একটি রক্তাক্ত কাব্য এবং অকালে সমাপ্ত একটি ছোটগল্প………..

ধুপ করে মাটিতে পড়ল সাবিতের নিথর দেহটা।

রমিজের পিস্তলটা থেকে এখনও ধোয়া বের হচ্ছে।সে ভাবতেই পারতেসে না এত সহজেই হয়ে গেল কাজটা??টু শব্দটা পর্যন্ত করে নাই ছেলেটা।এ ঘটনা তো আর দেখে নাই সে!!

রমিজ একজন পেশাদার খুনি,ঠান্ডা মাথায় সে জবাই,গুলি সব করতে পারে,হাত তো কাপেই না।এইজন্য তার ফীও বেশি।

কিন্তু সেই রমিজ আজ অবাক!জোয়ান ছেলে,গুলি খাবার অন্তত হাত-পা তো ছোড়াছুঁড়ি করবে।কিন্তু এ কি??এ তো গুলি করার সাথে সাথেই শুয়ে পড়ল।এ যেনপ্রস্তুত হয়েই ছিল।


ধুপ করে মাটিতে পড়ল সাবিতের নিথর দেহটা।

রমিজের পিস্তলটা থেকে এখনও ধোয়া বের হচ্ছে।সে ভাবতেই পারতেসে না এত সহজেই হয়ে গেল কাজটা??টু শব্দটা পর্যন্ত করে নাই ছেলেটা।এ ঘটনা তো আর দেখে নাই সে!!

রমিজ একজন পেশাদার খুনি,ঠান্ডা মাথায় সে জবাই,গুলি সব করতে পারে,হাত তো কাপেই না।এইজন্য তার ফীও বেশি।

কিন্তু সেই রমিজ আজ অবাক!জোয়ান ছেলে,গুলি খাবার অন্তত হাত-পা তো ছোড়াছুঁড়ি করবে।কিন্তু এ কি??এ তো গুলি করার সাথে সাথেই শুয়ে পড়ল।এ যেনপ্রস্তুত হয়েই ছিল।

রমিজ আর বেশি চিন্তা করে না,তার মাথায় এখন চিন্তা এখান থেকে যত দ্রুত সম্ভব সরে পড়তে হবে।রমিজ খুনের পর কখনই লাশ নিয়ে চিন্তা করে না,লাশ জায়গাতেই পড়ে থাকে।সে শুধু সরে পড়ে।সে সরে পড়ল।

এবার আসি সাবিতের কথায়,সাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র।না,মেধাবি ছাত্র না,বলতে গেলে অ্যাভারেজ টাইপের ছাত্র।সে না থাকত কারো সাতে,না থাকত পাঁচে।সে বাস করত তার নিজের জগতে।তাহলে তার কেন এই পরিণতি??কি অপরাধ তার??
অপরাধ???হ্যা,অপরাধ সে করেছে।কি সেই অপরাধ?তাহলে দুই দিন আগের ফ্ল্যাশব্যাকে যাই,তখন সন্ধ্যা,সাবিত বসে আছে রাজু ভাস্কর্যের সামনে,হাতে সিগারেট।অন্যমনস্ক সাবিত হঠাৎ খেয়াল করল একটু দুরেই হালকা গোলমাল।আগ্রহী হয়ে এগিয়ে গিয়ে দেখে কয়েকটা ছেলে মিলে এক মেয়ের পিছে পিছে যাচ্ছে আর কিছু বলছে,মেয়েটা ভয়ে দ্রুত পা চালাচ্ছে।অর্থাৎ ইভ টিজিং।সাবিত দেখল কিছু পুলিশও বসে এই জিনিস দেখছে,দেখছে না বলে উপভোগ করছে বলাই ভালো,এক সময় একটা ছেলে মেয়েটার ওড়না ধরে টান দিল।এমন সময় সাবিত আবিস্কার করল সে চিৎকার করে তাদের থামতে বলেছে।এরপর ছেলেগুলো থমকে যায় কিছুক্ষনের জন্য।তারপর তার দিকে এগিয়ে আসে।এসে জিজ্ঞেস করে,
কিরে কি কস?
-মেয়েটাকে ছেড়ে দিন।
ক্যান?ওই মেয়ে তোর কি লাগে??
-কিছু লাগে না,,ছেড়ে দিন।
ছাইড়া দিমু মানে?
-মানে টানে জানি না,ছেড়ে দিতে বলেছি,ছেড়ে দিন!!!
তুই কোন চ্যা** বা**??তোমার কথা আমি শুনুম?কই থাকস??যায়গা মত জিনিস দিলে ঠান্ডা হইয়া যাইবি!!! খা*** পু*!!!
এরপর ছেলেটা খেয়াল করল আরো কিছু লোক এগিয়ে এসেছে,এখন ঝামেলা করা ঠিক হবে না।তাই সে সরে পড়ল।যাওয়ার আগে সাবিতকে বলে গেল,
কাজটা ঠিক করলি না।তোমারে আমি শিক্ষা দিয়া ছাড়মু।আমারে চেন না।চিনবা চিনবা!!!!
এই বলে সে চলে গেল।সাবিত তখনও দাড়িয়ে আছে।সে বুঝতে পারতেসে না সে এইভাবে এতগুলো কথা ওই ছেলের মুখের ওপ্র বলল কিভাবে???তখন এক পুলিশ এগিয়ে এসে বলল,”কাজটা ভাল কর নাই।কিছু জিনিস দেখেও না দেখার ভান করা লাগে।যার সাথে লাগসো সে পার্টির বড় নেতার আপন ভাই।সমস্যা হতে পারে।সাবধানে থাইকো।”
সাবিত কিছু না বলে সেখান থেকে চলে গিয়েছিল।
এই ছিল সাবিতের অপরাধ!!এই অপরাধে তার নিথর দেহ আজ পড়ে আছে রাস্তায় এক নর্দমার পাশে।সকালের আগে কেউ জানবে না তার কথা।
মধ্যরাতে ঢাকা শহরের একটি নির্জন সরু গলির ভেতর নর্দমার পাশে পড়ে আছে এক যুবকের প্রাণহীন দেহ।দেহটির কিছু দুরেই এক মধ্যবয়স্ক লোক হেটে চলে যাচ্ছে গলির শেষ প্রান্তের দিকে,হাতে তার একটি ছোট অস্ত্র,যা দ্বারা কিছুক্ষন আগেই লেখা হল আরেকটি হত্যার রক্তাক্ত কাব্য এবং শেষ হল একটি ছোটগল্প।যেই ছোটগল্পের হয়ত এখনই এভাবে শেষ হবার কথা ছিল না………..

১১ thoughts on “একটি রক্তাক্ত কাব্য এবং অকালে সমাপ্ত একটি ছোটগল্প………..

  1. ভীষণ চিন্তায় আছি। এটা পরমাণু
    ভীষণ চিন্তায় আছি। এটা পরমাণু গল্প হয়ে গেল বোধয়। তবে লেখার ভঙ্গি ভাল লেগেছে

  2. মন্দ লাগেনি। লেখায় সাবলীলতা
    মন্দ লাগেনি। লেখায় সাবলীলতা আছে। চালিয়ে যান লেখা। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. প্রথম কয়েক লাইন পড়ে মনে
    প্রথম কয়েক লাইন পড়ে মনে হয়েছিল রমিজের বক্তব্য নিয়ে লিখবেন।
    কিন্তু পরে খুব সাধারণ করে ফেললেন।

  4. খুব বেশি ভাল লাগলো বলা
    খুব বেশি ভাল লাগলো বলা যাচ্ছেনা কিন্তু ছোটগল্প হিসেবে গল্পের ধরন ঠিক আছে তার পরেও আরও কিছুটা প্রাসঙ্গিক বিষয় যুক্ত করলে হয়তো আরও ভালো হতে পারতো ………… চালিয়ে যান

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *