অতৃপ্ত আত্মা (পর্ব-২)

……ও আমাকে ভালবেসেছিল কিনা বলতে পারবো না । তবে মনে হতো ও আমাকে ভালবাসে । জীবনের সব স্বপ্নগুলোকে আবার ওর রঙে নতুন করে গড়লাম । নতুনভাবে বাঁচতে চাইলাম । বদলে ফেললাম নিজেকে । ওর উপযুক্ত করে নিজেকে গড়ে তোলার যুদ্ধে নামলাম ।

ওর সাথে অনেক দুষ্টুমি করতাম । মাঝে মাঝে ওকে রাগাতাম । ওকে রাগাতে ভাল লাগত । তবে ও যখন সত্যি সত্যি রাগ করতো তখন আবার খারাপ লাগত । মাঝে মাঝে ঝগরাও হতো । তবে কেউ কারো উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারতাম না । ও রাগ করলে আমি ভাঙাতাম । আমি রাগ করলে ও ।


……ও আমাকে ভালবেসেছিল কিনা বলতে পারবো না । তবে মনে হতো ও আমাকে ভালবাসে । জীবনের সব স্বপ্নগুলোকে আবার ওর রঙে নতুন করে গড়লাম । নতুনভাবে বাঁচতে চাইলাম । বদলে ফেললাম নিজেকে । ওর উপযুক্ত করে নিজেকে গড়ে তোলার যুদ্ধে নামলাম ।

ওর সাথে অনেক দুষ্টুমি করতাম । মাঝে মাঝে ওকে রাগাতাম । ওকে রাগাতে ভাল লাগত । তবে ও যখন সত্যি সত্যি রাগ করতো তখন আবার খারাপ লাগত । মাঝে মাঝে ঝগরাও হতো । তবে কেউ কারো উপর বেশিক্ষণ রাগ করে থাকতে পারতাম না । ও রাগ করলে আমি ভাঙাতাম । আমি রাগ করলে ও ।

অনেকটা দিন কেটে গেল । ওর সাথে তেমন আর আগের মত কথা হতোনা । আমাকে একদিন সে আমাকে এসে বলল ওকে ভুলে যেতে । প্রথমে মনে করেছিলাম আমার সাথে দুষ্টুমি করছে । তাই হেসেই কথাটা উড়িয়ে দিলাম । পরে বুঝলাম দুষ্টুমি নয় ও সত্যিই বলছে । বিশ্বাস করতে পারিনি । মনে হল দুঃস্বপ্ন দেখছি । কিন্তু ঘোর ভেঙে দেখি ও আমার জীবন থেকে হারিয়ে গেছে ।
অনেক চেষ্টা করেছিলাম ওকে আমার কাছে ফিরিয়ে আনতে । কিন্তু পারিনি । ওকে নিয়ে দেখা স্বপ্নগুলো স্বপ্নই রয়ে গেল । তবুও অনেক আশায় বুক বেঁধে ছিলাম ও আমার হবেই । হয়তো আমার সাথে দুষ্টুমি করছে ।

তখনের সময়টা কাটত খুব একা ভাবে । আস্তে আস্তে সবকিছু থেকে নিজেকে সরিয়ে আনলাম । কারো কোন চাওয়া পূরণ করতে পারলাম না আর । সবার কাছে খারাপ হতে লাগলাম । একদিন নিজেকে বাঁচানোর শেষ রাস্তা হিসেবে নেশা ধরলাম । এভাবেই একটা ভাল ছেলে হয়ে যায় সবচেয়ে খারাপ ছেলে ।

আমার কষ্টগুলো কাউকে কোনদিন বুঝতেই দিইনি । নিজের কষ্টগুলোকে বুকের ভেতর লুকিয়ে সবার সাথেই হাঁসতাম দুষ্টুমি করতাম । সারা দিন সবার সাথেএই দুষ্টুমি করতাম । আর রাতে সবাই শুয়ে পড়ার পর নীরবে সারাদিনের কষ্টগুলো চোখের পানি দিয়ে বিসর্জন দিতাম । যখন ওকে খুব মনে পড়তো লুকিয়ে অনেক কাঁদতাম । ওর এভাবে চলে যাওয়াটাকে মেনে নিতে পারতাম না । খুবকষ্ট হতো ।

একদিন শুনলাম ওর নাকি বিয়ে ঠিক হয়েছে ঐ ছেলেটার সাথে । সবাই ওদের সম্পর্ককে মেনে নিয়েছে । অরোরা এসে আমাকে ওর বিয়ের দাওয়াত দিয়ে গেল । ওর বিয়েতে গিয়েছিলাম শুধু শেষবারের মত তাকে দেখার জন্যে । ওকে উপহার দেয়ার মত কিছুই ছিল না । তাই আমাকে দেয়া ওর সব উপহার ফিরিয়ে দিলাম ওকে । খুব কষ্ট পেয়েছিলাম সেদিন । অনেক কেঁদেছিলাম সেদিন । বাসায় আসলাম অনেক কষ্টে । সেদিন অনেক কেঁদেছিলাম । শেষ পর্যন্ত নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না ।”

……. এতক্ষণ কথাগুলো গভীর মনযোগ দিয়ে শুনছিল তানভীর । তার চোখ দিয়ে যে পানি পড়ছে টেরই পেল না । আকাশটা একটু ফর্সা হতে লাগল । সোহান বলল আমার সময় হয়ে গেছে আমি এখন যাই । এই বলে কার্ডে কিছু একটা লিখে কার্ডটা আবার তানভীরকে ফিরিয়ে দিল । আস্তে আস্তে ঘোর ভাঙতে ভাঙতে ওর সাথে হ্যান্ডশেক করল । করতে গিয়ে খেয়াল করল ওর হাত বরফের মত ঠান্ডা । কিন্তু কেন আর বুঝতে পারলো না ।

সোহান উঠে যেতে যেতে তানভীর তাকে বলল, “তারপর কি হল বললেন না যে?!” সোহান হেঁসে বলল, “তারপর কি আর হবে?! সোহান নামের সেই ছেলেটা মারা গেল । আত্মহত্যা করল সে ।” কথাটা শুনে তানভীর খুব ভয় পেয়ে গেল । ভয়ে ভয়ে বলল, “তাহলে আপনি?!” সোহান যেতে যেতে মুচকি হেসে জবাব দিল, “আমি?! আমি তো মৃত ।”

তানভীর ভীত দৃষ্টিতে তার যাওয়ার পথে তাকিয়ে থাকল । ঠিক যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল ছেলেটি । আযান দেওয়ার পর একটু নিশ্চিন্ত হল সে । হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ল সে ।

ঘুম ভেঙে উঠে দেখল একজন মিস্ত্রী তার গাড়িটা ঠিক করছে । আশেপাশে তাকিয়ে দেখল অনেক দোকানপাট ঘরবাড়ি । অথচ কাল যেখানে গাড়ি থেমেছিল সেখানে কোন দোকান ছিল না । কিছুই বুঝতে পারলনা সে । মিস্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলে ও বলে, “স্যার, আপনার মত ছেলে একটা অনেকক্ষণ আগে আমাকে ডেকে আনে । এরপর সে যে গেল এখনো আসল না ।” তানভীর কিছুই বুঝতে পারেনা । মিস্ত্রীকে তার পারিশ্রমিক দিয়ে সে রওনা দেয় ।
মাত্র আধ ঘন্টায় ঢাকা প্রবেশ করল সে । সরাসরি সে মিটিংয়ে চলে গেল । গিয়ে দেখে মিটিং শুরু হওয়ার সময় পার হয়ে গেছে । অথচ এখনো মিটিং শুরু হয়নি । একজন এসে বলল, “আপনার গাড়ি ঠিক হয়েছে??” তানভীর অবাক হয়ে বলল, “আপনি কিভাবে জানলেন??” তখন লোকটি বলল, “আপনিই তো ফোন করে বললেন আপনার গাড়ি নষ্ট হয়ে গেছে । আসতে দেরী হবে । মিটিং যাতে দেরীতে শুরু করা হয় । আমরা তো আপনার জন্যই অপেক্ষা করছি ।” তানভীর কিছুই বুঝতে পারল না । মনে মনে বলল, “আজ সে মিটিংয়ে আসতে না পারলে তিন কোটি টাকার টেন্ডার হারাতো । তাহলে কি এতক্ষণ সে স্বপ্ন দেখছিল??”
হঠাৎ সেই কার্ডটার কথা মনে পড়ল । পকেটে হাত ঢুকাতেই কার্ডটি পেল । বের করে দেখতেই দেখল খুব সুন্দর হাতের লেখায় লেখা—- ” আপনাদের জীবন সুখী হোক – সোহান ।” তানভীর সব বুঝতে পারল । মনে মনে তাকে অনেক ধন্যবাদ দিল আর বলল, “আপনার ভালবাসাও সুখী হোক ।” হঠাৎ একটা ঠান্ডা বাতাস যেন তানভীরের সমস্ত শরীর ছুঁয়ে গেল ।

৪ thoughts on “অতৃপ্ত আত্মা (পর্ব-২)

  1. আপনি বললেন না এটা ভৌতিক না?
    আপনি বললেন না এটা ভৌতিক না? আত্মা নিয়ে লিখা যেকোনো কিছুই তো একটু ভৌতিক হবেই।
    প্রথম পর্বেই বুঝা গিয়েছিলো ২য় পর্বে কি হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *