ভালবাসার নীল প্রজাপতি

-এই ওঠ, উঠিস না কেন থাপ্পর খাবি কিন্তু
-আরে বাপ চেচাচ্ছিস কেন? আর উঠব-ই বা কেন? মাত্র-ই তো ঘুমালাম, এত তাড়াতাড়ি সকাল হয়ে গেছে?
-কি যন্ত্রণা উল্লা, উল্লায়ে কামড়ে ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাকে আর ও জিগায় উঠবে কেন?
ধড়মড় করে উঠে বসে ঝুমুর। বৈদ্যুতিক বাল্বের আলোয় তাকায়ে দেখে কালো কালো বড় উল্লা সাথে তিন চার প্রকার পিঁপড়া। দুনিয়ার যত পোকামাকড় আছে সব হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকছে মিষ্টি খেতে, পথে ওরা বাঁধা হয়ে গেছে তাই শোধ তুলছে। মহা ঝামেলা হল তো এত রাতে আবার কই যাবে ঘুমাতে? সারা ঘরে তিল ধরানোর জায়গা নাই!


-এই ওঠ, উঠিস না কেন থাপ্পর খাবি কিন্তু
-আরে বাপ চেচাচ্ছিস কেন? আর উঠব-ই বা কেন? মাত্র-ই তো ঘুমালাম, এত তাড়াতাড়ি সকাল হয়ে গেছে?
-কি যন্ত্রণা উল্লা, উল্লায়ে কামড়ে ছিঁড়ে নিয়ে যাচ্ছে আমাকে আর ও জিগায় উঠবে কেন?
ধড়মড় করে উঠে বসে ঝুমুর। বৈদ্যুতিক বাল্বের আলোয় তাকায়ে দেখে কালো কালো বড় উল্লা সাথে তিন চার প্রকার পিঁপড়া। দুনিয়ার যত পোকামাকড় আছে সব হুড়মুড় করে ঘরে ঢুকছে মিষ্টি খেতে, পথে ওরা বাঁধা হয়ে গেছে তাই শোধ তুলছে। মহা ঝামেলা হল তো এত রাতে আবার কই যাবে ঘুমাতে? সারা ঘরে তিল ধরানোর জায়গা নাই!

চৈত্র মাসের বাকি আছে একদিন। প্রতিবার এই সময় ঝুমুর এর ছোট জগতটার দখল থাকে চৈত্র সংক্রান্তি এবং পহেলা বৈশাখ, মেলায় যাওয়ার প্রস্তুতি; কি কি কেনা যায়, কে কে যাবে, কেমন মজা হবে! কিন্তু এবার ঘটনা উল্টো ঘটেছে মেলায় যাওয়ার কথা বেমালুম ভুলে গেছে। সেখানে স্থান নিয়েছে বিয়ের আনন্দ। এই প্রথম এই বাড়িতে বিয়ে এই উপলক্ষে যেখানে যত আত্মীয়-স্বজন ছিল সবাই এসেছে। বাজি পটকা ফুটছে দশদিন আগের থেকে। ওটারগানে রংয়ের পানি সাথে গলায় ঝুলানো থলে ভরে পটকা নিয়ে বাড়িময় ঘুরে ঘুরে; কার গাঁয়ে রং দেওয়া যায়, কার পিছনে গিয়ে চুপিসারে পটকা রেখে কে আগে পালায়ে আসতে পারে এই হাঙ্গামায় দিন চলে যাচ্ছে। বাড়ির বড় এবং মুরব্বীরা ব্যস্ত বিয়ের ঝামেলা কেনাকাটা, দাওয়াত নিয়ে ঘরের মেয়েরা ব্যস্ত রান্না ঘর গোছানো নিজেদের সাজ গোছ নিয়ে। ওদের উপর খবরদারী করার সময় নেই। এত মানুষ কে কোথায় শোবে! কোনমতে বয়স্কদের খাটে শোয়ার ব্যবস্থা হয়েছে বাকি সবাই মেঝেতে বিছানা করে শুয়েছে যার যার কোলের বাচ্চা তার তার কোলে। ঝুমুর শিখা রুপা রাজিব এরা কোলের না পিঠের কাছে রাখার ও জায়গা নাই। কোন রকম কলাপসিবল গেট টেনে দিয়ে তার সামনে মাদুর পেতে শুয়েছিল খুদে নাচুনের দল। ওদের থেকে কিছু দুরেই বিয়ে বাড়ির বিশাল মিষ্টির ভাণ্ডার। ভাঁড়ারের দিকে সৈন্যসামান্ত নিয়ে উল্লা পিঁপড়া বাহিনীর আগমন ভাঁড়ারের মালিকানার জন্য।

কি করা যায় এমন ভাবনায় অস্থির ঝুমুর এমন সময় রাজিবের যুগান্তকারি উদ্ভব চল ছাঁদে ঘুমাই। শুনেই শিখা রুপা মুখ কাল করে ফেলল। ঝুমুরের দুই মামার দুই মেয়ে শিখা ও রুপা- একে অন্যের মুখ চাওয়া চাওয়ি করে চোখে চোখে ভাব বিনিময় করল। যার ভাবার্থ হল কত বড় বেহায়া। ওরা একটু সরে সরে থাকে এই দুজন থেকে, কি যেন বলে মাঝে মাঝে যার অর্থ বোঝার চেষ্টা ঝুমুর করে নাই, তবে বোঝে এদের দুজনের এই সখ্যতা ভাল চোখে দেখছে না। ছাঁদের ঘুমাতে যাওয়া দল থেকে নাম কেটে চলে গেল ওরা ওদের মায়েদের কাছে।

মনে হচ্ছে কেউ একজন খুব মনোযোগ দিয়ে তাকিয়ে আছে কে সে দেখার জন্য চোখ খুলেই দেখে রাজিব ঝুকে আছে মুখের উপরে। রাজিবের চোখ মুখ থেকে কেমন মন খারাপ করা মায়ার আকুলতা ডাকছে ঝুমুরকে, অদ্ভুত আলো ছটায় চোখ উদ্ভাসিত রাজিবের; যার সাথে ঝুমুরের পরিচয় নেই। নাম কি, কেন এই আলো, এর উৎস কোথায় এর কিছু-ই জানে না ঝুমুর। কি এমন বয়স যে বুঝবে! রাজিবের সাথে ঝুমুরের বয়সের পার্থক্য দুই বছরের বেশী না। রাজিব ক্লাস এইটে আর ঝুমুর ক্লাস সিক্সে। শুধু অপলক তাকিয়ে থেকে বলল
-কিরে কি হয়েছে?
-কিছু না চল। আম কুড়াতে যাবি না?
-হুম।

বিয়ের বাড়ির দিন গুলো আনন্দে লাফিয়ে লাফিয়ে চলে গেল। বিদায় বেলা কারো জন্য এত মন ক্যামন করে নাই ঝুমুরের শুধু রাজিব চলে গেলে একা একা লাগছে। সবাই যাবে যাক না, রাজিব না গেলে ভাল হত। এটা ভাবাটাও অযৌক্তিক সবার স্কুল আছে পড়ালেখা আছে। যার যার ঘরে তাকে ফিরতে হবে। ফিরে গেল সবাই কিছু একটা ফেলে গেছিল রাজিবের মা এসে নিয়ে গেল তার জিনিষ কিন্তু রাজিবের মন ফিরল না। শুরু হল প্রতিদিনের পথ চলা স্কুল, বাড়ি, প্রাইভেট। নিত্যনৈমিত্তিক কাজে দিন গড়িয়ে রাত, রাতের অন্ধকার কে দুর করতে দিনের আলো এভাবেই যাচ্ছে বেশ। বিকালের র‍্যাকেট গ্রাউন্ডের আশেপাশে দেখা যায় রাজিব কে। সবসময় যে চোখে পড়ে তা না দশবার আসলে একবার হয়ত সামনাসামনি পড়ে যায় তখন জানতে চাইলে বলে এই তো দেখতে আসলাম তোরা কেমন আছিস নানু নানা কেমন আছে, আবার কোন দিন বলে এইখানে এক বন্ধুর বাড়িতে এসেছিলাম, অথবা এই দিক দিয়ে ফুটবল খেলতে যাচ্ছি অমুক জায়গা। ঝুমুর এর কেন যেন মনে হয় এটা একটা বাহানা। ঝুমুর উপর ক্লাশের দিকে যেমন উঠছে; বাড়ছে বয়সে- পরিপূর্ণতা আসছে মনে মননে। মফস্বল এলাকা ঝুমুরদের বাড়ি থেকে রাজীবদের বাড়ি দেড় কিলো দুরে শুধু শুধু এদিকে যে রাজিব আসে না তা ভাল-ই বোঝে ঝুমুর তবু নিশ্চুপ থাকে।

ভালবাসার প্রবলতা যত বেশী ভাষা সেখানে তত বোবা নিশ্চুপ। ছেলেমানুষি প্রগলভতা সেখানে পড়ে পড়ে মার খায়। সমুদ্রের জল হয়ত মাপা যায় কারন তাকে ধারন করে সমুদ্র কিন্তু ভালবাসা তাকে কি দিয়ে মাপবা! ভালবাসা ধারন করে মনের ছোট গলির কোণে বেড়ে উঠা অনুভুতির মেঘদল। তাকে ধারন করার আকাশ নেই অন্যের, আর দেখার মত চোখ সে শুধু যে বাসে আর যাকে বাসে তাদের থাকে।

মাঝে মাঝে কোন কারন ছাড়াই দেখা মিলত রাজিবের ঝুমুরদের বাড়ি ঢুকার রাস্তায় গাছের গুড়িতে বসে আছে কোন এক বন্ধুকে নিয়ে। ঝুমুর চোখ ছোট করে যখন জানতে চাইত
-কিরে এইখানে বসে আছিস কেন? আয় বাড়ির ভিতরে আয়।
– না যাব না। যাই গা। আছিস কেমন?
-আমি ভাল। যাবি না কেন চল।
– নিয়াজ কোরা
(এতটুকু শুনেই ঝুমুর কপট রাগে চিৎকার করে উঠে)
-শয়তান এইভাবে বলিস কেন সে তোর মুরব্বি না?
-ওকে বাবা মানলাম। আমার শ্রদ্ধেয় নানাজান নিয়াজ কোরা আমারে দেখলে আদা জল দিয়ে ঢকাস করে গিলে খাবে।
-খাবে না
-না খাইলেও, পরে তোর সাথে কাট কাট ঠিক-ই করবে।
-যাই
-হ্যা
ঝুমুর যতই বলুক যে তার বাপ-মা অর্থাৎ পরিবারে লোকজন কিছু বলবে না রাজিব কে দেখলে। পরিবার থেকে না করে দেওয়া হয়েছে ঐ সব পুলাপানের সাথে কথা বলা যাবে না আর রাজিবের সাথে এমন কি এত কথা কিসের। হোক সে চাচাত বোনের ছেলে আপন ভাগ্নের সাথেও অত কথা বলার কিছু নাই। পরিবারের চাওয়া পাওয়া নিজের ভাল লাগা সিঁড়ি বেয়ে লক্ষ্যের চুড়ায় যাওয়ার নেশা সব মিলেয় ঝুমুর বেশ ব্যস্ত দিন কাটাচ্ছে।

সামনেই এস এস সি এর টেস্ট দিন রাত এক করে পড়াশুনা চলছে।এপ্রিলের দুপুরে প্রচণ্ড গরমে অস্থির কারেন্টের বাজে অবস্থা, ঘামে গোসল হয়ে গেছে। একটু খোলা হাওয়া ঘুরে আসার জন্য পুকুর ঘাটে এসে ঝুমুর চমকে ওঠে কে রে কে ঐটা এমন পাগলের মত বসে আছে ঘাঁটের সিঁড়িতে? রাজিব!
-তুই এখানে কি করিস? তোকে এমন দেখাচ্ছে কেন?
-কেমন আছিস?
– কি হয়েছে
-যাই
-তুই এমন করিস কেন?
রাজিব সারা জীবনে এত অবাক হয় নাই। মনে হল সে পৃথিবীর সবচেয়ে বিস্ময়কর প্রশ্ন আজ শুনল। চাওয়ার থেকে পাওয়ার দূরত্ব অনেক কি কম সেটা পড়ে কি চাই তাই যদি বুঝাতে অক্ষম হয় এর চেয়ে বড় যন্ত্রণা কি বিষে!
-তুই জানিস না কেন এমন করি।
মুখ তুলে আস্তে করে জানতে চাইল রাজিব। ঝুমুরের ভাবলেশহীন চোখ দেখে রাজিবের গলার স্বর চড়ে যেতে লাগল।
–এই জানিস না তুই? সত্যি বল তুই জানিস না কিসের জন্য আমার এই ব্যাকুলতা, কার জন্য স্কুল পালিয়ে পথে বসে থাকা, কি দেখার জন্য বন্ধুদের সাথে ঘুরার নাম করে রোদ ঝড় মাড়িয়ে ছুটে চলা।
ঝুমুর ভেবে পায় না কি উত্তর দেবে। রাজিব দুইহাতে ঝুমুরের মুখ তুলে ধরে কাছে টেনে নেয়। অনিশ্চয়তার প্রশ্ন, স্থির ভালবাসার ছায়া খেলছে চোখে জলে ঝুমুরের। এই! এত টুকু’র জন্যই রাজিবের হৃদয় আনচান করত কি?

প্রতিটা চাওয়ার হাত ধরে পাশে পাশে আসে নিরাশা মনের ছিদ্র দিয়ে ঢুকে জাল বুনায় হতাশার। একটা চাওয়া না পাওয়ার ঘরে গিয়ে বাক্স বন্দী হয়ে সে আরও বেশী নিজের হয়ে উঠে। আর পাওয়া হয়ে গেলে তখন চাওয়ার ব্যাকুলতা থাকে না। রাজিব পেয়েও ব্যাকুল হল আরও বেশী। সব আদ্রতা শুষে নিতে ইচ্ছা করছে। স্পর্শে এত উষ্ণ শীতলতা থাকতে পারে! বৃষ্টি শেষে মৃদু বাতাসের চোখ ছুঁয়ে যাওয়ার অনুভূতি সারা শরীরে রক্তের শিরায় শিরায়; রন্ধে রন্ধে উত্তেজিত রক্ত শিরা ফেটে বের হয়ে আসতে চাচ্ছে। মানুষের শরীরের গন্ধে এত মাদকতা থাকে রামের চেয়ে নেশা তীব্র। রাজিব নেশাতুর হয়ে ঝুমুরের থুতনি ধরে উঁচু করে ঠোঁটের উপর ঠোঁট নামিয়ে এনে আলতো করে একটা চুমু দিয়ে ঝুমুর কে ছেড়ে দিয়ে ঘুরেই হাঁটা শুরু করল। কিছুদুর যেয়ে ফিরে চাইতে দেখা গেল বিশ্ব জয়ের আনন্দে ঝলমল করছে মুখ। বিশ্বজয়ী আলেকজেন্ডার কি এতটা তৃপ্ত ছিল জয়ের পরে; সারাজীবনের সাধনার অর্জনে? রাজিব তৃপ্ত হল কতক্ষণে? কতক্ষণ! দশ সেকেন্ড! বিশ সেকেন্ড! সময়ের হিসাবে হয়ত খুব সামান্য; এক মুহূর্ত- মনের হিসাবে কতটা? এক জীবনের সবটুকু চাওয়ার পাওয়া।

ঝুমুর অস্থির থেকে অস্থির সময়ের ভিতরে এসে পড়ল। এ হয় না কেউ মেনে নিবে না। পরিবার মেনে নেয়া দূরের কথা যে কেউ শুনলে ছি ছি করবে বলবে খালার সাথে ভাগ্নের সম্পর্ক কত নোংরা। তারচেয়েও বড় কথা এখন সময় নেই সামনে পরীক্ষা। ভালবাসার সব রং ধুয়ে দিল পুকুরের জলে শুধু বন্ধ করে দিল ঘাঁটে আসা। ভালবাসা ডানা মেলেনি সাদা কপোতের মত, ভাসেনি সাদা মেঘের ভেলায় তার আগেই কালো মেঘ এসে ঢেকে দিল দুজন কে। পরিবার সমাজ সংসার সম্পর্কের ভিত্তির জন্য ঝুমুর ভালবাসার তাবুর ভাজই খুলল-ই না। রাজিব কে বাধ্য করল তাবু গোটাতে।

যখন রাজিব প্রথম জানল ঝুমুর সেল ফোন নিয়েছে তার নাম্বার ওকে দেয় নাই সেই থেকে আর কলেজ মোড়ে দেখা যেত না রাজিব কে। তবে খোঁজ খবর যে রাখত সেটা বোঝা গেল, হুট করে একদিন সামনে এসে বলল-
-বিয়ে কবে? নাকি তাও আমাকে বলবি না। ভয় নেই আমি তোকে তুলে নিয়ে যাব না। তবে তোলা থাকলি বিয়ের ভাজ ভাঙা জোরওয়ার মত। কনে যখন সত্তুর বছরের বুড়ি হয়ে যায় তখন ও লালা জোরওয়ার গন্ধ, রং ভালবাসা, আকুলতা, ছুঁয়ে দেখার ব্যাকুলতা, স্পর্শের অনুভূতি একই থাকে। হাত বুলিয়ে গাঁয়ে জড়িয়ে সে ফিরে আসে বধূ বেশে। তুই আমার শুধু আমার হয়ে থাকবি সারাজীবন। আকাশটা আজ থেকে তোর ইচ্ছা মত উড়ে বেড়া। তুই থাক অন্য কারও হাতে রেখে হাত, ঘুরে আয় সারা দুনিয়া; আমি আবর্তিত হব শুধু তোকে ঘিরে।

বিয়ে করে ইতালি চলে যায় ঝুমুর। পাঁচ বছর! অনেক গুলা বছর! এত পরে রাজিবের সাথে কথা হল ঝুমুরের। তবুও ও সেই একই রকম আছে – বৃষ্টির ফোটা তা গাঁয়ে পড়ার আগে ঝেড়ে ফেলতে চায়, কথা বলার সেই ঔদ্ধত্যপূর্ণ ভঙ্গি, অসীম ঔদাসীন্য। শেষ বার দুজন মুখোমুখি দাঁড়িয়েছিল সাড়ে পাঁচ বছর আগে- অভিমানে, ক্রোধে, হিংসায়, ভালবাসায়, অক্ষমতার ঝড়ের ধাক্কায় তাল-মাতাল হয়ে দুমড়ে মুচড়ে যাওয়া রাজিব-সেই আগেরই মত এখন ও মুখে সেই উদ্বেলতার পূর্ণ গ্রহণ। একই স্বরে একই টোনে ঝুমুর কে আজও বলে গেল
-ভালবাসি সেই প্রথম চুমুর মত এখনও তোকে। প্রতিবার মদের গেলাসে চুমুকে তোর ঠোঁটের আবেশ পাই তোকে বেশী করে পাব বলে ওকে বেশী করে আপন করি। সিগারেটের ধোঁয়ায় ঘুরে ঘুরে আসে তোর শরীরের গন্ধ আমি মাতাল হই। ভালবাসি আমার রুন ঝুন করে বাজা রিম ঝিম ঝুমুর কে। ভাল থাকিস তুই তোর মত করে। শরৎ এর শিউলির মাঝে, বৃষ্টি ভেজা কদমে, বিষণ্ণ দুপুরে, সকালের শিশির বিন্দু হয়ে, গোধূলির রংধনুতে, রুপালি চাঁদের ফ্যাকাসে সাদা আলোর বন্যায়, গভীর রাতের বিরহী অন্ধকারে তুই মিশে আছিস। মাঝ রাতে নট মহলে সুরার পেয়ালায় তুই আমার শুধু-ই আমার।

আমাবস্যার রাতেও প্রভু-ভক্ত কুকুর একা পাহারা দেয় সম্পূর্ণ বাড়ি; ভালবাসা সেরকম একাই পাহারা বসায় কিছু মানুষের পুরা জীবন জুড়ে।

১৪ thoughts on “ভালবাসার নীল প্রজাপতি

  1. কী বলবো !!! কী লিখবো
    কী বলবো !!! কী লিখবো !!!
    গল্পটা পড়ে মনে হল এই মাত্র পাশের বাড়ি ঘুরে এলাম । কাহিনীটি আমাদের অপরিচিত নয় । আটপউঢ়ে জীবনে এ এক বাঙালি মধ্যবিত্ত বাস্তবতা । পরিণতি কী হতে যাচ্ছে বুঝতে পারলেও শেষ শব্দটা না পড়ে অন্য কোথাও মন কে নিতে পারলাম না কেন জানেন ? —- আপনার লেখায় এমন কিছু আছে – অনেকটা জাদু টোনার মতো । মন্ত্রমুগ্ধ করে রাখে । সাধাসিধে গল্প ও তা অসাধারণ মনে হয় ।

    যথেষ্ট সাহিত্যরস সমৃদ্ধ লেখা । কিছু কিছু বাক্য ফ্রেমে বাঁধিয়ে রাখার মতো । যেমন –

    প্রতিটা চাওয়ার হাত ধরে পাশে পাশে আসে নিরাশা মনের ছিদ্র দিয়ে ঢুকে জাল বুনায় হতাশার। একটা চাওয়া না পাওয়ার ঘরে গিয়ে বাক্স বন্দী হয়ে সে আরও বেশী নিজের হয়ে উঠে। আর পাওয়া হয়ে গেলে তখন চাওয়ার ব্যাকুলতা থাকে না।

    ভাল থাকিস তুই তোর মত করে। শরৎ এর শিউলির মাঝে, বৃষ্টি ভেজা কদমে, বিষণ্ণ দুপুরে, সকালের শিশির বিন্দু হয়ে, গোধূলির রংধনুতে, রুপালি চাঁদের ফ্যাকাসে সাদা আলোর বন্যায়, গভীর রাতের বিরহী অন্ধকারে তুই মিশে আছিস।

    —— আপনার লেখা এই প্রথম পড়লাম । ভালো লাগলো । আরও লেখা পড়ার ইচ্ছে থাকলো ।

  2. চমৎকার গল্প । ভালো লেগেছে ।
    চমৎকার গল্প । ভালো লেগেছে । লেখার হাত ভালো । সাহিত্য খুঁজে পাওয়া গেছে । আপনাকে ধন্যবাদ !

  3. আমাবস্যার রাতেও প্রভু-ভক্ত

    আমাবস্যার রাতেও প্রভু-ভক্ত কুকুর একা পাহারা দেয় সম্পূর্ণ বাড়ি; ভালবাসা সেরকম একাই পাহারা বসায় কিছু মানুষের পুরা জীবন জুড়ে।

    অসাধারণ। সাহিত্যরসে ভরপুর একটা গল্প। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  4. আপনি ভালো লিখেন। কিন্তু আপু
    আপনি ভালো লিখেন। কিন্তু আপু একখান আবদার, কমার ব্যবহার একদমই করেন না। এতে ভাষার বিন্যাসে কিছু সমস্যা হয়। পড়তে বাধা লাগে। অর্থ ছুটে যায়।

    প্রতিটা চাওয়ার হাত ধরে পাশে পাশে আসে নিরাশা

    ভালবাসি সেই প্রথম চুমুর মত এখনও তোকে। প্রতিবার মদের গেলাসে চুমুকে তোর ঠোঁটের আবেশ পাই তোকে বেশী করে পাব বলে ওকে বেশী করে আপন করি। সিগারেটের ধোঁয়ায় ঘুরে ঘুরে আসে তোর শরীরের গন্ধ আমি মাতাল হই। ভালবাসি আমার রুন ঝুন করে বাজা রিম ঝিম ঝুমুর কে। ভাল থাকিস তুই তোর মত করে। শরৎ এর শিউলির মাঝে, বৃষ্টি ভেজা কদমে, বিষণ্ণ দুপুরে, সকালের শিশির বিন্দু হয়ে, গোধূলির রংধনুতে, রুপালি চাঁদের ফ্যাকাসে সাদা আলোর বন্যায়, গভীর রাতের বিরহী অন্ধকারে তুই মিশে আছিস। মাঝ রাতে নট মহলে সুরার পেয়ালায় তুই আমার শুধু-ই আমার।

    আমাবস্যার রাতেও প্রভু-ভক্ত কুকুর একা পাহারা দেয় সম্পূর্ণ বাড়ি; ভালবাসা সেরকম একাই পাহারা বসায় কিছু মানুষের পুরা জীবন জুড়ে।

    এই লাইনগুলো চমৎকার লাগলো…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *