শোনছো হে স্বাধীনতার স্বপক্ষ সৈনিক??

ইদানিং দেখা যাচ্ছে কট্রর আওয়ামী পন্থি অনেকে একসময় শাহবাগ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলেও বর্তমানে শাহবাগ আন্দোলন বা গণজাগরন মঞ্চের উপর ক্ষিপ্ত রয়েছেন।তাদের ধারনা শাহবাগ জাগরন সরকার তথা দল হিসেবে আওয়ামীলীগের লাভের চেয়ে বরং ক্ষতিই বেশি করেছে।তারা মনে করছেন এই আন্দোলন হিতে বিপরীত ডেকে এনেছে।আসলে কি তাই?

আমি নিজেও একজন কট্রর লীগ পন্থি।তবে অন্য কট্রর আওয়ামী সমর্থকের মধ্যে আমার পার্থক্য হল, আমি একেবারে অন্ধ সমর্থক নই এবং দলের গঠনমুলক সমালোচনা করতে ভালবাসি।আমি কার্যক্ষেত্রে দলের ব্যার্থতাকে স্বীকার করতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি।সবচেয়ে বড় কথা হল,আমার কাছে আগে দেশ তারপর দল।


ইদানিং দেখা যাচ্ছে কট্রর আওয়ামী পন্থি অনেকে একসময় শাহবাগ আন্দোলনের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করলেও বর্তমানে শাহবাগ আন্দোলন বা গণজাগরন মঞ্চের উপর ক্ষিপ্ত রয়েছেন।তাদের ধারনা শাহবাগ জাগরন সরকার তথা দল হিসেবে আওয়ামীলীগের লাভের চেয়ে বরং ক্ষতিই বেশি করেছে।তারা মনে করছেন এই আন্দোলন হিতে বিপরীত ডেকে এনেছে।আসলে কি তাই?

আমি নিজেও একজন কট্রর লীগ পন্থি।তবে অন্য কট্রর আওয়ামী সমর্থকের মধ্যে আমার পার্থক্য হল, আমি একেবারে অন্ধ সমর্থক নই এবং দলের গঠনমুলক সমালোচনা করতে ভালবাসি।আমি কার্যক্ষেত্রে দলের ব্যার্থতাকে স্বীকার করতে স্বাচ্ছ্যন্দবোধ করি।সবচেয়ে বড় কথা হল,আমার কাছে আগে দেশ তারপর দল।

পূর্বের কথায় আসি।শাহবাগ সমর্থিত গোষ্টির মাঝে আবার দুই ভাগ আছেন।একভাগ শাহবাগ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করতেছেন এই ভেবে যে,শাহবাগ আন্দোলনের ফলে হেফাজতের সৃষ্টি হয়েছে যা সিটি নির্বাচনে লীগের ভরাডুবির মুল কারন ।আরেক গোষ্টি আবার মনে করেন, শাহবাগ আন্দোলন নয়, প্রধানমন্ত্রী কতৃক ব্লগার রাজীবকে শহীদ ঘোষনাই ছিল আস্তিক নাস্তিক ইস্যু বা হেফাজত সৃষ্টির মুল কারন।(এখানে উল্লেখ্য যে ব্লগার রাজীবই যে ‘থাবা বাবা’ নয় সেটা এখনও প্রমান করা সম্ভব হয়নি!)
আমি উভয়কেই বলছি থামুন!একবার পেছনের ইতিহাসটুকু ঘেঁটে নিন,সব পরিস্কার হয়ে যাবে।এসব ইস্যু নতুন নয়,বহুকাল থেকেই চলে আসছে।শাহবাগ তো আজ আর কাল!যাদের কাছে সাইদীর চান্দি দর্শন বিশ্বাসযোগ্য,সাভার ট্র্যাজেডির রেশমা হয় নাটক,ভিটামিন খেয়ে লাখ লাখ শিশুর মৃত্যুর গুজব মনে হয় সত্যি,তাদের কাছে ইস্যুর অভাব হবার কথা নয়।শাহবাগকে দোষার আগে দল হিসেবে আওয়ামীলীগের বর্তমান কার্যক্রম,ব্যর্থতা আর সরকারের অথর্ব মন্ত্রীদের দিকে একবার তাকান।
শাহবাগ আন্দোলন কিংবা থাবা বাবা নয়,হেফাজত বা আস্তিক নাস্তিক ইস্যু সৃষ্টির মুল কারন মাহমুদুর ও তার আমারদেশ পত্রিকা।মাহমুদুর আর তার আমারদেশ পত্রিকা শাহবাগ আন্দোলনের অনেক আগ থেকেই নানা ষড়যন্ত্র ও ইস্যু খোজার চেষ্টা করে আসছিল।স্কাইপি কথোপকথন ফাঁস,২০০কোটি টাকার লবিং ও আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় যুদ্ধাপরাধীদের ক্লারিক(ধর্মীয় নেতা)হিসেবে উপস্থাপনই যার উৎকৃষ্ট উদাহরন। ভুলে যাবেন না,এই মাহমুদুর,ইতিহাসের খলনায়ক সেই খোন্দকার মোশতাকের ভাগিনা।যে মোশতাক জিয়ার সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার মুল নায়ক ছিল।
ইতিহাস টেনে দেখুন,নবাব সিরাজ উদ দৌলার আমল থেকে এসব ধর্মীয় ইস্যুগুলি বার বার রাজনীতিতে প্রবেশ করিয়ে স্বাধীনতার শত্রুরা ফায়দা নিতে চেয়েছে।প্রতিবারই তারা কিছু না কিছু সফলতাও পেয়েছে।যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনের সময় বলা হয়েছিল,যারা আওয়ামীলীগকে ভোট দিবে তাদের বউ তালাক হয়ে যাবে!তাছাড়া আওয়ামীলীগকে ভোট দেয়া হারাম,ভোট দিলে মুসলমান থেকে খারীজ ইত্যাদি ফতোয়া তো ছিলই।হাল আমলে তারা বলতেছে লীগ মানেই নাস্তিক!আর আওয়ামীলীগকে যারা ভোট দিবে তারাও নাস্তিক!বেগম জিয়াতো প্রকাশ্য ঘোষনায় বার বার হজ করে আশা আমাদের প্রধানমন্ত্রী সহ শাহবাগ সমর্থনকারী সবাইকেই নাস্তিক ঘোষনা করেছেন।সুতরাং বুঝতেই পারছেন,শাহবাগ আন্দোলন না হলেও যে কোন অজুহাতে ধর্মকে যে, কৌশলে ভোটের রাজনীতিতে টেনে আনা হত তা নির্ধিদ্বায়ই বলা যায়।

আমি শাহবাগ আন্দোলনের বিরুধীতা করি না,করতে পারিনা।কারন শাহবাগ আন্দোলন কিছু না দিলেও অনেক কিছু দিয়েছে।কাধে কাধ মিলিয়ে লড়ে যাবার প্রেরনা যুগিয়েছে।তাছাড়া আমি মনে করি,কোন কারনে শাহবাগ আন্দোলনের বিরুধীতা করা মানেই স্ববিরুধীতা।আর স্ববিরুধীতা যে কোন ক্ষেত্রেই দুর্বলতার বহিঃপ্রকাশ।
আমি যেটা মনে করি,শাহবাগ আন্দোলনের ফসল আওয়ামীলীগ তাদের নিজেদের ঘরে তুলতে সম্পুর্নরুপে ব্যর্থ হয়েছে।অন্যদিকে আওয়ামীলীগ এই আন্দোলনের পক্ষ নিয়েও যতটা না লাভবান হতে পেরেছে তার চেয়ে বিরুধীতা করেও বেশি ফায়দা লুটেছে বিরুধীজোট।এর একমাত্র কারন,মতদ্বৈততা,দ্বিচারিতা ও রাজনৈতিক দুরদর্শিতার ঘাটতি।আওয়ামীলীগ তথা সরকার যদি শহবাগের ৬ দফা দাবী প্রথমেই মেনে নিয়ে বাস্তবায়ন করতে পারতো তবে হেফাজত বা বর্তমানের আস্তিক নাস্তিক ধর্মীয় ইস্যুটির সম্মুখীন হতে হত না।শাহবাগের ৬ দফা দাবী শুধু দেশের আপামর তরুনদের দাবী ছিল না,এই ৬ দফার কয়েকটি দফার দাবীতে দেশের আলেম উলামারা ও সমর্থন জানিয়েছিল।ডঃ আকবর আলী খান,ব্যারিষ্টার তুরিন আফরোজ,আরেফিন সিদ্দিকী সহ দেশের সব বিশিষ্ট নাগরিকেরা পর্যন্ত জামাত নিষিদ্ধ সহ ৬ দফা দাবীর প্রতি পূর্ন সমর্থন জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছিলেন।কিন্তু সরকার এই জনদাবীর প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ না করে সবকিছুকে আদালতের উপর চাপিয়ে নিজে দায়মুক্তির চেষ্টা করেছিল বলেই আজকের এই অবস্থা।বলতে গেলে আম ছালা দুটোই এখন হাতছাড়া।তবে হ্যা,সরকার কিছু দাবী মেনে নিয়ে বাস্তবায়নও করেছে!কিন্তু সেটা কখন?ততক্ষনে তো বড্ড দেরী হয়ে গেছে।অনেকটা ডাক্তার আসিবার পূর্বে রোগী মারা যাওয়ার মত!

যাইহোক,পেছনে তাকানোর সময় এখন আর নেই।কারো উপর দোষ চাপানোর ও দরকার নেই।প্রয়োজন শুধু সামনে এগিয়ে যাওয়া এবং সকল বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হওয়া।এখন চরম কঠিন সময়।বলতে গেলে অস্থিত্ব রক্ষার প্রশ্ন!একদিকে দেশ,একদিকে দল,আরেকদিকে নিজের জীবন।তিনটাই রক্ষা করতে হবে।শাহবাগ হোক আর সোহরাওয়ার্দী উদ্যান হোক,অনলাইন হোক আর অফলাইন হোক,সব জায়গায়ই, বাম-ডান,আস্তিক-নাস্তিক সবাই কাধে কাধ মিলিয়ে সম্মিলিতভাবে নিজের সর্বশক্তি নিয়োগ করে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।কি পেলাম সে হিসেবটা না করে আমি কি দিলাম তাই হিসেব করতে হবে।যে কোন মুল্যে জয়কে ছিনিয়ে আনতেই হবে।

অনেকে আফসুস করেন বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর মত একজন নেতা নেই,নেতা দরকার।আমি বলি আপনি যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করেন,দেশপ্রেম হৃদয়ে পোষন করেন তবে আপনিই নেতা।আমরা সবাই নেতা।আমাদের একেকজনের ভুমিকা হোক একেকজন বঙ্গবন্ধুর মত।আমরা প্রত্যেকে নিজেকে স্বাধীনতা রক্ষার সৈনিক হিসেবে বিবেচনা করতে পারলেই যতেষ্ট।আসুন ভাবতে শিখি, এই দেশ আমার।এই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্বও আমার।

আর দেরী নয়।যার যার অবস্থান থেকে দাড়িয়ে যান।লক্ষ্য থাকুক একটাই…
আমরা হারতে শিখিনি।
আমরা হারতে জানিনা।
আমরা হারবো না।
জয় বাংলা।
জয় বঙ্গবন্ধু।
জয় প্রজন্ম।

৯ thoughts on “শোনছো হে স্বাধীনতার স্বপক্ষ সৈনিক??

  1. অনেকে আফসুস করেন বর্তমানে

    অনেকে আফসুস করেন বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর মত একজন নেতা নেই,নেতা দরকার।আমি বলি আপনি যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করেন,দেশপ্রেম হৃদয়ে পোষন করেন তবে আপনিই নেতা।আমরা সবাই নেতা।আমাদের একেকজনের ভুমিকা হোক একেকজন বঙ্গবন্ধুর মত।আমরা প্রত্যেকে নিজেকে স্বাধীনতা রক্ষার সৈনিক হিসেবে বিবেচনা করতে পারলেই যতেষ্ট।আসুন ভাবতে শিখি, এই দেশ আমার।এই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্বও আমার।

  2. আফসুস! শাহবাগ আন্দোলনের সময়
    আফসুস! শাহবাগ আন্দোলনের সময় আমরা যারা ছিলাম একে অন্যের পরিপুরক, আজ কি এক অজানা কারনে আমরা হয়ে গেছি একে অন্যের ঘোর শত্রু!! কি নিদারুন!
    জামাতের অনেকগুলো মিশনের মাঝে একটি মিশন,(স্বাধীনতার স্বপক্ষ শক্তির মধ্যে বিভেদ বা শত্রুতা সৃষ্টি করা) একেবারে শতভাগ সাকসেসফুল ।একেবারে শতভাগ ।

  3. অনেকে আফসুস করেন বর্তমানে

    অনেকে আফসুস করেন বর্তমানে বঙ্গবন্ধুর মত একজন নেতা নেই,নেতা দরকার।আমি বলি আপনি যদি বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বুকে ধারন করেন,দেশপ্রেম হৃদয়ে পোষন করেন তবে আপনিই নেতা।আমরা সবাই নেতা।আমাদের একেকজনের ভুমিকা হোক একেকজন বঙ্গবন্ধুর মত।আমরা প্রত্যেকে নিজেকে স্বাধীনতা রক্ষার সৈনিক হিসেবে বিবেচনা করতে পারলেই যতেষ্ট।আসুন ভাবতে শিখি, এই দেশ আমার।এই দেশের স্বাধীনতা রক্ষার দায়িত্বও আমার।

    — এতদিন চোখে পরে নি বলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি শহীদ ভাই… চমৎকার বলেছেন :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. আর দেরী নয়।যার যার অবস্থান

    আর দেরী নয়।যার যার অবস্থান থেকে দাড়িয়ে যান।লক্ষ্য থাকুক একটাই…
    আমরা হারতে শিখিনি।
    আমরা হারতে জানিনা।
    আমরা হারবো না।
    জয় বাংলা।
    জয় বঙ্গবন্ধু।
    জয় প্রজন্ম।

    :bow: :bow: :bow:

    আপনাকেও অশেষ গোলাপের শুভেচ্ছা এতো বড় একটা সত্য ধরিয়ে দেবার জন্য, শাহিন ভাই… :তালিয়া: :তালিয়া: :তালিয়া: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল: :বুখেআয়বাবুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *