১৬ জন গুহাবাসী এবং আলোর পথে যাত্রা

একটা ঘুটঘুটে অন্ধকার গুহা। ১৬ জন মানুষ এই গুহাটার অধিবাসী। তবে তাদের নেতৃত্বে আছে কয়েকজন এর দুইটা দল। নেতৃত্ব বলতে কিছুই না, আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা। এমনিতেই এখানে ঘুটঘুটে অন্ধকার তার উপর আফিম, ১৬ জন মানুষ চোখ মেলতে না মেলতেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে। তবে এই গুহাটার দুরবর্তী প্রান্তে মাঝে মাঝে কিছু একটা দেখা যায়। ১৬ জন মানুষ এই আলোটা নিয়ে প্রায়ই মুক্তির স্বপ্ন দেখে, হয়ে উঠে বিদ্রোহী। তখন কয়েকজনের দলটা নানা কথায় তাদের ভুলিয়ে রাখে।

একটা ঘুটঘুটে অন্ধকার গুহা। ১৬ জন মানুষ এই গুহাটার অধিবাসী। তবে তাদের নেতৃত্বে আছে কয়েকজন এর দুইটা দল। নেতৃত্ব বলতে কিছুই না, আফিম খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রাখা। এমনিতেই এখানে ঘুটঘুটে অন্ধকার তার উপর আফিম, ১৬ জন মানুষ চোখ মেলতে না মেলতেই আবার ঘুমিয়ে পড়ে। তবে এই গুহাটার দুরবর্তী প্রান্তে মাঝে মাঝে কিছু একটা দেখা যায়। ১৬ জন মানুষ এই আলোটা নিয়ে প্রায়ই মুক্তির স্বপ্ন দেখে, হয়ে উঠে বিদ্রোহী। তখন কয়েকজনের দলটা নানা কথায় তাদের ভুলিয়ে রাখে।
১৬ জনের এই গুহাটা অনেক বছর আগে আরো ভয়ঙ্কর একটা গুহা থেকে আলাদা হয়। আলাদা অবশ্য এমনি এমনি হয় নি। অনেক মূল্য দিতে হয়েছে তাদের এর জন্য, অনেক প্রাণ, অনেক সম্ভ্রম, অনেক চোখের জল। তবে তাদের হাতে তখন আগুন ছিল, মশাল ছিল আর ছিল একজন নেতা। সেই মশালের টকটকে লাল আলোয় তারা ভয়ঙ্কর গুহাটির ভয়ঙ্কর জন্তুদের সাথে লড়াই করে জিতে যায়। সেই জন্তুগুলার সাথে কিছু আধা জন্তুও ছিল। এই আধা জন্তুগুলা লড়াইটা আরো ভয়ানক করে তুলে। আধাজন্তু গুলা জন্তু গুলা কে সাহায্য করত। করবে না!! এরা তো আধা জন্তু ছিল, আধা মানুষ হলেও এক কথা ছিল।
তবে একালে সবচেয়ে ভয়ের কথা হল, আধাজন্তু গুলা নেতৃত্ব দেয়া দলটার সাথে মিশে গেছে। নেতৃত্ব দানকারী দলটা আবার বেশ মজার। তারা নিজেরা দু ভাগ হয়ে নেতৃত্ব দেয়।একবার এরা তো আরেকবার ওরা। আধা জন্তু গুলা সবার সাথেই থাকে। আধাজন্তু গুলা সময়ের সাথে সাথে বেশ শক্তিশালী হয়ে পড়ছে। তবে এদের একটা দুর্বলতা আছে আর তা হল আলো। আলো এরা মোটেই সইতে পারে না, আলোকে ওরা ভয় পায় প্রচণ্ড। নেতৃত্ব দানকারী দলটার দুটো ভাগ দুই রকম ভাবে মানুষ কে ভুলিয়ে রাখে। একদল আধাজন্তু গুলোকে শায়েস্তা করার গান শুনায় আরেক দল আধাজন্তু গুলার অস্তিত্বই স্বীকার করে না। এই দুই ভাগ আবার নেতৃত্ব নিয়ে মাঝে মাঝেই তুমুল ঝগড়া করে, সেই ঝগড়ায় সবচেয়ে বিপদে পড়ে ১৬ জন মানুষ। নেতৃত্ব দেয়া দলটা এই ১৬ জন কে মাঝে মাঝে বেশ ভেল্কী দেখায়। দু ভাগের ভেল্কীর ধরনও ভিন্ন। একভাগ আলোর স্ফুলিঙ্গ দেখিয়ে মিথ্যা আশ্বাস দেয়, এই আলো জ্বালব বলে। আরেক ভাগ সৃষ্টিকর্তা কে নরম মনে গরম হাতুড়ির আঘাত দেয়। ১৬ জন নিরবে ভেল্কী দেখে আর নাক,মুখ খিচে বসে থাকে।
একবার নেতৃত্ব দেয়া দলটার দুটো ভাগই একসাথে আলো আর সৃষ্টিকর্তা কে নিয়ে ভেল্কী দেখাতে লাগল। কিন্তু ১৬ মানুষের দলটা আগে থেকেই প্রস্তুত ছিল। তারা যার যার বিশ্বাস নিয়ে সৃষ্টিকর্তা কে স্মরণ করে মশাল হাতে বসে রইল। অনেক বুদ্ধি করে একটা মশাল জ্বালিয়ে ফেলল। একে একে ১৬ টি মশাল জ্বলে উঠল হাতে হাত ধরে। আধা জন্তুগুলা এর মাঝে আরো শক্তিশালী হয়েছে, তারা আলো জ্বলতে দিবে না প্রাণ থাকতে, তাই আধাজন্তু গুলা তুমুল লড়াই করল। কিন্তু বিশ্বাস আর আলোর কাছে কি আর জন্তু টিকতে পারে!! সব আধাজন্তু বন্দি হল একে একে। ১৬ জন বিজয়ী আলোর পথে যাত্রা শুরু করল।
একদিন এই ১৬ জন গুহার মুখে আলোর দেখা পেল কিন্তু সেই আলোর মুখটা একটা বিশাল পাথরের চাই দিয়ে আটকানো। সেই ১৬ জন আবার হাতে হাত রাখল, সরিয়ে ফেলল সেই বিশাল পাথরটি। সামনে উদ্ভাসিত হল এক দিগন্তজোড়া সবুজ। তার উপর এক টকটকে লাল সূর্য্য।

১৫ thoughts on “১৬ জন গুহাবাসী এবং আলোর পথে যাত্রা

  1. ভালো লাগলো আপনার লেখাটা পরে
    ভালো লাগলো আপনার লেখাটা পরে অনেকটা কবি আবু ইসহাক এর লেখা “মহাপতঙ্গ” এর মতো ।। কিন্তু আসলেই কি বাস্তবে পারবে এই ১৬ জন মানুষ আধাজন্তু গুলার বিনাশ করতে ……??

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *