বাঘা

(১)
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে রাস্তাটি সোজা দক্ষিন দিকে নেমে গেছে ।বর্ষায় কর্দমাক্ত থাকে,কোথাও ভাঙ্গা বাশেঁর সাকো পার হয়ে যেতে হয় । শীতকালে একহাঁটু ধূলো-বালি । সে রাস্কাটি ধরে কিছুদুর হাঁটলেই পড়বে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের ক্ষেত,চারদিকে সবুজের সমারোহ । কোথাও কোথাও অযত্নে বর্ধিত তালগাছ তাড়িয়ে আছে প্রহরীর মত । গ্রীষ্মের এক দুপুরে প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট হয়ে জনা দু’য়েক পথিক তালগাছের ছায়ায় বসে জিরোচ্ছিল । হটাৎ একজন অপর জনের মনোযোগ আকর্ষণ করে-
:এই দ্যাখ দ্যাখ…
:কি হল?
: ঐ যে দ্যাখ..কালোমতো কি একটা নড়ছে আর দুরে সরে যাচ্ছে ।
:কই কিছু দেখছি নাতো!
:ভালো করে দ্যাখ..চোখের মধ্যে কি ইয়ে ঢুকিয়েছিস নাকি !!

(১)
ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক থেকে রাস্তাটি সোজা দক্ষিন দিকে নেমে গেছে ।বর্ষায় কর্দমাক্ত থাকে,কোথাও ভাঙ্গা বাশেঁর সাকো পার হয়ে যেতে হয় । শীতকালে একহাঁটু ধূলো-বালি । সে রাস্কাটি ধরে কিছুদুর হাঁটলেই পড়বে দিগন্ত বিস্তৃত ফসলের ক্ষেত,চারদিকে সবুজের সমারোহ । কোথাও কোথাও অযত্নে বর্ধিত তালগাছ তাড়িয়ে আছে প্রহরীর মত । গ্রীষ্মের এক দুপুরে প্রচন্ড গরমে অতিষ্ট হয়ে জনা দু’য়েক পথিক তালগাছের ছায়ায় বসে জিরোচ্ছিল । হটাৎ একজন অপর জনের মনোযোগ আকর্ষণ করে-
:এই দ্যাখ দ্যাখ…
:কি হল?
: ঐ যে দ্যাখ..কালোমতো কি একটা নড়ছে আর দুরে সরে যাচ্ছে ।
:কই কিছু দেখছি নাতো!
:ভালো করে দ্যাখ..চোখের মধ্যে কি ইয়ে ঢুকিয়েছিস নাকি !!
:হ্যা..দেখতে পেয়েছি । একি! ওটাতো আমাদের দিকেই আসছে ।
: হ্যা..কি করি বলতো? ভয় লাগছে ।
: আমারওতো ভয় লাগছে ।
: দিনের বেলায় আর ভয় কি ? আল্লাহ ভরসা ।
কালো বিন্দুটি আস্তে আস্তে পথিক দু’জনের দিকে সরে আসতে থকে । কাছে আসার পর দেখা যায় ওটা একটা কুকুর । ওর নাম বাঘা । পরে আমরা বিস্তারিত বাঘা সম্পর্কে জানবো ।
(২)
ঝন্টু মাতব্বরকে একনামে সবাই চিনে । কালো, লম্বা ৬ ফুটের মত, কাকলাশের মত চেহারা-যেন ঝরে পড়া কোন কাক । মাঠের একপ্রান্তে দাড়িয়েঁ যখন হাঁক দেয়—“ ঐ কোন খানকির পুলারা ভরা ক্ষেতের মধ্যে বরহি (ছাগল) ছাড়ছে রে?? ধরবার পারলে বরহি কইলাম তোগে মাইর…..দিয়া ঢুকাই দিমু “ তখন অনেকেরই অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে । পেশায় ঝন্টু মাতব্বর সম্পন্ন কৃষক হলেও তার আরো “ইনকাম সোর্স” আছে । রাবণের গুষ্টির মত তার পরিবারেও অনেক মানুষ । তার ২ পক্ষ মিলে ৭ ছেলে আর ৪ মেয়ে । এছাড়া বাড়ির রাঁখাল-কামলা মিলে বেশ বড়সড় সংসার । সুতরাং ধান্ধা ঝন্টু মাতব্বরকে করতেই হয় । বিভিন্ন বিচার-সালিশীতে সে উভয় পক্ষ হতে টাকা খেয়ে রায় পাল্টে দেয় । এছাড়া গ্রামের হাটে তার আরো কিছু বাঁধা ইনকাম আছে । খাজনাদার, ফড়িয়া,পকেটমার-সবাই তাকে কিছুটা সমীহ করে । কিন্তু আমরা মূলত: ঝন্টু মাতব্বরের বড় ভাই মেঘা ও তার কুকুর বাঘা-কে নিয়ে কথা বলবো ।

(৩)
মেঘা এই গ্রামের সবচেয়ে সম্পদশালী ব্যক্তি ।জমি-জিরাত,রাখাল কামলা তার অনেক । গ্রামের সবচেয়ে বড় খড়ের গাদাটি তার বাড়িতেই শোভা পায় । গ্রামের একমাত্র দো’তলা ঘরটি তার বাড়িতে, আশেপাশের গ্রাম থেকেও তার দোতালাটি নজরে পড়ে । কিন্তু মেঘা মানুষটি বড়ই নির্বিরোধী । চাষবাস দেখা শোনা ছাড়া সে একটি কাজই করে-তার পোষা কুকুর বাঘার যত্ন । গ্রামদেশে কুকুরের জন্য এমন মহব্বত এর আগে কেউ দেখেনি । মেঘা ও তার কুকুর বাঘাকে নিয়ে বিভিন্ন গল্প প্রচলিত আছে । তার কতগুলো সত্যি,কতগুলো কিছুটা বাড়িয়ে বলা ।

*
৮৮ সালের বন্যায় যখন সমস্ত গ্রাম পানিতে তলিয়ে যায়,তখন প্রায় সবাই আশ্রয় নিয়েছিলো ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে । গরু-ছাগল,মানুষ সবাই । তবে সম্পন্ন বাড়ির বউ-ঝিরা নিজেদের বাড়িতেই থাকতো ঘরের মধ্যে বাশেঁর মাচা বেঁধে । ঐ বন্যার সময়ের কোন একদিন মেঘা তাদের ডিঙ্গী নেৌকা নিয়ে বাজারে যাচ্ছিল বড় সড়কে তার গরু-ছাগলগুলোকে দেখাশুনা করতে । মাঝি নেৌকা ছেড়ে দিয়েছে, হটাৎ মেঘা শুনতে পায় বাঘার তীব্র ঘেউ ঘেউ চিৎকার ।
:চাচা..বাঘাতো খুব ডাকতাছে।
: হুনতাছিতো, কি অইছে তাতে ?
: মনে অয় আপনের সাথে যাইতে চায়?
: না…বাঘা বাড়িতেই থাকুক ।
: কিন্তুক যদি পাছে পাছে সাঁতার দেয়?
: না আমরা ম্যালা খানিক চইলা আইছি । বাজারতো বাড়ি থিক্কা পাক্কা ১ মাইল । বাঘা আসপার পারবো না ।
বাজারে পেীছার কিছুক্ষণ পর দেখা যায় বাঘাও মনিবের পিছনে পিছনে সাঁতরে বাজারে এসে উপস্থিত ।
**
এক বার মেঘা মেয়ের বাড়ি হতে ফিরছিল । পথিমধ্যে তাকে ডাকাতে ধরে, সঙ্গে কিছু টাকা-পয়সা ছিল, হাতিয়ে নিতে যাচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ বাঘার অতর্কিত আক্রমণে ডাকাত চার জন কোনমতে জান নিয়ে পালিয়ে যায় ।
-চাচা ভাল আছেন নাকি?
-হুম..
-একটা খবর হুনলাম সত্যি নাকি
?
-হুম…সত্যি
-একটু খুইলা কন না!
-আমি আমার মাইয়ার বাড়ি থিকা আসতাছিলাম । একটু রাইত অইছিল । ঠাকুরকান্দির আগের মোড়টায় আইছি সবে..৩/৪ জন ডাকাইত আমারে ঘিরা ধরল । একজন একখান ছুরি বাইর কইরা যা আছে দিতে কইলো । আমি টেকা-পয়সা যা সাথে আছিলো বাইর করতে যামু অমনি বাঘা আইসা ওইগুলারে কামরাইরা ধরলো ।
-বাঘা আপনের সাথে আছিলো না?
-হ সাথেই আছিলো..একটু আগায়া গেছিলো
-তারপর কি অইলো
-তারপর আর কি! ওই শালারা মাগো-বাবাগো কইয়া পলাইবার পথ পায় না ।একজনরে তো বাঘা কামরাইয়া ধরছিলো ।পাছার গোশত খুইলা নিছে আমার বাঘায় ।
-ভাল অইছে ।
-যব্বর বাঁচা বাঁচলি অইদিন-খালি বাঘা সাথে আছিলো বইলা ।বাঘারেওতো একখান কোপ দিছিলো । পশ্ত হাসপাতালে নিয়া গিয়া ডাক্তার দেখাইছি ।
-হুমম..আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন ।

(৪)
জৈষ্ঠের শুরুতেই বৃষ্টি হয়েছে । সমস্ত গ্রামের মানুষ সীমাহীন ব্যস্ততায় ফসল বুনেছে । আউশ,আমন,পাট,তিল-এসব ফসলে মাঠ এখন ভর্তি । সবাই ব্যস্ত ক্ষেত নিড়াতে । মেঘাও তার জমিগুলা ঘুরে ঘুরে দেখছে । একটা ক্ষেতে সে দেখে ৩-৪ টি ছাগল ফসল খাচ্ছে । ছাগলে ক্ষেত খাওয়া মানে ফসলের বারোটা বাজা ।মেঘার খুবই রাগ হয় । সে তার রাখাল-কামলাদের নির্দেশ দেয় ছাগলগুলাকে ধরে নিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে বেঁধে রাখতে । ছাগলগুলা এই গ্রামের কাশেম আলীর । তার বউ সারাদিন ছাগলগুলাকে খুজেঁছে,পায়নি । পথে একজন তাকে বলে দেয় যে ছাগলগুলা মেঘা ধরে নিয়ে গেছে তার ক্ষেত খাওয়ার অপরাধে । মেঘার বাড়ি তাদের বাড়ি হতে বেশ খানিকটা দুরে । সে একা যেতে সাহস পায় না । স্বামীর জন্য অপেক্ষা করতে থাকে । সে কাজ থেকে ফিরলে তাকে পাঠাবে ।
:মেঘা আমাগো বকরিডি ধইরা নিয়া গ্যাছে ।
:কুন সময় নিছে ।
:নিছেতো সেই সকাল বেলা ।
:সকাল বেলা নিছে..এহন আমারে কইতাছো নিয়া আসতে । তুমি গিয়া আনবার পারলা না ।
: আমি সারাদিন বকরিডিরে পাগলের মতো খুঁজছি, সইন্ধ্যা অইয়া গেল-তখন হুনলাম মেঘায় ধইরা নিয়া গেছে ।তুমি যাইয়া নিয়া আসো ।
: আমি তর বকরি আনবার পারুম না, এহন গেলেই মেঘার বউ’র গাইল হুনতে অইবো ।তুই বকরি বাইন্ধা পালতে পারোস না ?
: কতক্ষুন আর বাইন্ধা পালা যায় ! যাওনা..নিয়া আসো-বকরিডি আমার সারা দিন না খাওয়া ।
: আইচ্ছা যাইতাছি ।

(৫)
সন্ধ্যা মিলিয়েছে বেশ কিছুক্ষণ হল । কাশেম আলী মাঠে হালচাষ করে যে অবস্থায় ফিরেছিলো সেই অবস্থায়ই মেঘার বাড়ির দিকে পা বাড়ায় ।তার বাড়ি যেতে যে কারোরই ভয় লাগে । ভয় লাগে তার কুকুর বাঘার জন্য । তাই কাশেম হাতে একটা আইলা নড়ি (হাল চাষ করতে গরু পিটানোর চিকন লাঠি-যার মাথায় মোটা সূচ লাগানো থাকে ) নিয়ে নিল । বাড়িতে ঢুকে কাশেম মেঘাকে ডাকে । কিন্তু কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে আরো জোরে ডাকে আর বাড়ির ভিতরে ঢুকে যায় । মেঘা হয়ত ধারে কাছে ছিলো না…ভেতরের বাড়িতে ছিলো… । হটাৎ কাশেম কিছু বুঝে উঠার আগেই বাঘা ঘেউ ঘেউ করতে করতে এসে কাশেমকে আক্রমন করে খাবলে ধরে । কাশেম মিয়া খুবই ভয় পেয়ে যায় এবং তীব্র চিৎকার করতে থাকে । বাঘা আরো জোরে তাকে খাবলাতে থাকে । দিকবিদিকজ্ঞানশ্যন্য হয়ে কাশেম তার হাতের আইলা নড়িটি জোরে ঠেলে ঢুকিয়ে দেয় বাঘার দিকে । অন্ধকারে কি হয়েছে ঠিক বোঝা যায়না না-শুধু বাঘার কাতর চিৎকার আর কাশেম আলীর তীব্র চিৎকারে এক নারকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় । বাড়ির বউ-ঝি’রা ভেতর বাড়ি হতে চিৎকার করছিলো ..”বাঘা মইরা গেলো..বাঘারে মাইরা ফালাইলো “ বলে । হটাৎ কোথা থেকে যে মেঘা এল হাতে একটা শাবল নিয়ে-সেটা দিযে কাশেম আলীকে এলোপাথারি পেটাতে থাকে । পাশের বাড়ি থেকে সাথে এসে যোগ দেয় তার ভাই ঝন্টু মাতব্বর । দু’ই ভাই মিলে কাশেমকে পেটাতে থাকে আর কাশেম তীব্র যণ্ত্রণায় চিৎকার করতে থাকে । ওদিকে বাঘার কাতর চিৎকারতো আছেই । বাঘার চোখ দিয়ে গল গল করে রক্ত পড়ছে । আইলা নড়িটি তার চোখে ঢুকে গিয়েছিলো । পাড়া-প্রতিবেশীরা কাশেমের গোঙ্গানী শুনে ছুটে এসে কাশেমকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় । আর মেঘা ক্রমাগত আস্ফালন করতে থাকে আর কাঁদতে থাকে যে তার বাঘা বুঝি আর বাঁচবে না !
(৬)
তিন মাস হয়ে গ্যাছে মেঘা আর ঝন্টু মাতব্বর জেলে । কাশেম শেষ পর্যন্ত বেঁচে আছে-তবে একহাত থেঁতলে যাওয়ায় ঐ হাত দিয়ে কোন কাজ করতে পারে না । মামলা চলছে । উপযুক্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়ায় এবং আদালতে মেঘার সরল স্বীকারো্ক্তি পাওয়ায় বিচারকের রায় দিতে একটুও ভাবতে হয়নি । উকিল মেঘাকে যখন জিজ্ঞেস করে যে সে কেন কাশেমকে এভাবে পিটিয়েছে-সে অকপটে বলে যে বাঘাকে বাঁচাতেই সে কাশেমকে এভাবে পিটিয়েছে । ঝন্টু মাতব্বরের ২ বছর আর মেঘার ৫ বছরের জেল হয় ।

(৭)
আজ সোমবার । মেঘা আজ জেল থেকে ছাড়া পাবে । তার বউ নানারকম রান্না-বান্না করছে । চিংড়ি মাছের বড়া, ডাল ভর্তা, শুটকি,২ রকম মাছ, পায়েস –সবই আছে । কিন্তু এসবের চেয়ে বড় দুশ্চিন্তা বাঘাকে নিয়ে । বাঘার একটা চোখ নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো । আর এক চোখ দিয়েই সে ক্রমাগত কাদত । কাদত মেঘার জন্য । তার বিছানার পাশে এসে বসে থাকত আর এক চোখে অঝোরে ঝরত জল । কাদার জন্য ২ চোখ লাগে না । শেষের দিকে বাঘা আর কিছুই খেতো না । ঠিক ১ বছর ১৭ দিন পর বাঘা মারা যায় ।
মেঘা এসেছে , সঙ্গে জ্ঞাতিগোষ্ঠীর অনেকেই । অনেকেই গিয়েছিলো মেঘাকে জেলগেট থেকে নিয়ে আসতে । তার স্ত্রী মেঘাকে শরবত খেতে দেয় আর তালপাখা দিয়ে বাতাস করতে থাকে । কিন্তু মেঘার সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই ।
: আমার বাঘা কই? বাঘা…বাঘা..
: কথা কস না ক্যান? কি অইছে আমার বাঘার ??
: বাঘা চইলা গ্যাছে ।
: আমারে মিছা কতা কবি না, তুই আমারে ছাইড়া যাইতে পারোছ..কিন্তু বাঘা যাইবো না । ঠিক কইরা ক বাঘার কি অইছে ।

শেষেরদিকে মেঘা বদ্ধ উন্মাদ হয়ে যায় । সবাইকে জিজ্ঞেস করতো তারা বাঘাকে দেখেছে কিনা । ছোট ছোট বাচ্চা ছেলে-মেয়েরা মেঘাকে খেপাতো-
“ঐ দেখা যায় মেঘা
মেঘার ছিলো বাঘা,
বাঘায় দিলো দাগা
ঐ দেখা যায় মেঘা …”
বাঘাকে ছাড়া মেঘা খুব বেশীদিন বাচেঁনি । তার মৃত্যুর ২য় বার্ষিকী পালিত হচ্ছে আজ ।

১৮ thoughts on “বাঘা

  1. গল্পের মান মোটামুটি । গল্পের
    গল্পের মান মোটামুটি । গল্পের মেইন প্লট টা ছোট !! কিন্তু কাহিনীর ধারাবাহিকতায় টেনে লম্বা করা হয়েছে ।
    আর একটি ব্যাপার

    আক্কাছ শেষ পর্যন্ত বেঁচে আছে-তবে একহাত থেঁতলে যাওয়ায় ঐ হাত দিয়ে কোন কাজ করতে পারে না

    আক্কাছ কে? কাশেম আলি হবে সম্ভবত । আমার ভুল হলে ধরিয়ে দিন / নিজের ভুল হলে শুধরে নিন ।

    আর পরিচয় প্রদানের উদ্দেশে (১) নোং অংশ টা খুব একটা ভাল হয় নি । গল্পের সামগ্রিক সৌন্দর্য একটু হলেও ছিন্ন হয়েছে এখানে ।

    আবার বাঘা সম্পর্কিত দুইটা প্রচলিত গল্প – খুব একটা বিশেষ কিছু নয় – কিঞ্চিত অসম্ভব কে সম্ভব করন – এমন কিছু আমার মনে হয় নি । আর বাঘার পরবর্তী প্রচলিত কাহিনি তে বর্ণনা শেষ করেছেন পুরা ঘটনাটার কয়েকটি বাক্যতে / কিন্তু তার পরেই সংলাপ সংযজন করে বিষয়ের অনুরুপ বর্ণনা – আমার কাছে ভাল লাগে নি ব্যাপার টা ।

    আপনার আগের দুটি গল্প পড়েছি । ভাল লেখেন আপনি জানই । শুভেচ্ছা থাকল । :ফুল:

    1. ধন্যবাদ ভুল ধরিয়ে দেবার জন্য
      ধন্যবাদ ভুল ধরিয়ে দেবার জন্য । সংশোধন করা হয়েছে । এই গল্পটা আমার লেখা প্রথম গল্প । অনেক আগে লেখা । মূলত: কবিতা লিখি । হটাৎ করেই দু’টো গল্প লিখে ফেললাম । সামনের লেখায় আশা করি ভুল-ভ্রাসিন্ত কম থাকবে । :ফুল:

  2. গল্পের কাহিনী একটু এলোমেলো
    গল্পের কাহিনী একটু এলোমেলো খাপছাড়া মনে হলো। আপনার আগের দুটি গল্পের তুলনায় এটা দুর্বল হয়েছে।

        1. কি করবো ভাই! আমি প্রচেষ্টা
          কি করবো ভাই! আমি প্রচেষ্টা বলতে বুঝি একটা জিনিস করার চেষ্টা । একবার এক বিয়ের আসরে গিয়েছিলাম..হিন্দু বিয়ে । মোট ৩ দিন থাকতে হয় । রাত গিয়ে সকাল এলা, কিন্তু সকালে আর জলখাবার কিছু দেয় না । এদিকে খিদেয় পেট চো চো..যাই হোক সকাল ১১.০০টায় মুড়ি আর লাবড়া (এক ধরনের ৫ মিশালী সবজী) এল । ক্ষুধা পেঠে অমৃত…হালুম হালুম করে খাচ্ছিলাম । কিছুক্ষণ পর সমস্যা বুঝতে পারলাম । আমার বন্ধুর দিকে তাকাচ্ছি..বন্ধু আমার মুখের দিকে । বুঝতে চেষ্টা করছি ঘটনাটা কি । তখন ঐ বন্ধুও জানতে চাচ্ছিল ঘটনা কি ? আমি মৃদু হেসে উত্তর দিলাম,মনে হয় লাবড়া রান্নার প্রচেষ্টা চালিয়েছে । তাই প্রচেষ্টা বলতে আমি বুঝি কিছু করতে গিয়ে ব্যর্থ হওয়া । সুতরাং মাথা ঠোকো ।

          1. প্রচেষ্টাঃ বি
            ১. প্রয়াস,

            প্রচেষ্টাঃ বি
            ১. প্রয়াস, বিশেষ চেষ্টা
            ২. অধ্যবসায়
            ৩. প্রচুর উদ্যম
            তথ্যসূত্রঃ বাংলা একাডেমী সংক্ষিপ্ত বাংলা অভিধান, দ্বিতীয় সংস্করন (১৯৯৬) পৃষ্ঠা-৩৬২

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *