ইংরেজ শাসন ও একজন মুসলিম

ইংরেজ শাসন আমলের কথা।দেশ ভাগ হয়নি তখনও।তবে খুব জোরে সোরে চলছে ইংরেজদের তাড়ানোর যুদ্ধ।যদিও সম্মুখ যুদ্ধ না।চুরাগুপ্তা বা অস্থায়ি হামলা।কারন ইংরেজরা খুব বুদ্ধিমান এরা জানে কিভাবে আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে হয়।তবে পুরদমে তখন স্বদেশী আন্দোলন তুঙ্গে তা পাড়া মহল্লায় খুব গোপনে অতি গোপনে চলছে।বিন্দু পরিমান সন্দেহ হলে ইংরেজ পুলিশ সাথে সাথে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।কোন বাধার সামনে ইংরেজ টলে না।অতি চতুর যাকে বলে তারাই এ জাতি।

ইংরেজ শাসন আমলের কথা।দেশ ভাগ হয়নি তখনও।তবে খুব জোরে সোরে চলছে ইংরেজদের তাড়ানোর যুদ্ধ।যদিও সম্মুখ যুদ্ধ না।চুরাগুপ্তা বা অস্থায়ি হামলা।কারন ইংরেজরা খুব বুদ্ধিমান এরা জানে কিভাবে আন্দোলনকে দমিয়ে রাখতে হয়।তবে পুরদমে তখন স্বদেশী আন্দোলন তুঙ্গে তা পাড়া মহল্লায় খুব গোপনে অতি গোপনে চলছে।বিন্দু পরিমান সন্দেহ হলে ইংরেজ পুলিশ সাথে সাথে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়।কোন বাধার সামনে ইংরেজ টলে না।অতি চতুর যাকে বলে তারাই এ জাতি।
প্রথমাংসে ভূমিকাটা দিলাম কারন গল্পটি তৎকালীন ব্রিটিশ শাসনের তাই এমন সূচনা।আমার খুব কাছের একটি ফ্রেন্ড এর বাবা আমাকে এই গল্পটা করেছেন।তিনি পেশায় একজন ব্যাংকার ছিলেন।রিটায়ার্ড করার পর তিনি আইন পেশা বেঁছে নেন।বেক্তিগত জীবনে তিনি খুব সৎ আর পরিশ্রমী।এতে কোন সন্দেহ নেই।মানুষ হিসেবেও খুব শান্তিপ্রিয়।
একদিন বিকেল বেলা উনার বাসায় বসে চা খাচ্ছি।তিনি কোর্ট থেকে ফিরে এসে আমাকে দেখে সহাস্যে কুশল বিনিময় করলেন,বললেন বস আসছি। ভদ্রলোক ফ্রেশ হয়ে আসলেন।আমাদের সাথে টিভিতে খবর দেখছেন।টুকটাক মন্তব্য করছি আমরা। এ কথায় সে কথায় রাজনীতি চলে আসল আমাদের আলোচনায়।তিনি বললেন এখনকার রাজনীতি আর আগের রাজনীতি বা ধর্ম পালনে বিস্তর ফারাক আছে।অনেক আলাপ আলোচনা হল মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাঁর কথাগুলো শুনছি।ভাল লাগছে আবার বর্তমান রাজনীতি নিয়ে কষ্টও হচ্ছে।আমি মনে প্রানে আদর্শে আওয়ামীলীগ।এটা আমার অহঙ্কার।কিন্তু আমার দলের সমালোচনা আমিও করি।যাই হোক সেই অংশে যাচ্ছি না।
আগেই বলেছি তখন ব্রিটিশ শাসন চলছে।তৎকালীন সময়ের এসেম্ভলি নিয়ে একটি ঘটনা।আমাদের সিলেট অঞ্চল তখন আসামের সাথে সংযুক্ত ছিল।১৯৪০ ইং সনের ভারতের মেঘালয় এর শিলং শহরে।মেঘ পাহাড়ের শহর যে শহরে প্রেমের কবি রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন “শেষের কবিতা”। তৎকালীন সময়ের তিন জন এম এল এ কে নিয়ে গল্প।এ ঘটনা একটি এসেম্ভলির।এসেম্ভলির পূর্বে দাঁড়িয়ে আছেন সবাই। ষষ্ট জজ এর স্ত্রী একটু পরে মুল প্রোগ্রাম এর সূচনা করবেন ।এই অঞ্চলের সব নামিদামী কর্তা বেক্তি লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছেন।প্রস্তুতি সম্পন্ন করে ইংরেজ জজ সাহেবের ইংরেজ স্ত্রী একে একে সবার সাথে করমর্দন করে নাম পরিচয় কুশল বিনিময় করে এগিয়ে যাচ্ছেন।এই ফাঁকে বলে রাখি সেই সময় অনেক মুসলিম ছিলেন যারা নারীদের সাথে হাত মিলিয়ে করমর্দন করতেন না।তখন আমাদের অঞ্চলের জনাব xyz সাহেবের কাছে এসে হাত বাড়িয়ে দিলেন তিনি প্রত্যুত্তরে সালাম দিলেন।তিনি করমর্দন করলেন না।অনেকের সাথে বাকি দুজন এম এল এ করমর্দন করলেন।ইংরেজ জাতি আপনাকে কখনই সামনা সামনি কিছুই বলবে না কিন্তু আড়াল থেকে যা দিবে তা সহ্য করার ক্ষমতা সবাই রাখে না।তো এসেম্বলি শেষ, সবাই চলে গেলেন কিন্তু জজ সাহেবের স্ত্রী এই ব্যাপারটা অপমান বলে ধরে নিলেন।তিনি এটা সহজ ভাবে মেনে নিতে পারলেন না।করমর্দন না করার কারন তিনি বুঝতে পারলেন না।
যথারীতি তাঁর স্বামীর কাছে নালিশ করলেন যে একজন এম এল এ থাকে অপমান করেছে এবং সব কিছুর বর্ণনা দিলেন।জজ সাহেব খুব ক্ষেপে গেলেন এই ভেবে যে এ অপমান শুধু একা স্ত্রীর না এটা তাকেও অপমান করা হয়েছে।তলব করলেন ওই অঞ্চল এর এম এল এ গন আর গল্পের বাকি দু’জনকে।এই দুজন বললেন, জী জনাব মোঃ xyz আপনার স্ত্রীর সাথে এই রূপ আচরণ করেছেন।আমরা এর সাক্ষ্য দিচ্ছি ঘটনা সত্যি।মূলত ভয়ের কারনে তাদের এ স্বীকারউক্তি।ইংরেজ পারে না এমন কোন কাজ নেই।পেনাল্টি স্বরূপ জনাব xyzকে বহিস্কার করা হল।কিন্তু এই দু’জন খুব মর্ম পীড়ায় পীড়িত হলেন যে এভাবে ঘটনা আড়াল করে বলা ঠিক হয়নি।কারন একজন মুসলিম যদি নারীর হাতে হাত না মিলায় তো সে তাঁর ধর্ম কে সম্মান প্রদর্শন করেছে কিন্তু আমরা দু’জন ও তো মুসলিম ছিলাম সেই অর্থে যিনি হাত মিলাননি তিনি নিরপরাধী আর আমরা অপরাধী।নিজেদের কাজের নিজেরাই নিন্দিত বোধ করলেন।তারা এই কাজের কারনে নিজেদেরকে ধিক্কার করলেন এবং সিদ্ধান্ত নিলেন জজ সাহেব কে সব কিছু খুলে বলবেন।তারা ছুটে গেলেন জজ সাহেবের কাছে।তারা জানালেন যে, কোন মুসলিম পুরুষ কখনই অনাত্মীয় কোন মহিলার সাথে করমর্দন করা ধর্মে নিষেধ আছে এবং তিনি ধর্মীয় কাজে আপত্তির কারনে এসব করেছেন।কাউকে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশে এটা করেননি।জজ সাহেব সব জানার পর তিনি বললেন তাহলে আপনারা কেন এটা করেছেন।আপনারা কি মুসলিম নন।দু’জন বললেন জী আমরা এর জন্য অপরাধী তিনি না।সব কিছু বিচার বিবেচনা করে জজ সাহেব খুব আনন্দিত হলেন।তিনি বললেন যেহেতু আপনারা সত্য প্রকাশ করে একজন নিরপরাধ বেক্তির পক্ষ অবলম্বন করেছেন সেই ক্ষেত্রে আপনারাও নিরপরাদ।মহৎ প্রান বেক্তি তাকেই বলে যে অন্নের অসয়াত্তের এর সুযোগ না নিয়ে তাকে সাহায্য করে।সেই বেলা তিনজন সম্মানী বেক্তির সম্মান রক্ষা করে উভয়েই সম্মানিত হয়েছিলেন।এই ছিল আগের দিনের রাজনীতিবিদদের মানসিকতা।

(নাম উল্লেখ করিনি বলে দুঃখিত।কখনও কখনও নিজের অজান্তে ভুল হয়ে যায়।একটি সত্য ঘটনা।আবেগে আঘাত না করার জন্য নাম বলা হয়নি।ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে এড়িয়ে যাবেন।দয়া করে ধর্মীয় কোন মন্তব্য করবেন না।যার যার ধর্ম তাঁর তাঁর কাছে।)

৩ thoughts on “ইংরেজ শাসন ও একজন মুসলিম

  1. গল্পটি রাজনীতির বাইরে ধর্মীয়
    গল্পটি রাজনীতির বাইরে ধর্মীয় অনুশাসনের দিকেই ইঙ্গিত করছে।

    ভাল লাগছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *