ক্যান্সার নিয়ে কিছু কথা।

মরণব্যাধি ক্যান্সার ।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে প্রতিবছর যে পরিমাণ মানুষ মারা যায় অসুখে মারা যায় তার প্রধান কারণ হার্ট এটাক এবং তারপরেই আসে মরণব্যাধি ক্যান্সার। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পৃথিবীতে ক্যান্সার রোগীদের পরিমাণ বাড়লেও, এই রোগ থেকে বাঁচার পথ ততটা বাড়ছে’না, এমনকি চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, মাইক্রোবায়োলজিস্টদের কাছেও ক্যান্সারের প্রকৃত কারণ ততটা ‘স্পষ্ট’ নয়, তবুও সারাবিশ্বে এই রোগ নিয়ে বিশদ গবেষণা চলছে। বর্তমানে, পৃথিবীতে গবেষণার জন্য যে পরিমান অর্থ ব্যয় করা হয়, তার অধিকাংশ ব্যয় হচ্ছে এই ‘ক্যান্সার’সংক্রান্ত গবেষণায়। তবে আশার কথা হল, পূর্বের ‘মরণব্যাধি ক্যান্সার’ ধারণাটি আজ আর নেই, কারণ বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য, যদি রোগটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা যায়।
পৃথিবীতে অঞ্চলভেদে কিছু কিছু অঞ্চলে বিশেষ কিছু ‘ক্যান্সারের’ প্রাদুর্ভাব দেখা যায়।

মরণব্যাধি ক্যান্সার ।
একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে প্রতিবছর যে পরিমাণ মানুষ মারা যায় অসুখে মারা যায় তার প্রধান কারণ হার্ট এটাক এবং তারপরেই আসে মরণব্যাধি ক্যান্সার। সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে পৃথিবীতে ক্যান্সার রোগীদের পরিমাণ বাড়লেও, এই রোগ থেকে বাঁচার পথ ততটা বাড়ছে’না, এমনকি চিকিৎসক, বিজ্ঞানী, মাইক্রোবায়োলজিস্টদের কাছেও ক্যান্সারের প্রকৃত কারণ ততটা ‘স্পষ্ট’ নয়, তবুও সারাবিশ্বে এই রোগ নিয়ে বিশদ গবেষণা চলছে। বর্তমানে, পৃথিবীতে গবেষণার জন্য যে পরিমান অর্থ ব্যয় করা হয়, তার অধিকাংশ ব্যয় হচ্ছে এই ‘ক্যান্সার’সংক্রান্ত গবেষণায়। তবে আশার কথা হল, পূর্বের ‘মরণব্যাধি ক্যান্সার’ ধারণাটি আজ আর নেই, কারণ বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ ক্যান্সার নিরাময়যোগ্য, যদি রোগটিকে প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় করা যায়।
পৃথিবীতে অঞ্চলভেদে কিছু কিছু অঞ্চলে বিশেষ কিছু ‘ক্যান্সারের’ প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। যেমনঃ

) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্থ ক্যারোলিনা’র মহিলাদের মধ্যে সর্বাধিক ‘ব্রেস্ট ক্যান্সার’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণ ঐ অঞ্চলের পরিবেশগত অবস্থান, তাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনের প্রভাব এবং অধিবাসীদের জিনগত বৈশিস্ট্য।

) ভারতীয় উপমহাদেশে পুরুষদের মধ্যে সর্বাধিক ‘মুখগহবরের ক্যান্সার’ এবং ‘ফুসফুসের ক্যান্সার’ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর কারণে রয়েছে ধূমপান, তামাক সেবন এবং অপুস্টি।

) জাপানে ‘পাকস্থলীর ক্যান্সার’ বেশি দেখা যায়। ‘সামুদ্রিক স্যামন’ মাছকে লবণ দিয়ে প্রক্রিয়াজাত করা খাদ্য জাপানে খুবি জনপ্রিয়, যা থেকে ক্যান্সার’সেলকে উদ্দীপিত করা ‘নাইট্রোস-অ্যামাইন’ তৈরী হয় যা ঐ ক্যান্সারের কারণ।

) এশিয়া তথা বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্থানের মহিলারা ‘জরায়ুমুখের ক্যান্সার’এ আক্রান্ত হয়ে থাকে। কারণ ঐসব অঞ্চলে মেয়েদের মধ্যে ‘বয়ঃপ্রাপ্তি’ খুব তাড়াতাড়ি হয় এবং মেয়েদের বাল্যবিবাহও এর অন্যতম প্রধান কারণ, যা ঐসব অঞ্চলে এখনও উদ্ধেকজনক পরিমাণে বাড়ছে।

) ইউরোপ এবং আমেরিকাতে ‘ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদান্ত্রের ক্যান্সার’ রোগীদের পরিমাণ বেশি। ঐ অঞ্চলের অধিবাসীদের খাদ্য তালিকায় বিপুল পরিমাণ ‘চর্বিজাতীয়’ খাবার রয়েছে , যা এই ক্যান্সারের জন্য দায়ী। এবং অতিমাত্রায় অ্যালকোহল সেবন অধিবাসীদের ‘যকৃতের ক্যান্সার’ হওয়ার আশঙ্খাও বাড়িয়ে দেয়।

) মিশরের নীলনদের প্রায় ৪৫০কিঃমিঃ এর মধ্যে থাকা অধিবাসীদের মধ্যে ‘মুত্রাশয়ের ক্যান্সারে’ আক্রান্ত হওয়ার সর্বাধিক পরিমাণ লক্ষ্য করা যায়। নীলনদের পানিতে পাওয়া এক বিশেষ প্রজাতির প্রোটোজোয়া ঐ অঞ্চলে হওয়া এই ক্যান্সারের জন্য দায়ী।

আমাদের দেশে সাধারণত পুরুষদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার এবং মহিলাদের মধ্যে জরায়ুমুখের ক্যান্সার এবং ব্রেস্ট ক্যান্সার বেশি দেখা যায়। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগী’র পরিমান আশঙ্খাজনকভাবে আমাদের দেশে বৃদ্ধি পাচ্ছে কিন্তু সেই পরিমানে তার চিকিৎসাব্যবস্থা রয়েছে অপ্রতুল। আমাদের দেশে যেখানে ন্যূনতম ৩০০ টি ক্যান্সার হাসপাতাল প্রয়োজন সেখানে সরকারী এবং বেসরকারীসহ মোট মাত্র ১৮টি হাসপাতালই রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে ২০২৫সালের মধ্যে আমাদের দেশে ক্যান্সার’আক্রান্তদের পরিমাণ বেড়ে দ্বিগুণ হয়ে যাবে, সেক্ষেত্রে আমাদের প্রয়োজন পড়বে ন্যূনতম ৬০০টি ক্যান্সার হাসপাতাল !
আমাদের দেশে, ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী ছাড়াও ক্যান্সারের ঝুকির মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠী। এই ক্ষেত্রে আমাদের এই রোগের প্রতিকার থেকেও জরুরি এর জন্য প্রতিরোধ-ব্যবস্থা। আমাদের এই রোগের কুফল সম্পর্কে জনসাধারণকে সচেতন করতে হবে ।
) তামাকজাত দ্রব্য সেবন পরিহার করতে হবে কারণ তামাকে আছে প্রায় ৩৩টি ক্যান্সার ‘উদ্রেককারী’ এজেন্ট।
) মহিলাদের, নিয়মিত ‘ব্রেস্ট চেক-আপ’ করা এবং সন্দেহজনক মনে হলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া।
) অতিরিক্ত চর্বি-জাতীয় খাবার পরিহার করা।
বাংলাদেশের ‘ক্যান্সার গবেষণা ও নিরাময় কেন্দ্র’ , দেশের সর্ববৃহৎ বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল যা ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত ।

৫ thoughts on “ক্যান্সার নিয়ে কিছু কথা।

  1. অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট
    অনেক গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট ।অঞ্চলভেদে ক্যান্সার ও তার কারণ ব্যাপারটা মুগ্ধ করেছে ।তবে মূল কথা হচ্ছে ক্যান্সার প্রাথমিক পর্যায়ে নিরাময়যোগ্য এবং আমাদের এই ব্যাপারে মাঠপর্যায়ে কাজ করা উচিত ।মানুষকে সচেতন করা উচিত

  2. বেশ গুছিয়ে অঞ্চলভেদে
    বেশ গুছিয়ে অঞ্চলভেদে ক্যান্সারের কারন তুলে ধরেছেন। ভালো লাগল। ক্যান্সারে মৃত্যু ঝুঁকি কমাতে সচেতনতার কোন বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *