“গয়নার বাক্স” শুধু গয়নার গল্প নয়

শুধু গয়না নিয়ে ঘটে যাওয়া পারিবারিক গল্প বা হারানো গয়না খুঁজতে যাওয়া অথবা ভুতের গল্প ভাবলে বড্ড বেশি ভুল হয়ে যাবে তবে শ্রাবন্তী, মৌসুমি এবং কঙ্কনা তিন নারীর গল্পের যোগসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত উপাদান হিসেবেই নয় বরং অপর্ণা সেনের চলচ্চিত্র “গয়নার বাক্স” -এ রমণীর ভালবাসার এক অন্য ধরনের দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।



শুধু গয়না নিয়ে ঘটে যাওয়া পারিবারিক গল্প বা হারানো গয়না খুঁজতে যাওয়া অথবা ভুতের গল্প ভাবলে বড্ড বেশি ভুল হয়ে যাবে তবে শ্রাবন্তী, মৌসুমি এবং কঙ্কনা তিন নারীর গল্পের যোগসূত্র হিসেবে ব্যবহৃত উপাদান হিসেবেই নয় বরং অপর্ণা সেনের চলচ্চিত্র “গয়নার বাক্স” -এ রমণীর ভালবাসার এক অন্য ধরনের দৃশ্যপট ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে।

একজন বাল্যবিধবা পিসিমা ‘রাসমণি’ তার মনের সব অপূর্ণতাকে পূর্ণতা দিতে বেছে নিয়েছেন সহজ সরল সোমলতাকে। তবে এই রাসমণি কিন্তু ততোক্ষণে কিন্তু পরলোক গমন করেছেন যদিও তার আত্মা নতুন বউ এর আশে পাশেই ঘুরঘুর করছে তো কখনো গাছের মগডালে বসে কষে লাথি লাগিয়ে দিচ্ছেন অথবা রেগে পুরো রান্নাঘরটাকে রণক্ষেত্রে পরিণত করছেন তবে সব কিছুর আগে রক্ষা করছেন তার গয়নার বাক্সটিকে ………
৫০০ ভরি স্বর্ণের গয়না ………

সোমলতা এবং কেন্দ্রীয় চরিত্র রাসমণির ভুত দুইজন ভিন্ন ধরনের চেতনার মানুষ, মাত্র বারো বছর বয়সে বিধবা হওয়া রাসমণি স্বামীকে কখনোই নিজের করে পায়নি, সমাজ তাকে একঘরে করে দেয়, সুবিশাল চুলের গোছা কেটে ফেলে খাবারের তালিকা সংক্ষিপ্ত করে তোলে, খাবারের গন্ধটাই তার কাছে পাওয়া আবার পরবর্তীতে অনেকটা সময় পরে একি বাড়িতে গরীব পরিবার থেকে উঠে আসা সোমলতা ভয় পেলে তোতলামি করে উঠে তবে সে জানতো তার অকর্মণ্য স্বামীকে কিভাবে কর্মঠ করে তুলতে হবে, বড় করে তুলতে হবে শাড়ির দোকান আবার কিভাবে ফিরিয়ে দিতে হবে বিশেষ একজনকে।

মনস্তাত্ত্বিক লড়াই সিনেমার অন্যতম উপজীব্য, পাপ পুণ্য অথবা সতীত্ব বলতে আদতে কি রয়েছে কি নেই বারবার সেই প্রশ্নের সম্মুখীন করে তোলা হয় দর্শকদের… আপনি সিনেমা শেষ হবার পরেও এটা নিয়েই ভাবতে বসবেন সেটা প্রথমেই বলে দেয়া যায়। চিন্তা করবার মতো অনেক কিছুই আমার মাথায় গেঁথে যাওয়াটা স্বাভাবিক।


View on YouTube

গল্পের পটভূমি ১৯৪৯ থেকে ১৯৭১… আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধ, শেষটাই শেষ পর্যন্ত সিনেমার টার্নিং পয়েন্ট, কোথাকার জল কোথায় গড়ায় টাইপ বিষয় খুঁজে পেতে আপনি হঠাৎ আবিষ্কার করবেন প্রচণ্ড ইমোশনাল এক পরিবেশ তৈরি হয়ে গেছে হাস্যজ্জ্বল গল্পটিতে। আমার সোনার বাংলা শুনতে শুনতে আমিও ইমোশনাল হয়ে যাচ্ছিলাম তবে কিনা পরিচালনার দোষে এই ইমোশন খুব বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারিনি।

তবে অবয়ব ধারণ করে কারো মাথায় গুঁতো দিতে বা মুহূর্তে দেশান্তরী হয়ে ফিরে আসতে পারা অতি ক্ষমতাধর এই ভুত কেন নিজেই নিজের গয়নার বাক্স লুকোতে পারছেন না সেই প্রশ্নটাকে আপাতত গল্পের স্বাদ নেয়ার জন্য ভুলে বসলেও শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের লেখায় কেন যেন শেষটা ঠিক মনোঃপুত হয়না, পুরো সিনেমার প্রথম থেকে পেয়ে আসা স্বাদ ধীরে ধীরে যখন পরিবর্তিত হচ্ছে তখন গল্পের গতিও একি সাথে পরিবর্তিত হচ্ছে, শেষ পর্যন্ত শেষাংশ প্রমাণ করে দেয় ভূতেরও আকাঙ্ক্ষা পরিবর্তিত হয়, যে গয়নার বাক্সের জন্য এতো কিছু সেই বাক্স বিসর্জন দিতে কুণ্ঠা বোধ করে না রাসমণি !

অভিনয়ের কথা বললে সবাইই দুর্দান্ত অভিনয় করেছেন, প্রথম দুই তৃতীয়াংশ অসাধারণ পরিচালনা ক্ষমতায় এবং দৃষ্টি নন্দন সিনেমাটোগ্রাফিতে বেশ উপভোগ্য হয়েছিলো, যদিও কেন শেষটায় এমনটা হল সে রহস্য ঠিক বোধগম্য নয় আমার কাছে, এমনকি এই সময়টায় VFX এও বড় ধরনের ভুল ভ্রান্তি লক্ষণীয়।


View on YouTube

শেষে এক কথায় শুধু এটাই বলতে পারি শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এর গল্প অবলম্বনে শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস এর প্রযোজনায় অপর্ণা সেন এর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় চলচ্চিত্র “গয়নার বাক্স” বাংলা চলচ্চিত্রে এক অন্যতম সংযোজন।

১১ thoughts on ““গয়নার বাক্স” শুধু গয়নার গল্প নয়

    1. দেখে ফেলতে পারেন, যদিও
      দেখে ফেলতে পারেন, যদিও ফিনিশিং নিয়ে আমি হতাশ তথাপি পুরো চলচ্চিত্রটি অসাধারণ কিছুই বটে 🙂

    1. প্রথমে তাই মনে হলেও আদতে
      প্রথমে তাই মনে হলেও আদতে সেরকম মোটেই না, শেষে এইটা ভয়াবহ সিরিয়াস গল্পে টার্ন নিবে, টূইস্ট বলছি না, দেখলেই বুঝতে পারবেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *