশ শ’ টাকা দেয়া লাগে। গত দেড় বছরে আমি খুব ভাল করেই বুঝে গেছি যে, এরচে’ ভাল চাকরি আমার কপালে নেই।

পরদিন সকাল বেলা। খুব একটা ফুরফুরে মেজাজ নিয়ে ঘুম ভাঙল। রাতে একটা স্বপ্ন দেখেছিলাম। কী দেখেছিলাম মনে নেই। শুধু মনে আছে- সাইবার ক্যাফেতে যে চাকরিটা করি সেটা নিয়ে কী যেন একটা সুন্দর স্বপ্ন দেখেছি। কিন্তু মেজাজ ফুরফুরে হওয়ার কারণ সেটা না।
আসল কারণ হচ্ছে, কাল বৃষ্টিতে ভিজে যে সব রোগ হবে বলে আশঙ্কা করেছিলাম তার কোনটাই হয়নি। তারচেয়েও বড় কারণ হচ্ছে, ভাইয়ার টাকা হারানো নিয়ে ভাবি আমাকে একটা কথাও বলেনি।
এটা একটা নতুন ঘটনা। সাধারণতঃ এধরনের ক্ষেত্রে আমাকে প্রচন্ড অপমান হজম করতে হয়। ভাবি সরাসরি আমাকে কিছুই বলেন না। কিন্তু আকারে ইঙ্গিতে যা বোঝান তা সরাসরি বলার চেয়েও অপমানজনক। মানুষকে অপমান করার সবক’টা মোক্ষম কৌশলই ভাবির জানা। শুধু এবারই ব্যতিক্রম হল।
তবে নাস্তার টেবিলেই ‘ব্যতিক্রম’ হওয়ার রহস্যটা উদঘাটিতও হল। দেখলাম তুহিনের প্লেটে কোন নাস্তা নেই। ভাইয়া গম্ভীরমুখে তুহিনকে বলছেন: এক্ষুণি তুমি তোমার কাপড় চোপড় নিয়ে এই বাড়ি থেকে বের হয়ে যাবে। একটা চোরকে বাড়িতে পোষার কোন মানে নেই। যে ছেলে এখনই চুরি শিখেছে সে যে বড় হয়ে কী হবে তা আমার জানা আছে। হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকবে না; বের হয়ে যাও। অফিস থেকে ফিরে এসে যেন তোমার মুখ আমি না দেখি।
তুহিন ছলছল চোখে আমার দিকে তাকালো। সেই চোখে শিশুর নিষ্পাপ আকুতি। আমিই এখন ওর শেষ ভরসা। ওর ছলছল চোখের দিকে তাকিয়ে হঠাৎ করেই আমার মনে হলো পুরো ব্যপারটাই একটা সাজানো নাটক। যে নাটকের রচিয়েতা ভাবি, পরিচালক ভাইয়া, শ্রেষ্ঠাংশে তুহিন আর ভিলেন স্বয়ং আমি! ভাবির নতুন উদ্ভাবিত এই কৌশলে আমি বিমোহিত হলাম। এবং সেই বিমোহিত অবস্থাতেই কোন কিছু না ভেবে বললাম: তুহিন! তোকে কোথাও যেতে হবে না। তুই নাস্তা খেয়ে স্কুলে যা। ভাইয়া, ওর কোন দোষ নেই; টাকাটা আমি নিয়েছি। খুব দরকার ছিলো, তাই চেয়ে নেবার সময় পাইনি। আমি জানি চুরি করা খুব খারাপ কাজ কিন্তু তবুও এই মুহূর্তে টাকাটা ফেরত দিতে পারছি না। বেতন পেলেই দিয়ে দেব।
কথাটা শেষ করেই আমি উঠে পড়লাম। ভাইয়া গম্ভীর মুখে বসে রইলেন। আড়চোখে তাকিয়ে দেখলাম ভাবি একটু যেন মুচকি হাসলেন। আমার চোখের ভুলও হতে পারে অবশ্য!
আমি রাস্তায় বেরিয়ে পড়লাম। এখন বাজে সাড়ে সাতটা। এতো সকালে কাজে গিয়ে লাভ নেই। আমাদের ক্যাফেটা দশটার আগে খোলে না। ততক্ষণ এক কাজ করা যায়; কম ভাড়ার একটা মেস খুঁজে বের করা। আজকের পর আর ভাইয়ার বাসায় থাকার কোন মানে হয় না। কি দরকার শুধু শুধু ঝামেলা বাড়িয়ে? আমার বরং আরও আগেই নিজে থেকে সরে পড়া উচিৎ ছিলো। ভাইয়ার জায়গায় আমি হলে আমিও এই একই কাজ করতাম। অহেতুক ঝামেলা পোহাতে কেউই চায় না। ভাইয়া-ভাবিই বা চাইবে কেন?
বড় রাস্তায় নামতেই বৃষ্টি শুরু হল। প্রথমে গুড়ি গুড়ি; তারপরে জোরেসোরে। রাস্তার লোকজন সব দৌড়ে আশপাশের দোকানগুলোতে আশ্রয় নিল। আমার কেন যেন ইচ্ছে করলো না। ভিজতে ভিজতেই হাঁটতে লাগলাম। বেশ ভালই লাগছে ভিজতে। অথচ, গতকালও বৃষ্টিতে ভিজে ভীষণ মেজাজ খারাপ লেগেছিল। আজ ভাল লাগছে কেন?
আচ্ছা বছরের ‘দ্বিতীয় বৃষ্টিতে’ ভিজলে কি সব কিছুই এমন ভাল লাগে? এ সম্পর্কে কি কোন কবি-সাহিত্যিক কিছু বলেছেন? আমি একটা অজানা সুখানুভূতি নিয়ে নিরুদ্দেশ হাঁটতে লাগলাম। আমি এবং আমার পকেটে দুইটাকার একটা অচল নোট! এদেশে এমন ‘অচল নোট’ আরও কয়টা আছে কে জানে?

————–০—————

– সফিক এহসান
(২৯ মে ২০০৭ইং)

১২ thoughts on “বৃষ্টি দিবস

  1. গল্পটা দারুন লেগেছে ।একজন
    গল্পটা দারুন লেগেছে ।একজন বেকারের দুঃসহ জীবনকে খুব সুন্দর করে তুলে এনেছেন ।অজস্র ধন্যবাদ ।
    শুভ কামনা ।

  2. লেখায় একটা অসঙ্গতি আছে।
    লেখায় একটা অসঙ্গতি আছে।

    ভাবির ‘হাইপার মেট্রোপিয়া’; চশমা ছাড়া দূরের জিনিস কিচ্ছু দেখন না।

    এখানে হাইপার মেট্রোপিয়া হবে না, হাই মায়োপিয়া হবে। হাই মায়োপিয়াতে দূরের জিনিস দেখতে কষ্ট হয়। হাইপার মেট্রোপিয়াতে মূলত কাছের জিনিসে সমস্যা।

    1. এই জন্যেই তো ডাক্তার সাবরে
      এই জন্যেই তো ডাক্তার সাবরে আমার এতো পছন্দ!
      ভুল ধরিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ…

    1. শুনে ভালো লাগলো… এবং সেটাই
      শুনে ভালো লাগলো… এবং সেটাই হয়তো স্বাভাবিক!

      প্রিয় লেখকদের ছাপ থাকাটা কমন ম্যাটার… যদিও আমি যতটা না হুমায়ূন প্রেমী, তার চেয়ে অনেক বেশী শীর্ষেন্দু ভক্ত…
      🙂

Leave a Reply to সুখ নাই Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *