বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও করণীয় ।(৩য় ও শেষ কিস্তি)

১৭/বৈশ্বিক মন্দা ও শত প্রতিকুলতার মাঝেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় ও একমাত্র ভুমিকা বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের।বিদেশে অবস্থানরত এই বিপুল জনগোষ্টির স্বার্থরক্ষার ব্যাপারে সরকার কতটুকু আন্তরিক তা পত্র পত্রিকার নিউজ দেখলেই বুঝা যায়।পেছনে তাকাবার দরকার নেই।শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও হয়রানি বন্ধে দুতাবাসগুলিকে পদক্ষেপ নিতে কড়া নির্দেশনা প্রদান করা হোক।বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থানরত শ্রমিকদের টু পাইস না নিয়েও সব ধরনের সহযোগিতা দিতে ঐখানের কনস্যুলেট অফিস গুলিকে নির্দেশ দিন।ভুলে যাবেন না,বিদেশে যদি ৫০লাখ লোক থাকে তবে দেশে রয়েছে তাদের কমপক্ষে ৪০লাখ পরিবার।ভোটের রাজনীতিতে এই পরিবারগুলি অন্যতম ফ্যাক্টর।



২য় কিস্তির পর থেকে…

১৭/বৈশ্বিক মন্দা ও শত প্রতিকুলতার মাঝেও দেশের অর্থনীতির চাকা সচল থাকার পেছনে সবচেয়ে বড় ও একমাত্র ভুমিকা বিদেশে অবস্থানরত শ্রমিকদের।বিদেশে অবস্থানরত এই বিপুল জনগোষ্টির স্বার্থরক্ষার ব্যাপারে সরকার কতটুকু আন্তরিক তা পত্র পত্রিকার নিউজ দেখলেই বুঝা যায়।পেছনে তাকাবার দরকার নেই।শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষা ও হয়রানি বন্ধে দুতাবাসগুলিকে পদক্ষেপ নিতে কড়া নির্দেশনা প্রদান করা হোক।বিশেষ করে সৌদি আরবে অবস্থানরত শ্রমিকদের টু পাইস না নিয়েও সব ধরনের সহযোগিতা দিতে ঐখানের কনস্যুলেট অফিস গুলিকে নির্দেশ দিন।ভুলে যাবেন না,বিদেশে যদি ৫০লাখ লোক থাকে তবে দেশে রয়েছে তাদের কমপক্ষে ৪০লাখ পরিবার।ভোটের রাজনীতিতে এই পরিবারগুলি অন্যতম ফ্যাক্টর।
১৮/তথ্যমতে দেশে প্রায় ৬৮ হাজার গ্রাম।প্রতিটি গ্রামে এক হাজার করে ভোটার ধরলে ভোট সংখ্যা প্রায় ৬কোটি ৮০লাখ।এই বিপুল ভোটারের প্রায় ৬০ভাগই দলীয় রাজনীতির বাইরে অবস্থান করছে।গম চোরদের মাধ্যমে সামাজিক নিরাপত্তা বেস্টনির আওতায় এরা কতটা সুফল ভোগ করতে পারে তা গবেষণার প্রয়োজন।কিন্তু গবেষণা করে তথ্য নেয়ার জন্য এখন আর সে সময়টুকু নেই।তাই যে টুকুই বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে তা সঠিকভাবে সাধারনের হাতে কিভাবে পৌছানো যায় তার প্রতি দৃষ্টি দিন।প্রতিটি গ্রামে পৌছে গ্রামবাসীর দাবী-দাওয়া শোনার পাশা পাশি গ্রামের অতিশয় গুরুত্বপুর্ন রাস্তাঘাট,পুল-কালভার্ট,সাঁকো ইত্যাদি মেরামতের জন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশ দিন।পার্লামেন্ট সদস্য থাকাকালীন একবার গ্রামে গেলে যে ফায়দা হবে ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর ৫০বার গেলেও সে ফায়দা হবে না।
১৯/হেফাজতকে প্রশ্রয়,শাপলা চত্বরে সমাবেশের অনুমতি,শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশকে আদালতের মাধ্যমে অব্যাহতি,থাবা বাবার রহস্য উদগাটন না করে রাজীবকে প্রধানমন্ত্রী কতৃক শহীদ ঘোষনা,শান্তিপ্রিয় ব্লগারদের মিথ্যা অজুহাতে গ্রেফতার, শাহবাগের গনজাগরন মঞ্চ ভেঙে দেয়া ইত্যাদি সিদ্ধান্ত সরকারের জন্য ভুল প্রমানিত হয়েছে।পেছনে যা হবার হয়ে গেছে,বর্তমানে যে কোন গুরুত্বপুর্ন সিদ্ধান্ত গ্রহনের পূর্বে সাত পাঁচ ভেবে দেখলেই চলবে।সম্ভব হলে পূর্বে নেয়া কয়েকটি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা যেতে পারে।
২০/স্থানীয় নির্বাচনের কয়েকটিতে প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কিছুটা ব্যর্থতা পরিলক্ষিত হয়েছে।উদাহরণ স্বরুপ নারায়নগঞ্জ সিটিতে আইভিকে রেখে শামিমকে সমর্থন এবং সিলেটে বহু অভিযোগে অভিযুক্ত কামরানকে দল থেকে সমর্থন।স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী নির্বাচনের ব্যর্থতা জাতীয় নির্বাচনে দেখালে পরাজয় সুনিশ্চত।তাই আগামীতে প্রার্থী নির্বাচনে লবিং কে গুরুত্ব না দিয়ে জনপ্রিয়তাকে গুরত্ব দিতে হবে।
২১/রানা প্লাজা ধ্বসের পর রানাকে নিয়ে প্রধানমন্ত্রী,যুবলীগ সভাপতি ও অন্যান্য মন্ত্রীদের মধ্যে স্ববিরুধী বক্তব্য লক্ষ্য করা গেছে।তাছাড়া পদ্মা সেতু,হলমার্ক,সোনালী,বিশ্বজিত হত্যাকান্ড,মাহমুদুরকে গ্রেফতার,তারেক জিয়াকে গ্রেফতারের পরোয়ানা ইত্যাদি বিষয়ে একেক জনের কাছে একেক ধরনের মতামত পাওয়া যায় যা স্ববিরুধীতা বলেই মনে হয়।এসব ত্যাগ করতে হবে।দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যাক্তি বা মন্ত্রনালয় ছাড়া এসব ব্যাপারে মতামত ব্যক্ত না করাই শ্রেয়।বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীকে এসব থেকে দুরে থাকতে হবে।সব মন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সম্পাদক ও প্রেস সেক্রেটারিকে আরো দায়িত্বশীল ভুমিকা পালন করা উচিৎ।
২২/স্বীকার করতে হবে যে, যে কয়টি শর্তের মাধ্যমে মহাজোট গঠিত হয়েছিল,একমাত্র আওয়ামীলীগের একগুয়েমি,উদাসীনতা ও স্বেচ্ছাচারিতার কারনে সেসব শর্ত পুরোপুরি মানা হয়নি বিধায় মহাজোটের মধ্যে মতদ্বৈততা ও সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে।বিগত সিটি নির্বাচনে অন্তত একটি দুটি আসনে লীগ ব্যাতিত জোটের অন্য কোন দলীয় প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া যেত বা দেয়া উচিৎ ছিল।
যাইহোক,পেছন বাদ দিয়ে জোটকে শক্তিশালী করতে হবে এবং এজন্য যা করার আওয়ামীলীগকেই করতে হবে।ঘন ঘন বৈঠক ও খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে বৈরী সম্পর্ককে সুসম্পর্কে নিয়ে যেতে হবে।মনে রাখুন, একমাত্র ক্ষমতার সুষম ভাগাভাগির মাধ্যমেই সেটা সম্ভব হতে পারে।বিশেষ করে জনাব পল্টিবাজদের বাগে আনতে এটা(ক্ষমতা ও হালুয়-রুটির সুষম বন্ঠন)খুবই জরুরী।
২৩/প্রচারেই প্রসার।ব্যাপক প্রচারনা বাড়াতে হবে।সরকারের ভাল দিকগুলি দেশের আপামর জনতাকে জানাতে হবে।এজন্য লেখকের, ‘প্রথম কিস্তির প্রতিকারের উপায় অংশের ৩নং এ দেয়া পদ্ধতি দ্রষ্টব্য’।

#উপরের আলোচনায় একটি কমন বিষয় এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে এবং সেটা হল দ্রব্য মুল্যের উর্দ্ধগতি।দরিদ্র জনগোষ্টির কাছে রাজনীতির চাইতে পেটনীতিই বেশি গুরত্বপুর্ন।কে ক্ষমতায় আসলো আর কে গেল,মুসা ইব্রাহীম পাহাড়ে উঠলো কি না,কে নোবেল আর কে কংগ্রেশনাল মেডেল পেল তা নিয়ে ভাবার সময় তাদের নেই।তাদের কাছে মুখ্য বিষয় হল ১৬০টাকায় কিভাবে ১০জনের একটি পরিবারের বাজার সওদা করা যায়।তারা তফাৎ খোজে এটাই যে,গত সরকারের আমলে চাল,ডাল,তেল,পেয়াজ,কেরাসিনের দর কত ছিল আর এই সরকারের আমলে কত।এই তফাতের বিবেচনায়ই তাদের ভোটের সিদ্ধান্তকে পরিবর্তিত করে।এবং বাস্তবতা হল এই পরিবর্তিত সিদ্ধান্তই সরকার পরিবর্তনে মুল ভুমিকা পালন করে।
বর্তমানে দ্রব্যমুল্য মোটামুটি সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।সরকারকে যেটা করতে হবে সেটা হল,নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মুল্য যদি কমানো সম্ভব না ও হয় তবে বর্তমান মুল্যসীমা যেন অতিক্রম না করতে পারে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন।

পরিশেষ : পরিশেষে বলতে চাই,যদিও আলোচিত অভিমতটি আমার একান্ত ব্যক্তিগত ও ভুল ত্রুটিপুর্ন, তার পর ও আলোচিত পরামর্শের আলোকে সরকার যদি উপযুক্ত সময়ে ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারে তবে শুধুমাত্র আগামী টার্ম নয়, পরবতী টার্মেও এই সরকার দেশের অভিভাবকের দায়িত্ব পালন করতে পারে।
…(পরিসমাপ্ত)

প্রথম কিস্তির লিংক…
http://istishon.blog/node/2881
২য় কিস্তির লিংক…
http://istishon.blog/node/2909

১০ thoughts on “বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও করণীয় ।(৩য় ও শেষ কিস্তি)

  1. কমপ্লিট প্যাকেজ।
    কিন্তু

    কমপ্লিট প্যাকেজ। :তালিয়া: :তালিয়া:
    কিন্তু আমাদের সরকার যদি আদৌ বুঝত । !!!!!!!!! হুম । হতাশ

    1. আশায় বাধি বুক
      পাব প্রত্যাশিত

      আশায় বাধি বুক
      পাব প্রত্যাশিত সুখ
      সুখী সমৃদ্ধশালী হবে
      একদিন বাংলা মূলুক ।:-*

    1. আপনার প্রশ্নটি পুরো বুঝতে
      আপনার প্রশ্নটি পুরো বুঝতে পারলাম না ।কাদের ভোট ফিক্সড থাকে? বিস্তারিত আশা করছি ।
      ধন্যবাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *