সংরক্ষিত আসন বনাম নারী…

বি,আর,টি,সির দোতলা বাসে উঠেছি কাকরাইল থেকে। গন্তব্য উত্তরা। বাসে গাঁদাগাদি ভিড়। আমার ঠিক পেছন পেছন উঠলো এক মহিলা। দোতলা বাসে ১০টি সিট সংরক্ষিত থাকে। উনি দেখলেন সংরক্ষিত সিটগুলোর মাত্র একটিতে আরেকজন মহিলা বসা, বাকি সবগুলো পুরুষদের দখলে। ওনাকে দেখেও কেউ সিট ছেড়ে দিতে আগ্রহ দেখালো না। বাধ্য হয়ে উনি কন্ট্রাক্টরকে বলল- মহিলা সিট খালি করে দিতে। কন্ট্রাক্টর বলা সত্যেও কেউ উঠে দাঁড়াতে রাজি নয়! শুরু হলো যাত্রি কন্ট্রাক্টরের মাঝে বাক-বিতর্কতা…


বি,আর,টি,সির দোতলা বাসে উঠেছি কাকরাইল থেকে। গন্তব্য উত্তরা। বাসে গাঁদাগাদি ভিড়। আমার ঠিক পেছন পেছন উঠলো এক মহিলা। দোতলা বাসে ১০টি সিট সংরক্ষিত থাকে। উনি দেখলেন সংরক্ষিত সিটগুলোর মাত্র একটিতে আরেকজন মহিলা বসা, বাকি সবগুলো পুরুষদের দখলে। ওনাকে দেখেও কেউ সিট ছেড়ে দিতে আগ্রহ দেখালো না। বাধ্য হয়ে উনি কন্ট্রাক্টরকে বলল- মহিলা সিট খালি করে দিতে। কন্ট্রাক্টর বলা সত্যেও কেউ উঠে দাঁড়াতে রাজি নয়! শুরু হলো যাত্রি কন্ট্রাক্টরের মাঝে বাক-বিতর্কতা…

আমি সাধারণতঃ বাস বা পাবলিক প্লেসের কোন উত্তপ্ত আলোচনায় অংশগ্রহণ করি না। আজকে কিভাবে যেন জড়িয়ে পড়লাম। তৃতীয় এক ব্যক্তি যখন বলল- কেন সিট ছাড়বে? বাসে পুরুষ উঠলে কি মহিলারা সিট ছেড়ে দেয়? ওরা না সমঅধিকার বলে গলা ফাটায়!
আমি বলতে বাধ্য হলাম- আপনি কি আশা করেন যে একজন মহিলা আপনাকে সিট ছেড়ে দেবে? সেটা কি আপনার জন্য খুব সম্মানের হতো?
– না, সেটা না। কিন্তু পুরুষরা মহিলা দেখলে বেশির ভাগ সময়ই দাঁড়িয়ে সিট ছেড়ে দেয়। কিন্তু আপনি দেখেন, এমন অনেক মহিলা আছে যারা সিট খালি থাকলেও আরেকজন পুরুষকে বলে না- ভাই আমার পাশের সিটে বসেন, অসুবিধা নাই…
আমি বললামঃ সেটা হয়তো ঠিক। সবার বিবেক বিবেচনা এক রকম না। কিন্তু তাই বলে ঐরকম ২/১জনের জন্য সব মহিলার প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করা কি বিবেচকের কাজ হবে?
উনি বললেনঃ ভাইরে, আপনি একটু খেয়াল কইরেন এখন থেকে। আমি বললাম- বেশির ভাগ মহিলাই এইরকম করে। ওনারা আগে ঠিক না হলে আমরা ঠিক হয়ে লাভ কি?
আমি নরম স্বরে বললামঃ ভাই, আপনার কথা অস্বীকার করছি না। ওনারা ঠিক হলে আমরা ঠিক হব- এটা কোন যুক্তি না। এখনও অনেক পুরুষ দিব্যি মহিলাদের দাঁড় করিয়ে রেখে সংরক্ষিত আসনে বসে থাকে। এটা আগে ঠিক করা দরকার… নিজে না বদলে অন্যকে বদলানো যায় না! আজ থেকে আপনি আমি মহিলাদের মা বোন ভাবা শুরু করি, দেখবেন কাল ওনারাও আমাদের বাপ-ভাই ভাবা শুরু করেছে! পারস্পারিক সম্মানবোধ বাড়লে সমাজে এতো রেষারেষিই থাকবে না…
– কিন্তু আর কবে? বুঝতে বুঝতে তো জিন্দেগী পার হয়ে যাবে…
– যাক না! তবু যদি ঠিক হয়- খারাপ কি? আমি আপনি না পাই, আমার ছেলে আর আপনার মেয়ের মধ্যে পারস্পারিক সম্মানবোধ তৈরি হলেও তো লাভ!
ভদ্রলোক মাথা নাড়তে নাড়তে বললেনঃ ভাই, নিজে একা বদলালে কী লাভ! সবাই যদি না বদলায়? বড় বড় কথা তো সবাই বলে…
আমি বললামঃ আমি একা বদলালেও তো অন্তত সমাজের একজন বদলালো! আমি নিজেও তো সমাজের বাইরে না, তাই না?

১৮ thoughts on “সংরক্ষিত আসন বনাম নারী…

    1. তাড়াহুড়ো কমিয়ে ফেলেছি তো! ২টা
      তাড়াহুড়ো কমিয়ে ফেলেছি তো! ২টা পর্যন্ত জায়েজ আছে শুনলাম… ৩টা হইলে না প্রবলেম!
      😛

      একটা গল্প দেয়ার পর মনে হলো- এই লেখাটা শেয়ার করা দরকার… এই আরকি!

      1. “আমাদেরকে” নয়, আমি “আমাকে” তে

        “আমাদেরকে” নয়, আমি “আমাকে” তে বিশ্বাসী…

        সফিক ভাই চমৎকার বলেছেন তো । খুব ভাল লাগল কথাটা :থাম্বসআপ:

  1. আপনার ভাবনা গুলো ভালো লাগল।
    আপনার ভাবনা গুলো ভালো লাগল। পরিবর্তনের শুরু হোক “নিজেকে” দিয়েই। আমরা আসলে সবসময় এভাবে চিন্তা করি- আমি একা বদলে লাভ কি? অন্যেরা বদলাক, আমিও বদলাবো। আর এইজন্যই কারোই আর বদলানো হয় না। প্রথম আলোর মতো শুধু স্লোগানেই সীমাবদ্ধ থাকে বদলানোর চিন্তা।

    1. আমি বদলে যেতে চাই না। আমি
      :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

      আমি বদলে যেতে চাই না। আমি ভালো হতে এবং থাকতে চাই…

      “আমরা যদি না জাগি মা
      ক্যামনে সকাল হবে?
      তোমার ছেলে জাগলে পরে
      রাত পোহাবে তবে।”

      বড্ড ছোট বেলায় পড়ে ফেলেছি কবিতাটা। ঐটা আসলে গ্র্যাজুয়েশন লেভেলে পড়া উচিৎ ছিল…

  2. নিজেকে দিয়েই শুরু হয় সকল
    নিজেকে দিয়েই শুরু হয় সকল কিছু। এটাই উত্তম অন্যের আসায় থাকলে কিছুই হবে না।

    এই মহিলাদের সিট নিয়ে আমার লিখা দুইটা পোস্ট আছে এখানে পরে দেখবেন

  3. ভাল লাগল। আপনার তো নারীবাদ
    ভাল লাগল। আপনার তো নারীবাদ নিয়ে যথেষ্ট পোস্ট আছে তবু নারীবিদ্বেষী ট্যাগ খেতে হচ্ছে?

  4. দর্শন বিশ্বাস করে- জগতের সব
    দর্শন বিশ্বাস করে- জগতের সব মানুষই আসলে ভালো।
    কিন্তু বেশিরভাগ মানুষই তা প্রকাশ করতে পারে না বলেই আমাদের ধারণা সবাই খারাপ!

    সবই কপাল রে ভাই! নইলে আমাকে নারী বিদ্বেষী ট্যাগ দিবে কেন… 🙁

    1. না কপাল না। প্রকাশ করতে না
      না কপাল না। প্রকাশ করতে না পারাটাই সমস্যা। আপনার পোস্টগুলোর মন্তব্য পড়লে তখন আর নারীবিদ্বাষী মনে হয় না। কিন্তু পোস্টগুলোতে একটু ঘাটতি থাকে।

  5. আসলে আমি নারীকে আলাদা ভাবে
    আসলে আমি নারীকে আলাদা ভাবে কোন অধিকার দিতে চাই না।
    আমি শুধু বলতে চাই নারী পুরুষ সবাই মানুষ।
    আর প্রত্যেকটা মানুষ সম্মান পাবার অধিকার রাখে…
    তবে স্থান কাল পাত্রই ঠিক করে দেবে সম্মানের স্বরূপটা কী হবে…
    এজন্য বিবেক বোধটাই আসল… 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *