দেশপ্রেমিক সমাচার

কিছুমাস আগে রবির দেশপ্রেমিক সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের একাংশে দেখলাম কিছু ফাজিল বখাটে ছেলে দুটো মেয়েকে ইভটিজিং করছে.
আর পিছন থেকে কোন এক রবির দেশপ্রেমিকের নেটওয়ার্ক ব্যবহারকরা অজ্ঞাত X দায়িত্বশীল দেশপ্রেমিক উত্যক্ত করার দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোডকরে দেয়.
ফলাফল ঐ বান্দর একটার বাসায় ভিডিওটি ফেসবুকের মাধ্যমে চলে যায় এবং তাঁকে কুকর্মের জন্য বাপ কর্তৃক ছাতাপিটা সহ্য করতে হয়.এই বিজ্ঞাপনে ক্রেডিট নিল দুজন,একজনদেশপ্রেমিক (পদ্মা আবুলসাহেব না) আরেকজন রবি তথা তাঁদের দ্রুতগতিরইন্টারনেট.
এইবার বাস্তবজীবনে একটু আসল রঙে,ব্যতিক্রমী ঢঙে ব্যাপারটা দেখা যাক.

কিছুমাস আগে রবির দেশপ্রেমিক সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের একাংশে দেখলাম কিছু ফাজিল বখাটে ছেলে দুটো মেয়েকে ইভটিজিং করছে.
আর পিছন থেকে কোন এক রবির দেশপ্রেমিকের নেটওয়ার্ক ব্যবহারকরা অজ্ঞাত X দায়িত্বশীল দেশপ্রেমিক উত্যক্ত করার দৃশ্য মোবাইলে ভিডিও করে ফেসবুকে আপলোডকরে দেয়.
ফলাফল ঐ বান্দর একটার বাসায় ভিডিওটি ফেসবুকের মাধ্যমে চলে যায় এবং তাঁকে কুকর্মের জন্য বাপ কর্তৃক ছাতাপিটা সহ্য করতে হয়.এই বিজ্ঞাপনে ক্রেডিট নিল দুজন,একজনদেশপ্রেমিক (পদ্মা আবুলসাহেব না) আরেকজন রবি তথা তাঁদের দ্রুতগতিরইন্টারনেট.
এইবার বাস্তবজীবনে একটু আসল রঙে,ব্যতিক্রমী ঢঙে ব্যাপারটা দেখা যাক.
মনে করুন আপনি একজন দেশপ্রেমিক.রবির দেশপ্রেমিকের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেন.
এক বখাটে ছেলে প্রায় এক মেয়েকে উত্যক্ত করে,প্রেমের প্রস্তাব দেয়. আপনার মাথায় রবির দেশপ্রেম খেলা করলো.তাই আপনি চান মোবাইলে ইভটিজিংয়ের ঘটনাটি ভিডিও করে ফেসবুকে,বা ইউটিউবে আপলোড করে সবাইকে সোচ্চার করতে. এই পর্যন্ত সবই ভালো কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো ভিডিও আপলোড করতে গিয়েই! হয়তো দেখবেন বিজ্ঞাপনে রবির দ্রুতগতির ইন্টারনেট আপনার ক্ষেত্রে শামুক গতিতে কাজ করছে!
এইদিকে ভিডিও শালা নাছোড়বান্দা, কোনভাবেই আপলোড হওয়ার নয়! অবশেষে গিগাবাইট,মেগাবাইট,কি­লোবাইটের নিদারুণ অপচয় করে আপলোড হলো কাঙিক্ষত ভিডিও.
আপনার মুখে যুদ্ধ জয়ের হাসি কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে. আপনার ভিডিও আপলোড হতে হতে ঐ মেয়ে অতিষ্ঠ হয়ে সেই কথিত পাগলাপ্রেমিক ইভটিজারের প্রেমে সায় দিয়ে পার্কে বসে বাদাম চাবাচ্ছে! ভিডিও আপলোড হলো,ছেলে মেয়ের অভিভাবকরা দেখলো. কিন্তু হয়তো ঘটনা ঘটলো উল্টো! ছেলে বা মেয়ে কেউই ইভটিজিংয়ের কথা স্বীকার করলো না.এইবার বিড়ম্বনার স্বীকার অভিভাবকরা আপনার কর্মের যথোপযুক্ত পুরষ্কার দিবেন ঠিক করলেন. তাই আপনার বিরুদ্ধে শামীম ওসমান সাহেবের মত মানহানীর মামলাঠুকে দিলেন! তাঁরা ভাবলেন যে এটা কমই হলো তাই বোনাস হিসেবে আপনার বিরুদ্ধেই উল্টো ইভটিজিংয়ের মামলা ঠুকে দিল! ব্যস,দেশপ্রেমিক পদ্মাসেতুর মত এইখানেও শকড! আর পাগলা প্রেমিক রক.
ঘটনাটা রম্য ঘটনা এবং বাস্তবে সম্ভব না তবুও আমার মনে প্রশ্ন জাগে যে যেসব মোবাইল অপারেটররা জনগণকে দেশপ্রেমিক বলে আখ্যায়িত করে প্রকৃতপক্ষে তাঁরা কতটা দেশপ্রেমিক বা গ্রাহকপ্রেমিক?সম্প্রতি তাঁরা সাভারের মর্মান্তিক ভবন ধসের ঘটনায় কোন আর্থিক অনুদান দিয়েছে কিনা জানা নেই তবে তাঁরা আমাদের প্রস্তাবিতএকটা কল ইভেন্টও করেনি এটা অন্তত জানি.
কল ইভেন্ট হয়তো করা যেত এক ঘন্টারবদলে আধ ঘন্টা কিংবা কিছু মিনিট. মানুষ কথা বলে টাকাগুলো বিপদগ্রস্থ মানুষের জন্যই ব্যয় করতো.
হয়তো ব্যান্ডউইডথের দাম কমানোর ব্যাপারে জনমনে ফুঁসে ওঠা ক্ষোভ কিছুটা হলেও সান্ত্বনা খুঁজতো.তাঁরা শুধুই উপদেশ দিয়ে যায় “ছোট্ট একটা কাজ,যদি করে দেখাও আজ,পাশে আসবে সবাই,তুমি তোল আওয়াজ.
আপনাদের উপদেশ দেয়ার আসলে কোন দরকার নেই.
জানিনা ছোটমুখে এইসব কথা বলার আদৌ কোন যুক্তি আছে কিনা তবুও বলতে চাই দেশে এখনো অনেক দেশপ্রেমিক আছে যারা মুখে আবুল সাহেবের মত বা রবির মত ঢোল পিটিয়েতাঁদের দেশপ্রেম প্রচার করেনা.
এর প্রমাণ আমরা সাভারের ঘটনায় দেখেছি. কায়কোবাদ সাহেবের মত দেশপ্রেমিকরা যখন অকাতারে বিপদে নিজের জীবন বিলিয়ে দিতে পারেন তখন তাঁরা আপনাদের বিজ্ঞাপনকে নাক সিঁটকে গলা মিলিয়ে বলতে পারেন “হ্যাঁ,আমরা দেশপ্রেমিক”
পরিশেষে বলতে চাই দেশপ্রেমিকের নেটওয়ার্ক হতে চাইলেই হওয়া যায় না,আগে দেশপ্রেমিক হতে হয়.
আর দেশপ্রেমিক হতে দরকার সুস্থ বিবেক.

১২ thoughts on “দেশপ্রেমিক সমাচার

  1. ঐ পুজিপতিরা মায়ের ভালবাসা
    ঐ পুজিপতিরা মায়ের ভালবাসা থেকে দেশপ্রেম আর নারীর দেহ সব কিছুকেই বিপণনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যাবহার করে!! এই দেশপ্রেমিক ছুতোও তার ব্যতিক্রম নয়!!

  2. বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে
    বিজ্ঞাপনের উদ্দেশ্যই হচ্ছে ব্যবসা। এখানে দেশপ্রেম, মাতৃপ্রেম, পিতৃপ্রেম সহ বিভিন্ন প্রেম ইউজড হইব এইটা আর নতুন কি? তবে আমাদের দেশের মোবাইল এবং নেট প্রভাইডারদের একটা কঠিন বাঁশ দেওয়ার সময় হইছে।

  3. আমাদের দেশের তথাকথিত
    আমাদের দেশের তথাকথিত উচ্চশ্রেণী নিজের স্বার্থে সব করতে পারে । কিন্তু সবকিছু মুখোশের আড়ালে / যেমন কয়েকদিন আগে হয়েছিল রেশমা কে নিয়ে

    1. এই জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে
      এই জগতে হায় সেই বেশি চায় আছে যার ভুরি ভুরি,
      রাজার হস্ত করে সমস্ত কাঙ্গালের ধন চুরি.

  4. দুঃখিত, আমি দেশপ্রেমিক নই। যে
    দুঃখিত, আমি দেশপ্রেমিক নই। যে দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারে সেদেশের মানুষের উপর আমি বিশ্বাস হারিয়েছি। সুদীপ দা একদিন বলেছিলেন-“তরুনরা মিছিলে গিয়ে গলার রগ ফুলিয়ে চিৎকার করে বলে- রক্তের বন্যায় ভেসে যাবে অন্যায়। কিন্তু অনেকটা পথ পাড়ি দিয়ে এসে বুঝেছি-হাজারো রক্তের বন্যায়ও এই অন্যায় ভেসে যাবার নয়।” সুদীপ দা’র কথা আজ ভীষণ সত্য মনে হচ্ছে…

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *