‘জিএসপি’ সমস্যা এবং তারপরের রাজনীতি

এই মুহূর্তে বাজার গরম করে রেখেছে একটা খবর, আর তা হচ্ছে ‘জিএসপি’। অতি সম্প্রতি আমাদের বিদেশী প্রভুদের অন্যতম, আমেরিকা, এই ‘জিএসপি’ সুবিধা বাতিল করেছে। এবং সেটা আপাততঃ, ডিসেম্বরে পুনরায় ভেবে দেখবে, এই সুবিধা দেয়া যায় কি না। এমন কোন ঘটনা ঘটলে এদেশে সচরাচর যা হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হতে দেখা যাচ্ছে না। শুরু হয়ে গেছে রাজনীতি। সরকারী দল দায়ী করছে বিরোধী দলকে আর বিরোধী দল সরকারী দলকে।

এই মুহূর্তে বাজার গরম করে রেখেছে একটা খবর, আর তা হচ্ছে ‘জিএসপি’। অতি সম্প্রতি আমাদের বিদেশী প্রভুদের অন্যতম, আমেরিকা, এই ‘জিএসপি’ সুবিধা বাতিল করেছে। এবং সেটা আপাততঃ, ডিসেম্বরে পুনরায় ভেবে দেখবে, এই সুবিধা দেয়া যায় কি না। এমন কোন ঘটনা ঘটলে এদেশে সচরাচর যা হয়, এবারও তার ব্যতিক্রম হতে দেখা যাচ্ছে না। শুরু হয়ে গেছে রাজনীতি। সরকারী দল দায়ী করছে বিরোধী দলকে আর বিরোধী দল সরকারী দলকে।
এর মাঝে আরও একটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার যোগ হয়েছে। বেশ কিছুদিন আগে বিরোধী নেত্রীর লেখা একটা নিবন্ধ। আমেরিকার একটা পত্রিকা ‘ওয়াশিংটন টাইমস’ এ ছাপা হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে এই নিবন্ধের কারণেই এই সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। যদিও নিবন্ধটি কার লেখা তা নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। সেই চিরাচরিত স্টাইল, সরকারী দলের অভিযোগ ‘এ কাজ বিরোধী নেত্রীর’। আর বিরোধী পক্ষ থেকে চলছে অস্বীকার পর্ব। এই নিয়ে আরও কিছুদিন হয়তো রাজনীতি চলবে।
ব্লগ পাড়া অনেক আগে থেকেই বিভক্ত। আগে ছিল প্রধান দুটি ধারা। আওয়ামী এবং বামপন্থী মিলে একটি ধারা আর জামায়াত পন্থীরা ওপর ধারা। বিএনপির অবস্থান এখানে খুব একটা শক্ত না। প্রথমে হয়তো তাঁরা এই পাড়া কে বড় একটা আমলে নেয় নি। তাঁদের নেত্রী আবার এটাকে নাস্তিকদের পাড়া বলায় তাঁরাও কিছুটা পিছিয়ে যায়। মনে হয় তাঁদের সেই বিভ্রান্তি সম্প্রতি কেটেছে। তাঁরাও এই পাড়ায় আসতে মনস্থির করেছে। তাঁদের ঘরানার ব্লগ ও তৈরি হয়ে গেছে। এবং যথারীতি ‘জিএসপি’ নিয়ে ব্লগাব্লগি চলছে।
দেশের প্রধান রপ্তানী খাত ‘গার্মেন্টস’ এই সুবিধা আগেও পেত না। তাই ‘জিএসপি’ বাতিলে তেমন কোন অসুবিধা হবে না, এই বক্তব্যে আওয়ামী ব্লগ পাড়া এখন মুখরিত। বাম ব্লগ পাড়া আগে আওয়ামী সুরে সুর মিলাত। গন জাগরণ মঞ্চের দখল নিয়ে যে বিভেদ তাঁদের ভেতর সৃষ্টি হয় তার প্রভাব ব্লগেও দেখা যাচ্ছে। ‘টিকফা’ নিয়ে বাম ব্লগে বিরোধ বেশ প্রকট ছিল। ‘জিএসপি’ ইস্যুতে বামেদের অবস্থা মাঝামাঝি। ‘ব্যাপারটা দুঃখ জনক, আওয়ামী ব্যর্থতা আছে, তবে খুব ক্ষতি হবে না। আর বিএনপির কিছু সমালোচনা না করলে কেমন দেখায়, তাই বিরোধী নেত্রীকেও কিছুটা গালমন্দ করা।‘
এর মাঝে ‘ইউনুস’ সাহেব ও জায়গা দখল করে নিয়েছেন। আমেরিকার সঙ্গে যেহেতু তাঁর বেশ দহরম মহরম সম্পর্ক তাই এই ঘটনায় তিনিও জড়িত কি না, এমন সন্দেহ করেও অনেক লেখালেখি চলছে। তাঁর আর তাঁর গ্রামীন ব্যাঙ্কের পেছনে যেহেতু এই সরকার আদা জল খেয়ে নেমেছে, তাই প্রতিশোধ হিসেবে তিনি এই কাজ করেছেন কি না, এই প্রশ্ন উস্কে দেয়ার চেষ্টা চলছে। প্রশ্নটা অনেকেই গিলেছেন মনে হচ্ছে।
আরও কিছু ব্যাপার নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। ভবিষ্যৎ পন্থী আঁতেল গ্রুপের আলোচনা। আমেরিকার ‘জিএসপি’ বাতিলে তেমন কোন সমস্যা হবে না ঠিকই তবে তাঁদের দেখাদেখি যদি ইউরোপ ও এমনটা করে তখন সমস্যা হয়ে যাবে। কারণ আমাদের ‘গার্মেন্টস’ রপ্তানির অধিকাংশই যায় ইউরোপে। তাই এখনই সাবধান হলে, কাজের পরিবেশ উন্নত করা গেলে, হয়তো ইউরোপ এমনটা করবে না। তাই ফাটল আছে এমন সব বাড়ী খুঁজে সেখান থেকে গার্মেন্টস উচ্ছেদ করা জরুরী।
এই কাজটা কি ‘টিকফা’ তে জড়ানোর প্ল্যানের অংশ? এই প্রশ্নও কেউ কেউ করছেন। এখন হয়তো বাজারে রটানো হবে, ‘টিকফা’ তে স্বাক্ষর করলে আবার ‘জিএসপি’ সুবিধা ফেরত পাওয়া যাবে। ফলে ‘টিকফা’ তে স্বাক্ষর করা ছাড়া আর উপায় নেই। পুরো ব্যাপারটা এই সরকার আর মার্কিন সরকারের যোগ সাজসের ফসল কি না তা নিয়েও অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করছেন।
‘জিএসপি’ পেছনের আসল ঘটনা যে কি তা নিয়ে নানা মুনি নানা মত দিয়ে যাচ্ছেন। আমেরিকা আসলে কি চায়, সেই আনালাইসিস চলছেন। তত্ত্বাবধায়ক প্রশ্নে চাপ সৃষ্টির কোন পদক্ষেপ কি না? কিংবা রাশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি করায় তাঁরা নাখোশ হয়েছে কি না। সব কিছু হয়তো পরিষ্কার হয়ে আসবে ডিসেম্বরে। এই সময়ের ভেতর এদেশের রাজনীতিতে অনেক কিছুই পরিষ্কার হয়ে আসবে। নির্বাচন হচ্ছে কি না? হলে সেখানে বিএনপি যোগ দিচ্ছে কি না? যদি না হয় সেক্ষেত্রে জরুরী অবস্থা আসছে কি না? কিংবা বিএনপি বিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঝুঁকি আওয়ামীলীগ নেবে কি না?
পর্দার অন্তরালে কি চলছে তা এখনও স্পষ্ট না। ‘জিএসপি’ এর ব্যাপারে এই সরকার আঁচ পায় নি তা হয়তো না। তাঁদের চেষ্টা কতটা ছিল কিংবা প্রভুদের দাবী কি ছিল তাও ঠিক পরিষ্কার না। গার্মেন্টসের কর্ম পরিবেশের দোহাই দিয়ে ‘সার’ এর ওপর থেকে ‘জিএসপি’ প্রত্যাহার করা দেখে মনে হচ্ছে ভেতরে রহস্য অন্য কিছু। সেই দাবীটা কতটা অন্যায্য তা সরকারই বলতে পারবে। তবে খুব গ্রহণযোগ্য কোন ব্যাখ্যা না দিতে পারলে ব্যাপারটা নিয়ে সরকার একটু বিপাকে পড়বে বলেই মনে হচ্ছে।
এমনিতেই চার সিটি কর্পোরেশনে ভরাডুবি, তারপর আবার এমন প্রচারণা, সরকারের জন্য কিছুটা হলেও অস্বস্তিকর। তাই একে তাঁকে দোষ না দিয়ে খুব দ্রুত একটা সিদ্ধান্ত নেয়া জরুরী। সমস্যাটা সমাধান যোগ্য হলে সেই পথে এগোনো জরুরী। পদ্মা সেতুর মত লেজেগোবরে না করে এখনই ঠিক করা উচিৎ, এ বিষয়ে কোন পথে এগোবে। নিজ অর্থে পদ্মা সেতু করার চেষ্টা একেবারে প্রথমে শুরু করলে যতটা সমর্থন পেত তাঁর একাংশ ও পাচ্ছে না। প্রথমে প্রভুদের তুষ্ট করা এবং সেই চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া ব্যাপারটাই মুখ্য হয়ে ওঠে। কেউই ভালোভাবে নেয় নি। জিএসপি নিয়ে তাই কি করবে, তা এখনই ঠিক করতে হবে। লুকিয়ে থাকা প্রভুদের দাবী মেনে নেয়া? নাকি পদ্মা সেতুর মত ‘একলা চলো রে’। তবে এবার ব্যাপারটা কিন্তু দ্বিপাক্ষিক। এটাও মনে রাখতে হবে।

১৫ thoughts on “‘জিএসপি’ সমস্যা এবং তারপরের রাজনীতি

  1. ধরে নিলাম খালেদার জন্য জি এস
    ধরে নিলাম খালেদার জন্য জি এস পি বন্ধ হয়েছে। প্রশ্ন হল , বিরোধী দল যদি দেশের ক্ষতি করতে পারে তবে সরকারি দল চুপ করে বসে ছিল কেন? দেশের ভালো মন্দ দেখার দায়িত্ব কার সবচেয়ে বেশি? বিরোধী না সরকারি দলের?
    যদি বিরোধী দলের কথায় সব কিছু হয় তবে আর সরকারি দলের কাজটা কি? ঠেকাতে পারলো না কেন?

    1. সরকারের সাথে আপামর জনসাধারণও
      সরকারের সাথে আপামর জনসাধারণও এই দায়িত্ব এড়াতে পারবে না…
      যেসব কাজ সরকার পারে না তা জনগনকে করতে হয়! যেমন আপনার সন্তান ২ টা না ৫ টা হবে তা আপাতত আপনাকেই নির্ধারণ করতে হবে!!!

  2. জিএসপি নিয়ে নানা মুনির নানা
    জিএসপি নিয়ে নানা মুনির নানা মত দিচ্ছেন ভাল কিন্তু । সরকারী দলের আবাল গুলার মতামত শুনলে পিত্তি জইলা যাই । বিরোধী দল এর কথায় সব হইয়া যাই – তাইলে সরকারী দল কি করে ঘাস কাটে?

    1. এইটা হচ্ছে মুসলমানদের বিখ্যাত
      এইটা হচ্ছে মুসলমানদের বিখ্যাত অভিযোগগুলোর মতন!!
      মুসলমানদের সকল ব্যর্থতা হচ্ছে ইহুদী-খ্রিষ্টানদের ষড়যন্ত্রের অংশ…

  3. আমগো চিল্লাইয়া লাভ নাই। আমাগো
    আমগো চিল্লাইয়া লাভ নাই। আমাগো কতা হেগো কান পর্যন্ত পৌঁছায় না।

  4. কথাটা আঁতলামির মতো শুনালেও
    কথাটা আঁতলামির মতো শুনালেও জিএসপি প্রত্যাহারের প্রভাব গার্মেন্টস সেক্টরে পড়ার কথা না। কারন এতো সস্তায় এতো ভালো মানের প্রডাক্ট এম্রিকা কোথাও পাবে না। ইউরোপ এই কথাটা খুব ভালো করে জানে বলেই তারা বরং ভিন্ন সুরে কথা বলছে। তারা বাংলাদেশের গার্মেন্টস ফ্যাক্টরির কর্ম পরিবেশ উন্নয়নে ইনভেস্ট করার কথা বলছে। জিএসপি নিয়ে এম্রিকা পলিটিক্স খেলতেছে। একদিকে রাশিয়ার সাথে চুক্তিসহ ইউনুস ইস্যুতে সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি, অন্যদিকে টিকফাকে হালাল করে নেওয়ার একটা কৌশল। তাই এইসব হাবিজাবি চিন্তা বাদ দিয়ে সত্যিই যদি আমরা আমাদের গার্মেন্টস সেক্টর নিয়ে চিন্তায় থাকি, তাহলে নিজেদের স্বার্থেই ফ্যাক্টরির কর্ম পরিবেশ উন্নয়ন ও শ্রমিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দিকে নজর দেওয়া দরকার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *