উশষী আসবে

ঘুম ভাঙলো চোখের কোনায় পানির ঝাপটা খেয়ে । সাথে একটা আদুরে ধমক এবং একটা ছোট্ট চড় । ঘুমের মধ্যেও এক চিলতে হাসি ফুঠে উঠল রুদ্র এর মুখে ।
আধ ঘুমন্ত অবস্থায় সোজা ছাদ এ দৌড় দিল রুদ্র । ৮ টা বেজে গেছে । উশষী এখন কলেজে যাবে । রুদ্র অপলক তাকিয়ে থাকবে । যাত্রা পথের দিকে একটু চেয়ে থাকা , একটুকরো মলিন হাসি উপহার দেওয়া – চোখের আবেগে একটু ভালবাসা। রাস্তার মোড় টা পার হবে ততোক্ষণ তাকিয়ে থাকবে রুদ্র । প্রতিনিয়ত হচ্ছে এমন ।

ঘুম ভাঙলো চোখের কোনায় পানির ঝাপটা খেয়ে । সাথে একটা আদুরে ধমক এবং একটা ছোট্ট চড় । ঘুমের মধ্যেও এক চিলতে হাসি ফুঠে উঠল রুদ্র এর মুখে ।
আধ ঘুমন্ত অবস্থায় সোজা ছাদ এ দৌড় দিল রুদ্র । ৮ টা বেজে গেছে । উশষী এখন কলেজে যাবে । রুদ্র অপলক তাকিয়ে থাকবে । যাত্রা পথের দিকে একটু চেয়ে থাকা , একটুকরো মলিন হাসি উপহার দেওয়া – চোখের আবেগে একটু ভালবাসা। রাস্তার মোড় টা পার হবে ততোক্ষণ তাকিয়ে থাকবে রুদ্র । প্রতিনিয়ত হচ্ছে এমন ।
রুদ্র মায়ের হাতে সকালের নাস্তা খেয়ে বেরিয়ে পড়ল , গন্তব্য ভার্সিটি । আজ ৯.৩০ এ ক্লাস আছে ওর ।
ক্লাস শেষ করে রুদ্র , সৌমো , নীল , আনিশা , জয়ি একসাথে আড্ডা দিবে । প্রতিদিনকার মত রুদ্র ওর গিটার এ নানান সুরের মূর্ছনায় বিমোহিত করবে ওর শ্রোতাদের । গান চলবে । হয়ত বৃষ্টি হবে । বৃষ্টির প্রতি ফোটার আওয়াজ এর সাথে গিটার আর রুদ্রর কণ্ঠের অমলিন সুরের মুর্ছনা এক হয়ে যাবে ।
গরম গরম সিঙ্গাড়া আর চা দিয়ে যাবে পিচ্চি (ওর সঠিক নাম কেও জানে না,জানতে চাইলে বলে ”ভাইজান/আফামনি আপ্নাগর যেইডা খুশি ডাইকেন , তাই পিচ্চি বলেই ডাকে সবাই) । রুদ্র ওর একটা নাম দিয়েছে মেঘ । কিন্তু এই নাম ধরে ডাকলেই পিচ্চি খেক খেক করে হাসে । রুদ্র রাগ করে নাহ । শুধু ওর নিস্পাপ ছোট্ট মুখের হাসি দেখে । আজকাল নিস্পাপ হাসি কমে যাচ্ছে । মানুষ প্রয়োজন ব্যতিরেক হাসতে ভুলে গেছে ।
চায়ের কাপ এ চুমুক দিল রুদ্র । আবার গান , একটু খুনসুটি , কিছু অর্থহীন আলাপ । সময় কেটে যাবে স্রোতের মত । বৃষ্টি হবে , আড্ডা হবে , গল্প হবে , গান হবে , একটু হাসি । জীবনটা মন্দ নয় ।

*******
ক্লান্ত দুপুর । রুদ্র হাঁটছে । রাস্তাটা ফাকা, কেমন যেন ভৌতিক লাগছে , কারনটা রুদ্র নিজেও জানে না। বৃষ্টি অনেকক্ষণ হল থেমে গেছে । মেঘের আড়াল থেকে সূর্য উকি দিচ্ছে । উশষীর কলেজ টা আর একটু সামনে । রুদ্র পথের ধারে বসে পড়ল ।ঘড়ি দেখল , ছুটি হতে এখনো ১৫ মিনিট । পকেট থেকে একটা সিগারেট ধরাল ।
পুরানো কিছু স্মৃতি উকি দিচ্ছে প্রতি এক টান ধোঁয়ার নিঃসঙ্গতায় ।

প্রায় ৩ বছর আগের কথা । রুদ্র উশষীকে প্রথম দেখেছিল ছাদ এ ভিজতে । রুদ্র সেদিন তার জানালার গ্রিল এর মাঝে মুখ লুকিয়ে বাইরের বৃষ্টি পড়ার ছন্নছাড়া দৃশ্য দেখছিল । সহসা ওর দৃষ্টি চলে গেছিলো কিছুদূর এর একটি ছাদ এ । ক্ষণিকের স্তব্দতা , মস্তিস্কের সেল গুলা সেদিন উত্তেজিত হয়ে গেছিল হটাৎ করে।
সেদিন থেকেই রুদ্র ভালবাসে উশষীকে । প্রথম সেই দেখা , যদিও অস্পষ্ট , তবুও ভালবেসে ফেলেছিল রুদ্র ।রোজ রাস্তায় দাড়িয়ে থাকতো রুদ্র একপলক দেখবে বলে ।

মুখ ফুটে কিছুই বলতে পারত নাহ । নিজের ভালবাসার কথাটা বলেছিল একদিন। উত্তর – নাহ!! । রুদ্র সেদিন কাদে নি । শুধু নীরবে বসে অশ্রু বিসর্জন দিয়েছিল ।
এটাকে কান্না বলে নাহ এটাকে বলে হৃদয় ভাঙ্গনের রক্ত বিসর্জন । অশ্রু শেষ হল । কিন্তু ভালবাসা !! এটা কিভাবে শেষ করবে রুদ্র । জানে নাহ ও । প্রতিটা দিন রুদ্র ঠিক আগের মত কখনো ছাদ এ কখনো রাস্তার মোড় এ দাড়িয়ে থাকতো রুদ্র । একটি পলক উশষীকে দেখবে বলে । রুদ্র কখনোই নিজে থেকে ওর সাথে কথা বলে নাহ । শুধু একপলক দেখেই ওর দিন টা ভাল কাটত । ভালবাসা প্রকাশ করতে মানুষ নিজের অজান্তেই অনেক কিছু করে । রুদ্রও তার ব্যতিক্রম নয় । উশষীর
বাবা মা চাকুরীজীবী । সে জন্য তারা বাসায় না থাকলে , রুদ্র প্রতিনিয়ত একতোড়া গোলাপ নিয়ে তার সাথে একটা ছোট্ট কাগজে উশষীর জন্য কবিতা লিখে সেটা উশষীর দরজার সামনে নক করে রেখে চলে আসত । প্রতিটি বৃষ্টির দিন এ রুদ্র নিজদের ছাদ এ যেয়ে একা একা ভিজতো আর একটা অব্যক্ত কামনা নিয়ে তাকিয়ে থাকতো কিছু দুরের ঐ ছাদের পানে । একটাই আশা যদি ও আসে !!

”ঐ মিয়া নেশা করছেন নাকি !! ফুটপাত এ বইসা ঝিমাইতাছেন ক্যা? সাইড এ খাঁড়ান । মাল আইতাছে আমার” । ভাবনার জগতে ছেদ পড়ল রুদ্রর । ঘড়ির দিকে তাকালো সময় হয়েছে , উশষী আসবে এখনই ।
********
” এই উশষী আর কত ঘুমাবি , তোর কলেজের সময় হয়ে এলো তো !!” – মা এর চিৎকার এ ঘুম ভাঙল উশষীর । তবুও ঘুম এর ভান করে শুয়ে থাকল সে। কারন ও জানে মা এখন এসে ওর কপাল এ ছোট্ট একটা চুমু খেয়ে ওর কপাল এ হাত বুলিয়ে বলবে – ” আমার লক্ষ্মী মামনি এখন উঠে পড় , সোনা মা আমার , তোর ব্রেকফাস্ট রেডি ” । উশষী তবুও ঘুমের ভাণ করে শুয়ে থাকবে । সে জানে এখন বাবা আসবে । ঠিক একই ভাবে কপাল এ হাত বুলিয়ে বলবে ,”আমার রাজকন্যা টা কি এবার ঊঠবে , তার বাবা যে তার জন্য অপেক্ষা করছে !!!আমার মামনি টা কি এখনো ঘুম এর ভান ধরে শুয়ে শুয়ে বাবার আদর চায়? ” উশষী চোখ খুলেই বাবাকে জড়িয়ে ধরবে । প্রতিনিয়ত এমনি করে ঘুম ভাঙ্গে উশষীর ।
মায়ের হাতে ব্রেকফাস্ট খেয়ে বের হল উশষী , গন্তব্য কলেজ ।
রুদ্র এর বাড়ির সামনে এসে উশষীর বুক টা কেমন যেন ব্যথায় ভরে উঠল । ও জানে রুদ্র ওর দিকে তাকিয়ে আছে । ঠিক সামনের মোড় পর্যন্ত যাওয়ার আগ পর্যন্ত রুদ্র ওর দিকে অপলক তাকিয়ে থাকবে । উশষী কাঁদছে । নীরবে !!!! অশ্রু শেষ । তবু ও কাঁদছে ।
যেদিন ও রুদ্রর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিল সেদিনও কেদেছিল অনেক।.

সেদিন কান্নার সাথে জ্বল ছিল , আজ জল নেই , তবু কষ্ট আছে । পরিমান অপেক্ষাকৃত অনেক বেশি ।
রিকশা না পেয়ে হাঁটতে থাকে উশষী । কাল রাত এর কথা ভাবছে ও ।

কাল রাতে গত ৩ বছর এ রুদ্রের রেখে যাওয়া ফুলের তোড়া গুলা ওর স্টোর রুম এ সাজিয়ে রেখেছে সুন্দর করে । আগে অগুলা অগোছালো ছিল । কাল রুদ্রের প্রত্যেকটি কবিতা ও একসাথে করেছে । গুনে দেখেছে উশষী প্রায় ৫০০ টি খাম । অবিশ্বাস্য লাগছিলো উশষীর কাছে । কিন্তু রুদ্র কি জানে উশষীও ওকে পাগলের মত ভালবাসে !!! প্রতি রাত এ ওর কথা ভেবে কাদে । নাহ জানে না রুদ্র । জানতে দেই নি উশষী । জানিয়ে কি হবে। এতটাই অপারগ উশষী!!!
উশষীর প্রতিটা রাত কাটে কিছু প্রশ্নের ভিড়ে । ও প্রশ্ন করে আকাশ কে , ও প্রশ্ন করে নিজের সত্তাকে , বৃষ্টির প্রতিটি ফোটার রেখে যাওয়া স্পন্দন কে , ও প্রশ্ন করে নিজের কল্পকে ।বৃষ্টি হলেও এখন উশষী ছাদ এ যায় না। কারন ও জানে রুদ্র ওর জন্য ছাদ এ দাড়িয়ে ভিজছে ।

”আপা যাইবেন নি? ” সহসা বাস্তবে ফিরে আসলো উশষী । সামনে তাকালো ও । কলেজ এ চলে এসেছে প্রায় । ”থাক চাচা যাব না , আপনি যান”

ক্লাস এ বসে আছে উশষী । ও জানে ক্লাস শেষ করে বাইরে বের হয়ে দেখবে রুদ্র বসে আছে ওর জন্য , ওকে এক পলক দেখবে বলে ।
এই ”উশষী” আজ টিফিন এ ফুস্কা খাওয়াবি তুই? ঠিক আছে ?” -তিথি হটাত বলে উঠল । উশষী মৃদু এক চিলতে হাসি দিয়ে বলল ”ওকে” ।

তিন বান্ধবি ঊষা , তিথি আর উশষী গল্প করছে । ”এই উশষী একটা গান ধর না দোস্ত , তোর গান অনেকদিন হল শুনি নাহ!!’ উশষী গান গাইছে , সুর ছড়িয়ে পড়ছে পুরা কলেজ ক্যাম্পাস এ , ঊষা আর তিথি গলা মেলাচ্ছে । গান হচ্ছে ,মূর্ছনা জেগেছে । গান থেমে যাচ্ছে !!! গান বন্ধ হয়ে গেল সহসা !!
একটা চিৎকার কান্নার শোরগোল – একটাই নাম ”এই উশষী !!! উশষী !!!” (৪ বছর এর পুষে রাখা ব্রেন টিউমার এর আকস্মিক ছোবলের শিকার উশষী )
কান্নার রোল বাড়ছে । মানুষের শোরগোল । তিথি ঊষার মিলিত ক্রন্দন । আর একটি নাম উশষী !!!

*********
রুদ্র বসে আছে । কলেজ ছুটি হবে। উশষী আসবে । রুদ্র অপেক্ষা করছে । উশষী আসবে । !!!

১৪ thoughts on “উশষী আসবে

  1. শুরুটা খুব ভালো লাগছিল। গল্পে
    শুরুটা খুব ভালো লাগছিল। গল্পে বেশ একটা জমজমাট ভাব ছিল। শেষ দিকে এসে কেমন যেন গতানুগতিক হয়ে গেলো। লেখা চালিয়ে যান। বানানে দারুন উন্নতি হয়েছে। “ই” এবং “য়” সংক্রান্ত ভুল অনেকটাই কেটে গেছে। দেখলেন তো, সমালোচনা মানুষকে কিভাবে আরও উন্নত করে?

    1. হুম । কথা ঠিকই বলেছেন । আপনার
      হুম । কথা ঠিকই বলেছেন । আপনার সমালোচনার জন্যই এই উন্নতি আমার । ধন্যবাদ আতিক ভাই । :ফুল:

  2. আমি আমার গল্প সহ রুদ্র নিয়ে
    আমি আমার গল্প সহ রুদ্র নিয়ে বেশ কয়েকটা গল্প পড়লাম এই ব্লগে। ইস্টিশন রুদ্রময়। :নৃত্য:

  3. অসাধারণ লাগল। তবে ব্রেইন
    অসাধারণ লাগল। তবে ব্রেইন টিউমারের কথাটা ব্রাকেটে না দিয়ে গল্পের মধ্যে ঢুকিয়ে দিলে ভাল হত।

    আর

    এটাকে কান্না বলে নাহ এটাকে বলে হৃদয় ভাঙ্গনের রক্ত বিসর্জন ।

    অসাধারণ…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *