”সাভার ট্রাজেডি- তিন মাসেও বাস্তবায়ন হয় নি ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন ”

সাভার ট্রাজেডি , আমরা কি ভুলে গেছি !
আমরা কি ভুলে গেছি সেই হাজারো মানুষের রক্ত ! বাতাসের কার্বনডাইঅক্সাইড এর মাঝে রক্তের হিমোগ্লবিনের প্রতুলতা , ভুলে গেছি আমরা !!!
আমরা কি ভুলে গেছি সেই রক্তিম চোখ এর অনিঃশেষ বেদনার জল!!



সাভার ট্রাজেডি , আমরা কি ভুলে গেছি !
আমরা কি ভুলে গেছি সেই হাজারো মানুষের রক্ত ! বাতাসের কার্বনডাইঅক্সাইড এর মাঝে রক্তের হিমোগ্লবিনের প্রতুলতা , ভুলে গেছি আমরা !!!
আমরা কি ভুলে গেছি সেই রক্তিম চোখ এর অনিঃশেষ বেদনার জল!!

২৪ এপ্রিল , ২০১৩ ।
ধমনী ছিঁড়ে এলোমেলো হতাশায় রক্ত কনিকাগুলা বের হতে শুরু করে । অনেকদিন তো হয়ে গেল , রক্ত প্রবাহ কি সততই থেমে গেছে । কথিত শারীরিক রক্তের প্রবাহ হয়ত থেমে গেছে , নয়ত শুকিয়ে গেছে ।
সময় নামক বাতাসের বৈজ্ঞানিক সুত্রে । কিন্তু সেইসব ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার এর দুর্দশার ফলশ্রুতিতে অশ্রু বিসর্জনে ক্রমাগত রক্তের নির্গমন কি আদৌ থামবে !!

সহস্রাধিক লাশ এর সেই চিত্র কি আমরা ভুলে গেছি !!। নামহীন সেই যুবক , যে মরার আগ পর্যন্ত একটি মেয়েকে জড়িয়ে রেখেছিল তার বুকে , ভুলে গেছি আমরা সেই চিত্র !!

সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর প্রায় আড়াই মাস পার হতে চলল। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারগুলা কি অবস্থায় আছে , তাদের তথাকথিত দিঙ্গুলা কেমন চলছে , নাহ জানিনা ,জানতেও চাই নাহ আমরা ।
যন্ত্রের ক্যানভাস এ আপাদমস্তক মোড়া !

”আপনি তো মনে হয় , স্টুডেন্ট , আপনি বুঝবেন কতটা বাধ্য হইলে একজন স্টুডেন্ট তার ছাত্রজীবনের আনন্দ ছেড়ে কাজ করে ”
এক সাক্ষাৎকারে কথাগুলা বলেছিলেন ২০ বছর বয়স্ক আব্দুল আলিম ।
তিনি এইস এস সি পাস । ৫ জন এর সংসারে উপার্জনক্ষম কেও না থাকায় , বাধ্য হয়ে ছাত্রজীবনের ইতি টেনে রানা প্লাজার নিউ ওয়েভ গার্মেন্টস এ । ভবন ধ্বসে পাজরের হাড় ভেঙ্গে গিয়েছিল তার ।
পড়াশুনা করার শখ এখনো জাগ্রত তার , কিন্তু স্বপ্ন দেখতে ভয় পাই ।
রেবেকার পরিবার এর ৭ জন কাজ করতেন রানা প্লাজায় । বেচে ছিল শুধু এই রেবেকা আর তার স্বামী । রেবেকার একটা পা কেটে ফেলতে হয়েছিল ।
এমন হাজারো রেবেকা , আব্দুল আলিম রা এখন কেমন আছে , কিভাবে কাটছে তাদের দিনগুলা!! আমরা জানি নাহ । আগেও বলেছি , আমাদের আসলেও ইচ্ছাও জাগে না জানার ।
আর এছাড়া কি করতে পারি আমরা , সেদিন ছিলাম , আজও আছি । শুধু রক্ত আর ক্রন্দন -এটা ছাড়া কিছু দেখার নেই , করার নেই আমাদের ।

আচ্ছা আমাদের কথা বাদ দিলাম , এখন আসি সরকার এবং দায়ী গার্মেন্টস মালিকদের প্রসঙ্গে ।

সাভারের রানা প্লাজা ধসের ঘটনায় গঠিত তৈরী পোশাক মালিকদের শীর্ষ সংগঠন বিজিএমইএ’র তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পেশ করেছে সংগঠনটি। দুই সপ্তাহ আগে বিজিএমইএ ভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বিজিএমইএ নিষেধ সত্ত্বেও কারখানা খোলায় কারখানা মালিকরাও দায়ী করা হয়। একই সঙ্গে ভবন মালিক ও স্থানীয় প্রশাসনকেই দায়ী করেছে বিজিএমইএ’র তদন্ত কমিটি। সাভার ট্র্যাজেডি ঘটনা ঘটনায় দায়ী ব্যাক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবী জানানো হয়। এ ঘটনার জন্য সম্ভাব্য ৯টি কারণ উল্লেখ করেছে তদন্ত কমিটি।
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদন পেশ করেন এ তদন্ত কমিটির প্রধান ও বিজিএমইএ’র সহ-সভাপতি এম এ মান্নান কচি। উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন বিজিএমইএ’র সভাপতি আতিকুল ইসলাম। –

সব-ই চলছে ধরাবাধা নিয়মে । কিন্তু বরাবর এর মত ভয় ওঠে সংবেদনশীল বাঙ্গালির মনে , ”আসলেই কি অপরাধীদের শাস্তি হবে , নাকি রাজনীতির পিচাশ নীতির অন্তরালে এরা লালিত হবে !!”
অপেক্ষা ছাড়া কিছু করার নাই আমাদের , আর অপেক্ষার পর থাকে দীর্ঘশ্বাস ! কেননা আজ অবধি বাঙ্গালির অপেক্ষার ফল সুমিষ্ট হয় নি ।

এখন আসি ,গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় নিয়ে সেটা হল – ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন !!

সাভারের রানা প্লাজা ধসের পর প্রায় আড়াই মাস পার হতে চলল। । এখনো ক্ষতিপূরণ পাই নাই , ক্ষতিগ্রস্থ হাজারো পরিবার । সরকার পক্ষ থেকে একের পর এক প্রতিশ্রুতি এসেছে , মালিক পক্ষ থেকে এবং দায়ী মালিকপক্ষ ঘোষণা দিয়েছেন, সেগুলা শুনতে বেশ রসালো লেগেছিল , কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির কি হল? সেই ক্ষতিপূরণের কি হল?
প্রধানমন্ত্রী বিভিন্নজনের কাছে চাঁদা তুলে কিছু টাকা একাংশের হাতে দিয়েছেন। এক হাজার ১৩১ নিহত ব্যক্তির পরিবার এবং আহত-পঙ্গু ব্যক্তিদের অধিকাংশ সেটাও পাননি।
এদিকে পুনর্বাসনের প্রতিশ্রুতি এখনো অন্ধকারে ।
রানা প্লাজার ভয়ংকর ঘটনার পর বিজিএমইএর নেতারা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, ক্ষতিপূরণের অর্থ অন্তত তাজরীনের চেয়ে কম হবে না। বেশিই হবে। বলেছেন, আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার সব দায়িত্ব তাঁদের।
কিন্তু বাস্তবায়ন হয় নি এখনো ।
যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে উচ্চশিক্ষারত কয়েকজন প্রবাসী শিক্ষার্থী আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন পদ্ধতি ও দেশের বিদ্যমান মজুরিকাঠামো বিশ্লেষণ করে ক্ষতিপূরণের একটি ছক দিয়েছেন। তাতে ক্ষতিপূরণ দাঁড়ায় সর্বনিম্ন প্রায় নয় লাখ থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৫৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে আইএলওসহ আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশের মজুরিকাঠামো বিবেচনা করে পরিবারপ্রতি ক্ষতিপূরণ দাঁড়ায় প্রায় ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সংশ্লিষ্ট সবার অংশগ্রহণের কথা বলা হয়েছে। অনুপাত অনুযায়ী, সরকার শতকরা ৯ ভাগ, বিজিএমইএ শতকরা ১৮ ভাগ, মালিক ২৮ ভাগ এবং ব্র্যান্ড বিক্রেতা-প্রতিষ্ঠান শতকরা ৪৫ ভাগ বহন করবে। রানা প্লাজার ঘতনার পর অনেক কিছু হলেও , সাহায্যের অনেক উদাত্ত আহবান শোনা গেলেও , আজও সরকার বা মালিকপক্ষ বা বিজিএমই এর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ বিষয়ক কোন সুস্পষ্ট নীতিমালা গ্রহণ করা বা বাস্তবায়িত হয় নি ।

আগেও বলেছি । আমরা সাধারন বাঙালি শুধু অপেক্ষা করতে পারি । অপেক্ষা শুধু ভাল কিছুর , কেননা রক্তের এ ঋণ মেটানো আমাদের কর্তব্য । সাভারের আকাশে আজও কার্বনডাইঅক্সাইড এর সাথে রক্তের গন্ধ ভাসমান ।

৩০ thoughts on “”সাভার ট্রাজেডি- তিন মাসেও বাস্তবায়ন হয় নি ক্ষতিপূরণ এবং পুনর্বাসন ”

  1. আমাদের হার্ডডিস্কে স্পেস কম,
    আমাদের হার্ডডিস্কে স্পেস কম, মানে বাঙ্গালীদের। তাই সবকিছু ভুলে যাই।

    1. ভোলার ব্যাপার টা থিম নাহ !!
      ভোলার ব্যাপার টা থিম নাহ !! ওদের আমরা মনে রেখেছি , কিন্তু কষ্ট হয় । দুঃখ হয় , যখন দেখি , এদের পুনর্বাসন নিয়েও দুর্নীতি ।

      1. বাঙ্গালী জাতির চেয়ে বেঈমান
        বাঙ্গালী জাতির চেয়ে বেঈমান জাতি কোথায় আছে? যে জাতি বঙ্গবন্ধু হত্যাকারী ট্যাঙ্ক এর উপর উন্মত্ত হয়ে নাচতে পারে…ধিক

        1. বঙ্গবন্ধুকে অনেক বাঙ্গালি আজও
          বঙ্গবন্ধুকে অনেক বাঙ্গালি আজও সম্মান দিতে পারে নাহ । আমার এদের জন্ম পরিচয় নিয়ে সন্দেও জাগে !!

    1. আমরা ভুললে কিছু হবে নাহ ,
      আমরা ভুললে কিছু হবে নাহ , কিন্তু সরকার এবং মালিক পক্ষ এদের ভুলে গেলে তো চলবে নাহ ,।

  2. হ্যাঁ,ভাই ভুলে গেছি,গোল্ড ফিশ
    হ্যাঁ,ভাই ভুলে গেছি,গোল্ড ফিশ মেমোরি তাই ভুলে গেছি.
    রক্তের গন্ধ? গন্ধ তো আর নাকে লাগে না,এসি বাতাসে এয়ার ফ্রেশনার মেরে চলি তাই আর গন্ধ পাই না.
    দুর্নীতি করব কারণ এতগুলা প্রাণের চেয়ে টাকাই মুখ্য,যে টাকার লোভে এত মানুষ মেরেছি এই টাকার জন্য এবার আহতদেরও তিলে তিলে মারব,একজন পোশাক শ্রমিককেও বাঁচতে দেব না! অর্থনীতির চাকা ঘুরতে দেব না,শুধু আমার ভাগ্যের চাকা ঘুরতে থাক! যদি লাইগা যায়…..

  3. গত পরশু মাসের বেতন নিতে গিয়ে
    গত পরশু মাসের বেতন নিতে গিয়ে শুনলাম রানা প্লাজায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য একদিনের বেতন ডোনেশন হিসেবে কেটে রাখা হয়েছে। জানিনা সেই টাকা কার পেটে গিয়ে ঢুকবে।

    1. সেই টাকা মন্ত্রী-এম্পিদের
      সেই টাকা মন্ত্রী-এম্পিদের পেটে ঢুকবে। এটা বুঝতে না পারার কোন কারণ দেখিনা। রানাপ্লাজাসহ গার্মেন্টস শিল্পে বিগত দিনগুলোতে শ্রমিকদের কাজের পরিবেশ তৈরী করতে, শ্রমিকবান্ধব পরিবেশ তৈরীতে সরকার চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এসব সমস্যার চেয়েও সরকারের কাছে গ্রামীণ ব্যাংক ও ডঃ ইউনুস প্রসঙ্গ অনেক গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রী ডঃ ইউনুসের উপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে প্রতিশোধ নিতে গিয়ে গোটা জাতিকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলে দিয়েছে। যে জাতির প্রধানমন্ত্রী চরম হিংসুটে, সে জাতি ভাগ্যের আকাশে মেঘ না থেকে কি রোদ থাকবে? গ্রামীণ ব্যাংক বা ডঃ ইউনুস বাংলাদেশের জনগনের কোন সমস্যা না। এটা শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সমস্যা। বলতে পারেন, রানা প্লাজার সাথে ডঃ ইউনুসের সম্পর্ক কি? রানাপ্লাজার সাথে জিএসপি’র সম্পর্ক আছে, আবার জিএসপি’র সাথে ইউনুস মহাজনের সম্পর্ক আছে। ইউনুস খেলে গরীবের দারিদ্রতা নিয়ে, আর হাসিনা ইউনুসের উপর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে খেলছে জনগনের সাথে। এরা যা কিছুই করে, নিজের জন্যই করে। দারিদ্রতা বা জনগণের জন্য কিছুই করেনা।

      রানাপ্লাজার ঘটনা থেকে সরকারের কোন শিক্ষা হয়েছে বলে মনে হয়না।

  4. থিমটা ভাল।আসলেই কত খারাপ
    থিমটা ভাল।আসলেই কত খারাপ মানুষ এদের পুর্নবাসন নিয়ে দুর্নীতী।ধিক্কার তাদের

    1. মন্তব্য এর জন্য ধন্যবাদ ।
      মন্তব্য এর জন্য ধন্যবাদ । আসলে এখন এটা সরকার এবং মালিক পক্ষের দুর্নীতির জন্য হচ্ছে । মানবতার দাবী থেকে তুলে ধরলাম বিষয় টা ।

  5. সময়ের অতলে হয়তো আমাদের মন
    সময়ের অতলে হয়তো আমাদের মন থেকে হারিয়ে যাবে কিন্তু যারা ভুক্তভোগী তারা এই ঘটনাটা মনে রাখবে আজীবন

    1. যারা ভুক্ত ভোগী তারা মনে
      যারা ভুক্ত ভোগী তারা মনে রেখেই বা কি হবে । হাজারো ক্ষতিগ্রস্থ পরিবার এর জন্য কিছু করার ক্ষেত্রে এখনো সরকার এবং মালিকপক্ষ উদাসিন । এটা এত সহজে মেনে নিতে পারছি নাহ ।

    1. হুম । আখের গোছানোর আলামত
      হুম । আখের গোছানোর আলামত ইদানিং ছাত্রলিগ এর কর্মকাণ্ডে আরও পরিস্কার হচ্ছে । :দীর্ঘশ্বাস: :দীর্ঘশ্বাস:

  6. শুনেছিলাম, রানার সম্পত্তি
    শুনেছিলাম, রানার সম্পত্তি দিয়ে সবার পুনর্বাসন করা হবে। তেমন কোন নিউস আর শুনা গেলো না।

    1. ঘটনা ঘটার পর অনেক কিছুই শোনা
      ঘটনা ঘটার পর অনেক কিছুই শোনা যায় , কিন্তু দিন পার হয় , বাস্তবায়ন মরীচিকা হয়ে রয় ।

  7. খুব সবাভাবিক একটা ব্যাপার
    খুব সবাভাবিক একটা ব্যাপার আমাদের জন্য কারন এইভাবেই আবারো হয়ত কোন বিল্ডিং ধ্বসে পরবে অথবা আগুনে ভস্মীভূত হবে এবং আমরা আবারো সেই একবাক্য বলবো >> জাগো বাংগালী জাগো << ।।

    1. প্রধানত এটা তো আমাদের করনিয়
      প্রধানত এটা তো আমাদের করনিয় নাহ । এটা সরকার , বিজেমই , দায়ী মালিকপক্ষের কর্তব্য । আমাদের যা করনীয় তা আমরা করেছি তখন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *