কাউকে অপদস্ত না করে, মূল্যায়ন করুন জয় আসবেই।

জয় বাংলা বলতে যদি আপনার কোন প্রকার আপত্তি থাকে তাহলে আমার লেখাটা পড়ার কোন রকম অধিকারই আপনি সংরক্ষন করেন না। আর যেহেতু অধিকার নেই সেহেতু দয়া করে আপনি আমার লেখাটি পড়বেন না। আমরা রাজাকারের বিচার চেয়েছিলাম। ৪২ বছরের বাংলাদেশে রাজাকাররা যে সুযোগ সুবিধা পেয়েছে তা মুক্তিযোদ্ধারাও পায় নি। আমাদের হৃদয়ে এটা নিয়ে অনেক অনেক ক্ষোভ জমা হয়ে আছে। আর এটাকে পুঁজি করে আওয়ামিলীগ জনগণের সামনে মূলা ঝুলিয়েছে, বলেছে তারা যুদ্ধাপরাধীর বিচার করবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে আমরা সাধারণরা খেতে না পারলেও কখনো কোনভাবে আবেদন করিনি যে আপনার নির্বাচনী ইশতেহারে আপনি অনেক কিছু দিবেন বলেছিলেন কিন্তু আমরা কিছু পাই নি, এমনকি খেতেও পারছি না। শুধু চেয়েছিলাম যুদ্ধাপরাধীর বিচার। যাক অনেক ঢাক-ঢোল বাজিয়ে শুরু করলেন বিচার। ফাঁসির রায় দিলেন বাচ্চু রাজাকারের। যে কিনা দেশেও নেই। কিন্তু কাদেরের রায়টা আঁতাতের করলেন, দিলেন যাবৎ জীবন জেল, বানালেন মালি। ও হ্যা আঁতাত শব্দটা ব্যবহার করায় আপনার আঁতে লাগেছে নিশ্চয়। যাই হোক, কথাটা আসলে এভাবে বলতাম না। বলার কারণ হলো, আমাদের জাতির পিতার মানে প্রধানমন্ত্রীর নিজের পিতার বিচার করলেন, বিদেশ থেকে ধরে এনে তাদের ফাঁসিতে ঝুলালেন অথচ তাহের হত্যার আসামী রাষ্ট্রপতি প্রদত্ত বিশেষ মুক্তি পায়, শত শত বাঙ্গালী হত্যার দায় প্রাপ্ত আসামী কাদের মোল্লা ফাঁসি পায় না। “হায়রে দুখ, কোথায় তোরে রাখি বল?” যাক হলো গণজাগরণ, জেগে উঠলো এক তৃতীয়াংশ বাঙ্গালি। বাকি দুই অংশের কথা না হয় বাদ দিলাম কারণ তারা আস্তিক-নাস্তিক, আর এই আন্দোলন কোন দলের খেলা এটা চিন্তা করার কাজেই ব্যস্ত। আজ আন্দোলনের দাবী পূরণ হওয়ার আগেই রাজপথ ছেড়ে চলে আসলো বা ছেড়ে চলে আসতে হলো। কিন্তু তার জন্য দায়ী কে? আমার দৃষ্টিকোণ থেকে চুতিয়া বামরাই দায়ী। শালারা আন্দোলনের মধ্যে পদ দেয়া-নেয়ার ইস্যু তুলে আনে। লেগে যায় একটি অভ্যন্তরীণ কোন্দল। আর থামকে যায় আমাদের কাঙ্কিত প্রাণের দাবী। আজ থেকে গণজাগরণ মঞ্চ আবার বসবে। অতীতের কিছু ভুল-ত্রুটির কারণে হয়তো, আন্দোলনকারীদের সংখ্যা কম হবে, নানান গবেষক-বিশ্লেষক বাঁধা সৃষ্টি করবে। উত্তেজিত হবেন না, আশাহত হবেন না। মনে রাখবেন, কাউকে নি কুটিক্তি করার জন্য আমরা এক হচ্ছি না। ইতিহাসের জন্য যদি কিছু করতে পারি ইতিহাস নিজেই আমাদের নাম লিখে রাখবে, নিজেরা আগ-বাড়িয়ে নিজেদের নাম লিখতে যাবেন না। সাইবার যুদ্ধ নামের যেমন একটি জায়গা বরাদ্দ হয়েছিল, ঠিক তেমনি একটি জায়গায় পরামর্শ বক্স রাখেন। আপনারাও যেহেতু সাধারণ মানুষ, তাই সাধারণদের কথা যথার্থভাবে মুল্যায়ন করুন। জয় আমাদের আসবেই।

জয় বাংলা।
joy bangla

১৪ thoughts on “কাউকে অপদস্ত না করে, মূল্যায়ন করুন জয় আসবেই।

  1. জয় বাংলা বলতে যদি আপনার কোন

    জয় বাংলা বলতে যদি আপনার কোন প্রকার আপত্তি থাকে তাহলে আমার লেখাটা পড়ার কোন রকম অধিকারই আপনি সংরক্ষন করেন না।

    —সহমত!! আরও কিছু যোগ করতে চাই। জয় বাংলা বলতে না চাইলে আর বঙ্গবন্ধুকে নিঃশর্ত সাবলীল সম্মান দিতে না পারলে বাংলায় নিমকহারামের মত তাদের না থাকায় ভাল…

      1. ভাই আমাদের এমন উপলব্ধি এই
        ভাই আমাদের এমন উপলব্ধি এই জাতি কবে বুঝবে?
        ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ এখন সময়ের দাবী… কিন্তু আমার এমন প্রয়াস মাত্র গুটিকয়েক পাঠক যখন পরে তখন আশাহত হই… 🙁

        1. লিঙ্কন ভাই ঐ গুতিকয়েক পাঠক ই
          লিঙ্কন ভাই ঐ গুতিকয়েক পাঠক ই প্রকৃত পাঠক । এখন অনেক ব্লগার আছে যারা বড় এবং তত্থবহুল পোস্ট দেখলে পড়তে চায় নাহ । এই অনিহা একটা বাস্তব উদাহরন । আপনার পোস্ট টা সতত অনেক গুরুত্বপূর্ণ তবুও দেখেন – হিট কম । এটাই হচ্ছে ব্যাপার ভাই !!!!!!!! ভালর কদর বাঙালি দেই নাহ । দিলেও খুব কম । মরীচিকার পিছে দৌড়াতে আমরা বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি । :দীর্ঘশ্বাস:

  2. পোস্ট এর সাথে সহমত ।
    আর আপনার

    পোস্ট এর সাথে সহমত ।
    আর আপনার শিরোনাম টা যথার্থ হয়েছে –

    কাউকে অপদস্ত না করে, মূল্যায়ন করুন জয় আসবেই।

  3. জাতি হিসেবেই আমরা কেমন যেন
    জাতি হিসেবেই আমরা কেমন যেন অসহনশীল হয়ে পড়ছি এবং দিনকে দিন এর তীব্রতা বাড়ছেই। সামান্যতম ভিন্নমত পোষণ করলেই তার উপরে হামলে পড়ছি। এটা কোনমতেই ভালো লক্ষন নয়।

    1. আতিক ভাই, এই নোংরামী থেকে কি
      আতিক ভাই, এই নোংরামী থেকে কি মুক্তি পাওয়ার কোন পথ কারো জানা নাই? এমন সময় যদি আমরা এসব করতে থাকি, ইতিহাস কি আমাদের ক্ষমা করবে?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *