ইন্ডিয়া ট্যুর ও পূজার কষ্ট… পর্ব ২

সুনীল এর অকাল প্রয়াণ।আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।এ কি শুনলাম আমি।চারিদিকে এত কোলাহল কিছুই আমার কর্ণপাত হচ্ছে না।মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।মনে হল আমার আকাশ শুধুই নীল থেকে কালো হচ্ছে।অতই তলে নীল হারিয়ে যাচ্ছে কালোর গ্রাসে।দুর্গাও তো দশমীতে বিদায় নেন।অষ্টমীর ভোরে কেন তোমার যাত্রা।এ কেমন তরো প্রস্থান?

সুনীল এর অকাল প্রয়াণ।আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।এ কি শুনলাম আমি।চারিদিকে এত কোলাহল কিছুই আমার কর্ণপাত হচ্ছে না।মেনে নিতে কষ্ট হচ্ছে।মনে হল আমার আকাশ শুধুই নীল থেকে কালো হচ্ছে।অতই তলে নীল হারিয়ে যাচ্ছে কালোর গ্রাসে।দুর্গাও তো দশমীতে বিদায় নেন।অষ্টমীর ভোরে কেন তোমার যাত্রা।এ কেমন তরো প্রস্থান?
আমার যুবক হবার পিছনে।যে কয়জন পুরুষ আমাকে কাছে টেনেছেন,আমার আবেগ তাড়িত বিকেল আমার উচ্ছল সন্ধা আনন্দ আমার কষ্টের সারথি তাদের মদ্ধে,সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়,সমরেশ মজুমদার,সুচিত্রা ভট্টাচার্য,বুদ্ধদেব বসু,শীরশেন্দু ও হুমায়ুন আহমেদ, সবার উপরে আমার আকাশ উজ্জ্বল করে রেখেছেন।আমি আমার বয়ঃসন্ধি পের করেছি এদের সাথে।
কখনও পার্ক স্ট্রীট কখনও চওরঙ্গির মোড়, হাওড়া দেখার জন্য আমি তৃষিত ছিলাম।কে আমাকে এমন তৃষ্ণা জাগিয়েছে?জি এসব কালজয়ী লেখক আমাকে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে গেছেন ওখানে।
আমি হেঁটে বেরিয়েছি ডূয়ারসের চা বাগানে।
আমি জলপাইগুড়ি শিলিগুড়ি ট্রেনে ছড়েছি বিনা টিকেটে।
ট্রাম লাইনে একেবেকে তীব্র হয়ে শহরের কোলাহল।
সুনীলের আরেকটি ছদ্ম নাম হচ্ছে নীল লোহিত।কতবার যে নিজেকে নীললোহিত ভেবে নিজেই কলেজের বারান্দায় হেঁটেছি বুক উঁচিয়ে,প্রিয়তমার চিঠিতে আবিস্কার করেছি।পত্র লিখায় ইতি টেনেছি নীললোহিত নামে।কতবার গণনা করা যাবে না।আমার নীললোহিত আমার কচি আবেগকে জাগিয়ে ছিল প্রেমের অপ্রেমের কবিতাকে।
নিঃসন্দেহে আমার এই কয়জন গুরু ছাড়া আর কে
।গুরু দক্ষিণা পেয়েছি শব্দের আবেশে।সুখেন্দুর সেই উষ্ণ চুম্বনের তাপে।
আমি সময়কে ধন্যবাদ দেই যে আমি আমার কৈশোর আর যৌবনে এমন কয়েকজন সৃষ্টিশীল মহামানবের সাহিত্য আমি চর্চা করতে পেরেছি।

পূর্ব-পশ্চিম…(সুনীলের কালজয়ী উপন্যাস)
যখন পূর্ব পশ্চিমে অতিন মজুমদার প্রেমে হাবুডুবু খেয়েও অলিকে বলতে পারেনি।আমি তোমাকে ভালবাসি কথাটি।এই আমি অসহায় বোধ করেছি। অতিনকে বলেছি প্লিজ বলে ফেল, একবার বল।যেন অলি আমারই প্রেমিকা। অতিন না বললে যেন আমি ছেঁকা খাব।
পরে যখন অতিন প্রবাস থেকে ফিরে এল অন্য এক জনকে জীবনসাথী করে সেদিন অলি আর কতটুকু কেঁদেছে।বাজি ধরে বলতে পারি আমি বেশি কেঁদেছি।কান্নায় আমার বালিশ ভিজেছে।
হা এই আমার সুনীল, আমার প্রেম আমার আবেগ।এই হচ্ছে সৃষ্টি। নিজের মাঝে অন্য কিছুর বসবাসের আবিস্কার আমি শিখতে শুরু করেছি।
যাই হোক জন্ম মৃত্যু নিয়ে হাসি- কান্নাকাটি করতে পারব কিন্তু অবধারিত এই নিয়মের বাইরে যেতে পারব না।মেনে নিলাম। চেপে ধরলাম কষ্ট নামক হৃদয়ের অসুখকে।
যে শহরে আমার সুনীল নেই সে শহরকে মনে হল যৌবনহীন নারী।তাঁর দীপ্তি হারিয়ে গেল,কি সাধ্য আছে এই শহরের আঠকে রাখবে আমাকে।
সিদ্ধান্ত নিলাম কোলকাতা আর থাকব না।দেশে ফিরে যাব।
হেঁটে হেঁটে গ্রিন লাইন টিকেট কাউনটার এ চলে এলাম।
আগামি কাল সকাল ৭টায় বাসের টিকেট কেটে এলাম।
অল্প কিছু মুখে দিয়ে ঘুমাতে গেলাম।এপাস ওপাশ করে করে অনেকক্ষণ পরে ঘুমিয়ে গেলাম।
সকালে যথা সময়ে বাস চলছে বেনাপোলের দিকে।ছেড়ে যাচ্ছি আমার প্রিয় কোলকাতা।যে শহরে এখন আর নীললোহিত নেই।
স্বাতি বৌদি কেমন আছেন?রাতের সঙ্গী দিনের সঙ্গি, সঙ্গীহীন মানুষটি কিভাবে বাঁচবেন,জানি না।

সুনীলের অকাল প্রয়াণে কত শব্দের কান্নার ঢেউ আঁচড়ে পরে শ্মশানের আগুনে।
চন্দন কাঠ এর কালো ধোঁয়া উঠে সুনীল আকাশে।

১২ thoughts on “ইন্ডিয়া ট্যুর ও পূজার কষ্ট… পর্ব ২

  1. এতো চমৎকার একটা লেখায় এতো
    এতো চমৎকার একটা লেখায় এতো বানান ভুল কেন? নীললোহিত হবে, নীললুহিত নয়। এরকম বেশ কিছু দৃষ্টিকটু বানান ভুল আছে। ঠিক করে নিয়েন। আপনার ভাষার ব্যবহার চমৎকার লাগল। আর কালজয়ী এইসব লেখকদের নিয়ে আপনার অনুভূতির সাথে দারুন মিল খুঁজে পেলাম। পর্ব ছাড়তে দেরী করলে চইলতনা। :জলদিকর:

    1. ধন্যবাদ ভাই ফাল্গুন।লিখতে
      ধন্যবাদ ভাই ফাল্গুন।লিখতে চেষ্টা করছি,আপনাদের অনুপ্রেরণা আমাকে লিখতে সহায়তা করবে।

  2. দিচ্ছেন, নিচ্ছি। বেশ ভালো
    :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: দিচ্ছেন, নিচ্ছি। বেশ ভালো লাগলো । পরের পর্বের অপেক্ষায় ।

    1. ধন্যবাদ ভাই ফাল্গুন।লিখতে
      ধন্যবাদ ভাই ফাল্গুন।লিখতে চেষ্টা করছি,আপনাদের অনুপ্রেরণা আমাকে লিখতে সহায়তা করবে।

  3. পর্ব এক কই ভাই? লিংক দেন । আর
    পর্ব এক কই ভাই? লিংক দেন । আর হা পর্ব ২ ভাল হইছে লেখার মান ।বাট ১ পড়া লাগবে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *