ন্যায়বিচার(!) বাকস্বাধীনতাকে কীভাবে আটকে দিতে পারে?

পরের কথাগুলো বলার আগে ধরে নেই, আমার ৫ জন শত্রু আছে তাদের সাথে আমার নিয়মিত ঝামেলা লেগেই থাকে, একদমই সহ্য করতে পারিনা তাদের।
এরপর কোন এক সুন্দর সকালে বা রাতে ঘুমুতে যাবার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস (ফ্রেন্ডস অনলি) দিলাম,

‘চুতিয়া তোরে আমি শেষ করে ফেলবো!’

পরদিন সকালে এক বন্ধুর ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙ্গলো সকাল ১০ টায়, বন্ধু বললো, ‘দোস্ত তোর নামেতো প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগে মামলা হইসে একটু আগে, জানিস কিছু?’



পরের কথাগুলো বলার আগে ধরে নেই, আমার ৫ জন শত্রু আছে তাদের সাথে আমার নিয়মিত ঝামেলা লেগেই থাকে, একদমই সহ্য করতে পারিনা তাদের।
এরপর কোন এক সুন্দর সকালে বা রাতে ঘুমুতে যাবার আগে ফেসবুকে স্ট্যাটাস (ফ্রেন্ডস অনলি) দিলাম,

‘চুতিয়া তোরে আমি শেষ করে ফেলবো!’

পরদিন সকালে এক বন্ধুর ফোন পেয়ে ঘুম ভাঙ্গলো সকাল ১০ টায়, বন্ধু বললো, ‘দোস্ত তোর নামেতো প্রাণনাশের হুমকি দেয়ার অভিযোগে মামলা হইসে একটু আগে, জানিস কিছু?’

আমি অবাক হয়ে বললাম, ‘না আমিতো তোর ফোন পেয়েই ঘুম থেকে উঠলাম, এখনো কিছু জানিনা, ঘটনা কি খুলে বল?’

বন্ধুটি বললো, ‘গতরাতে তোর একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস রুবেলের গার্লফ্রেন্ডের নজরে পড়ছে, তার মনে হয়েছে তুই হুমকিটা রুবেলকেই দিছিস’

ওহ, মাই মিসটেক, রুবেলের সাথে সম্পর্ক খারাপ হবার পর রুবেল আমার বন্ধু তালিকায় না থাকলেও রুবেলের গার্লফ্রেন্ড ছিলো যে আবার আমার ভাল বন্ধু।

এখন ভেবে দেখেনতো, আমি যে স্ট্যাটাসটা দিয়েছিলাম তার সাথে রুবেলের কোন সম্পর্ক আছে কিনা? আমার কাছে মনে হচ্ছে, পৃথিবীর একমাত্র চুতিয়া হিসেবে রুবেলের গার্লফ্রেন্ড রুবেলকেই মেনে নিয়েছে।

হুম, আমি ভাল করেই জানি এবং মেনে নিচ্ছি পাবলিক প্লাটফর্মে আমার ভাষা ব্যবহারে সংযত হওয়া উচিত এবং আমার উপরোক্ত স্ট্যাটাসটির কোন মূল্য নাই, যৌক্তিকতাও নাই। কিন্তু এই স্ট্যাটাস দেয়ার জন্য কী আমি সাজা বা দন্ড পেয়ে পারি?

আপনার যদি মনে হয় সাজা আমার প্রাপ্য তাহলে বাকি অংশটুকুও পড়তে থাকুন।

দিনবদলের হওয়া যেদিকে যাচ্ছে তাহলে যুদ্ধাপরাধী এবং তাদের প্রশ্রয়দানকারী শক্তির ক্ষমতায় আসা অনেকটাই নিশ্চিত। তখন আমরা শাহবাগে যেয়ে কোন আন্দোলন করতে পারবোনা, যুদ্ধাপরাধীদের শাস্তির দাবিতে করতে পারবোনা কোন মিছিল। উল্টো আপনি নিরাশ হয়ে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিলেন, ‘যুদ্ধাপরাধী এবং রাজাকারের ফাঁসি চাই’ অথবা ব্লগে বিস্তর গবেষণা করে প্রমান করলেন, মিরপুরের কসাই কাদের মোল্লার কেনো ফাঁসি হওয়া উচিত?

এইযে রাষ্ট্রযন্ত্রের (ক্ষমতার পরিবর্তন হলে রাজাকার কেউ না কেউ মন্ত্রী হবে) বিরুদ্ধে সরাসরি অবস্থান নিলেন, তখন অবশ্যই আমাকে বা আপনাকে চুমু দেয়া হবেনা। মামলা করা হবে, পুলিশি ওয়ারেন্টে গ্রেফতার করা হবে এবং অতি দ্রুত বিচার শেষ করে একটা ১০ বছরের জেল এবং দুই লক্ষ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের জেলের একটা শাস্তি ঘোষণা করা হবে।

আপনি কি সেই দিনের অপেক্ষায় আছেন? নাকি আপনি আপনার যৌক্তিক বাকস্বাধীনতা চান?

যাই হোক, এবার বর্তমানে ফিরে আসি। সব পত্রিকায় সংবাদ পেলাম, মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীকে ফেসবুকে মৃত্যু হুমকি দেয়ার অভিযোগে বুয়েট শিক্ষক হাফিজ রানাকে মহামান্য আদালত ৭ বছরের কারাবাসের দন্ড ঘোষণা করেছেন।

আসুন দেখে আসি কি ছিলো সেই ফেসবুক স্ট্যাটাসে (হুমকিতে):

‘হায়েনা ওই হায়েনা তুই দেশকে খেয়েছিস, এখন বুয়েটকে খাবি….. পারবি না। প্রথমে তোর মাথায় গুলি করব, পরে পেটে। তারপর মাথা কেটে বুয়েটের সামনে টাঙ্গিয়ে রাখব। যাতে আর কোনো হায়েনার আক্রমণে বুয়েট আক্রান্ত না হয়।‘

এ ফেসবুক স্ট্যাটাস দেখে জনৈক এ বি সিদ্দিক (ভুঁইফোড় সংগঠন বাংলাদেশ জননেত্রী পরিষদের সভাপতি) সাহেবের মনে হয়েছে, এই স্ট্যাটাসটি প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে দেয়া।

চিন্তা করে দেখেন, হাফিজ রানা প্রধানমন্ত্রীকে হায়েনা বলেছে নাকি এ বি সিদ্দিক সাহেব মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীকে হায়েনা হিসেবে মেনে নিয়েছেন? হাফিজ রানার ফেসবুক স্ট্যাটাস অর্থহীন, এজন্য সে তিরস্কার পেতে পারে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীকে হায়েনার সাথে তুলনা করার জন্য এবং জাতির কাছে এটাকে উপস্থাপন করার জন্য এবি সিদ্দিক সাহেব কি দায়ী নন?

রানাকে ডিফেন্ড করতে চাচ্ছিনা, চাইনা। কিন্তু রানা কি ন্যায় বিচার পেয়েছ বলে মনে করেন?

যদি মনে করেন রানা ন্যায় বিচার পেয়েছে, তাহলে আমার এবং আপনার জন্য কিছুদিন পরেই এমন ন্যায় বিচার নিয়ে হাজির হবে রাষ্ট্রযন্ত্র। সেদিনের অপেক্ষায় থাকেন।

আর যদি মনে করেন, রানা ন্যায় বিচার পায়নি, তার সাথে অন্যায় করা হয়েছে, তাহলে আওয়াজ তুলুন। সে ব্লগার কিনা আমি জানিনা, কিন্তু একজন নাগরিক ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করতেই পারে। লঘু পাপে গুরুদন্ড কেনো? এমনকি এটা স্পেসিফিক কোন পাপ ও না, স্পেসিফিক কারো প্রতি হুমকিও দেয়নি সে।

১৯ thoughts on “ন্যায়বিচার(!) বাকস্বাধীনতাকে কীভাবে আটকে দিতে পারে?

  1. আচরণ সংযত করা উচিত ছিল মানি
    আচরণ সংযত করা উচিত ছিল মানি ।কিন্তু সাধারণ একটা স্ট্যাটাসের জন্য সাত বছর জেল কেন তা আমার বোধগম্য নয়

    1. আমারও বোধগম্য নয়, এমন চলতে
      আমারও বোধগম্য নয়, এমন চলতে থাকলে কদিন পর গোলাম আজমকে রাজাকার, খুনি বলার অপরাধে আমাকেও জেলে ঠেলে দেয়া হতে পারে।

      1. একজন খুনির বিচার চাওয়া আর
        একজন খুনির বিচার চাওয়া আর অযথায় বিদ্বেষ ছড়ানো এক হবে না!
        আমাদের অহিংস আন্দোলন করতে হবে আর একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের কাছে কখনই এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য আশা করা যায় না…
        আমি মনে করি দৃষ্টান্ত স্থাপনের জন্যে হলেও কিছু একটা করার দরকার ছিল!!
        একমাত্র অযোগ্য আর সাম্প্রদায়িকেরাই এমন সহিংস কথা বলতে পারে……

  2. কোন সমালোচনায় সহিংস হওয়া উচিৎ
    কোন সমালোচনায় সহিংস হওয়া উচিৎ না…
    অথচ আমরা এতই প্রতিশোধপরায়ণ যে খালি প্রতিশোধ নেয়ার জন্যে ভালকেও কুরবানি দেয়!
    আমি মনে করি ফেসবুকে কারই এমন স্ট্যাটাস সুস্থ আচারন নয়!
    “হায়েনা ওই হায়েনা তুই দেশকে খেয়েছিস, এখন বুয়েটকে খাবি….. পারবি না। প্রথমে তোর মাথায় গুলি করব, পরে পেটে। তারপর মাথা কেটে বুয়েটের সামনে টাঙ্গিয়ে রাখব। যাতে আর কোনো হায়েনার আক্রমণে বুয়েট আক্রান্ত না হয়।”

    এই লাইনটি কি কোন বুয়েট শিক্ষক হিসেবে মানসম্মত বা দায়িত্বশীল কিছু ছিল?
    একজন শিক্ষক যখন এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন পোস্ট দিবে তখন বাকিদের কি হবে? অশিক্ষিতদের কথা বাদই দিলাম…
    অথচ একটা সুন্দর কাব্যিক লাইন অন্যায়কারীদের ভীত কাঁপিয়ে দিতে পারে,
    তবে কেন আমরা এমন সহিংস আচরন করব বাস্তবে(সংসদে বা রাজপথে) বা অবাস্তবে(সোশ্যাল মিডিয়া বা ব্লগে)?

    1. দ্বায়িত্বজ্ঞানহীনই ছিলো, তাই
      দ্বায়িত্বজ্ঞানহীনই ছিলো, তাই বলে শুধু স্ট্যাটাসের জন্য, সাত বছর?

      গরু ছাগলের দেশে বসবাস।

      1. আমি মনে করি যে দেশের মানুষ
        আমি মনে করি যে দেশের মানুষ রাজীব-কে পিছন থেকে জবাই করে দিলে সে নাস্তিক বলে বাহাবা দেয় সে দেশে এমন কিছু অপ্রত্যাশিত নয়!!
        বরং কুপায় মারলেও অবাক হত না পাবলিক…
        ৭ বছর কেন? ১ বছর পরইতো সে বড় পদ পেয়ে যাবে… 🙁

  3. স্ট্যাটাসের লাইগা ৭ বছরের
    স্ট্যাটাসের লাইগা ৭ বছরের জেইল !!!!!! জাউকগা !! ভাবতাছি স্ট্যাটাস দেওন বন্ধ কইরা দিমু । :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা: :কথাইবলমুনা:

    1. ব্যাক্তিকে আক্রমণ না করে
      ব্যাক্তিকে আক্রমণ না করে আদর্শ আর বিবেকবোধ কে আঘাত করে কিছু লিখলে কখনই সমস্যায় পরার কথা না!! ঐ কথিত বুয়েট শিক্ষকের স্ট্যাটাস তার দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয় বহন করে!! আর সরকারের প্রতিহিংসাপরায়ণ রায় সরকারের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচায়ক… কি সুন্দর ভারসাম্য রক্ষা নীতি এই জাতির!! মজা পাইলাম…

      1. হুম । এভাবে ভারসাম্য রক্ষার
        হুম । এভাবে ভারসাম্য রক্ষার নীতি কার্যকর থাকলে জাতি এক পা এগুতে পারবে কি !!!!!!!!!!
        তার সাথে অন্যান্য ইস্যু তো থাকল !!!

  4. ৭ বছর বড্ড বেশি হয়ে গেল,
    ৭ বছর বড্ড বেশি হয়ে গেল, এদেশে সংসদে দাঁড়িয়ে প্রকাশ্যে গোটা একটা ধর্মকে নিয়ে কটাক্ষ করা হলে ২ পয়সার শাস্তিও দেয়া হয়না…কিন্তু লোকটার রাজনৈতিক পাওয়ার নেই বলে এমনটা করা হল। মেনে নিতে পারলাম না।

  5. সোস্যাল মিডিয়ার ব্যবহারের
    সোস্যাল মিডিয়ার ব্যবহারের এটিকেট আমরা এখনও শিখিনি। তাই বুয়েটের একজন শিক্ষক এমন সহিংস লেখা লিখতে পারেন। কিন্তু ৭ বছরের কারাদণ্ড মেনে নেওয়া যায় না। খুব বেশী হলে উনাকে আদালতে তলব করে ভুল স্বীকার করিয়ে ছেঁড়ে দেওয়া যেতো। আর এবি সিদ্দিকির মতো চামচাদের কদর যতদিন রাজনীতিতে থাকবে ততদিন আমাদের দুর্ভোগ কাটবে না। প্রধানমন্ত্রীর উচিৎ এসবের ব্যাপারে স্ব-উদ্যোগে ব্যবস্থা নেওয়া। এতে করে উনার প্রতি জনগণের আস্থা বাড়বে।

  6. ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাতের করা
    ২০০৬ সালে বিএনপি-জামাতের করা আইনটা আরেকবার স্মরণ করিঃ
    তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন, ২০০৬ ( ২০০৬ সনের ৩৯ নং আইন ) [৮ অক্টোবর ২০০৬]
    অষ্টম অধ্যায়ঃ অপরাধ, তদন্ত, বিচার, দন্ড ইত্যাদি
    অনুচ্ছেদ ৫৭: ইলেক্ট্রনিক ফরমে মিথ্যা, অশ্লীল অথবা মানহানিকর তথ্য প্রকাশ সংক্রান্ত অপরাধ ও উহার দণ্ড-

    (১) কোন ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েব সাইটে বা অন্য কোন ইলেক্ট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যাহা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেহ পড়িলে, দেখিলে বা শুনিলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হইতে উদ্বুদ্ধ হইতে পারেন অথবা যাহার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইন শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করিতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোন ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উস্কানী প্রদান করা হয়, তাহা ইহলে তাহার এই কার্য হইবে একটি অপরাধ।
    (২) কোন ব্যক্তি উপ-ধারা (১) এর অধীন অপরাধ করিলে তিনি অনধিক দশ বত্সর কারাদণ্ডে এবং অনধিক এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডিত হইবেন ।

    এই আইনটি তারা করেছিল রাজীব-আসিফদের বিরুদ্ধে ব্যাবহার করার জন্যে! ক্ষমতায় নেই বলে তাদের কুপিয়ে মেরেছে ক্ষমতায় এলে আমাদের কাউকেই ছারবে না!!
    আমি চাই সরকার অতিসত্বর এর একটা বিহিত করবে…

  7. বুয়েট শিক্ষক যা করেছে সেটা
    বুয়েট শিক্ষক যা করেছে সেটা সভ্য কোন কাজ না। বাই দ্যা ওয়ে, সে কিন্তু ওই ফেসবুক স্ট্যাটাস কয়েক ঘন্টা পর মুছে দিয়ে সবার কাছে সৃষ্ট ভুল বুঝাবুঝির জন্য ক্ষমা চেয়েছিল। এবং আদালতেই সে বলেছে যে ওই স্ট্যাটাস প্রধানমন্ত্রী বা অন্য কোন মানুষকে উদ্দেশ্য করে দেয়া না।

    আরেকটা কথা, মাননীয়া প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি হত্যার হুমকি দিয়েও রাজশাহীর জামায়াত নেতার কিন্তু কিছুই হয়নি।

    দুটো ইস্যু কম্পেয়ার করেন, তাহলে বুঝবেন মখা কেন ইসলামী ব্যান্ক উদ্বোদন করে আর সালমান রহমান কেন সাকার সাফাই গেয়ে সাক্ষ্য দেয়।
    http://www.banglanews24.com/detailsnews.php?nssl=714d16fd3366d3ea56d2e81a3d7ea39f&nttl=2011102009323764150

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *