অতঃপর……………পরাজয়!!!!!

বঙ্গবন্ধু একটি অনিচ্ছুক জাতিকে স্বাধীনতা দিয়ে গিয়েছিলেন। তা না হলে লাখো প্রাণের বিনিময়ে অর্জিত এই দেশে, একশ্রেণীর মানুষের কাছে এখনও একাত্তরের ঘাতক এবং তাদের রাজনৈতিক দর্শন বেশ সমাদৃত। যে দেশের নাগরিকরা এখনও স্বাধীনতার অর্থ বা মূল্য কোনটাই বুঝতে সক্ষম নয়। তারা নিষ্পেষিত ও শোষিত হতে বেশি পছন্দ করেন। বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে এক সাংবাদিক এক রিক্সাচালকের কাছে নির্বাচন সম্পর্কে তার বক্তব্য জানতে চাইলে উত্তরে সেই রিক্সাচালক অকপটে স্বীকার করেন-সদ্য বিদায়ী মেয়র হিরন বরিশাল শহরের জন্য যা কাজ করেছেন এর আগে কোন সময়ে বরিশালে এত উন্নয়নমূলক কাজ হয়নি। তার শেষ মন্তব্য ছিল ‘কিন্তু হিরন তো আওয়ামী লীগ করেন’!
কী এক ভয়ঙ্কর মন্তব্য!!!! যে দলটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হলো সে দল করার অপরাধে অনেক উন্নয়ন করা সত্ত্বেও হিরনকে একজন সাধারণ ভোটার ভোট দেবেন না? এমন মন্তব্য শুধু একটা রিক্সাওয়ালার নয়, আরও অনেকের আছে। তাদের কাছে আওয়ামী লীগের বিকল্প সেই সব দল বা ব্যক্তি যাদের নিত্যদিনের সঙ্গী সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, রাষ্ট্রীয় সম্পদের অবাধ লুটপাট, মানি লন্ডারিং আর লাগামহীন দুর্নীতি। সংসদে মহিলা সদস্যরা যখন শুধু প্রাপ্ত- বয়স্কদের শ্রাব্য ভাষা ব্যবহার করেন তখন তারা তা বেশ উপভোগ করেন। এরা সম্ভবত ফ্রয়েডিয়ান (ফরাসী মনোবিজ্ঞানী) চিন্তাধারায় বিশ্বাস করেন। ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সুলতান মুহাম্মদ মনসুরের নেতৃত্বে ডাকসুতে ছাত্রলীগ বিজয়ী হয়েছিল। নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীরা একটি বিশাল বিজয় মিছিল বের করে। ছাত্রদলের ক্যাডাররা অতর্কিত সেই মিছিলে সশস্ত্র হামলা করে এবং অনেক ছাত্রীকে আহত করে। কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, পরের ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী হলসহ ডাকসুতে বিজয় লাভ করে। এবারের চার সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে লীগের হারের পেছনে অনেক জাতীয় ইস্যু গুরুত্ব পেয়েছে বলে আমরা অনেকেই মনে করি। কিন্তু একটু যদি পেছনে ফিরে যাই, ২০১০ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের কথা চিন্তা করি তাহলে বিশ্লেষণগুলো হয়তো বা আরও একটু বস্তুনিষ্ঠ হবে। এই নির্বাচনটি হয়েছিল জাতীয় নির্বাচনের দেড় বছরের মাথায়। তখনও বিএনপি বা জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতিতে ২০০৮ জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পর তেমন একটা সক্রিয় হয়ে ওঠেনি। চট্টগ্রামের সেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য তাদের কোন প্রার্থীকেও রাজি করানো যায়নি। কৌশল হিসেবে তারা ভাগিয়ে নিয়ে আসলেন আওয়ামী লীগের এক ওয়ার্ড কমিশনার মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুকে যিনি কিনা ওয়ার্ড পর্যায়ে রাজনীতিতে এসেছিলেন আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবং তিনবার বিপুল ভোটে নির্বাচিত মেয়র এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরীর হাত ধরে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর চরম শত্রুও স্বীকার করবেন তিনি একজন জননন্দিত নেতা ছিলেন। এক এগারোর পর চট্টগ্রামে তিনিই একমাত্র প্রথমসারির নেতা যাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল । তার সব ব্যাংক এ্যাকাউন্ট জব্দ করলে তার পরিবার তখন চরম আর্থিক কষ্টে পড়ে ।
তখন তার কন্যা টুম্পা দুরারোগ্য ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে ব্যাংককের একটি হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। জেলে যাওয়ার আগে তিনি মেয়রের দায়িত্বটা অন্য কাউকে নয় মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুকেই দিয়ে গিয়েছিলেন । প্রায় দেড় বছর পর ফখরুদ্দীন সরকারের শেষ সময়ে এসে তিনি জেল হতে ছাড়া পান। স্বাভাবিক কারণেই তিনি তার কন্যাকে দেখতে ব্যাংকক যেতে চাইলেন। সরকার তাকে অনুমতি দিতে গড়িমসি করলে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। আদালতের রায়ের পর তিনি ছুটলেন বিমানবন্দরে। বিমানে ওঠার আগেই খবর এলো কন্যা টুম্পা তাদের ছেড়ে না-ফেরার দেশে চলে গেছে।
২০১০ সালের নির্বাচনে মহিউদ্দিন চৌধুরী তার সাগরেদ মঞ্জুরুল আলমের কাছে প্রায় এক লাখ ভোটে পরাজিত হন । তখন কিন্তু কোন জাতীয় ইস্যু নির্বাচনে ছিল না।
বিগত চারদলীয় জোট সরকারের আমলে কানসাটে বিদ্যুতের দাবিতে বিক্ষোভরত এলাকাবাসীর ওপর পুলিশ গুলি করলে অনেক হতাহতের ঘটনা ঘটে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সেই কানসাটে বিদ্যুত সাবস্টেশন স্থাপন করে এলাকায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে সেচের ব্যবস্থাসহ বাসাবাড়িতে বিদ্যুত সংযোগ দেয়। সাঈদীর ফাঁসির রায়কে কেন্দ্র করে সারা দেশে জামায়াত-শিবির যে তা-ব চালিয়েছিল তা থেকে এই বিদ্যুত কেন্দ্রও রেহাই পায়নি। দুবৃর্ত্তরা শুধু এই কেন্দ্রটিকে ধ্বংস করেছে তাই নয়, ওই কেন্দ্রে কর্মরত প্রায় কুড়িটি পরিবারকে পুড়িয়ে মারার চেষ্টা করেছিল। মোট ক্ষতি প্রায় দুই শ’ কোটি টাকা। এই ঘটনায় কি এটা ধরে নেয়া যায় যে, সামনের নির্বাচনে এই এলাকার জনগণ আওয়ামী লীগকে সমর্থন জানাবে? সদ্য সমাপ্ত চারটি সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের অবস্থা দেখে তো তা মনে হচ্ছে না।
হেফাজত মে মাসের ৫ তারিখ দেশের রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে দিনভর তাণ্ডেব চালাল। পবিত্র কোরান শরীফে আর মসজিদে আগুন দিল। ব্যাংকের বুথ লুট করার চেষ্টা করল। দেশের বৃহত্তম ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের তালা ভেঙ্গে তার ভেতরে প্রবেশ করল। এই দৃশ্য সারা দেশের মানুষ তো বটেই, বহির্বিশের¦ মানুষ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের বদৌলতে অবাক বিস্ময়ে দেখল। তাহলে কি বিন লাদেন বা মোল্লা ওমরের বাংলাদেশী সংস্করণ এই দেশটাকে দখল করে নিচ্ছে ? শেষ রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দশ মিনিটের অভিযানে যখন হেফাজতীরা তাদের অবস্থান ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য হলো তখন সকলে হাঁফ ছেড়ে বাঁচল । কিন্তু সেখানে বিরোধী দলের নেতারা আড়াইহাজার হেফাজতী আলেম-ওলামা হত্যা আবিষ্কার করলেন; যদিও আজ পর্যন্ত তারা একজনের নাম-ঠিকানাও প্রকাশ করতে পারেনি । কিন্তু ওই আড়াইহাজার আলেম- ওলামা হত্যা করা হয়েছে সেই তত্ত্ব তো এই চারটি সিটি কর্পোরেশনের কথিত সুশীল ভোটাররা বিশ্বাস করেছেন। সুতরাং যারা আলেম-ওলামাদের নির্বিচারে হত্যা করে তাদের প্রার্থীকে তো ভোট দেয়া যায় না। রাজশাহীর সেই দৃশ্যগুলোর কথা কি মনে আছে। যেখানে জামায়াত-শিবিরের সন্ত্রাসীরা পিটিয়ে পুলিশ মেরে ফেলছে। ভোটারদের কাছে এমন সন্ত্রাসী লালনকারী দলের প্রার্থীদের বেজায় পছন্দ। সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অন্তত তাই প্রমাণিত। সুতরাং আওয়ামী লীগকেই ঠিক করতে হবে তারা তাদের প্রতিপক্ষের রাস্তা ধরবে, নাকি দেশের যতটুকু উন্নয়ন কর্মকাণ্ড- চলছে তা চালু রেখে বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে সামনের নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নেবে। তবে এটা মাথায় রাখতে হবে, যারা দেশের স্বাধীনতার জন্য অনিচ্ছুক ছিলেন এবং তাদের পরবর্তী প্রজন্মকে নিজেদের পক্ষে আনার যে প্রচেষ্টা আওয়ামী লীগ করছে তা পণ্ডশ্রম ছাড়া আর কিছু নয়।

২০ thoughts on “অতঃপর……………পরাজয়!!!!!

  1. অনেক সময় এ জাতিকে অকৃতজ্ঞ মনে
    অনেক সময় এ জাতিকে অকৃতজ্ঞ মনে হয় পরক্ষনেই আবার মনেহয় অতি আবেগ প্রবণ। আমরা যদি আবারও কাজের পুরস্কার আর স্বীকৃতি দিতে ভুল করি তবে জনগন আবার তার মাশুল দিবে!! আপনার বিশ্লেষণ মন্দ না… :থাম্বসআপ:
    আমি আবার বলছি ৬৩ জেলার পর ৫০৭ টা উপজেলায় বোমা হামলার মহড়া দেখতে মানসিক প্রস্তুতি নিন!! এইটা আজ অনিবার্য হয়ে দাঁড়ায়ছে এই অকৃতজ্ঞ জাতির সাধারণ জনগন চোখে আঙ্গুল দিয়ে না দেখালে কিছু দেখে না… :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি: :ক্ষেপছি:

  2. কার উপরে আস্থা রাখব? একদল
    কার উপরে আস্থা রাখব? একদল হায়েনাদের কোলে নিয়ে বসে আছে, আরেকদল খেলছে আমাদের চেতনা নিয়ে। মাঝখানে আমরা :মাথাঠুকি:

        1. নিরাময় যোগ্য তখনই হয়, যখন
          নিরাময় যোগ্য তখনই হয়, যখন নিরাময়ের কথা মাথায় রাখা হয়। কিন্তু কেউ যদি মনে করে কোন অসুখই নাই তাইলে নিরাময় কেমনে হবে? এই কথাগুলা কইতে কইতে এখন জামাতি-ছাগু-বাম বিভিন্ন ট্যাগ খাইছি। অসুবিধা নাই তাতে। আমি কি, সেটা আমি ভালো করেই জানি। আমি মনে করি যারা প্রকৃত শুভাকাঙ্ক্ষী তারাই সমালোচনা করে। সমালোচনা আর প্রোপাগান্ডাকে এক করে ফেললে তো মুশকিল।

          1. ভাইরে এযাবত আপনি আমি বহুত
            ভাইরে এযাবত আপনি আমি বহুত সমালোচনা ফরমাইছি। এহন একটু খোমা যান। পাগলা কুত্তারে সহ্য না হইলে সামনে নির্বাচনে কুত্তারে ভোট দিয়েন না। ব্যাস। খেল শুরু হয়ে যাবে!!!নো চিন্তা।। :থাম্বসআপ:

          2. সমালোচনা হজম করে সেই মতে দলীয়
            সমালোচনা হজম করে সেই মতে দলীয় নীতি নির্ধারন করে কাজ করলে ভোটে জেতার জন্য আওয়ামী লীগকে এতো ভড়ং করা লাগত না। মানুষ এমনিই ভোট দিতো। অফ গেলাম আপাতত।

          3. কি আর কমু ডাক্তার সাব আম্রা
            কি আর কমু ডাক্তার সাব আম্রা হইলাম পুন্দানি খওয়া জাতি। আম্রা খুব ভালু পুন্দানি খাইতারি !! :হাসি:

          4. আমার উপরের সব মন্তব্য
            আমার উপরের সব মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করলাম। কারন এসব বলা বৃথা। আমাদের দুই দল খুব ভালো করেই জানে পাঁচ বছর গ্যাপ দিয়ে দিয়ে তারাই ক্ষমতায় আসবে, তাই লুটে পুটে চেটে খাও, কুছ পরওয়া নেহি। :হাসি:

    1. শুয়োরের চেয়ে কিন্তু কুত্তা

      শুয়োরের চেয়ে কিন্তু কুত্তা ঢের ভালো

      হম সাব্বির ভাই এর কথার সাথে সহমত । পরিস্থিতি এমনি দাঁড়িয়েছে !!!!

  3. আওয়ামীলীগ আত্মঘাতী দল।
    আর

    আওয়ামীলীগ আত্মঘাতী দল।
    আর বাঙ্গালী অকৃতজ্ঞ জাতি। হয়তো এই বাঙ্গালী যুদ্ধ করেছিল স্বাধীনতার মানে না বুঝেই, অথবা এখন স্বাধীনতার মানে ভুলে আবার পাকিস্তান হওয়ার স্বপ্নে বিভোর। :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট: :মাথানষ্ট:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *