ভালো না লাগার মতই লেখা।

Image result for clitoris

রমণী অর্থ নারী হতে পারে না। কারণ, রমণী = রমণীয় যা বা রমন করে যে। নারী কি শুধুই রমণীয় বস্তু? সোজা বাংলায় যৌনবস্তু বা ভোগ্যপণ্য।
মহিলা অর্থও নারী হতে পারে না। কারণ, মহিলা = মহলে থাকে যে। নারী কি মহলে থাকার বস্তু?
‘আমাদের বাসায় একজন লোক এসেছিলো।’ স্বভাবতই বাক্যের ‘লোক’ শব্দটা দিয়ে সবার মনে হচ্ছে লোকটা কোন পুরুষ হবে। কিন্তু লোক দিয়ে নারী-পুরুষ উভয়কেই বোঝায়। ”একজন ‘লোক’ এসেছে” ব্যবহার করলে কখনোই মনে হয় না যে সে লোক নারীও হতে পারে।
‘বিবাহ’ শব্দটি অবশ্যই একটি অতিমাত্রায় পুরুষতান্ত্রিক শব্দ। ‘বিবাহ’ শব্দটির একটু ব্যাকারণিক বিশ্লেষণ করা যাক। ‘বিবাহ’ শব্দটির বিশ্লেষিত রূপ বি+বাহ। ‘বি’ ধাতু যে অর্থ প্রকাশ করে, তা হল ‘বিশেষভাবে’। অন্যদিকে ‘বাহ’ অর্থ বহন করা। সুতরাং বিবাহ হচ্ছে বিশেষভাবে বহন করা। আমাদের সমাজ ব্যবস্থায় স্ত্রীকে বহন করে স্বামী।
আসা যাক স্বামী শব্দের অর্থে। স্বামী অর্থ প্রভু/মালিক। কে কার মালিক? নিঃসন্দেহে স্ত্রীর মালিক স্বামী।
এবার পালা বউ শব্দের। বউ এর অর্থ বিয়ে বসে যে। নারীর বিয়ে করার অধিকার নেই। শাব্দিকভাবেই বাঙালিরা কতটা পুরুষতান্ত্রিক তা একটু ভেবে দেখলেই পারা যায়।
বায়োলজিক্যালি একজন নারী একজন নারীই এবং একজন পুরুষ একজন পুরুষই। এটা একটা বায়োলজিকাল সত্য। লিঙ্গ দিয়ে অধিকার নির্ধারণ করা যেতে পারে না। যদি লিঙ্গ দিয়েই অধিকার নির্ধারণ করা হয়, তো বলতেই হবে যে নারীর অধিকার বেশি হবে। পুরুষের শিশ্ন ছাড়া আর কোন সেক্স অর্গান নেই। তাও আবার সেটা দিয়েই মুত্র ত্যাগ করতে হয়। অন্যদিকে নারীর দুটো কার্যকরী স্তন, ক্লাইটোরিস এবং ভ্যাজাইনা। ভ্যাজাইনা মুত্রছিদ্র নয়। ক্লাইটোরিস এবং ভ্যাজাইনার মাঝে থাকে মুত্রছিদ্র।
এবার অবশ্যই বলবেন নারীর প্রতিমাসে মিন্সট্রুয়েশনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কারণ ইউটারাসে বাচ্চা ধারণের জন্য ডিম্বাণুর ফুটোন হয়। সেটা পুরুষের হয় না। তাই পুরুষের কষ্টও কম।
তো মশাই এটা কি পুরুষের বিশেষ কোন গুণ? নাকি সীমাবদ্ধতা? স্পার্ম ডিম্বাণুর প্রতি রাসায়নিক প্রতিক্রিয়া জাগায় মাত্র। যেটা কিনা একটা সূচের খোঁচাতেও হতে পারে। ল্যাবে এমন করে একজন বাচ্চাও জন্ম নিয়েছিলো। তো নারী চাইলেই সন্তান জন্ম দিতে পারে স্পার্ম ছাড়া। ক্লোনিং বিষয়টা ছেড়েই না হয় বললাম।
এবার আসা যাক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়ে। বরাবরই লোকে বলে থাকে নারীরা সেক্সুয়ালি ইনভেলিড। পুরুষরাই ভ্যালিড। তাদের এমন বলার কারণ হচ্ছে তারা শুধু দৃশ্যমান বিষয় নিয়ে কথা বলে। পুরুষের স্পার্ম ফল হতে দেখা যায়। এবং স্পার্ম ফল হলেই সে তুষ্ট এবং প্রায় ৪০ মিনিটের জন্য ইনভ্যালিড। কিন্তু নারীর তো স্পার্ম নেই। তাই অধিকাংশই কোনরকম স্ট্যাডি ছাড়াই মনে করে নারী ভ্যালিড নয়। কিন্তু বৈজ্ঞানিক ভাবেই প্রমাণিত যে নারীর একজন পুরুষের তুলনায় নয় গুন বেশি সেক্স হর্স জন্মায়। প্যানিটেশনের সময় ক্লাইটোরিস এবং জিস্পটের সঙ্গে অনবরত ঘর্ষণ হতে থাকলে একটা সময় তার অর্গাযম হয়। যা পুরুষের চাইতে নয় গুণ বেশি তৃপ্তিদায়ক। কিন্তু এই অর্গাযম হওয়াটা ডিপেন্ড করে পার্টানার কতটা সচেষ্ট রয়েছে তার উপর। মহা সমস্যার বিষয় পুরুষেরা এই বিষয়ে কোন জ্ঞানই রাখে না। ফলে দ্রুত স্পার্ম ফল হয়। যার কারণে নারীর অতৃপ্তি বৃদ্ধি পায়। যা কিনা স্পার্ম ফল না হওয়া একজন পুরুষের চাইতে নয় গুন বেশি কষ্ট দায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *