দাইমা


(১)
ছোট্ট একটা পুটুলি বগলদাবা করে হনহন করে এগিয়ে যাচেচ্ছ ফেলানীর মা । সে আশেপাশের ৮/১০ টি গ্রামের একমাত্র দাইমা । দীর্ঘাঙ্গী,শ্যামবর্ণা,পেটা শরীর । প্রয়োজন হলে খাটতে পারে ভূতের মত । কোন গরুর গাড়ী বা পালকি না থাকলেও হেঁটেই চলে যেতে পারে ৪/৫ মাইল । গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনে রাত দু’টো-তিনটে কোন বিষয় না ।এই গ্রামের বুড়োরা বাদে বাকী সবার তার হাতেই জন্ম । শুধু এই গ্রাম কেন আশেপাশের সব গ্রামের একই চিত্র । দু-চারজন শহর সংশ্লিষ্ট পরিবার বাদে সবার ভরসা ফেলানীর মা ।
(২)
-ফেলানীর মা, কই যাও ?
-ঐ রামনগর যাইতাছি ।
-কার বাড়িতে যাও ?
-জগা পোদ্দারের ছেলের বউ পোয়াতী, ব্যাথা উঠছে ।


(১)
ছোট্ট একটা পুটুলি বগলদাবা করে হনহন করে এগিয়ে যাচেচ্ছ ফেলানীর মা । সে আশেপাশের ৮/১০ টি গ্রামের একমাত্র দাইমা । দীর্ঘাঙ্গী,শ্যামবর্ণা,পেটা শরীর । প্রয়োজন হলে খাটতে পারে ভূতের মত । কোন গরুর গাড়ী বা পালকি না থাকলেও হেঁটেই চলে যেতে পারে ৪/৫ মাইল । গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনে রাত দু’টো-তিনটে কোন বিষয় না ।এই গ্রামের বুড়োরা বাদে বাকী সবার তার হাতেই জন্ম । শুধু এই গ্রাম কেন আশেপাশের সব গ্রামের একই চিত্র । দু-চারজন শহর সংশ্লিষ্ট পরিবার বাদে সবার ভরসা ফেলানীর মা ।
(২)
-ফেলানীর মা, কই যাও ?
-ঐ রামনগর যাইতাছি ।
-কার বাড়িতে যাও ?
-জগা পোদ্দারের ছেলের বউ পোয়াতী, ব্যাথা উঠছে ।
-একটু জিরাইয়া নেও ।
-এহন জিরানোর টাইম নাই । মানুষ মরে, আর উনি আইছে খাজুইরা আলাপ করতে
-কি দিবো কইছে নাকি ??
-আমিতো চাইছি ২ মুটকি চাইল (৪০ কেজি), একটা ভালো মিলের কাপড় আর পুনার টেকা ।
-দিবোতো?
-আগেতো হগলেই কয় দিমু, কাম খালাস অইয়া গেলে খালি পিছলায় । এক মুটকি চাইল আর পাতলা ত্যানা কাপড় দিয়া বিদায় করে । এহন কথা রাহো, আমি যাই ।
-আইচ্ছা যাও, ভালো কইরা খালাস কইরো । মরলে কইলাম জগা পোদ্দার খবর করবো ।
-মরা-বাঁচা কি আমার হাতে ? ডাক্তারগো হাতে কি মরে না?? আমার হাতে আর কয়জন মরছে !
– হ হ ঠিক আছে, যাও তাইলে ।
-হ যাইগা, আল্লাহ ভরসা ।
ফেলানীর মা তাড়াতাড়ি জগা পোদ্দারের বাড়ির দিকে পা বাড়ায় ।
(৩)
বাড়ির উঠানে ছোট্ট একটা আঁতুর ঘর করা হয়েছে, সেখানে জগা পোদ্দারের বউ বসে আছে । বাইরের বারান্দায় জগা পোদ্দার চিন্তিমুখে হুকা খাচ্ছে । আশেপাশের বাড়ি থেকে বউ-ঝিরা এসেছে । তবে সবাই মূলত: ফেলানীর মার জন্যই অপেক্ষা করছিলো । ফেলানীর মা আসতেই সবার মধ্যে এক ধরনের স্বস্তি । আঁতুরঘরে পোয়াতী বউটার জান্তব চিৎকার শোনা যাচ্ছে ।
-এতক্ষণে তুমার আসার সময় অইলো? আরো তাড়াতাড়ি আইতে পারলা না??
-আমিতো দেৌড়ায়াই আইলাম ! গাড়ি-ঘুড়া তো আর নাই ।
-যাও তাড়াতাড়ি ঢুকো ঘরে।
-গরম পানি,আগুণের মালশা-এইগুলা আছেতো?
-হ হ যাও-যাইতাছি, আর কিছু শুকনা কাপড় লাহবো ।
– ঠিক আছে কুন চিন্তা কইরো না, আল্লাহ ভরসা ।
জগা পোদ্দার উঠানে পায়চারী করছে ।তার ছেলে গিয়েছে গঞ্জে । সে শুধু ফেলানীর মায়ের ভরসায় থাকতে রাজি হয়নি । জগা পোদ্দার অবশ্য বলেছিলো দরকার হবে না । তার ৫ ছেলে-মেয়ের সবাইতো ফেলানীর মায়ের হাতেই জন্মাইছে । ছেলে ঠিক ভরসা পায় নি । কিন্তু সে তো এখনও এসে পেৌছালো না, ওদিকে রাত বাড়ছে । হটাৎ আঁতুড় ঘর থেকে বাচ্চার কান্নার আওয়াজ শোনা যায় । জগা এগিয়ে যায় ।
-কি খবর ?
-তোমার আরেক বউ জন্মাইলো ।
-ধুর বেটি । বউমা কেমন আছে হেইডা ক।
-গাছ-ফল দুইডাই সহি-ছালামতে আছে । কও শুকুর আলহামদুলিল্লাহ ।
-চুপ থাকো । আমারে কয় আলহামদুলিল্লাহ কইতে ! আমি কি তগো জাতের?
-তাইলে তুমি তুমাগোটা কও । আমারে কিন্তু চাইল ২ মুটকি দিতে অইবো, সাথে ভালো মিলের কাপড় আর ১৫ টেকা ।
-আইচ্ছা তা দেহা যাইবো…এহন তুমি ২/৪ দিন বউমার সাথে থাহো ।
-তা থাকুমআনে ।
– ঠিক আছে, আমি যাই, মন্ডপঘরে খবরডা দিয়া আসি ।
-যাও যাও ।
(৪)
-কি ফেলানীর মা, কই থিকা আইলা?
-ওই মন্ডল বাড়ি থিকা ।
-কোন খবর আছে নাকি ?
-ইনতাজের পোল অইছে ।
-কও কি ! ভালো খবরতো!!
-খবরতো ভালই, খালি আমার পাওনা-গন্ডার ব্যালায় হাত টানাটানি ।
-ক্যান..দেয় নাই তোমারডা ?
– দিছে মোটে ১৫ সের চাইল আর ১৫ টেকা । কাপড় পড়ে দিবো কইছে । এহন নাকি তাগো হাত খাটো।
– তা তুমি কি কইলা?
-আমি কইলাম-তুমার খাটো হাত লম্বা অইবো কবে ?
-ভালইতো কইছো
-হ..তা তুমি কই থিকা আইলা? মনে অয় পূইজা কইরা আইলা?
– হ..রতন সাইগো বাড়িতে নারায়ন পূজা অইলো ।
– কও কি ! নারায়ন পূইজায় আমারে দাওয়াত দিলো না সাই । পামানি, অগো বাড়িতে পোয়াতি আছে, আমারে ডাকলে যামু না ।
-তমি কি না যায়া পারবা?
-হেইডাইতো অইছে মুস্কিল!
-হুম..
-তা রতন সাই প্রণামী কি দিল ?
-সোয়াসের আতপ চাইল,সোয়া সের ডাইল,৭টা গামছা,১ টা ধুতি আর ২১ টেকা ।
-ম্যালা কিছুইতো পাইছো একবেলা মুন্তুর-ফুন্তুর পইড়া , আর আমার বেলায় লোকে ১০ সের চাইল আর ১টা কাপড় দিয়াই কাম সারে ।
-এইসব শাস্ত্রের নিয়ম , তুমি বুঝবা না ।
-না বুঝলাম, তয় নিয়মডা ভালই, আমি যমের সাথে টানাটানি কইরা মানুষের জীবনডা বাঁচাই-হেইডা কেউ দ্যাহে না !
-তুমিওতো কম পাওনা !
– আর পাওয়াপাওয়ি । দনিকাল যা পড়ছে! বড়লোকের বউ-ঝিরা সমানে প্যাট কাইটা আসতাছে গঞ্জের হাসপাতাল থিকা ।আইচচ্ছা তুমিই কও ঠাহুর..এত মানুষ আমার হাতে জন্মাইলো-অসুবিধা কি অইছে ?
-এহনতো দিনকাল বদলাইতাছে-মানুষ আর দাইগো উপুর ভরসা পায় না ।
-আমিতো আর কুন কাম জানি না, বয়সও অইয়া গেল, খামু কি ?
-ক্যান..তুমার ফেলানীর কাছে যাইবা..
-ফেলানী কি আর আমার আপন মাইয়া, তাছাড়া ওরাই খাইবার পারে না তো আমারে খাওয়াইবো !
– তাইলেতো মুস্কিল-ই ।
-আইচ্চ্ছা..এই গিরামের এতগুলা মানুষ আমার হাতে জন্মাইলো, আমি তাগো দাইমা, হেরা আমারে দেখপো না ?
-দেখপো দেখপো..তুমি চিন্তা কইরো না ।

(৫)
ফেলানীর মার কাজ ইদানিং কমে গেছে । তাছাড়া বয়সও হয়েছে । লোকজন এখন আর অপ্রশিক্ষিত দাই-অভিঞ্জতাই যাদের সম্বল-তাদের উপর খুব একটা ভরসা পায় না । শহরে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়, কেউ কেউ সিজার করতে শুরু করেছে । ফেলানীর মা’র তাদের উপর খুব রাগ । সে ক্রমাগত সিজার করার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় ।
-বু..হুনছো নাকি ?
-কি ?
-ছলিমের বউ নাকি পেট কাটাইছে !
-হ হুনছি..তো কি অইছে?
-পেট কাটা বাচ্চা কি ভালো অয় ! তাগো অসুখ-বিসুখ লাইগাই থাহে, রুগা-দুব্বল অয়-জানো না?
তাই নাকি ?
-হ..আমি কি তুমার কাছে মিছা কতা কমু ! ৩০ বছর ধইরা দাইয়ের কাম করি । আমি কি জানি না মনে করছো ! এসব করলে আল্লাহ নারাজ অয় ।
-তরে কইছে কেডা?
-তুমি মেৌলবীগো কাছে হুইনা দেইহো..
-আমারতো খাইয়া-দাইয়া আর কাম নাই-এই কথা মেৌলবীরে জিগাইবার যামু !
-তয় কতাডা কইলাম মিছা না, জমিরের পুলাডারে দ্যাহো নাই?
-ওর নাকি ওইডা অসুখ, কি একটা নাম কইছে ডাক্তারে ।
-আরে ওসব কিছু না । পেট কাটাইরে অইরহমই অইবো ।
-ফেলানীর মা..তুমারে কি মাইনষে ডাহে নাকি কামে ?
-কি করি কওতো বুব…এদিকে বয়সও যায় যায়, আর মাইনষেরও পেট কাটার ধুম লাগছে ।
-হুম..মুস্কিল-ইতো অইলো তুমার ।
-বু..আমারে ১ সের চাইল দেও না । ঘরে খাওনের কিছু নাই ।
-কার্তিক মাসতো-১ সের দিবার পারুম না-আধসের দিতাছি ।
-আইচ্ছা তাই দেও ।
(৬)
ফেলানীর মার বয়স হয়েছে । ঠিকমতো দাইয়ের কাজ করতে পারে না, আগের সেই তাগতও নেই । তাই কেউ আর তাকে দাইয়ের কাজে ডাকে না । তাছাড়া দিন দিন দাইয়ের উপর মানুষের ভরসা কমছে । রোগী নিয়ে সবাই হাসপাতালে যায়-নয়ত বাড়িতে নার্স নিয়ে আসে । ফেলানীর মা’র ঠিকমতো দিন চলে না ।এর-ওর বাড়িতে চেয়ে-চিন্তে তার দিন চলে । কেউ ঠিকমতো সাহায্য করে না । অথচ আশেপাশের কয়েক গ্রামের ১০ থেকে ৪০ বছর বয়সী সব মানুষই তার হাতে জন্মেছে । সে প্রধান বাড়ির পুকুর চালায় একটা কুড়েঁঘরে থাকে । ঋণের দায়ে তার নিজের বাড়িটি বিক্রি করতে হয়েছে । আস্তে আস্তে লোকজন আর তাকে খুব একটা সাহায্য করে না । ফেলানীর মা প্রতি হাটবার ব্রীজের গোড়ায় বসে ভিক্ষা করে । সকলের দাইমা ফেলানীর মা’র আগের দাইমা পরিচয় আস্তে আস্তে মুছে যায । সে এখন শুধুই ভিক্ষুক ।
(৭)
-বাবাগো কিছু ভিক্ষা দেও, ৪ আনা -৮ আনা যা পারো ।
– তুমি ফেলানীর মা না !
-হ..তুমি কেডা বাবা ?
-আমি শামীম,রহিম মৃধার ছেলে ।
-ওহ..তা তুমি আমারে দ্যাহো নাই ।
-আমি অনেকদিন কুয়েতে ছিলাম,আজ আসলাম । তুমি আমার দাইমা আছিলা ..মনে আছে?
-হ..হ.মনে পড়ছে..বাবা আমার এহন খুব অভাব , আমারে দুইডা টেকা দিবা?
-এই নাও ৫ টেকা দিলাম
শামীমের অনেক দিন পর ফেলানীর মাকে দেখে খারাপ লাগে । কিন্তু গ্রামের যারা প্রতিদিন দেখে,তাদের চোখ সওয়া হয়ে গেছে ।যেন হাটবারে ভিখক্ষা করাই তার নিয়তি ! সপ্তাহে ২ দিন হাট হয়..ওই দুই দিনই ফেলানীর মা’র যা একটু ইনকাম হয়-তা দিয়ে পুরো সপ্তাহ চলে না । খেতে না পেয়ে এবং অযত্ন অবহেলায় ফেলানীর মা ধীরে ধীরে আরো দুর্বল হয়ে পড়ে ।
(৮)
আজ বাজারে এম.পি আসবে । এই এলাকার জনপ্রতিনিধি । নির্বাচিত হবার পর এটাই তার প্রথম এলাকায় পদার্পণ । প্রস্তুতিতে কোন ঘাটতি রাখেনি দলের নেতা-কর্মীরা । মাইকিং, স্টেজ,জমায়েত সবই ভালোভাবে হচ্ছে । নেতা বক্তুতা দিবেন ৪ টার দিকে । তার আগে স্টেচ গরম করে রাখছে স্থানীয় নেতারা । নেতা এলেন তিনটার দিকে । স্থানীয় নেতাদের সাখে কথা বলে,হালকা নাস্তা সেরে নেতা ৪ টার দিকে স্টেজে উঠলেন এবং একটা আবেগময় বক্তুতা দিলেন । দিলেন অনেক প্রতিশ্রুতি । যারা গামছা পরে খাল-নদী পেরিয়ে এসেছে-তারা শুনলো বড় বড় সেতুর প্রতিশ্রুতি,বেকাররা শুনলো চাকরির প্রতিশ্রুতি,এলাকার কলেজ-হাইস্কুলে নতুন ভবনের প্রতিশ্রুতিও পেলো এলাকাবাসী ।অর এমপি নগদ দিলেন ২০ হাজার টাকা । ১০ হাজার মসজিদের ফ্যান আর কার্পেটের জন্য এবং৫ হাজার কলেজের ও ৫ হাজার হাইস্কুলের ছেলে-মেয়েদের মিষ্টি খাবার জন্য । জনসভায় আসা হাজার হাজার ছাত্র-ছাত্রী নেতার নামে জয়ধ্বনি দিচ্ছিলো । সবকিছুই ভালভাবে শেষ হতে চলেছে । নেতা সকলের সাথে করমর্দন করতে করতে তার দামী গাড়ীতে গিয়ে উঠবেন এমন সময় নেতার সামনে এসে হাত-পা জরিয়ে ধরলো ফেলানীর মা-
– বাবা ..আমি তুমারে ভোটা দিছিলাম…
-এই কে এটা.. কে?
– আমি এই গিরামের সকলের দাইমা । এখন কাম করবার পারি না । কেউ আম,ারে আর দ্যাহে না । আমারে তুমি বাঁচাও ।
– হেই..কি করছো..ছাড়ো ছাড়ো…
-তুমি তো দ্যাশের রাজা..তুমি আমারে দেখবা না!
নেতা বিরক্তিতে নাক কুঁচকে ফেলেছে । ফেলানীর মা নেতার পা জড়িয়ে ধরে আছে.. নেতা ঘৃণায় নাক কুঁচকে ফেলেছে । রাগে তার চোখ-মুখ লাল হয়ে গেছে;
-এই কে আছো,একে সরাও তাড়াতাড়ি..এত মিসম্যানেজম্যান্ট..যত সব রাস্কেলদের নিয়ে আমার কাজ-কারবার !
স্থানীয় নেতাদের অনেকেই হই হই করে তেড়ে আসে দাইমা ফেলানীর মার দিকে । পাতি নেতাদের কেউই হয়তো ফেলানীর মাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয় । যে ধাক্কা দেয়-সেও ফেলানীর মায়ের হতে জন্মেছিলো…ফেলানীর মা তাকে চিনতে পারে-শমসের । জন্মের সময় সে একটুও কাদছিলো না ।
(৯)
ফেলানীর মা আজ মারা গেছে । আসলে মারা গেছে হয়ত আগেই । আজ সকালে প্রধান বাড়ির কাজের মেয়ে ফেলানীর মা অনেক বেলাতেও ঘুম থেকে উঠছে না দেখে দরজা ধাক্কায় ।কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে সবাইকে খবর দেয় । জানাযা হবে বাদ আছর ।
জানাযা শুরু হয়েছে , মাওলানা ইউসুফ মোনাযাত শুরু করেছে । সে ফেলানীর মা’র অনেক গুনকীর্তন করতে থাকে । হটাৎ সে- ফেলানীর মা আমার দাইমা আছিলো ..আমি তারে কোনদিন সাহায্য করি নাই বলে কাঁদতে শুরু করে । কিছুক্ষণ পর দেখা যায় আরো অনেকেই কাঁদছে । কেউ কাদছে নীরবে, কেউ হু হু করে..কেউ লজ্জায়, কেউ অনুতাপে, আর কেউ অনুশোচনায় ।
জীবিত অবস্থায় কেউ ফেলানীর মাকে দ্যাখেনি…
মরার পর সবাই তার জন্য কোরাসে কাঁদছে ।

২৬ thoughts on “দাইমা

  1. অনবদ্য, অসাধারণ…
    অনবদ্য, অসাধারণ… :bow: :bow: :bow: :bow: :bow: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:
    ভাই আরও চাই… :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি: :অপেক্ষায়আছি:

    1. অনেক ধন্যবাদ । হুমম লেখা
      অনেক ধন্যবাদ । হুমম লেখা চলবে..কিন্তু গল্পোর তোড়ে কাবতা আর আসছে না….কি মুস্কিল ।
      :ধইন্যাপাতা: :নৃত্য: :নৃত্য: :থাম্বসআপ: :ফুল:

  2. লবন এর পর আর একটা চমৎকার
    লবন এর পর আর একটা চমৎকার লেখনী । চালিয়ে যান ভাই । :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

  3. স্বার্থপর সমাজের মুখে কষে এক
    স্বার্থপর সমাজের মুখে কষে এক থাপ্পড় লাগিয়ে দিলেন।
    অসাধারণ…

  4. ভালো লাগল। আপনার লেখার প্লট
    ভালো লাগল। আপনার লেখার প্লট একটু ভিন্ন ধাঁচের, ভালোই লাগছে। চালিয়ে যান। তবে একটানা দারিদ্র-কষ্ট এসব নিয়ে লিখলে পাঠকের কাছে একঘেয়ে লাগতে পারে। যাই হোক লেখা থামাবেন না।

    1. হুমম…একটানা দারিদ্র নিয়ে
      হুমম…একটানা দারিদ্র নিয়ে লিখবোনা….মানুষ আসলে সিরিয়াস টাইপের সাহিত্য খুব একটা পছন্দ করেনা…সাহিত্যেও রিলিফ খোজেঁ…তাই হুমায়ুন পায় আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা….আর হাসান আজিজুল হক বা ইলিয়াসকে কেউ মনে রাখে না…. :ধইন্যাপাতা: :ফুল: :থাম্বসআপ:

  5. লবন এর পর ” দাইমা ” । ভালো
    লবন এর পর ” দাইমা ” । ভালো লিখেছেন । যদিও শেষের অংশটা পছন্দ হয়নি । এভাবে সরাসরি পরিণতি দেখিয়ে দেওয়া গল্পের কাজ না – আমি মনে করি । আপনার গল্প লেখার প্লট নির্বাচন দারুণ । এই ধরণের প্লটে সবার পক্ষে লেখা সম্ভব না । এই ধারার লেখা ও দিন কে দিন হারিয়ে যাচ্ছে । আমাদের সাময়িকী গুলোতে সেই একই ধাঁচের গল্পের চর্বিত চর্বণ । সেই জায়গা থেকে এই ব্লগে আপনার গল্প একটু ভিন্ন স্বাদ এনে দিচ্ছে । লিখতে থাকুন । আরও ভালো ভালো গল্প – কবিতা দিয়ে ইষ্টিশন কে সমৃদ্ধ করবেন এই আশা করি ।

    1. হুমম..৬ আর ৯ নম্বর প্যারা বাদ
      হুমম..৬ আর ৯ নম্বর প্যারা বাদ দিলেও চলে । আজ আরো একটা গল্প দিলাম । এটা আমার প্রথম লেখা গল্প । কেমন লাগে জানাবেন ।
      ধন্যবাদ । অনেক ধন্যবাদ । :বুখেআয়বাবুল: :নৃত্য: :থাম্বসআপ: :হাসি: :ফুল:

  6. ফাটায় ফেলতেছেন আমজাদ ভাই । কী
    ফাটায় ফেলতেছেন আমজাদ ভাই । কী কমু বুঝতাছি না । ইলিয়াসের যোগ্য উত্তরসূরি মনে হইতাছে আপনেরে । দুইটা গল্প পইড়া মনে হইছে আপনি ইলিসরে ফালা ফালা কইরা পরছেন। তার মানে এই না যে আপনার লেখায় মৌলিকত্ব নেই । বড় লেখকের প্রভাব থাকাটা দোষের কিছু না … কী বলেন ?

    1. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর
      আখতারুজ্জামান ইলিয়াস এর উত্তরসুরী !!!
      একটু বেশি হলো না ? লেখকের লেখার প্রচেষ্টা ভালো লেগেছে।
      আশা করি লেখক তার পড়া এবং লেখার চেষ্টা চালিয়ে যাবেন।
      আগাম শুভকামনা লেখককে তার সামনের লেখার জন্য।

      1. ভাই..আপনার মন্তব্যে আমি পুরাই
        ভাই..আপনার মন্তব্যে আমি পুরাই কনফিউজড । “লেখার প্রচেষ্টা মানে কি ? লেখা খারাপ হতে পারে…ভালোও হতে পারে…কিন্তু লেখার প্রচেষ্টা মানেতো ওটা কোন লেখাই হয়নি । জানিনা আপনি কি বুঝাতে চেয়েছেন । :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি: :মাথাঠুকি:

        1. জলে না নেমে তো আপনি সাতাঁর
          জলে না নেমে তো আপনি সাতাঁর শিখতে পারবেন না, তাই না? জলে নামার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
          আমার কাছে জলে নামতে পারাই অনেক সাহসের কাজ. ধীরে ধীরে সাতাঁর শেখা হয়ে যাবে।

          কপালে তো টমের মতন আলু গজিয়ে যাবে। এত কনফিউজড হয়েন না। আপনি লিখতে থাকুন, পাঠক পড়বে নিজ দায়িত্বে। মন্তব্য ও করবে। আপনি লিখতে থাকুন।
          শুভ কামনা।

          1. হুমম…সাঁতার শেখার পূর্বশর্ত
            হুমম…সাঁতার শেখার পূর্বশর্ত জলে নামা । কিন্তু সাঁতার কাটতে হলে সাঁতারটা জানতে হয় । পাঠকের স্বাধীনতা আছে যেকোন ধরনের মন্তব্য করার । আমারও স্বাধীনতা আছে কোন কনফিউজিং মন্তব্য দেখলে কনফিউজড হয়েছি সেটা বলার ।েআমি ধোয়াশা করে কিছু বলিনি । । আমি জানি অনেক লিখলে কিছু লেখা হয় অমর,সেই পর্যায়ে যেতে আমাকেও পাড়ি দিতে হবে অনেক পথ ।আমার লেখা নিয়ে আমি কনফিউজড নই(আমি কতটুকু হরিদাশ পাল সেটা আমি জানি) -আপনার মন্তব্যটাই আমাকে কনফিউজড করেছে-বুঝতে পারছিনা কেমন লেগেছে । যাই হোক প্রচেষ্টা চলবে…. :বুখেআয়বাবুল: 😀

  7. ধন্যবাদ । তবে আমার লেখায় কারো
    ধন্যবাদ । তবে আমার লেখায় কারো প্রভাব ্আছে বলে আমি মনে করি না । আমার সব গল্প কবিতাই অভিজ্ঞতা থেকে লেখা । গ্রাম থেকে উঠে আসাতো ! যদি ইলিয়াসের মতো সাহিত্য রচনা করতে পারতাম তবে জীবনটা লাইফ হয়ে যেতো । :থাম্বসআপ: :নৃত্য: :ফুল:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *