হাকিনী part3


খুলনার সবচেয়ে বড় সোনার দোকান অমিয় জুয়েলার্স। মন্ময় চৌধুরী দোকানের মালিক। বিরাট ধনী লোক। কারও সাথে মেশেন না। দোকানের কাউন্টারে বালা দুটো রেখে সেলসম্যানকে বললাম, এগুলো আমি বেচতে চাই। সেলসম্যান প্রথমে খুঁটিয়ে দেখল। কষ্টিপাথরে ঘসে সোনার মান যাচাই করল। সবশেষে নিল ওজন। তারপর বলল,
‘এ দুটোতে পাঁচ ভরি সোনা আছে। অনেক টাকার ব্যাপার। মালিককে দেখাতে হবে।’
‘ঠিক আছে, দেখান আপনার মালিককে।’
ভেতরে চলে গেল সেলসম্যান। পাঁচ মিনিট পর ঘুরে এসে বলল,


খুলনার সবচেয়ে বড় সোনার দোকান অমিয় জুয়েলার্স। মন্ময় চৌধুরী দোকানের মালিক। বিরাট ধনী লোক। কারও সাথে মেশেন না। দোকানের কাউন্টারে বালা দুটো রেখে সেলসম্যানকে বললাম, এগুলো আমি বেচতে চাই। সেলসম্যান প্রথমে খুঁটিয়ে দেখল। কষ্টিপাথরে ঘসে সোনার মান যাচাই করল। সবশেষে নিল ওজন। তারপর বলল,
‘এ দুটোতে পাঁচ ভরি সোনা আছে। অনেক টাকার ব্যাপার। মালিককে দেখাতে হবে।’
‘ঠিক আছে, দেখান আপনার মালিককে।’
ভেতরে চলে গেল সেলসম্যান। পাঁচ মিনিট পর ঘুরে এসে বলল,
‘আপনাকে আমরা এ দুটোর জন্য পাঁচ হাজার পর্যন্ত দিতে রাজি আছি। দোকানে এত ক্যাশ নেই। সাহেব বলেছেন, এখন আড়াই হাজার দিতে। বাকিটা সন্ধ্যার পর আসলে পাবেন। কী করবেন দেখেন?’

সত্যি বলতে কী তিন হাজারের বেশি আমি আশাই করিনি। সেই তুলনায় পাঁচ হাজার অনেক বেশি। বললাম,
‘ঠিক আছে, সন্ধের পর এসে বাকিটা নিয়ে যাব। একটা রশিদ লিখে দেন।’

সন্ধের পর আবার গেলাম অমিয় জুয়েলার্সে। আগের সেলসম্যান কাস্টমার নিয়ে ব্যস্ত। বুড়োমতো একজন এগিয়ে এল। বলল,
‘আমি দোকানের ম্যানেজার। সাহেব আপনার সাথে দুমিনিট কথা বলতে চান। টাকাটা উনিই আপনাকে দেবেন। আমার সাথে একটু ভেতরে আসেন।’

কাউন্টার পার হয়ে শোকেসের পাশে সরু দরজা দিয়ে ভেতরে ঢুকলাম। বিরাট হলঘরের মতো কামরায় আবছা অন্ধকারে স্যাঁকরার দল লাইন দিয়ে বসে কাজ করছে। নাইট্রিক এসিডের ঝাঁঝালো গন্ধে দম বন্ধ হয়ে এল। লোকগুলো বছরের পর বছর এই পরিবেশে কাজ করছে কী করে? পেতলের সরু পাইপ মুখে লাগিয়ে গয়নার গায়ে অনবরত ফুঁ দিচ্ছে তারা। গাল ফুলে উঠেছে শ্রাবণ মাসের কোলা ব্যাঙের মতো। ফুসফুস এত চাপ সহ্য করে কীভাবে! হলঘর পেরিয়ে লাল কার্পেট মোড়া ছোট একটি প্যাসেজের মাথায় কাচ লাগানো সেগুন কাঠের দরজা। নক করে ম্যানেজার আমাকে নিয়ে ভেতরে ঢুকল।

প্রকাণ্ড জানালাঅলা ঝকঝকে কামরা। দেয়ালের একদিকে রেমিংটন কোম্পানির ইয়া বড় সিন্দুক। এই জগদ্দল পাথরের মতো ভারী বস্তু দোতলায় যে কারিগর উঠিয়েছে, তাকে অভিনন্দন। অন্য দেয়ালের পুরোটা জুড়ে বইভর্তি কাচের শোকেস। মন্ময় চৌধুরী আমার দিকে তাকালেন। মনে পড়ল রবীন্দ্রনাথের ‘কিনু গোয়ালার গলি’ কবিতার কথা। ‘যত্নে পাট করা লম্বা চুল। বড়বড় চোখ। শৌখিন মেজাজ। কর্নেট বাজানো তার শখ।’ পার্থক্য শুধু এই যে ইনার চুলগুলো ধবধবে সাদা। ছড়িয়ে আছে ঘাড়ের ওপর। ইস্ত্রি করা ফিনফিনে পাজামা-পাঞ্জাবি পরা। তবে ইনি যন্ত্র শিল্পী কি না বুঝতে পারছি না। ধারণা করেছিলাম, কালো মোটা ফতুয়া পরা ধূর্ত চেহারার কাউকে দেখতে পাব। মন্ময় চৌধুরী দেখতে রবীন্দ্রনাথের মতো। সাধক-টাইপ চেহারা। এই লোকের লেখালেখি করার কথা। মাঝে মাঝে সভাসমিতিতে বক্তৃতা। কাগজে কাগজে ইন্টারভিউ। মনোযোগ দিয়ে পুরোনো আমলের একটি ক্যাটালগ দেখছেন মন্ময় চৌধুরী। ইশারায় বসতে বললেন।
‘আপনি সঞ্জয় বাবু?’ গভীর কালো চোখ তুলে জিজ্ঞেস করলেন ম. চৌধুরী।
‘আজ্ঞে, আমিই সঞ্জয়।’
‘বালা দুটো পেলেন কোথায়?’
কোনো কিছু গোপন না করে তাঁকে সব ভেঙেচুরে বললাম।
‘বুড়ির বাড়ির ঠিকানা কি আছে আপনার কাছে?’
‘ছিল তো বটেই। তবে পুলিশ খাতাপত্র সব জব্দ করে মালখানায় রেখেছে। এখন আর সেটা পাব কীভাবে?’
‘হুমম, বুঝতে পারছি। একটা প্রশ্ন করি। কিছু মনে করবেন না তো?’
‘সেটা বোঝা যাবে প্রশ্ন শোনার পর। কী প্রশ্ন? বুড়ির বাড়ি গিয়ে ভেরিফাই করতে চান, আমি সত্যি বলছি কি না এইতো? তার প্রয়োজন নেই। আমি সত্যি কথাই বলছি। মিথ্যে বললে আপনি ধরে ফেলতেন।’
‘ব্যাপারটা তা নয়। বুড়ির সাথে একটু কথা বলতে চাই আমি। বালা দুটো তার কাছে আসলা কীভাবে, সেইটে জানতে চাই। আপনি বলেছেন বুড়ি থাকে কালীঘাটে। এটাই বা জানলেন কীভাবে? খাতাপত্র মালখানায়। বাবা জেলহাজতে। বালা দুটো হাতে পেয়েই আপনি আমার এখানে।’
‘মার কাছ থেকে জেনেছি। দুপুরে ভাত খাওয়ার সময় জিজ্ঞেস করেছিলাম। বাবা গয়নাপাতি বাসায় আনতেন খুব কম। পুরোনো গয়না মাকে কখনো দেননি। নতুন বানিয়ে দিতেন। বালাগুলো একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। বাবাকে জিজ্ঞেস করে মা জানতে পারেন কালীঘাটের এক বুড়ির গয়না ওগুলো। আপনি যদি বুড়িকে খুঁজে বের করতে পারেন, তাহলে বলবেন। কিছু টাকা তাকে ফিরিয়ে দিতে চাই আমি।
‘আপনার কোনো ফোন নম্বর থাকলে আমাকে দিয়ে যান। খোঁজ পেলে জানাব।’
লক্ষ করলাম, কথা বলার পুরো সময়টাতেই ম্যানেজার ঠায় দাঁড়িয়ে। বুঝলাম, কর্মচারীরা মন্ময় চৌধুরীকে খুব সমীহ করে। ভাবুক ধরনের এই মানুষটাকে এরা এত ভয় পায় কেন কে জানে?

১২ thoughts on “হাকিনী part3

  1. আপনার কাহিনীগুলো পড়ে আগ্রহ
    আপনার কাহিনীগুলো পড়ে আগ্রহ জন্মায়। কিন্তু শেষ না করেই কই যে হাওয়া হয়ে যান? :ভাবতেছি:

  2. চলছিল ভালই । কিন্তু শেষ কই?
    চলছিল ভালই । কিন্তু শেষ কই? পরের পর্ব আছে? :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

  3. গল্পের জটটা মাত্র খুলতে শুরু
    গল্পের জটটা মাত্র খুলতে শুরু করছিলো হঠাত্‍ পর্ব শেষ ।পরের পর্বটা চাই

  4. আমি এখনও এক পর্বও পরি নি! তাই
    আমি এখনও এক পর্বও পরি নি! তাই এইটাও পড়লাম না…
    আশা করি শেষ পর্বে সবগুলো পর্বের লিঙ্ক দিয়ে দিবেন!
    একবারে পরে মন্তব্য করব… অপেক্ষায় থাকলাম! :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

    1. আমিও আগের দুইটা পর্ব পড়ি নাই
      আমিও আগের দুইটা পর্ব পড়ি নাই বিধায় প্রথমে জট লাগছিলো ।একসাথে সবগুলার লিঙ্ক দিয়েন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *