মৃত্যু

লিখতে বসছি ইস্টিশনে আমার লেখা শেষ পোস্ট । আই এম এ ম্যান অন মাই ওয়ার্ড । না এখানে কাউকে ছোট করা হবেনা নিজেকে ছাড়া আর ঠিক এর আগের পোস্টটায় কেউ কমেন্ট করলেও রিপ্লাই দেবো না; আপনার যা খুশি ভাবুন।


লিখতে বসছি ইস্টিশনে আমার লেখা শেষ পোস্ট । আই এম এ ম্যান অন মাই ওয়ার্ড । না এখানে কাউকে ছোট করা হবেনা নিজেকে ছাড়া আর ঠিক এর আগের পোস্টটায় কেউ কমেন্ট করলেও রিপ্লাই দেবো না; আপনার যা খুশি ভাবুন।

আমি কে? যেই ব্লগার এবং অন্যান্য উদ্যোক্তারা বহু শ্রম দিয়ে জন্ম দিয়েছিলেন শাহবাগের , সেই শাহবাগে আমার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার জন্ম। শাহবাগের উত্তাল দিনগুলির কথা । আমি সেলিব্রেটি বা ব্লগার নই । কিন্তু কি করি ? রক্তের ঋণতো শোধ করতে হবে । আমি সেলিব্রেটি না এই ভেবে পার পাওয়া যাবেনা । বন্ধুদের বাসায় গেলাম , আমার এক ফ্রেন্ড সবসময় সাথে ছিল , সে বুঝত আমি কি চাইছি । আড্ডা দেয়ার দরকার ? চল , শাহবাগে । রাস্তায় মাইয়া দেখস? চল শাহবাগে । ঘুইরা বেড়াইতে চাস , চল শাহবাগে । নানান উলটা-পালটা উপলক্ষ তৈরি কইরা কইতাম চল শাহবাগে । যেই সল্প সংখ্যক মানুষ ব্লগে লেখা পড়েছেন তারা জানেন ফালতু কথায় আমি ওস্তাদ । পাড়ার হুজুররা বলত , সেই নাস্তিক কাহিনী , তাদের বলতাম – আপনার বাপ-দাদায় যুদ্ধ করছে ; আমার কেউ করেনাই । এই লজ্জা কোনভাবেই মুছবে না । আমি জানি যখন ভাবি আমার পায়ের তলায় , আমার বাড়ির তলায় , আমার মসজিদের তলায় আছে বিনা অপরাধে নির্যাতিত মানুষের বা মুক্তিযোদ্ধার লাশ ; যখন ভাবি আলবদর,আল-শামস নাম দিয়া আমার ইস্লামের অবমাননা করা হইছে তখন আমি কিভাবে ঘরে বসে থাকি ! যখন হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর(রা) এর নামাজের সময় পাশে ঢোল বাজাইলেও কেউ টের পাইতো না তখন শাহবাগের পোলাপানের গানের আওয়াজে আপনার ঈমান যাবে ? যারা বড় হইছে এক ইনভায়রনমেন্টে তাদের প্রতিবাদ তো তেমনি হবে ।মানুষের দ্বীন বুঝা দরকার এটাকে কি মুখে বললে হবে না আপ্নারা সহনশিল হবেন । অবশেষে তারা গেল । আমার সাঙ্গপাঙ্গ শয়তান পোলাপানও গেল । রেগুলার ফাযলামি করতাম আর বিরানি খাইতাম :ভেংচি: আর আসমান থিকা টেকা পড়ত :হাহাপগে: । আমরা খাব্লায় ধরতাম ।দুদিন পরে দেখা গেল তারাই ব্লগ , ফেসবুক , নেট বইপত্র ঘেঁটে ফেঁপে-ফুলে একাকার । নিজেদের মধ্যে নেতা বানায়ে নিল , এই গ্রুপের সংকল্প ছিল কোনভাবে যদি ব্লগ বা নেট বন্ধ হয়ে যায় তাইলে কিসব করবে । শাহবাগে দেখতাম চোখমুখ একেক্টার লাল খিচ্চা চেচাইতাছে । এরপর এল তাদের পরিক্ষার দিন ।তারিখটা মনে পড়ছেনা , হেফাজতের ২য় সমাবেশ যেদিন হল ,(৫ ই মে নাকি?) আমি অবাক হয়ে দেখলাম সব বাঁশ কঞ্চি আর কিসব মজাদার অস্ত্র নিয়া একত্রিত হইছে । বল্ললাম তগরে কার্টুনের মত লাগে । আমি হুদাই মাইর খাইতে যামুনা । তারা ঘার ধইরা নিয়া গেল । বিকালের দিকে তারাই সবার সাথে মিলে হেফাজতে শিবিররে দৌড়াইল । আমি কিছুই করলাম্না খালি অবাক হয়া দেখলাম । কাম শেষ হইলে কইলাম আমরা একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ রেখে এইসব করছি । আমাদের কি উচিৎ ছিলনা এই সুন্দর সময়টি কোন সুন্দরীকে দেখে কাটানো ? যা ভুল করার করে ফেলেছ ; চলো একটু চক্কর দিয়া আসি ।

আমি চাইতাম না , সারাক্ষণ তারা এই চেতনায় থাকুক । তারা সুস্থ থাকবেনা । অল ওয়ার্ক এন্ড নো প্লে মেইক্স জ্যাক এ ডাল বয় । তাই আমার কাজ ছিল প্লেবয়ের । অরা যখন শিবির দউড়াচ্ছে তখন কোন নারি হয়ত আমার হৃদয় নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে । তারা যখন মুক্তিযুদ্ধের পোস্ট ঘাইটা বেহুঁশ আমি তখন হয়ত কোন তরুনির মন খারাপের স্ট্যাতাসে অস্থির ।

যাই হোক ব্লগে আমি আমার আচার বদলাতে পারিনাই ; কোন লেখায় ভিতরের আমি প্রকাশ পেয়ে গেছে । অনেকেই মনক্ষুণ্ণ হইছেন ; অবশ্যই তারা আমার প্রতি চরম সহনশিল ছিলেন ।আমি গঠনমুলক পাঠ্যপুস্তক বা মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কিছু লিখিনা এ নিয়ে তারা বিরক্ত ; হয়ত এতে ব্লগের উদ্দেশ্যে লঙ্ঘন হচ্ছে । তবে মজার ব্যাপার কি ; মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি আমরা জানি ; কিন্তুক তার আবেগটা আমাদের মরে গেছে । এটা জিবিত হলেই সব দৌড়ের উপর থাকবে । মুক্তিযোদ্ধারা দুনিয়ার ইতিহাসবিদ ছিলনা ; ছিল আবেগি ” বাংলাদেশ” শব্দটি তারা যেভাবে নিয়েছিলেন আমরা সেভাবে নেইনি । তাই বিয়াল্লিশ বছরেও তাদের রক্ত আমাদের গর্ব না , স্রেফ লজ্জা । এননিমাস হওয়ায় ব্যাপারগুলি খুলে বললাম । সত্যি বলতে মুক্তিযুদ্ধ নিয়া আমি কিছুই জানিনা । কিন্তু অই পরিমাণ জ্ঞান রাখি যাতে বুঝি কুনটা ধোঁকা আর কুনটা সঠিক । যে কাউরে আগুণের পরশমণি দেখান, শ্যামল ছায়া দেখান ; সে তাৎক্ষণিকভাবে দৌড় দিবে । আবেগ এক ভয়ানক অস্ত্র যার বাজে প্রয়োগ শিবিররা করছে । ও হ্যা , মূর্খরা হুমায়ুন আহমেদরে নাস্তিক বলে । তাদের উত্তর আমি এই লাইনে দিচ্ছি –
ও কারিগর দয়ার সাগর ওগো দয়াময়
চান্নি পসর রাইতে যেন আমার মরণ হয় ।

প্রায়ি বুকসেলফের দিকে তাকাই । হুমায়ুন আহমেদ নামটি দেখলে খুব ইচ্ছা হয় আগুন ধরায় দেই । শক্তি পাইনা ।

প্রিয় লেখক , আপনি কি জানেন কত অজস্র মানুষকে যে কোন অবস্থায় আনন্দে থাকার শক্তি আপনি দিয়ে গেছেন ?

” চাঁদনি পসরে কে
আমারে স্মরণ করে
কে আইসা দাড়াইছে গো
আমার দুয়ারে ”

আমার শখ ছিল প্রিয় লেখককে নিয়ে একটা পোস্ট দিব । থাক কি দরকার ! উনি আমার বুকশেলফে ভালো আছেন । রেগুলার মুছে চকচকা রাখি । প্রিয় লেখকরে নিয়া পোস্ট দিলাম লোকে বলল ফালতু , মন চাইব শিবির হইয়া কোপাইয়া আসি ।

বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে একটা কথাই বলছি । দেশ জিতে গেছে । প্লেন থেকে নামছে বাংলার গর্ব । তার গলায় কিছু লোক মালা দিল । কিছু লোক ঝাপায়ে পড়ল ; যেইনা পড়ল পৃথিবীর সবচে বড় নেতা , অদ্ভুত গম্ভির ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতা কাঁদছেন হাউমাউ করে । চোখ মুছছেন রুমালে । (পাঠক ভুল না করলে আপনার চোখে পানি …) । আমি আবাহনীর হয়ে কিছুদিন খেলেছি । ধানমন্ডির সেই বাড়ির সামনে দিয়া না গিয়া পার্কের ভিতর দিয়া যাইতাম ।

অগোছালো লেখায় এমনে এমনে হাত পাকাইনাই ; এই বিষয়ে আমার তুলনা মাননীয় রসময় গুপ্ত (:v)
তাই আমার গল্প শেষ । না শেষ না ; যদি আসলেই ফালতু না লিখি তবে ফালতু লিখে সেলিব্রেটি হইলাম কেম্নে ? অতএব ফালতু লেখা দিয়া গেলাম ।

”ওরে নিল দরিয়া” গানটা গাইছে প্রথম গাইছে কে ? ছাতার কয়েকটা ডাউন দিয়া দেখি ভ্যারিয়াস আর্টিস্ট । দুই একটা ছাড়লাম , হায়রে ,রেপ হিপ-হোপ-হাপ-হুপ আরও কিসব অত্যাধুনিক শিল্প মিলায়া রিমিক্স কইরা কিজানি করছে । ইদানিং এইসব শিল্পকলা বাড়াবাড়ি পর্যায়ের । ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকে জংলীরা নাচলে যেমন শব্দ হয় ঠিক তেমন । বুঝলামনা আসলেই তারা রিমিক্স করছে না জংলীনৃত্য ঢুকায় দিছে ! হইতে পারে ,ভালো বেবসা । যোগাশ্রয়ী প্রোগ্রাম। তবে এদের কারনে গুগোলে জ্যাম লেগে থাকে । ঘন্টার পর ঘন্টা সার্চ করেও খাটি পণ্য ডাউনলোড দিয়ে হউন ধন্য হবার পরিবর্তে কপালে পুঁতা দিয়া ছেঁচা দিতে মন চায় ।

যাই হোক অবশেষে পাইলাম । গাইছে মোঃ আবদুল জব্বার । ছবি -সারেং বাড়ির বউ, নৌকায় চইড়া ফাও ঘুরছে নায়ক ফারুক আহমেদ । লিরিক্সে অবশ্যই পিশাচিক রোম্যান্স আছে , এক ধরনের হাহাকার আছে এবং সবচে বড় কথা অবিবাহিতদের জন্য কিছুই নাই ।তাও ভালো , একন মামার মত ডাইরেক্ট একশনে যায়নাই। অই যে কি একটা অশ্লিল গান আছে না যেটা পোলাপান হেডফোনে শুনে।

কাছের মানুষ দুরে থুইয়া,
মরি আমি ধড়-ফড়াইয়া,রে।
দারুন জ্বালা দিবানিশি।।
অন্তরে অন্তরে।
আমার এত সাধের মন বধূয়া
হায়রে কি জানি কি করে।

বিদায় ; হ্যা আমি ফিরছিনা ; তবে ভবিষ্যতে এমন কেউ এলে তার কিছুমাত্র মুল্য যদি আপনাদের কাছে থাকে অবশ্যই ধরে রাখবেন । সেটি জোরালো করতেই চলে যাওয়া । আর একাউন্ট ডিএক্টিভেট করার বা আইডি ব্লক করার কোন উপায় থাকলে জানাবেন । ২৪ ঘন্টা পর আমি নিজেই মেইলে ইস্টিশন মাটারের কাছে অনুরোধ করব পোস্টগুলি মুছে ফেলার । একজন ব্লগার হিসেবে এটি আমার অধিকার । প্রচুর পড়া জমেছে ;এর একটা বিহিত করা দরকার । ব্লগার শোভনের শুভ মৃত্যুর কূলখানি নিজের টেকায় কিন্না খান । ইস্টিশন আমারে চাইরানা দেয়না :হাহাপগে:

you either die a hero or you live long enough to see yourself become the villain ..I can do those things .. because i am not a hero; not like bolggers …

(গোপন কথা – কেউ আমারে দেখতে না পারলেও সবাইরে মিছ করব । অভিমান নয় ; পরম কউনাময় জীবনের সুখের দরজাগুলো আমার জন্য খুলে দিয়েছেন ; আমি মানুষের অসুখের কারণ হলে ক্যামনে কি ? যাই হোক কেউ আসবে কেউ যাবে , কেউবা হারিয়ে যাবে । ইস্টিশন থেকে যাবে । তার ট্রেন আলো করে উঠবে নতুন যাত্রি … এই শুভকামনা রইল )
আসসালামু আলাইকুম ; ফি আমানিল্লাহ ; যাযাকাল্লাহু খায়রান ।।

৮ thoughts on “মৃত্যু

  1. (পাঠক ভুল না করলে আপনার চোখে

    (পাঠক ভুল না করলে আপনার চোখে পানি …)

    চোখে পানি আসছিল।আর আমরা প্রানে প্রান মেলাবই।মৃত্যুই সব না।আপনি আমাদের সাথে থাকুন।

  2. আপনার লেখার একজন নগন্য পাঠক
    আপনার লেখার একজন নগন্য পাঠক হিসেবে মিস করব। আপনার লেখার আউলা ঝাউলা স্টাইলটাই আমার পছন্দ। যাউকজ্ঞা, যেখানেই থাকেন ভালো থাইকেন।
    আপনার উদ্দেশ্যে ইস্টিশনের আত্মকথার শেষ লাইনগুলা উৎসর্গ করলাম-

    আমরা ব্লগার। আমরাও খুঁজে ফিরছি মানুষের সেই প্রত্যাশিত সমাজ। ইস্টিশন একটি ব্লগ প্ল্যাটফরম। হাজার বছরের পথ চলার ফাঁকে মাঝে মাঝেই এখানে কিছুক্ষণ। তারপর চলে যাব নিজ নিজ গন্তব্যে। আবারও ফিরে আসতে হতে পারে। মাঝের এই স্বল্প সময়ে প্ল্যাটফরমে জমে ওঠা আড্ডায়, আলোচনায় খুঁজে ফিরব সেই ঠিকানা। হয়তো চড়তে হবে আলাদা ট্রেন, আলাদা বগিতে। তবু আমরা একে অপরকে দিক নির্দেশনা দেব, সহযোগীতা দেব। দিন শেষে পরিচয় একটাই- আমরা সবাই যাত্রী। একটাই সূর তুলি তাই আমরা সবাই- প্রাণে প্রাণ মেলাবই…

    1. আতিক সাব , আমরা শহরকে এজন্যই
      আতিক সাব , আমরা শহরকে এজন্যই জঙ্গল থেকে আলাদা করি কারন সেখানে হিংস্র পশু আছে । বাস্তব জীবনে সমাজে আমরা প্রচুর বাজে এবং দ্বিমুখী মানুষকে এড়িয়ে চলি ,এরা ক্ষতিকর , কিন্তু তারচে বড় কথা এদের সাথে কথা বলতে আমাদের রুচিতে লাগে । ঠিক একারনেই বিভিন্ন বিকল্পধারার গণমাধ্যমে ব্লক ব্যাপারটি আছে । কিছু নির্লজ্জ নিতিহিন মাল্টি খেলা পাব্লিকের কারনে এটি আরও জরুরি । আমি ব্যাপারটি টের পাচ্ছিলাম ।এদের উপস্থিতি অত্যন্ত বিরক্তিকর …আর আরেকটা কথা উগ্র আস্তিকে কোপটা দেয় সরল নাস্তিকরে , আবার উগ্র নাস্তিকে কোপটা দেয় সরল আস্তিকরে । হয় এ নির্বুদ্ধিতা নয় আছে কোন নোংরা উদ্দেশ্য ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *