মাগো তোর গর্ভে জন্ম নিয়ে আজ আমি ধন্য।

তখনো গণ জাগরণ মঞ্চ গঠিত হয় নি। যুদ্ধাপরাধীর বিচার চলছে। বাচ্চু রাজাকারের ফাঁসির রায় দিলো। খুশিতে আত্মহারা। কাদের মোল্লার রায় আসলো। যাবজ্জীবন। মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পড়ল। ওই দিনেই রাজপথে নামল তরুণ প্রজন্মের যোদ্ধারা। চট্টগ্রামে পরদিন অর্থাৎ ৬ই ফেব্রুয়ারী শুরু হলো আন্দোলন। সেদিন থেকেই জামালখান প্রেস ক্লাব বর্তমানে স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্বরে যাওয়া শুরু করলাম। এভাবে কিছুদিন গেলো। তখনো ঘরে জানত না আমি অন্যান্য যোদ্ধাদের মতো রাজপথে এবং অনলাইনে ফাইট করছি। শাহবাগ তখন উত্তাল। শাহবাগের পরশমনিতে সারা দেশ উত্তাল। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্ফুলিংগ সবার মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। দেশ- বিদেশের গণ মাধ্যমে শাহবাগ শাহবাগ ছাড়া কিছুই ছিল না। তখনই মানুষ বুঝতে পারে প্রজন্মের আরেক নাম শাহবাগ। সেই উত্তাল শাহবাগের দৃশ্য যখন ফোকাস হচ্ছিল তখন আমার মা হাজার মানুষের জয় বাংলার ধ্বনিতে শিহরিত হয়ে উঠতো। গায়ের লোম খাড়া হয়ে যেত। এতটাই উত্তেজিত হয়ে পড়ত যে ঘরের মধ্যেই বলে উঠত জয় বাংলা। সেই মা একদিন আমাকে বলে “শাহবাগে তো আন্দোলন হচ্ছে, চট্টগ্রামে কিছু হচ্ছে না?” আমি বললাম “আরে মা! হবে না কেন? জামালখানে তো প্রতিদিন দুপুর ৩টা থেকে শুরু হয়।” কিছুক্ষণ চুপ থেকে আবার বলে, “তুই যাস???” উত্তরে আমি বললাম, “হ্যাঁ, মাঝে মধ্যে যাই আর কি!” মা বলে,”আজ থেকে প্রতিদিন যাবি। যতদিন না পর্যন্ত বিজয় ছিনিয়ে আনতে পারবি ততদিন ঘরে ফিরবি না। বিজয় নিয়ে তবেই ফিরবি। তোকে দেশের জন্য কোরবান করলাম, যা রাজাকার মুক্ত দেশ গড়েই শান্ত হবি এর আগে নয়।” এই কথা শুনে আমি যেন আর আমি ছিলাম না। চোখ বেয়ে নেমে এল আনন্দের অশ্রু। বড় মনের অধিকারী না হলে এমন কথা কেউ বলতে পারবে না। সেদিন থেকে আমি নতুন উদ্যমে, নতুন প্রেরণায়, নতুন উদ্দীপনায় আন্দোলনে আরো বেশি সম্পৃক্ত হয়। সেদিন থেকে আমি আমার মাকে নতুনভাবে চিনলাম। সত্যি মাগো তোর গর্ভে জন্ম নিয়ে আজ আমি ধন্য।

১০ thoughts on “মাগো তোর গর্ভে জন্ম নিয়ে আজ আমি ধন্য।

  1. অনেক ভালো লাগলো ভাই এবং আপনার
    অনেক ভালো লাগলো ভাই এবং আপনার ভাগ্য দেখে আমার কিছুটা হিংসা হচ্ছে আমিও জামাল খান গিয়েছি এবং সবার সাথে গলা মিলিয়ে জয় বাংলা ধ্বনিতে মুখরিত করেছি প্রেস ক্লাব আর অনলাইন যুদ্ধ তখনো করেছি এবং এখনো করে যাচ্ছি কিন্তু ফ্যামিলি থেকে সাপোর্ট জিনিসটা এখন পর্যন্ত পেলাম না হয়তো আমি একমাত্র ছেলে হওয়ার কারনে আমার মা বাবার মনে ভয় একটু বেশি তাই উনারা আমাকে বার বার মানা করেছিলো কিন্তু শুনতে পারলাম না উনাদের বারণ তাইতো এখনো জামাল খান প্রেস ক্লাবের পাশে দিয়ে যাওয়ার সময় নিজের মনে মনেই বলে উঠি জয় বাংলা ।। আপনার আম্মাকে আমার পক্ষ থেকে :salute:

  2. ধন্যবাদ জুয়েল ভাই। আসলে
    ধন্যবাদ জুয়েল ভাই। আসলে মা-বাবা সন্তানকে হারাতে চাই না তাই তাদের এত বাধা নিষেধ। তবে একটা কথা হল আমাদের মায়েরা যত কিছু বলুক না কেন তারা কিন্তু তার সন্তানকে নিয়ে মনে মনে গর্ব করে এই ভেবে যে তার সন্তান আর যাই হোক মানুষের মত মানুষ হয়ে বাঁচার সঠিক পন্থা খুঁজে পেয়েছে।

  3. ফ্যামিলি থেকে সাপোর্ট পাওয়া
    ফ্যামিলি থেকে সাপোর্ট পাওয়া সত্যি অনেক কষ্টের এবং ভাগ্যের। আমিও সব করেছি। কিন্তু ফ্যামিলি সাপোর্ট পাইনি। :ভাঙামন:

  4. নির্জন সৈকত। তোরটা আমি জানি
    নির্জন সৈকত। তোরটা আমি জানি দোস্ত। মন খারাপ করিস না, তোর মত অনেকের বাধা থাকে তারপরও কেউ দমে যাই না আর তাতেই তোর সাফল্য।

  5. মাকে স্যালুট আমি দি নাহ !!!
    মাকে স্যালুট আমি দি নাহ !!! কারন মা স্যালুট অপেক্ষা অধিকতর সম্মানীয় এবং নিরন্তর ভালবাসার একজন মানুষ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *