অণুগল্প: অপরিণামদর্শী

ভুলে যাওয়ার আগে মজিদ শেষবার যা দেখেছিলো- সম্ভবত তা ছিল শিমুলতলীর মেঘ। এবং এটা সংগত কারণেই ধারনা করা যায়, যেহেতু তার মুখে ঝুলে ছিল একটি বিহ্বল অভিব্যক্তি। মুহূর্তে তার আপাদমস্তক ঝলসে যায়, এবং পরক্ষণেই নিদারুণ নৈঃশব্দের ভেতরে পুষে রাখা সমূহ আর্তনাদে কেঁপে ওঠে শিমুলতলীর দশদিক। অতঃপর মজিদকে কেন্দ্রবিন্দুতে রেখে বৃত্তাকারে উড়ে যায় কতিপয় হতচকিত কাক। দীর্ঘদিনের রোদার্ত শিমুলতলী গাঁয়ে এভাবে সবার অলক্ষ্যে আচমকা মেঘ কোথা থেকে আসলো, এসেই প্রলয়ংকর কান্ড বাঁধালো- এবং মজিদই বা কীভাবে তা সবার আগে অবলোকন করলো এ-বিষয়ে পরেও সিদ্ধান্তে আসা যেতে পারে। কারণ ইতিমধ্যেই কিছু মলিন স্মৃতি তার পকেট ফসকে ধূলোয় পড়ে গ্যাছে। বিষণ্ন স্মৃতিদল যখন শিমুলতলীর রোদরঙ ধূলিস্নানে মগ্ন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ নিথর মজিদের উদ্দেশে নিস্ফল ক্রোধে মত্ত হয়, “শাওয়ার পো আসলেই একখান বেইমান!”, অথবা কেউ কেউ তাদের আসন্ন পরিনামের কথা ভেবে শিউরে ওঠে, “অহন আমাগো কি হইবো!” এবং তখনই মুষল বৃষ্টি নামে। কিছুক্ষণের মধ্যেই জল জমে ওঠে সেখানে। এহেন অন্ধ জলস্রোতে বেদনার্ত স্মৃতিদল কখন যে হুড়মুড়িয়ে গড়িয়ে পড়লো পার্শ্ববর্তী নর্দমাটায়, শিমুলতলীবাসীর কেউ তা টের পেল না।

৫ thoughts on “অণুগল্প: অপরিণামদর্শী

  1. ভাষার ব্যবহার ও বাক্য গঠন
    ভাষার ব্যবহার ও বাক্য গঠন অতুলনীয়। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: আপনাকে স্বাগতম জানাচ্ছি। :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *