লাল বেনারসির ফাঁস

-মা দাদুরে ঝোল দিতে চাইছিলা তা কই?
-ওই গামলা উঁচু করে দেখ ওর নিচে। তোরে আগায়ে দেই।
-বাঁচলাম না রঙের জ্বালায় কুট্টি কুট্টি তাবিজ গলায়।
-কিরে কি হয়েছে?
-মা ঢং কর কেন প্রতেক দিন। দুইপা পথ তা আবার তোমার আগায়ে দেওয়া লাগবে! সারাটা দিনে একটা বারের জন্যও তো যাও না দাদুকে দেখতে ও বাড়িতে। আমি যাচ্ছি বলে ঘর থেকে উঠানে নেমে আসে মিষ্টি।
-এই ছেমড়ি এই রাত দশটার বেশী বাজে হ্যারিকান, ল্যাম্প বা টর্চ লাইট কোন কিছু না নিয়ে একা একা বের হয়ে গেলি। মেয়ে মানুষের এত সাহস ভাল নারে মা। কথাটা কানে আসতে মুচকি হাসি ফুটে ওঠে মিষ্টির ঠোঁটের কোল জুড়ে। পূর্ণ চাঁদের আলোর বন্যায় ভাসছে ভুবন। এরপরও আরও আলোর দরকার আছে কি?


-মা দাদুরে ঝোল দিতে চাইছিলা তা কই?
-ওই গামলা উঁচু করে দেখ ওর নিচে। তোরে আগায়ে দেই।
-বাঁচলাম না রঙের জ্বালায় কুট্টি কুট্টি তাবিজ গলায়।
-কিরে কি হয়েছে?
-মা ঢং কর কেন প্রতেক দিন। দুইপা পথ তা আবার তোমার আগায়ে দেওয়া লাগবে! সারাটা দিনে একটা বারের জন্যও তো যাও না দাদুকে দেখতে ও বাড়িতে। আমি যাচ্ছি বলে ঘর থেকে উঠানে নেমে আসে মিষ্টি।
-এই ছেমড়ি এই রাত দশটার বেশী বাজে হ্যারিকান, ল্যাম্প বা টর্চ লাইট কোন কিছু না নিয়ে একা একা বের হয়ে গেলি। মেয়ে মানুষের এত সাহস ভাল নারে মা। কথাটা কানে আসতে মুচকি হাসি ফুটে ওঠে মিষ্টির ঠোঁটের কোল জুড়ে। পূর্ণ চাঁদের আলোর বন্যায় ভাসছে ভুবন। এরপরও আরও আলোর দরকার আছে কি?

বাগানের ভিতর ছাপড়া ঘরে একাকী বছরের পর বছর পার করে দিল দাদু। আগেও ছিল না এখনও না আছে অন্য বস্ত্রের সংস্থান না মানুষের সহচর। চরম দারিদ্রতায় জীবন পার করলেও কখনও দীনতা ছিল না। কি রুপে কি গুনে কি মননে। বুড়ির দিকে তাকালে এখনও যৌবন ছোঁয়া যায়। শরীরের বাঁধুনি দেখেই বুঝা যায় কি পরিমাণ আকর্ষণীয় দেহর অধিকারী ছিল। এখনও দুধে হলুদ গায়ের রঙ, টিকালো নাক। বড় বড় টানা চোখের মায়াবী চাহিনি সাথে ঐ রাঙা টুকটুকে ঠোঁটের বাঁকা হাসিতে আমি শিহরিত হই কান দিয়ে গরম ভাপ বের হয় আমার। অথচ কি অপরিসীম অবহেলায় চৌদ্দ-পনের বছরের যুবতী বধূর তিরিশ বছর বয়সী যুবক বর লাপাত্তা হয়ে যায়। কিশোরীর খোলস ছেড়ে সদ্য যৌবনে পা রাখা এক সন্তানের মা দাদু ফিরে আসে বাপের পতিত ভিটায়। বলতে পার মা দাদু কই পাইছিল এত সাহস! বার-তের বছর বয়সে বাবা দাদুকে ছেড়ে ঢাকা চলে যায়। দাদু একাকিনী নিঃস্ব হয়ে সেই থেকে আজ চল্লিশটা বছর তো পার করে দিল।

-মিষ্টি। এই মিষ্টি শোন
নিজের নাম কানে যেতেই ভাবনার ঘোর কেটে সচকিত হয়ে তাকিয়ে দেখে চালতা গাছের নিচে চলে আসেছে। মোলায়েম স্বরে কেউ ডাকছে মিষ্টিকে। কিন্তু কে?
-কে?
-এই আমি ইনামুল
-মিষ্টি সাহিন তোর সাথে এখন কথা বলতে চায়। গার্লস স্কুলে বসে আছে, তোরে আমার সাথে যেতে বলেছে।
-সাহিন বসে আছে মানে কি ও না ঢাকা গেছে?
-সন্ধ্যার সময় আইছে। আমাকে বলেছে তোকে সাথে করে নিয়ে যেতে।
-কেন সে আসলেই তো পারত? এখন আমি যাব না, অনেক রাত হয়ে গেছে দাদু না খেয়ে বসে আছে। বলিস কাল সকালে দেখা করব।
-তোরে এখনই যেতে বলেছে।
-একবার তো বললাম যাব না। কাল সকালে দেখা করে ———

কথা শেষ হয় না এমন সময় পিছন থেকে কেউ একজন একহাতে মুখ চেপে ধরে অন্য হাতে পেট বরাবর জাপটে ধরে। পিছন থেকে চাপা স্বরে বলে ইনামুল আমি শালীরে ধরেছি তুই ওড়না দিয়ে পা বেঁধে ফেল। বিদ্যুৎ খেলে যায় মিষ্টির শরীরে। মিষ্টি বুঝে ফেলে এদের উদ্দেশ্য। ঝোলের বাটি পড়ে যায় হাত থেকে। শুরু হয় জুরা-জুরি ধস্তা-ধস্তি। এরা দুজন এদের সাথে জোর খাটিয়ে বেশীক্ষণ টিকতে পারবে না। অন্য পথে আগাতে হবে। ডান পায়ে দাঁড়িয়ে বাম পায়ে সামনে দিকে লাথি ছুড়ছে যাতে করে কাছে ঘেঁষতে না পারে ইনামুল। বাম হাতে সমানে খামচি কাটছে জাপটে ধরা হাতের উপর, ডান হাতে পিছনের মুখ খুজছে চোখে আঙুল ঢুকানোর জন্য। মুখ হাতের নাগালে আসলেই খামচি দিচ্ছে। মাথাতে ঘুরছে কোন ভাবে যদি দাঁতে মুখ চেপে ধরা হাতের নাগাল পাওয়া যায়।

-খাঙ্কির পায়ে মেলা জোর কাছেই তো আসতে পারছি না।
-এই বেশ্যা মাগী এত জোর খাটাচ্ছিস কেন? কোন লাভ নাই। শুধু শুধু আমাদের কষ্ট বাড়াচ্ছিস। তারচেয়ে চুপচাপ চল অনেক মজা পাবি।
এমন সময় ইনামুলের মুখ থেকে চাপা গোঙ্গানি বের হয়। যাক লাথিটা জায়গামত লাগছে।
-ওরে মারে এই নটি মাগী আমার হাত কামড়ায়ে ধরেছে। ছাড় ছাইারে দে কলাম। আবার লুঙ্গি ধরছে।
-ও দাদু, পিলু কাকা, রমেল, নান্না তোমরা কে কোথায় আছ। তোমরা সবাই তাড়াতাড়ি আস।
– তোর লুঙ্গির গুষ্টি কিলাই। পলা—বলে ইনামুল ঝেড়ে দৌড়।
-ওরে বাবারে এই কুত্তী মাগী আমার গায়ের গোশত কামড়ায়ে সব ছিঁড়ে নিয়ে গেল।

একই ইউনিয়নে পাশাপাশি অবস্থিত গ্রাম লতিফপুর আর শিবচর। শিক্ষিত- ভদ্র, চাকুরে, অতিথি পরায়ণ সংস্কৃতমনা লতিফপুরবাসীর ব্যাবহারে চালচলনে লতিফপুরকে শহর মনে হয়। অর্থে-বিত্তে পূর্ণ লতিফপুরের পাশে শিবচরকে বস্তি মনে হয়। চা-বিড়ি দোকানদারী করে, ভ্যান-রিকশা চালায়ে পরের বাড়িতে কামলা দিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে। লতিপুর সাথে শিবচরের সংযোগ স্থানে হাই-ওয়ের পাশে ইনামুলদের মুদী দোকান। দাদুর সদাই-পাতি আনতে দিনে একবার হলেও যেতে হয় ইনামুলের মুদী দোকানে। সাহিনের চিঠি ইনামুলের হাত ঘুরে তখনই আসে মিষ্টির হাতে।

দুই গ্রামের মাঝে সালিশ ডাকা হয়েছে শুক্রবার বাদ আছর। সারা গ্রামের মানুষজন আসছে মিষ্টিকে দেখতে। আজে-বাজে খোঁচা কথা বলে যাচ্ছে মেয়েরা আজ দুইদিন মিষ্টি শুধু চুপচাপ শুনছে। আর ভাবছে মানুষ কত নোংরা কথা বলতে পারে আর কত নিচে নামতে পারে। কি সব অদ্ভুত কথাই না বলে- মাইয়া মানুষ ড্যাংড্যাং করে ঘুরে বেরাও। মাইয়া শেয়ানা হইছ রাত-বিরাতে একা ঘুর। টেলিভিশনে রঙ-ঢং দেখে ফিরবা একলা আর পুরুষ মানুষ তোমারে সামনে পেয়ে রঙ-ঢং করতে চাইছে। এতে তাদের আর দোষ কি? ভাল হইছে। যেমন কুকুর তেমন মুগুর। এখন দেখ কেমন লাগে।

দশ কাঠা জমি লিখে দিতে হবে মিষ্টির নামে। ইনামুল আর খবিরকে মিষ্টির পা ধরে মাফ চাইতে হবে। শিবচর বাসী রাজী তবে মিষ্টির সাথে ইনামুলের বিয়ে দিতে হবে। মিষ্টিকে ইনামুল না বিয়ে করবে লতিফপুর বাসি সাহিন। লতিফপুরের মেয়ে শিবচর যাবে না তাছাড়া মিষ্টির সাথে সাহিনের সম্পর্ক আছে যার সূত্র ধরে এত বড় ঘটনা।

সবাই খুব ক্ষেপে গেছে মিষ্টির উপর। সালিশের কোন সিদ্ধান্তই মিষ্টি মানতে পারছে না। একজন নারীর নারীত্ব অপমান করে জমির বিনিময় মাফ পাওয়া যায় এটা কেমন বিচার। সাহিনের সাথে সম্পর্ক কেবল মাত্র গড়ে ওঠতেছে। ভবিষ্যতে দুজন হয়ত দুজন কে বিয়ে করতে চাইত। তবুও এই ঘটনার পর বিয়ে করাটা ওকে চাপিয়ে দেওয়া হল। দুজনের কার ও কাছেই কেউ কোন মতামত জানতে চাই নাই। যার ফলাফল ভাল হওয়ার সম্ভাবনা কম। সাহিন হয়তো মেনে নিবে, মানায়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। তবুও যতবার আমায় দেখবে ওর ততবার মনে পরবে ও বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছে। ভালবাসার শুভ পরিণয় নয়। এই শূন্যস্থান পূর্ণ হবার না।

-স্যার আমি বিয়ে করব না।
-বিয়ে তো তোমাকে করতেই হবে। আজ কাল পুরশু তরশু।
-কেন?
-বিয়ে না করে একা একটা মেয়ে আমাদের সমাজে চলতে পারে না বা থাকতে পারে না তাই। আর সব জেনে শুনে সাহিন যখন তোমাকে বিয়ে করতে চাইছে অতএব তোমার আপত্তির ভিত্তি নাই।
-দাদু তো একা আছে।
-তোমার দাদুর ও বিয়ে হয়েছিল।
-ওহ তারমানে মেয়েদের বিয়ে নামক সার্টিফিকেট টা খুব দরকার বাঁচার জন্য। কোন পুরুষের সাথে থাকতে বিয়ে নামক সার্টিফিকেট লাগবে আবার ঐ পুরুষ ছেড়ে গেলে তখন আবার ঐ সার্টিফিকেট দেখায় একা থাকা যাবে। ভালই নিয়ম-নীতি।
-কাহিনী কর না।

বউ সাজে মিষ্টিকে অনেক সুন্দর লাগছে। সবাই বলে নায়িকা নতুনের সাথে ও চেহারার অনেক মিল। গহনা সেট ও নাকি সুন্দর হইছে। মিষ্টি জানে বিয়ের দিনে মুখ কাল করে থাকতে নাই। মামি বারবার বলতেছে এত মন খারাপ করার নাকি কিছু নাই সব ঠিক হয়ে যাবে। বাঁকা হাসি দিয়ে মিষ্টি মনে মনে বলে। সব তো ঠিকই আছে আর কি ঠিক হবে। আর বেশী খারাপ হওয়ার কি বা বাকি আছে। কপাল খারাপ হলে দাদুর কাছে ফিরে আসব। আর বেশী ভাল হলে ঘরের আড়ায় দড়ি দিয়ে ঝুলে পড়ব। আরও বেশী ভাগ্যবতী হলে সাহিন ফ্যানের সাথে লাশ ঝুলাবে।

মিষ্টির স্কুল শিক্ষিকা মামী ও এই বিয়ে মানতে পারছে না। তবুও মুখ ফুটে কিছু বলে না। শুধুই সান্তনা দেয় মিষ্টিকে। ধুর বোকা মেয়ে মন খারাপ করিস না। অনেক সুখী হবি তোরা দেখিস। জলে টলমল চোখ মিষ্টির চোখের থেকে সরিয়ে নিয়ে মিষ্টির লাল বেনারশির উপর চোখ রাখে মামী। মিষ্টিরা সব জেনে বুঝে ও বিবর্ণ মনে রঙিন শাড়ির প্যাচ দেয় শরীরে। অদ্ভুত নিয়তি নিয়ে জন্ম নেয় মিষ্টিরা। তাই তো একদিন এই বেনারশির ফাঁস গলায় পড়বে জেনেও পা বাড়ায় সাহিনদের ঘরের দিকে।

১৯ thoughts on “লাল বেনারসির ফাঁস

  1. কিছুটা খাপছাড়া লাগলো মনে হল
    কিছুটা খাপছাড়া লাগলো মনে হল যেনো গুছানোটা ঠিকমত হয়নি মুল্ভাব বুঝতে কিছুটা বেগ পেতে হল আর একটা কথা গল্পের মাঝে অশালীন বক্তব্য সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ না করে *** ব্যবহার করতে পারেন তাতে গল্পের মান ভাল থাকবে ………শুভ কামনা :ফুল:

    1. আমি খাপ ছাড়া লিখি । যতটুকু
      আমি খাপ ছাড়া লিখি । যতটুকু আমার কাছে আনা প্রয়োজন মনে হয় সেটা আমি লেখায় রাখি। অশীল বা খারাপ কিছু এড়িয়ে গেলেই সমস্যা মিটে যায় না। ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

  2. আরো ভালো হবে ।আর গল্পের মূল
    আরো ভালো হবে ।আর গল্পের মূল বক্তব্যটা বুঝাতে পারছেন ।সেটাই বড়

  3. গল্পে আমার মত তালগোল পাকিয়ে
    গল্পে আমার মত তালগোল পাকিয়ে ফেলেছো ।আমিও গল্প লিখতে পারিনা ।কেমন যেন গোলমাল লেখে যায় ।যাইহোক, আপনারটা
    মন্দ হয়নি ।চালিয়ে যান ।

    1. আপনি তো এক মন্তব্যে দুই
      আপনি তো এক মন্তব্যে দুই প্রকার সর্বনাম ব্যবহার করেছেন। যে কোন একটা বলাই ভাল ছিল না। আমি তালবেতাল লিখি, লিখি আবজাব। কষ্ট করে আবজাব পড়ার জন্য ধন্যবাদ।

  4. ক্যারি অন!
    মিষ্টিদের জন্য শুভ

    ক্যারি অন!
    মিষ্টিদের জন্য শুভ কামনা রইলো…
    এরচেয়ে বেশি কিছু বলার সাহস/ক্ষমতা নেই যে!

    1. আমার আকর্ষণ সবসময় মূল
      আমার আকর্ষণ সবসময় মূল বক্তব্যে বিন্যাসে নজর কম থাকে। মাঝে মাঝে চিন্তা করি খেয়াল করব লিখার পরে মনে হয় এই এলোমেলোই ভালো। যার বোঝার সে বুঝবে না বোঝার বুঝবে না। দেখা যাক কতদূর পাল্টায় লিখতে লিখতে।

  5. গল্পের মুল বক্তব্য চমৎকার।
    গল্পের মুল বক্তব্য চমৎকার। বিন্যাস টা গতকালের মত এত ভাল হয়নি। চালিয়ে যান 🙂

  6. গল্পের মুল বক্তব্য ভালো
    গল্পের মুল বক্তব্য ভালো লেগেছে। তবে দাড়ি, কমা ঠিক মত ব্যবহার হয় নি। সংলাপে আঞ্চলিকতা সব জায়গায় সমান হয় নি।
    আপনার প্রথম গল্পটি চমৎকার ছিল। সেই তুলনায় এটি একটু কম ছিল।
    শুভ কামনা…

    1. এইটা আমার ব্লগিং এর শুরুর
      :কানতেছি: এইটা আমার ব্লগিং এর শুরুর দিকের লেখা… পরে আর কোন এডিট না করেই এখানে পোষ্ট করেছি। সবচেয়ে সত্যি কথা হল আমি নবিশ লেখক এবং এলোমেলো লিখি। ধন্যবাদ সত্যি বলার জন্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *