মিতাদের রাজনৈতিক উত্থান!

ভার্সিটিতে পৌছেই রিতার সাথে দেখা।রিতা মেয়েটা বরাবরই দুষ্টু।কিছুই বুঝতে চায় না,লুকাতেও চায় না।যা বলবে ঝটপট।রিতাকে দেখলেই মনটা গাবড়ে যায় মিতার।কখন জানি কি বলে ফেলে।বান্ধবীদের মাঝে রিতাই কিছুটা উগ্র।এই উগ্রতার একমাত্র কারন সে রাজনীতি করে।রিতা অত্যন্ত সাহসী।তাকে দেখলে ছেলেরাও ভয় পায়।
কিরে,আজ তুই এত দেরি করলে কেন?তোর তো কপাল খুলে গেছে.. আবরার ভাই তোকে..
কথাগুলো শোনার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না মিতা।সে জানতো রিতা এমন কিছু একটা বলবে।ধীর পায়ে সামনে আগাতেই..কিরে কৈ যাস,দাড়া তোর সাথে কথা আছে ।


ভার্সিটিতে পৌছেই রিতার সাথে দেখা।রিতা মেয়েটা বরাবরই দুষ্টু।কিছুই বুঝতে চায় না,লুকাতেও চায় না।যা বলবে ঝটপট।রিতাকে দেখলেই মনটা গাবড়ে যায় মিতার।কখন জানি কি বলে ফেলে।বান্ধবীদের মাঝে রিতাই কিছুটা উগ্র।এই উগ্রতার একমাত্র কারন সে রাজনীতি করে।রিতা অত্যন্ত সাহসী।তাকে দেখলে ছেলেরাও ভয় পায়।
কিরে,আজ তুই এত দেরি করলে কেন?তোর তো কপাল খুলে গেছে.. আবরার ভাই তোকে..
কথাগুলো শোনার জন্য মোটেই প্রস্তুত ছিল না মিতা।সে জানতো রিতা এমন কিছু একটা বলবে।ধীর পায়ে সামনে আগাতেই..কিরে কৈ যাস,দাড়া তোর সাথে কথা আছে ।

আবরার ছেলেটা দেখতে হাবা গোবা মনে হলেও কার্যে খুবই ভয়ঙ্কর।কত ছেলে আর মেয়ে যে তাকে প্রতিদিন সালাম দেয় তার ইয়ত্তা নেই।ভার্সিটিতে উপস্থিত হবার পর থেকেই চারিদিকে কেমন যেন নীরবতা চলে আসে।সবার মুখেই ফিসফিসানি..লিডার(আবরার)ক্যাম্পাসে!
মেয়েদের সাথে তেমন কথা বলতে দেখা যায় না আবরারকে।তবে রিতার সাথে মাঝে মাঝে কথা বলতে দেখা যায়।

মধ্যবিত্ত ফ্যামিলির মেয়ে মিতা।তিন বোনের মাঝে সেই বড়।বাকী দুবোন মাধ্যমিকে পড়ে।বাবা একটা অফিসে চাকরি করেন।মা গৃহিনী হলেও শিক্ষিত হবার দরুন বাসায় একটাইম প্রাইভেট পড়ান।ভিতরের একটি মাত্র চাপা কষ্ট বাদ দিলে মুটামুটি সুখী পরিবারই বলা যায়।মিতাকে নিয়েই তার বাবার যত চিন্তা।মেয়েটা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারলেই শান্তি।মিতা মেধাবী ছাত্রী।লেখাপড়া শিখিয়ে ভবিষ্যতে আইনজীবি বানাবেন এই স্বপ্নটাই দেখেন বাবা।

অনেকটা কৌতুহল নিয়ে অপেক্ষা করছে মিতা।সে জানে রিতা তাকে কিছু একটা বলবে।কেননা গতকাল কলেজ ছুটির পর যাবার সময় আবরারের সহিত দেখা হয়ে যায়।আবরার তাকে কিছু না বললেও রিতাকে কি যেন ইশারা করেছিল।
মিতা শুনছিস?বিদ্রুপ কন্ঠে রিতার প্রশ্ন।হ্যা শুনছি,কি বলবি বল?আবরার ভাইর নজর পড়েছে তোর উপর।তোকে এবার স্টার বানিয়ে ছাড়বে।এই নে ভাইয়ের নাম্বার।ভাই বলেছে একটা ফোন দিতে।তোকে কি জানি বলতে চায়।জানিসতো আবরার ভাই কোন মেয়ের সাথে সরাসরি কথা বলে না।তাই আমাকে বলল তোকে নাম্বারটা দেয়ার জন্য।

ক্লাস ইলেভেনে থাকতে একটা ছেলের সাথে হালকা প্রেমের সৃষ্টি হয়েছিল মিতার।আড়ালে আবডালে অনেক দেখাও করেছে ছেলেটির সাথে।ফোনেও কথা হত প্রতিনিয়ত।ইন্টার পরীক্ষায় ফেল করে ছেলেটি বিদেশ চলে যায়।সেই থেকে ছেলেটির সাথে আর কোন যোগাযোগ হয়নি মিতার।
নাম্বারটা হাতে নিয়ে কিছুটা রোমাঞ্চিত বোধ করলো মিতা।অনেকদিনের একাকিত্বের বুঝি অবসান হবে এবার।তাছাড়া আবরারের মত ছেলে!অনেক নামী দামী আর প্রতাপশালী।রিতার কাছে শুনেছে আবরার রাজনীতি করে এবং তার দলের দলীয় প্রধানের সাথেও আবরারের যোগসাজস আছে।দলীয় প্রধান যে কোন সময় আবরারের কথা শুনেন এবং রাখেন।সুতরাং পা বাড়ালে একেবারে যে গর্তে পড়তে হবে তা কিন্তু নয়।তবু ভাবনাটা যেন দীর্ঘ হয়ে আসে।হায়রে জীবন!
কিরে, কি ভাবছিস?তাড়াতাড়ি ফোন দে।এমন সুযোগ কটা মেয়ের ভাগ্যে জোটে বল?
আরে রাখ তো তোর আবরার ভাই।এখন ক্লাসের সময়।দরকার হলে পরে ফোন দিব।

কলেজ থেকে ফিরেই ছাদে উঠেছে মিতা।অনেকদিন পর ছাদে এসেছে সে।অপমানের দুঃসহ স্মৃতিগুলো বড্ড বেশি মনে পড়ছে আজ।কলেজ গেট থেকে জীপগাড়ী..তারপর নির্জন একটি কক্ষ..হায়েনাদের হিংস্র আচরন..পতিতালয়ে বিক্রি..দেড় মাসের দুঃসহ জীবন যন্ত্রনা…তারপর ফিরে আসা.. উফ!
সবকিছু যেন খুব দ্রুতই ঘটে গেল!ভাগ্যিস যদি গ্রামে একটি বাড়ী না থাকতো তবে ‘কোথায় ছিলি’ প্রশ্নের জবাবটাই দেয়া কঠিন হয়ে যেত।

নাম্বারটা মোবাইলে তুলছে আর ভাবছে কি বলবে আবরার।মারাত্মক কিছু বলবে না তো?ধুর!রিতা বলেছে আবরার বেশি কথা বলেনা।এই যা দরকারী দুচারটা কথা বলবে।
হ্যালো…হ্যালো…হ্যালো
ভাবতে ভাবতে কখন যে ফোন চলে গেছে তা টেরই পায়নি মিতা।সম্বিত ফিরলো বিপরীত কন্ঠে হ্যালো শব্দটি শুনে।এক রকম ভয়ে ভয়ে কানে ফোন লাগিয়ে..
– হ্যা..লো
স্লামালেকুম।
-কে?মিতা?
-জি।
-দেখ অধিক ব্যাস্ততার কারনে তোমার সাথে লম্বা সময় কথা বলতে পারবো না।যা বলার সরাসরিই বলছি,তোমাকে আমার ভাল লেগেছে।এখন থেকে তুমিই সব।তোমার মাঝে জৌলুসতা আছে।আমার বিশ্বাস তোমাকে দিয়েই হবে।ভেবো না,আমার দ্বারা তোমার আহামরি কোন লাভ না হলেও ক্ষতি হবে না আশা করছি।ও হ্যা,তোমার সাথে রাজনীতি বিষয়ে কিছু কথা বলতে চাই।তুমি রিতাকে নিয়ে কাল একবার আমার দলীয় অফিসে এস।
-ভাইয়া…কিন্তু…
-কোন কিন্তু টিন্তু নেই।রাখছি।ভাল থেক।

প্রতিদিন আবরারের ফোন।কেবল মিটিং আর মিটিং।পার্টি আর পার্টি। সব যেন গা সওয়া হয়ে গেছে।হবেই না বা কেন!৪৫টি রাত তো এর চেয়ে ও ভয়ঙ্কর ভাবেই কেটেছে।না ছিল পর্যাপ্ত পরিমানে খাবার না ছিল শান্তি।বিশ্রি গন্ধ,দুর্ব্যবহার আর গালাগালি যেন নিত্য সঙ্গী হয়ে উঠেছিল।এখানে অবশ্য তা নেই।নরম বিছানা..সুগন্ধ..বিদেশী পানীয়..কোন কিছুরই অভাব নেই।আবরার,সুনীল,বাবু ভাইরাও যতেষ্ট ভাল।মাঝে মাঝে চুতমারানি গালিটি ছাড়া আর কিছু শুনতে হয় না!না হল পবিত্র প্রেম,জীবনে তো স্বাছন্দের অভাব হচ্ছে না।এক কালের বেশ্যার জন্য ইহাই ঢের!

ফুলের তোড়া নিয়ে হাজারো ছাত্র ছাত্রী শুভেচ্ছা জানাতে আসছে মিতাকে।আজ সে অনেক বড় নেত্রী।সবাই সম্মান জানাচ্ছে।সবই সম্ভব হয়েছে আবরার ভাইর কারনে।মনে মনে কৃতজ্ঞতাই প্রকাশ করে আবরারের প্রতি।
ক্রিং ক্রিং ক্রিং
-স্লামালেকুম ভাই
-ওয়ালাইকুম।কংগ্র্যাচুলেশন মিতা।একটা সুখবর ছিল!
-আপনাকেও শুভেচ্ছা।বলুন কি সুখবর?
-বাবু ভাইর অনুরোধটা রেখেছেন সভানেত্রী।আমাদের দল থেকে রিতা এবং তুমি সংসদ সদস্য হতে চলেছো।
-কি বলছেন ভাই!আমি এত সৌভাগ্যবান?আপনাকে যে কি বলে ধন্যবাদ দিব…
-আরে ধন্যবাদের কি আছে।বাবু ভাই,লিওন ভাই ও সুনীল ভাই তোমার উপর ভিষন সন্তুষ্ট।তাদের অনুরোধেই দলীয় প্রধান তোমাকে ও রিতাকে সিলেক্ট করেছেন।
তবে একটা কথা,তোমাকে আর রিতাকে আরো ঝাঝালো হতে হবে।যে করেই হোক দলনেতার কাছে আমাদের মান রাখতে হবে।সংসদের মাধ্যমে দলের ভাবমুর্তিকে আরো উজ্জল করতে হবে!
-কি যে বলেন ভাই!আপনাদের যখন সন্তুষ্ট করতে পেরেছি তখন দলনেতার মন ও জয় করতে পারবো!আর ভাবমুর্তি?আমার আর রিতার বক্তব্য ও আচরন তো আপনার জানাই আছে!
-খুশি হলাম।তুমি রিতাকে নিয়ে বিকেলে একবার হোটেলে চলে আস।বাবু ভাইরাও আসতেছে।জানই তো রাজনীতির বাইরে আমাদের…

১২ thoughts on “মিতাদের রাজনৈতিক উত্থান!

  1. রাজনীতির ভেতরের দিকটা তুলে
    রাজনীতির ভেতরের দিকটা তুলে ধরলেন নাকি বাস্তব কাহিনীর উপর ভিত্তি করে লিখলেন?

    1. রাজনীতির ভেতর ও না বাস্তব কোন
      রাজনীতির ভেতর ও না বাস্তব কোন কাহিনীও না ।আমি যেটা করেছি সেটা হল গল্প লেখক হাসনাত আব্দুল হাইকে অনুকরন ।

  2. গল্পটি নোট আকারে ফেসবুকে
    গল্পটি নোট আকারে ফেসবুকে পোস্টিং দিছিলাম ।শিরোনামটা ছিল,”চুতমারানিদের রাজনৈতিক উত্থান।অনুকরনে হাসনাত আব্দুল হাই “।
    অশ্লীলতার কারনে ব্লগে শিরোনামটা পরিবর্তন করে পোস্ট করলাম ।

  3. গল্পটা ভালো লাগল না। সেই তো
    গল্পটা ভালো লাগল না। সেই তো হাসিনাত সাহেবের মতো মেয়েদের খাটোই করলেন।

    1. আমি আসলে মেয়েদের ছোট করতে
      আমি আসলে মেয়েদের ছোট করতে চাইনি ।আমি এই গল্পের দ্বারা তিনটি বিষয়ে আলোকপাত করতে চেয়েছি ।প্রথমতঃ সংসদে যে সব নারী সাংসদ খারাপ ভাষায় বক্তৃতা করেন সেসব নারীদের প্রতি ঘৃনা ।২য়তঃ আমি বুঝাতে চেয়েছি প্রত্যেকটা মানুষের বাস্তবজীবনের ব্যকগ্রাউন্ড তার ব্যবহারে প্রতিফলিত হয় ।৩য়তঃ ঘৃনা জানিয়েছি সেই চটি গল্পকার জনাব হাসনাত সাবকে যিনি লাকীর মত সংগ্রামী নারীকে গল্পের ছলে বেশ্যা বানাতে পারেন অথচ সংসদের মত পবিত্র জায়গায় যারা বেশ্যাদের মত ব্যবহার করে তাদের ব্যাপারে থাকেন নিশ্চুপ।

      ভুল ধরিয়ে দেবার জন্য ধন্যবাদ ।

      1. গট ইয়র পয়েন্ট।
        গট ইয়র পয়েন্ট। থ্যাংকস।
        সেক্ষেত্রেও একটা কথা থেকে যায়। ধর্ষিতার পরিণতি কি তাহলে ভদ্রবেশী পতিতাবৃত্তিতেই? আপনি ব্যাকগ্রাউন্ডের কথা বললেন তাই প্রশ্নটা করলাম।

        1. না।ধর্ষিতা ধর্ষিত হবার পর
          না।ধর্ষিতা ধর্ষিত হবার পর পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে গ্রহন করে না ।তবে ধর্ষনের সঙ্গানুসারে অধিকাংশ পতিতাই জীবনে কোন না কোনভাবে ধর্ষিত হয়ে থাকে।গবেষনার ফলাফলে দেখা গেছে অনেক পতিতাই প্রথমে ধর্ষনের স্বীকার হয়ে পরবর্তীতে পরিবার বা সমাজ কতৃত নিগৃহিত হয়ে জীবনের তাগিদে পতিতাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নিয়েছে।গবেষকদের তথ্যে এ ও উঠে এসেছে যে, উন্নত জীবনের নিশ্চয়তা পেলে এরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে আগ্রহী।

          এলিট শ্রেনীর ধর্ষিতাদের সামাজিকভাবে নিগৃহিত হতে হয় না।এরা বরং পরবর্তীতে বয়ফ্রেন্ডের সাথে কিংবা বিত্তশালী কারো সাথে দৈহিক সম্পর্ক স্থাপন করে বা করতে পারে যা স্বাভাবিকের মত পতিতাবৃত্তিকে নির্দেশ করে না।এরা এই দৈহিক সম্পর্ককে উপভোগ করে যদিও ইহা ধর্ষনের পর্যায়েই পড়ে।

          ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারিক জীবনে প্রভাব ফেলে বা ফেলতে পারে ।কথায় আছে না, “কয়লা ধুলেও ময়লা যায় না”।

  4. হুম ।গল্পের মোড়কে বাস্তবতা
    হুম ।গল্পের মোড়কে বাস্তবতা তুলে ধরলেন । কিন্তু বাস্তবতা আবার ভিন্ন প্রেক্ষাপটে ধাবিত হচ্ছে মনে হচ্ছে !!! :ভাবতেছি: :ভাবতেছি:

    1. হ্যা, প্রেক্ষাপটটা হল আমাদের
      হ্যা, প্রেক্ষাপটটা হল আমাদের মহান সংসদের নারী সাংসদদের সাম্প্রতিক অশ্লীল ভাষায় প্রতিপক্ষকে আক্রমনের বিষয়টি ।

  5. অন্যের সাথে আমার মত মিলবে
    অন্যের সাথে আমার মত মিলবে না,তবুও একটা কথাই বলব

    আমি যেটা করেছি সেটা হল গল্প লেখক হাসনাত আব্দুল হাইকে অনুকরন ।

    এই লোকের নাম লিখে লেখাটার মান নিচে নামিয়েছেন।আর কিছুই না।

    1. গল্পটাই নিচু মানের।হাসনাতরা
      গল্পটাই নিচু মানের।হাসনাতরা বুঝে নিক, কলমের মাধ্যমে পতিতাকে স্বতী নারী আবার স্বতী নারীকেও পতিতা বানানো যায় ।প্রকৃতপক্ষে ব্যবহার আর কর্মই নির্দেশ করে কে পতিতা আর কে স্বতী নারী।সংসদের মত পবিত্র ও ভদ্রদের সমাজে চটি গল্প বলা হলেও এদের কিছু যায় আসেনা আর শাহবাগে রাজকারবিরুধী স্লোগান ধরলেই এদের কাছে পতিতা মনে হয়।

  6. তেমন কিছু বলার নাই… অনেক
    তেমন কিছু বলার নাই… অনেক অসঙ্গতি ইতমধ্যেই সবাই তুলে ধরছে!!
    তবে পরেও গল্প পাঠকদের টানবে না কেমন জানি দূরে ঠেলে দেয়…

Leave a Reply to ডাঃ আতিক Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *