৭২-এর সংবিধানের প্রস্তাবনা ও জিয়া-সায়েমের সামরিকোচিত দূষণ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

প্রস্তাবনা [১৯৭২]

আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;

আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল -জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে ;


গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান

প্রস্তাবনা [১৯৭২]

আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;

আমরা অঙ্গীকার করিতেছি যে, যে সকল মহান আদর্শ আমাদের বীর জনগণকে জাতীয় মুক্তি সংগ্রামে আত্মনিয়োগ ও বীর শহীদদিগকে প্রাণোৎসর্গ করিতে উদ্বুদ্ধ করিয়াছিল -জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে ;

আমরা আরও অঙ্গীকার করিতেছি যে, আমাদের রাষ্ট্রের অন্যতম মূল লক্ষ্য হইবে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এমন এক শোষণমুক্ত সমাজতান্ত্রিক সমাজের প্রতিষ্ঠা- যেখানে সকল নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক সাম্য, স্বাধীনতা ও সুবিচার নিশ্চিত হইবে;

আমরা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমরা যাহাতে স্বাধীন সত্তায় সমৃদ্ধি লাভ করিতে পারি এবং মানবজাতির প্রগতিশীল আশা-আকাঙ্খার সহিত সঙ্গতি রক্ষা করিয়া আন্তর্জাতিক শান্তি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে পূর্ণ ভূমিকা পালন করিতে পারি, সেইজন্য বাংলাদেশের জনগণের অভিপ্রায়ের অভিব্যক্তিস্বরূপ এই সংবিধানের প্রাধান্য অক্ষুণ্ন রাখা এবং ইহার রক্ষণ, সমর্থন ও নিরাপত্তাবিধান আমাদের পবিত্র কর্তব্য;

এতদ্বারা আমাদের এই গণপরিষদে, অদ্য তের শত ঊনআশী বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসের আঠারো তারিখ, মোতাবেক ঊনিশ শত বাহাত্তর খ্রীষ্টাব্দের নভেম্বর মাসের চার তারিখে, আমরা এই সংবিধান রচনা ও বিধিবদ্ধ করিয়া সমবেতভাবে গ্রহণ করিলাম।

প্রাসঙ্গিক সামরিকোচিত দূষণঃ
আগে দেখি কি কি দূষণে দুষিত করা হয়েছে আমাদের সংবিধানকে।
১) ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ শব্দগুচ্ছের সংযোজন। [ধর্মকেও দূষিত করা হয়েছে!]
২) ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের’ শব্দগুচ্ছের পরিবর্তে ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্যে ঐতিহাসিক যুদ্ধের’ শব্দগুচ্ছের প্রতিস্থাপন।
৩) ২য় প্যারায় ‘-জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে’ এই বাক্যাংশের পরিবর্তে এইভাবে লিখা হয়ঃ ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস, জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র এবং সমাজতন্ত্র অর্থাৎ অর্থনৈতিক ও সামাজিক সুবিচারের সেই সকল আদর্শ এই সংবিধানের মূলনীতি হইবে’।

উপরোক্ত দূষণত্রয় করা হয় নিম্নোক্ত সামরিক ফরমানে-
The Second Proclaimation (Fifteenth Amendmend) Order, 1978 এর 2nd Schedule যা পরবর্তীতে ২০০৫ সালের ২৯ আগস্ট পঞ্চম সংশোধনী অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্ট। ওই রায়ে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সাল পর্যন্ত খন্দকার মোশতাক আহমেদ, আবু সা’দাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের শাসনকে বেআইনি ঘোষণা করা হয়।

সপ্তম সংশোধনী সংক্রান্ত রায়ে আদালত বলেছে, “এরশাদ অন্যায় করলেও জিয়া করেছেন গুরুতর অন্যায়। কেননা তিনি সংবিধান স্থগিত ও কিছু মূল বিধান পরিবর্তন করেছিলেন। আর এরশাদ কেবল সংবিধান স্থগিত করেছিলেন।”

জিয়া সম্পর্কে রায়ে বলা হয়, তিনি পাকিস্তানপন্থী ব্যক্তিকে প্রধানমন্ত্রী করার পাশাপাশি একই ধারার অনেককে পুনর্বাসিত করার পাশাপাশি বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুনর্বাসন ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি করার সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন। রায়ে খন্দকার মোশতাক আহমেদ, আবু সা’দাত মোহাম্মদ সায়েম এবং জিয়াউর রহমানের মতো এইচ এম এরশাদকেও অবৈধ ক্ষমতা দখলকারী হিসেবে চিহ্নিত করে হাইকোর্ট।

অর্থাৎ এই রায়টি হয় বিএনপি-জামাত সরকার যখন ক্ষমতায়। এতে করে রায়ের সার্থকতা আর জিয়া-সায়েমের দূষণের স্বরূপ উন্মোচিত হয়। এখন আমরা দেখি এই ৩ টি সংযোজনে বাংলার আপামর জনসাধারণ কি পেল বা মুসলিম সমাজই বা কি পেল?
ক) আমাদের মাধ্যমিকে ও উচ্চ মাধ্যমিকে বা যেকোন শিক্ষাক্রমের কোন পাঠ্য বইয়ের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ শব্দগুচ্ছের সংযোজন নাই কেননা পাঠ্য পুস্তক যেকেউ যেকোন ধর্মের মানুষ পড়তে পারে। আমরা জানি পবিত্র কুরআন শরীফ ধরতে এবং পড়তে হলে আগে ওযু করে নিজেকে পবিত্র করতে হয়। তাই এই শব্দগুচ্ছের সংযোজন ধর্মীয় দিক চিন্তা করে হয়নি হয়েছে ধর্মীয় অনুভূতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করার জন্যে।
খ) ‘জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের’ শব্দগুচ্ছের পরিবর্তে ‘জাতীয় স্বাধীনতার জন্যে ঐতিহাসিক যুদ্ধের’ শব্দগুচ্ছের প্রতিস্থাপন। এই কাজটি স্পষ্টত একটা বাতুলতা কেননা আমরা মুক্তির সংগ্রাম করেছি তা কোন বাঙ্গালীকে বলে বুঝাতে হয় না। অথচ জনআক্রোশের শব্দের মত করে বললে ঐ হাঁটুবুদ্ধির সামরিক জান্তারা বুঝতে পারেন নাই সংবিধান কি বলতে চাইছে। এইটা আরও প্রমান আছে তাদের সংশোধনের পরের প্রস্তাবনাটি ভাল করে পড়লে। তখন যেকোন রাজনৈতিক বোদ্ধাই হাসতে বাধ্য। কতটা রাজনৈতিক জ্ঞানশুন্যু হলে এমন কিছু করা সম্ভব!
গ) ‘ধর্মনিরপেক্ষতার’ পরিবর্তে এই কথা বলা হয়েছে যে ‘সর্বশক্তিমান আল্লাহের উপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ তাহলে এই সংবিধানকি তৎকালীন ১৫% আর বর্তমান ১০% মানুষের জন্যে না? সংবিধান বা রাষ্ট্রী হচ্ছে একটা প্রতিষ্ঠান তাই রাষ্ট্রের সংবিধানের কোন ধর্ম নাই। সেই একই যুক্তি ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’; কোন মুসলিম যেমন কোন বইয়ের পাঠের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহির রহমানির রহীম’ বলবে তেমনি বাকি ধর্মের অনুসারীরা নিজ নিজ রীতি অনুসরণ করবে। এইটা সংবিধানে সংযোজন কেবল মাত্র জনপ্রিয়তার জন্যেই ব্যবহার হয় নি আমাদেরকে ৭১-এর মূল চেতনা থেকে বিচ্যুত করার জন্যেও করা হয়েছে। আর সেসব ব্যখ্যা ২০০৫ এর রায়ে স্পষ্ট দেয়া আছে।

আমাদের সকলকে এইসব ইতিহাস জানতে হবে তাহলেই কেবল আমরা বুঝতে পারব ধর্ষিতাকে কি আমরা ধর্ষকের হাতে তুলে দিচ্ছি নাকি প্রেমিকের হাতে।।

জয় বাংলা… জয় বঙ্গবন্ধু…

৩৬ thoughts on “৭২-এর সংবিধানের প্রস্তাবনা ও জিয়া-সায়েমের সামরিকোচিত দূষণ

  1. চমৎকার বিশ্লেষণ। একাত্তরের
    চমৎকার বিশ্লেষণ। একাত্তরের চেতনা বলে আমরা গলা ফাটাই। আমার কাছে একাত্তরের চেতনা ৭২ এর সংবিধানেই নিহিত আছে বলে মনে হয়। এবার সরকার একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েও ৭২ এর মূল সংবিধানে ফেরত যায় নাই। এর দায় আরও অনেকদিন এই জাতিকে শোধ করতে হবে।

    1. ৭২- এর সংবিধানকি আপনারা মেনে
      ৭২- এর সংবিধানকি আপনারা মেনে নিবেন? এই জাতি মেনে নিবে? নাকি সরকারকে নাস্তিকদের দোসর বলা শুরু করবেন, খুব জানতে ইচ্ছা করে… ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্যে!!

      1. মানুষের কথা বাদ দেন, ৭২-এর
        মানুষের কথা বাদ দেন, ৭২-এর সংবিধান শেখ হাসিনা নিজেই মেনে নেবে কিনা সন্দেহ আছে। বর্তমান আওয়ামীলীগের কাছে ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া আর কোন রাজনৈতিক আদর্শ আছে নাকি? ধর্ম নিরপেক্ষতার নাম ভাঙিয়ে আওয়ামীলীগ সংগঠনটাই ধীরে ধীরে ধর্মীয় রাজনৈতিক দলে পরিণত হচ্ছে।

        1. একটা কথা আমাদের সাধারন জনগন
          একটা কথা আমাদের সাধারন জনগন কেন বুঝে না জানিনা।।
          যেই বিষবৃক্ষ ১৯৭৮ সাল থেকে বড় হতে হতে আজ এই অবস্থা সেই বিষবৃক্ষের মূল উৎপাটন একেবারে সম্ভব না! আগে ডালপালা ছাঁটতে হবে তারপর সমূলে উচ্ছেদ করতে হবে তাদের… মাথা গরম করে একজনে পোতা গাছের জন্যে ২১ বছর পরে অন্য আরেকজনকে এইভাবে দায়ী করার কোন যৌক্তিক কারণ নেই…
          ধন্যবাদ…

        2. বাহ … এরকম আমারও প্রায়শ মনে
          বাহ … এরকম আমারও প্রায়শ মনে হয় । যদিও তারিক ভাই রেগে আগুণ তেলে বেগুন হয়ে যাচ্ছেন তবুও বলবো বিবেচনা যখন কেবল রাজনীতি এবং ক্ষমতায় যাওয়া মসৃণ করা তখন দেশ প্রগতিশীলতার দিকে কয়েক কদম এগিয়ে গেলো না পিছিয়ে গেলো এই বোধ আর বিশ্বাসের জায়গায় থাকেনা ।

  2. আমাদের সকলকে এইসব ইতিহাস

    আমাদের সকলকে এইসব ইতিহাস জানতে হবে তাহলেই কেবল আমরা বুঝতে পারব ধর্ষিতাকে কি আমরা ধর্ষকের হাতে তুলে দিচ্ছি নাকি প্রেমিকের হাতে।।

    পোস্ট এর রিভিউ কিছু কইমু নাহ । শুধু কইমু ।
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. একটা পোস্ট আর একটা সন্দেহ
      একটা পোস্ট আর একটা সন্দেহ তোমাদেরকে আমার শত্রু বানায় দিল!! অবাক লাগে মোশফেক… কিন্তু আমি কাউকে দাবড়ানি দিব, বা দৌড়ের উপর রাখব অথবা এমন কিছু বলিনাই… কিছু যুক্তির কথা বলেছিলাম!! ভাল থাক…

  3. ৭২ এর সংবিধান সত্যিই দারুণ
    ৭২ এর সংবিধান সত্যিই দারুণ ছিলো ।একটি গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে এই সংবিধানগুলো ছিলো যথোপযুক্ত ।আর যারা এই সংবিধানকে রোধ করছেন তাদেরকে কিভাবে দেশপ্রেমিকের সম্মান আমি দিবো ।চমত্‍কার একটা পোষ্ট ।

  4. আমার স্বল্পজ্ঞান এবং
    আমার স্বল্পজ্ঞান এবং অল্পচেতনায় এই জিনিষটি পছন্দ হয়নি-

    আমরা, বাংলাদেশের জনগণ, ১৯৭১ খ্রীষ্টাব্দের মার্চ মাসের ২৬ তারিখে স্বাধীনতা ঘোষণা করিয়া জাতীয় মুক্তির জন্য ঐতিহাসিক সংগ্রামের মাধ্যমে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত করিয়াছি;

    বঙ্গবন্ধুর নাম থাকা উচিত ছিলো। কেন নাই কে জানে?

    1. ১৯৭২-এর সংবিধানের হুবহু
      ১৯৭২-এর সংবিধানের হুবহু প্রতিলিপি এইটা। বঙ্গবন্ধু নিজে তাঁর উদারতার জন্যে সংবিধানে নিজের নাম সংযুক্ত করেন নাই।। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম চাইলে এইটা যুক্ত হইতে কোন বাধা থাকার কথা না… তবে আমিও আপনার সাথে ১০০% একমত! বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের কথা বলে একটা লাইন প্রস্তাবনায় থাকা উচিৎ!! :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

      1. ঠিক বলেছেন। শুধু বঙ্গবন্ধুই
        ঠিক বলেছেন। শুধু বঙ্গবন্ধুই এমনটা করতে পারেন। জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু

          1. এইখান থেকে লিখা হাওয়া হল
            এইখান থেকে লিখা হাওয়া হল কেমনে?
            তিনি আমাদের রাজনীতির কবি…
            জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু…

  5. ৭২ এর সংবিধানের চেয়ে উপযুক্ত
    ৭২ এর সংবিধানের চেয়ে উপযুক্ত কোন সংবিধান বাংলাদেশে আর তৈরি হয় নি।
    ৭২ এর সংবিধানের চেয়ে উপযুক্ত কোন সংবিধান বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজনও নেই।

    বাংলাদেশে জাতীয়তা, বাঙ্গালিয়ানা, অসাম্প্রদায়িকতা একমাত্র এই সংবিধানের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
    কিন্তু লীগ??? তাদেরই এই সংবিধানের কথা মনে আছে কিনা সন্দেহ!

    1. ৭২-সংবিধানই একমাত্র সংবিধান।
      ৭২-সংবিধানই একমাত্র সংবিধান। বারবার কিছু সামরিক জান্তা এসে এই সংবিধানটিকে দূষিত করেছে। ভাল বলেছেন আমাদের মূলই ৭২-এর সংবিধান…

    1. ধন্যবাদ…
      ১৯৭২ এর

      ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      ১৯৭২ এর সংবিধান শুধু সেরা না সবচে দূরদর্শী ও পরিপূর্ণ!!
      পরে বার বার সামরিক দূষণে তার সর্বাঙ্গীণ হানি ঘটেছে…

  6. সংবিধান কাটছাটের ব্যাপারে
    সংবিধান কাটছাটের ব্যাপারে জিয়া সায়েম মোশতাকরা যতটুকু সফলতা দেখিয়েছে ঠিক ততটুকু ব্যর্থতা দেখিয়েছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে গড়া দল আওয়ামীলীগ।ভোটের রাজনীতির হীন স্বার্থে একক সংখ্যাগরিষ্ট আসন নিয়েও আওয়ামীলীগ ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যেতে পারেনি।সংবিধানে ধর্মকে বহাল রেখে আওয়ামীলীগ পরোক্ষভাবে আরেকবার জিয়া মোশতাককেই বৈধতা দিয়েছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

    1. দেখেন শহীদ ভাই আপনার সাথে
      দেখেন শহীদ ভাই আপনার সাথে একমত হতে পারলাম না!
      আজ একটা পোস্টের তর্কের পর ভেবেছিলাম আজ থেকে আর তেমন মন্তব্য করব না।
      তবুও করছিঃ যেই বিষবৃক্ষ আজ ৩৭ বছরে শৈশব থেকে তারুণ্যে তাকে কি একদিনে সমূলে উৎখাত করা যাবে? নাকি ধীরে ধীরে তার ডালপালা কেটে কেটে মূল উৎপাটন করতে হবে?
      সবিনয়ে প্রশ্ন করলাম, উত্তর দিয়ে যাবেন! একটা ক্লু দেই ২৮ ফেব্রুয়ারির সাইদির ফাঁসির রায়ের পর দেশ ব্যাপী নারকীয় তান্ডব দেখেছি, আর সরাসরি ৭২ এর সংবিধানে যখন যাবেন তখন বিসমিল্লাহ, রাষ্ট্র ধর্ম আর ধর্মনিরপেক্ষতা ইস্যুতে কি নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ হবে ভেবে উত্তর দিবেন!!

      1. কেন তর্ক করবেন না? অবশ্যই
        কেন তর্ক করবেন না? অবশ্যই করবেন।আমাদের জ্ঞান অসীম নয়।ভুল হতেই পারে ।সমালোচনা বা তর্কের মাধ্যমে অনেককিছু বেরিয়ে আসতে পারে।বিশেষ করে কেউ আমার সমালোচনা করলে আমি খুশিই হই ।

        আপনি রাজকারের রায় নিয়ে নাশকতার কথা বলেছেন।এবং আশংকা করতেছেন ৭২ এর সংবিধানে ফিরে গেলে এর চেয়ে ভয়াভহ নাশকতা ঘটতে পারে।
        আমি মনে করি সময়মত ৭২ এর সংবিধানে ফিরতে পারলে যে নাশকতা ঘটেছে তাও ঘটত না!৭২ এর সংবিধান প্রতিষ্টা সম্ভব হলে জামাত বা ধর্মীয় কোন দল বা গোষ্টিই থাকত না।আর দল বা সংঘবদ্ধ গোষ্টি না থাকলে হরতাল বা নাশকতা কে ঘটাবে?হ্যা, কিছু নাশকতা হয়তো ঘটতো কিন্তু বাংলাদেশের যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আছে, সরকার কঠোর নির্দেশ দিলে আর লীগ একটু সতর্ক থাকলে এসব নাশকতা ঠেকানো কোন ব্যপারই ছিল না।

        আপনি বলেছেন আস্তে আস্তে সব হবে?
        আমি বলছি খু..উ..ব হবে!এ আমলে যেটা সম্ভব হয় নাই সেটা বঙ্গবন্ধুর পুনর্জন্মেও সম্ভব হবে না।আগামীতে বিএনপি জিতলে আবার সংবিধান কাটা ছেড়া হবে।তারা তো ইতিমধ্যে ঘোষনাও দিছে যে তারা ক্ষমতায় গেল এই সংবিধান ডাস্টবিনে ছুড়ে ফেলবে!আমিও মনে করি তাই করবে এবং এই সুযোগটা লীগই তাদের দিয়ে রেখেছে।
        ধন্যবাদ।

        1. ২/৩ মেজরিটি না পেলে কিছুই
          ২/৩ মেজরিটি না পেলে কিছুই করতে পারবে না এই সংবিধানের…
          আর বিএনপি-জামাত-হেফাজত যদি তা পায় তবে দেশতো তাদেরই।।
          আমার আপনার মত সুশীলের নই… মন্তব্যের জন্যে ধন্যবাদ!!
          ওহ্যাঁ বলছি। ৭২- সংবিধানে গেলে জামাত-হেফাজত-বিএনপি জোট মরন কামড় দিত কোন সুত্রের খবর জানতে চান? দেশী না বিদেশী? সেনা না, পাবলিক? সরকারি না বেসরকারি? সকল রিপোর্টে একই তথ্য ছিল!! সবিনয়ে জানালাম…

          1. মেজরিটি লাগবে না আদালতই
            মেজরিটি লাগবে না আদালতই যতেষ্ট।

            আমাকে গোয়েন্দা সুত্র দেখানো লাগবে না।এসব ফালতু সুত্রই ভাল কাজের যত বাধা।যে সুত্র ইলিয়াস গুমের কোন খবর দিতে পারে না, সাগর রুনির হত্যা রহস্য বের করতে পারে না, বিডিআর বিদ্রোহের খবর দিতে পারে না, বাচ্চু রাজাকারের পালানোর কোন খবর জানতে পারে না, আড়িয়াল বিলে কি হবে সেটা জানাতে পারে না,ফটিকছড়িতে কি ঘটবে তা জানাতে পারে না সেই সুত্রের কোন ভিত্তি আছে বলে আমি মনে করি না।

            anyway, আমার কথাগুলো অনেকটা বামেদের মতই মনে হচ্ছে এবং আপনি আমাকে সুশীল সম্বোধন করে সে দিকটাই ইঙ্গিত করেছেন সেটা বুঝতে পারছি।কিন্তু কথাগুলো সত্য রে ভাই।

          2. সত্য না। আপেক্ষিক
            সত্য না। আপেক্ষিক সত্য…
            যাহোক একটা কথা বলি। গোয়েন্দা রিপোর্ট প্রকাশ করা আর না করা ভিন্ন কথা। সরকার গোয়েন্দা রিপোর্ট পক্ষে গেলেই তা শুধু নেয় তা কিন্তু নয় কিছু করার থাকলে তাই করে যাতে করে নিজের মত করে সাঁজায় নিতে পারে…

          3. আপনার রিপ্লাই পড়ে আরাম পেলাম
            আপনার রিপ্লাই পড়ে আরাম পেলাম । আর কথাগুলো বামদের মতো হয়ে গেলে আপনার আপত্তি আছে ? আপনি যা বিশ্বাস করেন তাই তো বলেছেন , নাকি ?

          4. সেটাই… মুস্তাফিজ ভাইকে
            সেটাই… মুস্তাফিজ ভাইকে ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
            আর আপনি আমার মতই ভাবেন বা আমি আপনার মত প্রায় সব বিষয়েই খুব প্রীত হলাম…

    2. আমারও মনে হয় একটা সুবর্ণ
      আমারও মনে হয় একটা সুবর্ণ সুযোগ আওয়ামীলীগ নষ্ট করলো । আর যারা বলছেন আওয়ামীলীগ এটা হজম করতে পারতোনা – তাদের কথায় যুক্তি থাকলেও কেন জানি বিশ্বাস করতে মন চায় না ।

  7. মন্তব্যকারী সকল পাঠক-কে
    মন্তব্যকারী সকল পাঠক-কে ধন্যবাদ; পড়ার জন্যে ও প্রেরণা দেয়ার জন্যে :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

  8. একটা ছোট্ট কী বোর্ড মিস্টেক
    একটা ছোট্ট কী বোর্ড মিস্টেক !!!

    (Fifteenth Amendmend)

    — বাংলায় অবশ্য ঠিকই লিখেছেন । তারপরেও যদি সম্পাদনা করা সম্ভব হয় ঠিক করে দিয়েন ।

    আমাদের সকলকে এইসব ইতিহাস জানতে হবে তাহলেই কেবল আমরা বুঝতে পারব ধর্ষিতাকে কি আমরা ধর্ষকের হাতে তুলে দিচ্ছি নাকি প্রেমিকের হাতে।।

    —- চমৎকার বলেছেন । ধর্ষকের হাতে তুলে দিতে পারলেই মনে করা হয় মেয়েটির ইহকাল -পরকাল এর সুখ সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা গেলো ।
    —- আর সংবিধানের কাঁটাছেঁড়া নিয়ে নতুন আর কী বলবো । শামসুর রাহমান এর কবিতার কথা মনে পরে গেলো । সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে লেখা ” উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে স্বদেশ … ”

    1. অসংখ্য ধন্যবাদ মুস্তাফিজ
      অসংখ্য ধন্যবাদ মুস্তাফিজ ভাই… পড়ার ও সুন্দর মন্ত্যব্যের জন্যে… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    1. অশেষ ধন্যবাদ…
      অশেষ ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      আবারও ফাকিবাজি? :ঘুমপাইতেছে: :ঘুমপাইতেছে: গঠনমূলক সমালোচনা চাই… 😉 :হাহাপগে: :হাহাপগে:

    2. ব্রহ্ম পুত্র, আপনার
      ব্রহ্ম পুত্র, আপনার ফাঁকিবাজিতে ব্লগ সয়লাব হয়ে আছে … হাহাহাহাহাহা । একটু লেখেন টেখেন । তাতে দেশ ও জাতি উপকৃত হইলেও হইতে পারে । 😀

      1. একটু লেখেন টেখেন । তাতে দেশ ও

        একটু লেখেন টেখেন । তাতে দেশ ও জাতি উপকৃত হইলেও হইতে পারে…

        সহমত… :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *