#অরণ্যের দিন-রাত্রিঃ ১

টিএসসি তে বসে পা দোলাচ্ছে অরণ্য। মন-মেজাজ বিশেষ ভাল নেই। একটু আগে সুমনের সাথে ঝগড়া হয়েছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দিয়ে পালিয়েছে হারামজাদা। যদিও ওকে হারামজাদা না বলে শাহাজাদা বলা ভাল। বাপের অঢেল টাকা। তার চেয়ে বড় বিষয়, অরণ্যর পকেটের বিশ্বস্ত সাপ্লাইয়ার। চাহিবা মাত্র আজীবন মেয়াদী ক্ষুদ্রঋণ পাওয়া যায়।

ঝগড়ার বিষয়বস্তু পুরোনো। নাম সংক্রান্ত জটিলতা। নিজের এই অরণ্য নামটা একদমই পছন্দ না ওর। কেমন জঙ্গল জঙ্গল লাগে। ওর ভাল লাগে “জ” আদ্যক্ষরের নাম। বন্ধু মহলের সবাই সেটা জানে। গত বছর বেশ আয়োজন করে নাম পাল্টেছে। টিউশনীর টাকায় খাসী হয় না। তবু বেচারা মুরগী কিনে আকীকা দিয়েছে। নতুন নাম রেখেছে “জিসান”।


টিএসসি তে বসে পা দোলাচ্ছে অরণ্য। মন-মেজাজ বিশেষ ভাল নেই। একটু আগে সুমনের সাথে ঝগড়া হয়েছে। পরিস্থিতি ঘোলাটে করে দিয়ে পালিয়েছে হারামজাদা। যদিও ওকে হারামজাদা না বলে শাহাজাদা বলা ভাল। বাপের অঢেল টাকা। তার চেয়ে বড় বিষয়, অরণ্যর পকেটের বিশ্বস্ত সাপ্লাইয়ার। চাহিবা মাত্র আজীবন মেয়াদী ক্ষুদ্রঋণ পাওয়া যায়।

ঝগড়ার বিষয়বস্তু পুরোনো। নাম সংক্রান্ত জটিলতা। নিজের এই অরণ্য নামটা একদমই পছন্দ না ওর। কেমন জঙ্গল জঙ্গল লাগে। ওর ভাল লাগে “জ” আদ্যক্ষরের নাম। বন্ধু মহলের সবাই সেটা জানে। গত বছর বেশ আয়োজন করে নাম পাল্টেছে। টিউশনীর টাকায় খাসী হয় না। তবু বেচারা মুরগী কিনে আকীকা দিয়েছে। নতুন নাম রেখেছে “জিসান”।

কিন্তু এত আত্মত্যাগের পুরাটাই বৃথা গেছে। কার মাথায় যেন ভুতুড়ে আইডিয়া এল- “জ” যেহেতু মূল বিষয় তখন “জসীম” রাখতে দোষ কি? সাথে একটু গোঁফ রেখে দিলেই হল, নায়ক নায়ক লাগবে!
আর দেখতে হল না। জিসান বাদ, জসীম… জসীম… জসীম!! এখনও সবাই মুডে থাকলে জসীম নামে ডাকে। বিচ্ছিরী শুনায়।

সুমন অবশ্য জসীম নামে ডাকে নি আজ। ডেকেছে অরণ্য নামে। তবু পিত্তি জ্বলে গেছে। মুরগীর কি দাম নাই নাকি? সব ক’টা নিমকহারাম!!

যাহোক, ঝগড়ার ফলাফলটা বরাবরের মত। ওকে ফেলে চলে গেছে সবাই। পুরান ঢাকা, বিরিয়ানী খেতে। এখন মনে হচ্ছে ভাব ধরে বসে না থেকে সাধাসাধিতে গেলে পারতো। ইস, আর একটু যদি জোরাজুরী করত!! এরকম ইস প্রতিদিনই দুয়েকবার বলতে হয়।
ভাব ধরে বঞ্চিত হওয়ার প্রতিভা আছে ওর। ইগো ক্রাইসিস!

মনের দুঃখ শেষমেশ চায়ের কাপে পড়েছে। এই নিয়ে তিন কাপ শেষ, চার নাম্বার রানিং। সিগারেট ধরাতে গিয়ে মনে হল মেয়েলী গলায় কে যেন ডাকছে। যা সন্দেহ করেছে তাই। অনেক্ষন ধরে পাশের বেঞ্চিতে বসা রূপবতী মেয়েটা বার বার তাকাচ্ছিল। সেই মেয়েটাই। তবে ওকে ডাকে নি। এদিক ফিরে কি যেন বলছে বান্ধবীকে। ঘুরে তাকাতে লজ্জা পেয়ে চোখ নামাল। ব্যাপারটা সন্দেহজনক! পরিচিত কেউ না তো আবার? খটকা লাগছে। এবার বান্ধবীটা শুনিয়ে শুনিয়ে বলতে শুরু করল-

– কিরে! নাম শুনেই নাকি প্রেমে পড়ে গেছিস? গিয়ে কথা বল…
– ধুর, কি যে বলিস! গায়ে পড়ে কথা বললে কি মনে করবে? আফটারঅল, আমি একটা মেয়ে।
– মেয়ে তো কি লেজ গজিয়েছে? ছেলেরা প্রোপজ করতে পারলে মেয়েদের করতে দোষ কি? দাম কমে যাবে?
– তবুও…
– দেখতে ভাল। অরণ্য নামটা আমারও মনে ধরেছে। আচ্ছা, তোর কিছু করতে হবে না। আমিই গিয়ে প্রোপজ করি…
– খবরদার… ওর দিকে নজর দিলে ঠ্যাং ভেঙ্গে দেব!! তোর না একজন আছে? ওটা নিয়ে থাক।
– তাহলে যা… গিয়ে কথা বল।
– নাহ, যাব না। আমাদের কথা শুনেছে নাহ? ইচ্ছা থাকলে নিজেই আসবে…

পঁচিশ বছরের ব্যাচেলর জীবনের এমন গোলমেলে পরিস্থিতিতে পড়তে হয়নি অরণ্যকে। বুকের ধুকপুকানী বেড়ে গেছে। কম মেয়ের সাথে তো চোখাচোখি হল না! অনেকের চাহনীতে প্রশ্রয় ছিল। সাহস করে আশ্রয় নিতে আগানো হয়নি। ঐ যে, ইগো ক্রাইসিস! আর একটু যদি সাধতো…??!!

সেই একটুর দূরত্ব ঘুচে আর ওঠেনি। প্রেমও দানা বাঁধেনি। অথচ বনলতা সেনের জন্য বস্তা ভর্তি ভালবাসা জমে আছে… আফসোস, কাউকে দেখানো হল না! নাহ, আজকে একটা কিছু এসপার-ওসপার করে ফেলতে হবে। যা থাকে কপালে…

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা… আজো রিলেশনশিপ স্ট্যাটাস সিঙ্গেল নিয়ে বাসে ঝুলতে হল। আতঙ্ক ঝেটিয়ে আগানো হয় না আর। মেয়ে দুটো ঘণ্টা দুয়েক বসে থেকে চলে গেছে। যাওয়ার আগে বলে গেছে- “রাম-ছাগল”।

ঝুম বৃষ্টি নেমেছে। রাম-ছাগলটার মন খারাপ…

৫ thoughts on “#অরণ্যের দিন-রাত্রিঃ ১

Leave a Reply to Doyal Baba Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *