পেনসিলে আঁকা পরী

পরী, কেমন আছিস তুই?
কাল ছিল ২৩ জুন
আকাশে মস্ত একটা চাঁদ উঠেছিল।
পূর্ণিমার চাঁদ দেখলেই
তোর কথা মনে পড়ে আমার।
আমি বলতাম মিষ্টি কুমড়ার মত মস্ত চাঁদ
তুই ক্ষেপে যেতি খুব। আমিও তর্কে জড়াতাম।
চাঁদ যদি রুটির মত হয় মিষ্টি কুমড়ায় দোষ কি?



পরী, কেমন আছিস তুই?
কাল ছিল ২৩ জুন
আকাশে মস্ত একটা চাঁদ উঠেছিল।
পূর্ণিমার চাঁদ দেখলেই
তোর কথা মনে পড়ে আমার।
আমি বলতাম মিষ্টি কুমড়ার মত মস্ত চাঁদ
তুই ক্ষেপে যেতি খুব। আমিও তর্কে জড়াতাম।
চাঁদ যদি রুটির মত হয় মিষ্টি কুমড়ায় দোষ কি?

তোর সাথে অবাক পরিচয় আমার।
অন্তর্জালের যে রাজ্যে তোর বিচরন
সেখানে আমি যেতাম না কখনো।
তুইও আসতি না আমার দুয়ারে।
তাও কিভাবে যেন চেনাজানা হয়েছিল একদিন।
কিভাবে তা আর মনে নেই আজ।

মনে পড়ে তাঁতিবাজার মোড়?
প্রথম দেখা। তুই রিকশায় উঠলি
কোথায় যেন যাবি বলে।
কি ভেবে আমিও উঠে বসলাম।
কি কথা হয়েছিলো মনে নেই আর।
শুধু মনে আছে
টিএসসি পার হওয়ার সময়
তুই আমাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে চলে গেলি।
আমি এতটা অবাক আমার জন্মাবধি হইনি।

পরী, তুই পাগল ছিলি খুব।
আমাদের প্রনয় ছিলনা আবার সাধারন বন্ধুত্বও নয়।
আমরা দুজনই ছিলাম নিজেদের নিয়ে দ্বিধাগ্রস্ত।
আমি তখন ছোট একটা চাকরি করি
জিন্দাবাহার সেকেন্ড লেন।
পাশেই তোর কলেজ
সলিমুল্লাহ সাহেবের মিটফোর্ড।
পারফিউমের হাজারটা দোকান
আর সুবাসিত রাজপথ। আমি বলতাম;
তুই থাকিস তাই এত সুগন্ধ।
মিথ্যে বলিনি আমি।
সত্যিই তুই এক পশলা
সুগন্ধ হয়ে এসেছিলি আমার জীবনে।
তোকে মাঝে মাঝে হিংসে হতো আমার
তোর রুমের জানালা দিয়ে বুড়িগঙ্গা দেখা যায়।
নদীর গল্প শুনাতি আমাকে।
আমার তো বুড়িগঙ্গা নেই।
বাবুবাজার ব্রিজের আলো নেই।

অসময়ে ফোন করার অভ্যাসটা কি
এখনো আছে তোর?
আমি যখন বাসের ভিড়ে চ্যাপ্টা
তখনি তোর ফোন।
কিংবা ভোর সকালে।

পরী, মনে আছে তোর?
বিজয় স্মরনিতে তোকে খুঁজেই পাচ্ছিলাম না।
র‌্যাংগস ভবনটা তখনো রাজপথ হয়ে যায়নি।
আমি খুঁজে খুঁজে হয়রান তোকে।
সেদিন ট্যাক্সিতে বড় বেশি পাগলামি করেছিলি তুই।

দুজনের দূরে সরে যাওয়াটা অবশ্যম্ভাবী ছিল।
দুজনেই জানতাম তা।
তাই যেদিন খুব তুচ্ছ আর অবান্তর অযুহাতে
তুই বিদায় নিলি, খুব বেশি অবাক হইনি আমি।
মেনে নিতে পারাটা বড় কষ্টের ছিল আমার জন্য।
তোদের শহরে তাই আর থাকতে পারিনি আমি।
যে শহরে স্মৃতিরা তোলপাড় করে
তার চেয়ে নন্দিত নরক আর কিছু হতে পারেনা।
পরী, তোর স্মৃতিগুলো নিয়েও আমি ভাল আছি
তোর ভাল থাকা দেখতেই ভাল থাকি আমি।

১০ thoughts on “পেনসিলে আঁকা পরী

  1. পরী, তোর স্মৃতিগুলো নিয়েও আমি

    পরী, তোর স্মৃতিগুলো নিয়েও আমি ভাল আছি
    তোর ভাল থাকা দেখতেই ভাল থাকি আমি।


    কিছু সরল-সহজ অনুভূতির চমৎকার উপস্থাপন।। ভাল লাগল :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  2. সুন্দর লাগলো তয় নামটা চেনা
    সুন্দর লাগলো তয় নামটা চেনা চেনা ঠেকতাছে। :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    1. ‘পেনসিলে আঁকা পরী’ হুমায়ুন
      ‘পেনসিলে আঁকা পরী’ হুমায়ুন আহমেদের উপন্যাস। আর এখানে ‘পরী’ নামটা কাল্পনিক। সঙ্গত কারনেই বাস্তব পরীটার নাম দিলাম না।

  3. খুব ভালো ! তোকে আরও একটু
    :দীর্ঘশ্বাস: খুব ভালো ! তোকে আরও একটু খারাপ করে চিনলাম ! লেখাটা কতটুকু ভেতর থেকে বের হইছে বুঝাই যায়, কারন বেশ ভালো লিখছিস ।

Leave a Reply to তারিক লিংকন Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *