‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ এখন সময়ের দাবী

প্রথমে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী রাষ্ট্রের জাতির পিতা বা স্মরণীয় রাষ্ট্র নায়কদের নিয়ে ফাউন্ডেশন সমূহের গঠনতন্ত্র এবং তাদের কাজের ধরন ও ব্যাপ্তি একটু পর্যালোচনা করব। এইখানে আমেরিকার অন্যতম জাতির পিতা জর্জ ওয়াশিংটন, সফল ও মোস্ট ইনফ্লুয়েনশিয়াল রাষ্ট্রনায়ক আব্রাহাম লিংকন ও তাবৎ দুনিয়ার অসহযোগ আন্দোলনের মহান নেতা এবং ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর নামে গঠিত ফাউন্ডেশন সমূহ সম্পর্কে আলোচনা করব। তারপর এই বাংলার সহস্রাব্দের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উৎসর্গ করে ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’-এর প্রয়োজনীয়তা ও তার কার্যক্রম কি হতে পারে তার উপর প্রাসঙ্গিক আলোকপাত করব।

জর্জ ওয়াশিংটনঃ

১৯২২ সালে একদল কর্মঠ ও দূরদর্শী তরুন মিসেস ভিভিয়ান মাইনর ফ্লেমিং এর নেতৃত্বে কেনমোর ক্রয় করেন (জর্জ ওয়াশিংটনের মৃত্যুর ১২৩ বছর পর);কেনমোর ছিল ১৭৭৫ সালে ফ্রেড্রিক্সবার্গে নির্মিত একটি বাড়ি যা জর্জ ওয়াশিংটনের বোন বেটি ও তাঁর স্বামী কর্নেল ফিল্ডিং লুইস নির্মাণ করেছিলেন। কেনমোর রক্ষার আন্দোলনের এক পর্যায়ে ভাইস প্রেসিডেন্ট কেলভিন কুলিডজ বলেছিলেন ‘এইটা এর আত্মরক্ষার্থেই করা উচিৎ। যা দেশপ্রেমিক আমেরিকান হিসেবেই করা উচিৎ!’


href=”http://en.wikipedia.org/wiki/George_Washington”>George Washington (Feb 22, 1732 [O.S. Feb 11, 1731]– December 14, 1799)
কেনমোর এ্যাসোসিয়েশন ১৯৯৬ সালে মাইলফলক হিসেবে তাঁর শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত পৈত্রিক নিবাসে একটি ফেরী ফার্ম করে যা এ্যাসোসিয়েশনের অর্থনৈতিক শক্তি যোগাত। এরকম নানা ঘটনাবহুল উত্থানের পর ২০০৮ সালে কেনমোর এ্যাসোসিয়েশনকে নাম পরিবর্তন করে করা হয় ‘দ্যা জর্জ ওয়াশিংটন ফাউন্ডেশন’। ‘দ্যা জর্জ ওয়াশিংটন ফাউন্ডেশন’-এর মিশন নির্ধারণ করা হয় এমন- ‘The mission of The George Washington Foundation is to enhance the public understanding and appreciation of the lives, values, and legacies of George Washington, Fielding and Betty Washington Lewis, and their families’।
‘দ্যা জর্জ ওয়াশিংটন ফাউন্ডেশন’ হচ্ছে একটি বেসরকারি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান যার সদরদপ্তর ছিল তাঁর স্মৃতিবিজড়িত জন্মস্থান ফ্রেড্রিক্সবার্গ, ভার্জিনিয়া। ফাউন্ডেশনটির সকল কার্যক্রম চলে স্বতঃস্ফূর্ত দাতা ও স্বেচ্ছাসেবকের সহজগিতায়।

আব্রাহাম লিংকনঃ
‘দ্যা আব্রাহাম লিংকন ফাউন্ডেশন’ বা এএলএফ (ALF; The Abraham Lincoln Foundation) স্থাপিত হয় ১৯৯৬ সালে (অর্থাৎ লিংকনের মৃত্যুর ১৩১ বছর পর), এটিও একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি জনসাধারণের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বতঃস্ফূর্ত দাতব্য সাহায্য উপহারের অর্থায়নে চলে। প্রতিষ্ঠানটি ইউনিয়ন লীগের কোষাগার গড়ে তোলে যা জনস্বার্থে ভ্রমণ, প্রদর্শনী, সেমিনার, আলোচনাচক্র, সম্মেলন এবং বিশেষায়িত অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।


Abraham Lincoln (February 12, 1809 – April 15, 1865)
দ্যা আব্রাহাম লিংকন ফাউন্ডেশন রাষ্ট্রের ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করে যা জনগণকে আমেরিকার সিভিল ওয়ার ও ফিলাডেলপিয়া এবং তার এলাকার ইতিহাস নিয়ে গবেষণাকর্ম করে থাকে। এইসব গবেষণা কর্মে ‘দ্যা আব্রাহাম লিংকন ফাউন্ডেশন’ এর সাথে সিভিল ওয়ার ইতিহাস কমিশন, আব্রাহাম লিঙ্কন দ্বিশততমবর্ষীয় কমিশন, লা সাল্লে বিশ্ববিদ্যালয় এবং প্যান স্টেট ইউনিভার্সিটি সমন্বিতভাবে কাজ করে।
ফাউন্ডেশনের মিশন নির্ধারণ করা হয় এমন-“The mission of the Abraham Lincoln Foundation of the Union League is to preserve and develop the collections of the Union League and utilize them to educate and inspire the community.”

মহাত্মা গান্ধীঃ
‘মহাত্মা গান্ধী ফাউন্ডেশন’ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৩ সালে অর্থাৎ তাঁর প্রয়াণের ৩৫ বছর পর। সুরুর হুদা এইটা প্রতিষ্ঠা করেন আর ফাউন্ডেশনটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট রিচারড এটেনবার্গ। মহাত্মা গান্ধী ফাউন্ডেশনের ভারতীয় সদর দপ্তর মুম্বাই, গান্ধীর নাতী তুষার গান্ধী ফাউন্ডেশনের ভারতীয় শাখার বর্তমান প্রধান।


Mohandas Karamchand Gandhi (2 October 1869 – 30 January 1948)
মহাত্মা গান্ধীর অহিংস চেতনাকে সরক্ষন করা আর বর্তমান প্রজন্মের কাছে তা উপস্থাপন করাই এই ফাউন্ডেশনের মূল উদ্দেশ্য। এইখানে উল্লেখ্য মহাত্মা গান্ধীকে নিয়ে ভারতে ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক ফাউন্ডেশন আছে। সবাই মোটামোটি একই মিশন নিয়ে ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠা করেছেন।

বঙ্গবন্ধু:
একজন আমেরিকানের কাছে জর্জ ওয়াশিংটন ও আব্রাহাম লিংকনের যে প্রয়োজনীয়তা একজন বাঙ্গালীর কাছে কেবল বঙ্গবন্ধুই ঠিক তেমন দুই প্রয়োজন মিটিয়ে দেন। ওয়াশিংটন যেমন আমেরিকানদের মুক্তির সংগ্রামের মধ্যদিয়ে স্বাধীনতা দিয়েছেন তেমনি বঙ্গবন্ধু আমাদের স্বাধীন বাংলা দিয়েছেন আবার আব্রাহাম লিংকন যেমন আমেরিকানদের অর্থনৈতিক বৈষম্যহীন ও শোষণমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখায়ছেন গেটিসবার্গ স্পীচ এ তেমনি বঙ্গবন্ধু আমাদের সঙ্গায়িত করেছেন তাঁর ৭ই মার্চের ভাষণে। অর্থাৎ বঙ্গবন্ধু এই ভুখন্ডের মানুষের জন্যে এক প্রবাদ প্রতিম নেতা সেই কারনেই বিবিসি’র জরিপে তিনিই সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী। অথচ অতি দুঃখের বিষয় তাঁর মহাপ্রয়াণের ৩৮ বছর পার হয়ে গেল আমরা একটি ফাউন্ডেশন বা সফল কোন গবেষণা সংস্থা গড়ে তুলতে পারি নাই। এদিকে তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা দুই দফায় ১০ বছর পার করলেও তেমন কোন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ নিতে পারেন নি।


শেখ মুজিবুর রহমান (March 17, 1920 – August 15, 1975)
নামেমাত্র এক ‘জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মেমোরিয়াল ট্রাস্ট’ ও তাঁর স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন ধানমন্ডি ৩২ নং বাড়ীকে নামসর্বস্ব ‘বঙ্গবন্ধু যাদুঘর‘ করা হলেও প্রতিষ্ঠানদ্বয় কার্যত নিষ্ক্রিয় । রাজনৈতিক দলাদলির শিকার হয়ে আওয়ামীলীগের ৫ বছর একটু সচল হলেও পরবর্তী ৫ বছরে জামাত-বিএনপির স্বেচ্ছাচারী ক্ষমতার অপব্যাবহারে কার্যক্রম সহকারে প্রতিষ্ঠানদ্বয় চলে যায় হিমাগারে। অথচ তরুন সমাজের এমন অনেক স্বেচ্ছাসেবক আর দাতা আছেন যারা নিজনিজ সময় ও অর্থের সাহায্যে উপরোক্ত যেকোন দেশের এমন ফাউন্ডেশন থেকে সার্থক ও সফল ফাউন্ডেশন চালাতে সক্ষম।

এইখানে বলে রাখা উচিৎ বঙ্গবন্ধু শুধু এই বাংলার জাতির জনক নন তিনি বাংলাদেশের সবচে ইনফ্লুইয়েনশিয়াল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও রাষ্ট্র প্রধান। তাঁর সংগ্রামী বর্ণাঢ্য জীবন ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস যেহেতু একসুত্রে গাঁথা তাই এর সরক্ষন, গবেষণা ও তার প্রচার তরুন সমাজকে করতে পারে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ এবং রাষ্ট্রের ইতিহাসে ও রাজনীতি সচেতন। যা দেশের এমন রাজনৈতিক ক্রান্তিলগ্নে হতে পারত একটি রাজনৈতিক আদর্শিক অবস্থান। বঙ্গবন্ধুর সাথে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রাম, গনমানুষের মুক্তির সংগ্রাম ও বাংলাদেশের নিপীড়িত মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তিসংগ্রামের ইতিহাস যেভাবে জড়িত তা শুধু অনন্য নয় বিশ্বের ইতিহাসেই বিরল।

‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ এর মিশন ও রূপরেখা নির্ধারণে অতিসত্বর সরকার কর্তৃক একটি সংসদীয় কমিটি বা নির্বাহী কমিটি গঠন করা হোক যা আগামী ৩ মাসের মধ্যে ‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’-এর মিশন, গঠনতন্ত্র, কর্মসূচীসহ বিস্তারিতভাবে পরামর্শ দিবে। অতঃপর একে দেশের একটি দল নিরপেক্ষ রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক ইতিহাসের গবেষণা প্রতিষ্ঠান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে যা ‘বঙ্গবন্ধু’র স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠনে গঠনমূলক ভূমিকা রাখবে, আর অতি অবশ্যয় তা হতে হবে এই সরকারের বাকি ৫ মাস মেয়াদ কালে।
জয় বাংলা… জয় বঙ্গবন্ধু…

১৪ thoughts on “‘বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশন’ এখন সময়ের দাবী

  1. দেশে বঙ্গবন্ধুর নামে হাজারো
    দেশে বঙ্গবন্ধুর নামে হাজারো সংগঠন আছে, তবে সবগুলাই চাটুকার সংগঠন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন টুপাইস কামিয়ে নেওয়ার ধান্দা থাকে এরা।

    ভালো একটা উদ্যোগের কথা বলেছেন। স্যালুট।

    1. আতিক ভাই ধন্যবাদ…
      এই

      আতিক ভাই ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      এই চাটুকারের দলেরা বঙ্গবন্ধু গবেষক না হয়ে বঙ্গবন্ধু মাজারের পীর আর মুরিদ সেজে যায়।
      তাই কাজের কাজ কিছুই হয় না!!

    1. ধন্যবাদ… কিন্তু
      ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: কিন্তু আমাদের উদ্যোগের কোন দাম নাই!! 😉
      তারপরো অনেক আশা নিয়ে লিখছিলাম…
      আপনাদের প্রেরনায় উৎসাহ পেলাম!!

      1. ভাই ভালো সবসময় সস্তা !!!!
        ভাই ভালো সবসময় সস্তা !!!! বস্তাপচা দেশপ্রেম নিয়ে ঘোরে দেশের মানুষ । ভালোকে কে এরা সম্মান দেই নাহ । প্রজন্মে পোস্ট টা ইষ্টিকিতে দেখে ভাল লাগল ।

        1. মোশফেক ভাই ধন্যবাদ…
          বুঝলাম

          মোশফেক ভাই ধন্যবাদ…
          বুঝলাম না!! প্রজন্মতে স্টিকি আর এইখানে মাত্র ৪০ বার পঠিত!
          এইটা অনেক আশা নিয়ে লিখেছিলাম… 🙁 🙁 🙁

  2. দুখের বিষয় হচ্ছে ওয়াশিংটন
    দুখের বিষয় হচ্ছে ওয়াশিংটন আব্রাহাম গান্ধীকে সে দেশের সবাই রাষ্ট্র নায়ক মনে করে, কিন্তু বঙ্গবন্ধুকে মনে করে আওয়ামীলীগের নেতা ।

    অশিক্ষিত হুজুগে ধর্মের ধব্জাবাহি মুসলিম বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধুকে সঠিক মর্যাদা দিতে জানে না। :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

    1. আমাদের মূল সমস্যা আমরা
      আমাদের মূল সমস্যা আমরা নিজেদের চিনতেই ভুল করি বা অনেক সময় নিয়ে ফেলি!!
      একদিন বাঙ্গালী নিজেকে চিনতে পারবে আর বুঝতে পারবে এই মহান নেতার গুরুত্ব!!
      ধন্যবাদ :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:

    1. সহমত হওয়ার জন্যে আর পড়ার
      সহমত হওয়ার জন্যে আর পড়ার জন্যে ধন্যবাদ… :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা: :ধইন্যাপাতা:
      আর বঙ্গবন্ধুকে চিরস্থায়ী :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute: :salute:

  3. ভাল লেগেছে লিঙ্কন ভাই।তবে
    ভাল লেগেছে লিঙ্কন ভাই।তবে কষ্ট লাগল খুব কম মানুষ ই পরেছে পোস্টটা

    1. রাইয়ান স্বপ্নকথক থেকে
      রাইয়ান স্বপ্নকথক থেকে ছন্নছাড়া হয়ে গেল? খুবই দুঃখের খবর!! :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ: :মনখারাপ:

  4. বুঝলাম না! আমি ইস্টিশনে
    বুঝলাম না! আমি ইস্টিশনে পোস্টে ছবি অ্যাড করতে পারছি না কেন?
    কোন সহজ পথ থাকলে জানাবেন…
    আজ, অবশেষে ছবি আপলোড হয়ে গেল!!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *