দিপা মেহতার অখাদ্য

আমি খুব মুভি পাগলা মানুষ।তথ্য নির্ভর মুভি আমার খুব পছন্দের।ডিসুম ডাসুম বা প্রেম আর প্রেম,অসম বিসম জিসম থেকে দূরে থাকি।গত সপ্তাহে দীপা মেহতার একটি মুভি দেখলাম যার নাম ছিল Midnight‘s children।আমার মুভি দেখার স্টাইল দেখে কেউ আমার সাথে মুভি দেখে আনন্দ পায় না অথবা আমি পাইনা।আমি গান বাদে একটি শব্দও টেনে দেখি না।আবার যে গান ভালো লাগে তা আবার টানি না।যে অভিনয় করছে সে কেমন জনপ্রিয় নায়ক বা নবীন প্রবীণ তা আমার কাছে মুখ্য নয়।বরং চেব্রা তেব্রা যে কেউ অভিনয় করুক আমার যায় আসে না।আমি দেখি তার পারফরমেন্স।যাই হোক মুখ এখানে মুখ্য নয়।মুভিতে দেখলাম কি?নন্দিত নিন্দিত সালমান রুসদির THE ACCLAED গল্প অবলম্বনে দীপা মেহতার MIDNIGHT’S CHILDREN কি মেসেজ দিচ্ছেন।



আমি খুব মুভি পাগলা মানুষ।তথ্য নির্ভর মুভি আমার খুব পছন্দের।ডিসুম ডাসুম বা প্রেম আর প্রেম,অসম বিসম জিসম থেকে দূরে থাকি।গত সপ্তাহে দীপা মেহতার একটি মুভি দেখলাম যার নাম ছিল Midnight‘s children।আমার মুভি দেখার স্টাইল দেখে কেউ আমার সাথে মুভি দেখে আনন্দ পায় না অথবা আমি পাইনা।আমি গান বাদে একটি শব্দও টেনে দেখি না।আবার যে গান ভালো লাগে তা আবার টানি না।যে অভিনয় করছে সে কেমন জনপ্রিয় নায়ক বা নবীন প্রবীণ তা আমার কাছে মুখ্য নয়।বরং চেব্রা তেব্রা যে কেউ অভিনয় করুক আমার যায় আসে না।আমি দেখি তার পারফরমেন্স।যাই হোক মুখ এখানে মুখ্য নয়।মুভিতে দেখলাম কি?নন্দিত নিন্দিত সালমান রুসদির THE ACCLAED গল্প অবলম্বনে দীপা মেহতার MIDNIGHT’S CHILDREN কি মেসেজ দিচ্ছেন।১৯৪০ ইং সন থেকে গল্পের শুরু।একটি পরিবারে একজন ডাক্তার এর আগমন তা আবার একটি মুসলিম পরিবারে।এবং তাকে কিভাবে তিনি রুগিনির কাছে গেলেন এবং কি চিকিৎসা ছিল এই নিয়ে গল্পের শুরু।ডাক্তার আসলেন নৌকা যোগে ইংলিশে ডাবিং তাই মাঝি আর ডাক্তার সাহেব ইংলিশে কথকপথন করছেন।নিচে সাবটাইটেল নেই।ডাক্তার ও মাঝি যখন মাঝে মাঝে হিন্দি বলছেন তা আবার সাবটাইটেল স্কিনে আসছে।বরং উল্টোটা হলে মানাত কারণ ইন্ডিয়া সহ এই উপমহাদেশের বেশির ভাগ অংশ এখনও ইংলিশে রপ্ত হয়নি।আর ১৯৪০ সাল তো পুরাই অন্ধকার। যদিও এই মুভি তাদের জন্য নহে ইহা একটি পুরস্কারের আশায় নির্মিত কেবল বুদ্ধারাই শুধু অবলোকন করবেন আর আমাদের দেশিয় তথা ভারতবর্ষের নারী দেহ কেমন তা উপলব্ধি করবেন বৈকি আর কিছু না।যাই হোক ডাক্তার এসে দেখেন সামনে একটি কাপড় টাঙানু।ডাঃ ব্যাখ্যা চাইলে বাড়ির গার্ডিয়ান অনুপম খের তা ব্যাখ্যা দিলেন।মুসলিম পরিবারের কেউ পর্দার বাহিরে আসে না।
পরের দিন ডাক্তার আসলেন এসে দেখেন ওই কাপড়ের মধ্যখানে গোলাকৃতি করে কাটা জায়গায়(যা প্রথম দিনও ছিল) একটি গর্ভবতীর উঁচু পেট।প্রসন্ন চিত্তে ডাক্তার সাহেব চেক আপ করলেন। মসৃণ পেটে হাত ভুলিয়েও দেখলেন।(জি না আমার কোন এলারজি নেই)।
আবার পরের দিন ডাঃ আবার চেক আপ করতে এসেই ধাম করে মুখ ফিরিয়ে নিলেন।কারন হচ্ছে ওই গোলাকার কাটা অংশে একটি স্তন উন্মুক্ত হয়ে আছে।আমিও একটু নড়ে চরে বসলাম।পরবর্তীতে…
ডাক্তার সাহেবের পরিবার তার তিনটি মেয়ে তিনজনই যৌবনা বা প্রাপ্ত বয়স্ক মুলত এদের নিয়ে এই মুভি।। ঘটনাচক্রে ডাঃ এর বাড়িতে একজন স্বদেশী বিপ্লবী তার বাড়ির বেসমেন্টে আত্মগোপনে আছেন যাকে তার একটি মেয়ে প্রতি বেলা খাবার সাপ্লাই দেন।অমা শুধু খাবার না তিনি আবার তাকে দিলটাও দিয়ে দিছেন।ভাল খুব ভাল।তো এই ভালবাসা বৃথা যায়নি।তাদের মধ্যে বিয়ে হল।বাসর রাত দুজনে চরম পুলকিত। সিন একটু হট উভয়ে কাপড় খুলছেন।এরমদ্ধে দেখা গেল আলিঙ্গন চলছে।ওমা ভাইজান তো নপুংসক তাতে কি নায়িকা বললেন তবুও তোমায় ভালবাসি।কারণ এটা ১৯৪০ সাল।তখন সমাজ আর নারীরা এমনই ত্যাগী ছিলেন।আমার বিশ্বাস এই অংশটা খাঁটি।বিয়ের কয়দিন পর ব্রিটিশ বাহিনী তাদের গৃহে হামলা করল গোপন সূত্রে জানা গেছে এখানে একজন স্বদেশী আছে।খুব সুপুরুশ টাইপ এক অফিসার চার্জে আসলেন।তিনি খুজলেন এমনকি বেসমেন্টে চেক করলেন।আসামি নেই।এর মধ্যে স্বদেশীর পলায়ন করলেন।সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক ভেঙে গেলেন।চিরকুটে তিন বার তালাক লিখে গেলেন।নায়িকা ক্রন্দন করলেন।কিন্তু অফিসারের কাজ শেষ না।ডাক্তার সাহেবের আরেকটি মেয়ে তার চোখের দিকে তাকাল দৃষ্টি বিনিময়,কাহিনী বুঝলেন?জি উনাদের প্রেম পাক্কা।বিয়ে সাদি হয়ে গেল অফিসার তার কাজ করতে এসে জীবনসঙ্গী পেয়ে গেলেন।আসামি পেলেন না তিনি হলেন স্বামী।
যিনি সদ্য তালাকপ্রাপ্ত হলেন তার কি হবে এখন।চিন্তা করবেন না কোন কিছুর জন্য জীবন থেমে থাকে না।তিনার গতি হল।তাদের পরিবারের একজন আত্মীয় নামীদামী একজনের সাথে বিয়ে হল।মুলত তাকে নিয়ে বা তার জীবন কাহিনি নিয়ে এ মুভি।তিনি এখানে অবশ্যই গুরুত্ব রাখেন।
ঘটনাচক্রে ইংরেজ আমল শেষ।ধুতি পড়া গান্ধীজী জেটিয়ে ইংরেজ বিদায় দিলেন।সাথে ইন্ডিয়া দু’খণ্ড করে।একভাগ ভারত আর আরেকটি ফাকিস্থান(পাকিস্থান)যেতে যেতে ব্রিটিশ মস্তিষ্ক পাপিরা আমাদের বাঁশ দিয়ে গেলেন।যে বাঁশ আজো আমরা খেয়ে যাচ্ছি।মেইড ইন ব্রিটিশ,ভাল না হয়ে কি পারে।
দেশ ভাগের পড়ে ওই পরিবার স্থায়ি হল পাকিস্তানে।ইংরেজদের সাথে তৃতীয় কন্যা যাকে নিয়ে গল্পের প্রধান অংশ তার স্বামীর খুব ভাব ছিল ইংরেজদের সাথে তখন একটি পরিবার দেশ ভাগের আগে তাদেরকে গান শুনাত আর ভদ্রভাবে ভিক্ষায় জীবন যাপন করত।এই পরিবার আবার হিন্দু।এই হিন্দু পরিবার আর এই নামীদামী পরিবারের একটি বিরাট যুগসুত্র আছে।যখন ইন্ডিয়া দু’ভাগ হয় ১৫ আগস্টে সেদিন এই দু পরিবারের ঘর আলো করে দুই সন্তানের জন্ম হয়।কিন্তু হাসপাতালের নার্স মেরী ইচ্ছে করে গরিব ভিখারি ছেলেকে অফিসারের ছেলের সাথে বদল করে দেয়।মেরির কাহিনী আর বললাম না।ত দুই ছেলে দুই পরিবেশে বড় হচ্ছে।যিনি ধনীর ছেলে যে কিনা বড় হচ্ছে গরিবের ঘরে তিনি খুব রগচটা।আর গরিবের ছেলে ধনীর ঘরে যে বড় হচ্ছে সে আবার সাধারণ মাপের।
ছোট বেলায় সাধারণত আমরা আড্ডা বা সঙ্গীদের নিয়ে বাস্তব জীবনে মাঠে ময়দানে খেলাধুলা করি।এখানে ধনীর ছেলেটা তার সঙ্গি খুঁজে পেল বাস্তবে কিন্তু সব চরিত্র কাল্পনিক।ঘুমের কাল্পনিক না, জেগে থেকে কাল্পনিক।শিশুর জগত যেভাবে তৈরি হয়।(হয়ত এটাকে হেলসিয়েসন বলে) হতেই পাড়ে কারণ শিশুদের কাল্পনিক জগত অনেক ব্যাপক।এবং সে নিজে এটা কন্ট্রোল করে।তাই হয়ত দিপা মেহতা নাম দিয়েছেন। Midnight ‘s children।তো এই ছেলে তার কল্পনার জগত সৃষ্টি করতেই পারে।আমি আপনি আমরা সবাই এর ভিতর দিয়ে এসেছি।কিন্তু যখন আমরা আস্তে আস্তে বড় হয়ে উঠি তখন নিশ্চয়ই ছোটবেলার সেই কাল্পনিক জগতটা আর থাকে না।
বিশ্লেষণে যেতে চাচ্ছি না। গল্পের এই শিশুটি কাল্পনিক একটি জগত তৈরি করল।মজার ব্যাপার হল সে শুধু একা না একটি গ্রুপ নিয়ে তারা তাদের জগতে প্রবেশ করে।এই জগতে দেখা যায় ছেলে মেয়ে উভয়েই আছে মত অমিতের বিভেদ আছে।চরিত্র গুলো দিনে দিনে পাল্লা দিয়ে এগিয়ে চলছে তাদের বয়সও বাড়ছে।
এই শিশুকে পড়াশুনার জন্য পাঠানো হল তার খালার বাসায় যে খালা গল্পের ঐ অফিসারের স্ত্রী।তিনি আবার খুব কড়া এবং নিয়মানুবর্তীতা মেনে চলা আদমি।।তাকে তার নাম সম্বোধন করে সার বলতে হয়।অনেক শাসন বারণ এর মধ্যে জীবন যাপন।
এখানে শৈশব থেকে কৈশোর পের হল বাচ্চাটির। তারপর বাংলাদেশ পাকিস্তানের যুদ্ধ।এই যুদ্ধে অংশগ্রহন।অনেক কাহিনী।সবচেয়ে ভাল লেগেছে জেনারেল অরোরার কাছে পাকিস্তান বাহিনীর আত্মসমর্পণ।আরও অনেক গুঁজামিল দিয়ে তৈরি করা এই মুভি।বাস্তবের সাথে এর মিল পাওয়া কটিন।নিঃসন্দেহে দিপা মেহতা একজন তুখোড় নির্মাতা।watar নির্মাণ করার পর এই মুভিটা মোটেও আগের কোনটার সাথে খাপ খায় না।মুভিটার সবকিছু বলতে চাওয়া বোকামি,সেই সাথে বিরক্তি আর বাড়াচ্ছি না।যদি কার দেখতে ইচ্ছে করে দেখে নিয়েন।সবকিছু বললে দেখবেন কি?বলা যায় না এসব গল্প আবার হিট হয়ে যায়।পুরস্কারে পুরস্কারে সয়লাভ।অখাদ্য নাকি এখন খাদ্য বলেই গণ্য।বিচিত্র মানুষ বিচিত্র এই দুনিয়া।

১২ thoughts on “দিপা মেহতার অখাদ্য

  1. এই ধরনের মুভিগুলোর মান খুব
    এই ধরনের মুভিগুলোর মান খুব ভাল হলেও হিট খায় না, সবাই দেখার চান্স ও পায়না, ইভেন নাম ও জানেনা

  2. দীপা মেহতার এর আগের প্রতিটা
    দীপা মেহতার এর আগের প্রতিটা মুভিই ভালো লেগেছে। তার মধ্যে ওয়াটার বেশী ভাল্লাগছে। আপনার রিভিউ পড়ে তো হতাশ হইলাম। এই মুভি দেখার আগ্রহ হারাই ফেললাম। :কথাইবলমুনা:

  3. আতিক ভাই ওয়াটার আর এটা অনেক
    আতিক ভাই ওয়াটার আর এটা অনেক দূরত্ব আছে।তবুও দেখেন।আপনার দেখার চোখ সুন্দর ভালো কিছু পেয়ে যেতে পারেন।

  4. এইসব ছবি সাধারণত পুরস্কারের
    এইসব ছবি সাধারণত পুরস্কারের জন্যই তৈরী ।আমি ভাই কঠিন টাইপের ছবি বুঝি না

  5. রিভিও পড়ার প্রথম দিকে তো মনে
    রিভিও পড়ার প্রথম দিকে তো মনে হয়তেছিল খুভ ভাল মুভির কাহিনী পড়তেছি, বর্ননা ও ভালই রসাদার ছিল কিন্তু শেষে এমন টার্ন নিলেন ক্য??

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *