বাঙ্গালির কিছু খাদ্য [ খাঁটি নিজস্ব ]

বাঙ্গালি খাদ্য বলতে সবাই বুঝে সেই পহেলা বৈশাখে গরিবের খাওয়া বড়লোকি স্টাইলে ” পান্তা ইলিশ ” খাওয়া ।
যাই হোক । নিজে খেয়েছি নিজের পছন্দের কিছু দেশি ঘরানার খাওয়ার কথা বলি । ভুল হলে মাফ করবেন ।
০১ –

বাঙ্গালি খাদ্য বলতে সবাই বুঝে সেই পহেলা বৈশাখে গরিবের খাওয়া বড়লোকি স্টাইলে ” পান্তা ইলিশ ” খাওয়া ।
যাই হোক । নিজে খেয়েছি নিজের পছন্দের কিছু দেশি ঘরানার খাওয়ার কথা বলি । ভুল হলে মাফ করবেন ।
০১ –
আমার প্রিয় খাদ্য সম্পর্কে কেউ জিজ্ঞেস করলে আমি অকপটে বলে দেই ” ভাত , ডাল আর আলু ভর্তা । ” যতটা সাধারণ মনে হচ্ছে ততটা না । ভাত হতে হবে ঠাণ্ডা আবার ফ্রিজের না কিন্তু । আর ডালের ঘনত্ব হতে হবে মধ্যম পর্যায়ের । আর আলু ভর্তা দুই ধরনের সাধারণত জনপ্রিয় । আমারও পছন্দের । দুই ধরনের মধ্যে যে জায়গায় মিল সেইটা হল – পুরাতন আলু , তেলে ভাজা শুকনা মরিচ আর কাঁচা পেঁয়াজ । আর যেই জায়গায় পার্থক্য তা হল – একটা ভর্তা করা হয় ঘি দিয়ে আরেকটা সরিষার তেল দিয়ে । দুইটারই নিজস্ব স্বাদ বিদ্যমান ।
০২ –
আগে আব্বা যখন চাল আনত এক বস্তা । তখন তা আগে ‘ কুলা ‘ য় ঝাড়া হতো । এই জিনিসটা অনেকেই চিনবে না আশা করি আবার চিনতেও পারেন । যাই হোক । কুলা দিয়ে ‘ খুদ ‘ ঝাড়া হতো । ‘ খুদ ‘ জিনিসটা বুঝানোর জন্য বলতে হয় ভাঙা চাল । সেইটা মূল চাল থেকে পৃথক করে আলাদা করে রাখা হতো । আম্মা শুক্রবার রাঁধত । সকালে ঘুম থেকে উঠে খেতাম । রান্নাটা খুব কঠিন না । প্রেসার কুকারে দিয়ে রাঁধতে হয় । চাল যে ধোয়া লাগে তা না বললেও চলে । তো তাতে লবণ , রসুন , মরিচ ইত্যাদি দিয়ে সাথে পানি থাকবে কিন্তু জ্বাল হওয়ার জন্য । তো এইটা খাওয়ার আরেকটা বিশিষ্ট দিক হচ্ছে ভর্তা দিয়ে খেতে হয় । হরেক রকমের ভর্তা সম্ভব । একটার সাথে আরেকটার মিশ করে বেটে ফেললেই নতুন ভর্তা বলা যায় । আম্মা করে এই রকম কিছু ভর্তার কথা উল্লেখ করি – পটল আর ইচা তথা ছোট চিংড়ির ভর্তা , শুধু চিংড়ির ভর্তা , মিষ্টি কুমড়ার চোকলা এর ভর্তা সাথে চিংড়ি , চ্যাপা ভর্তা [ এইটা একটু বেশি ঝাল হলে ভালো লাগে ] , কালিজিরা ভর্তা , চান্দা মাছ ভর্তা , আরেকটা খুব বিখ্যাত ভর্তা আছে তবে আমার ভালো লাগে না সেইটা হইলো টাকি মাছের ভর্তা সম্ভবত নাম ‘ সিদোল ‘ । ধনিয়া পাতা এর ভর্তা । এছাড়াও আঞ্চলিকতার উপরও ভর্তার প্রকার ভেদ নির্ভর করে । আর ডিম ভাঁজা দিয়েও উপভোগ করা যায় এই খুদের ভাত ।
০৩ –
একটা মজার খাবারের খবর দেই । মিষ্টি কুমড়ায়ের বীচি ( ভালভাবে নেন ) ।
বাততি কুমড়ার বীচিই একমাত্র খাওয়ার উপযোগী । সেইটা প্রথমে রোদে শুকাতে হবে । এর পর উপরের খোসা ছাড়াতে হবে । এরপর ভিতরের শাসটা লবন দিয়ে মাখিয়ে তেল ছাড়া বা তেলে ভেঁজে খেতে হয় । ভাঁজার সময় সাবধান থাকতে হয় । তা না হলে কড়াই ফাকা থাকবে । ভাঁজার সময় সেগুলি খালি লাফাইতে থাকে । [ আঞ্চলিক কিছু শব্দ আসছে । যার জন্য দুখখিত । কারণ সঠিক টা বুঝানোর জন্য অন্য শব্দ পাচ্ছিলাম না । ]
০৪ –
গরম ভাত আর ঘি আর চিনি । জিনিসটার আলাদা একটা টেস্ট আছে । পুরাই আলাদা । খাঁটি ঘি না হলে মজা না পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি । এই খাবারটা ছোট থাকতে খাইছি । গরম ভাত প্লেটে নিতে হয় প্রথমে । এরপর উপরে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘি ঢেলে নিতে হয় । এরপর পর্যাপ্ত পরিমাণ চিনি নিতে হয় । আর সর্বশেষ সব কিছু এক সাথে মেশাতে হয় । উপভোগ করুন 😀
[ আরও কিছু যখন মনে পড়বে তখন আবার দিয়ে দিবো আশা করি ]

১২ thoughts on “বাঙ্গালির কিছু খাদ্য [ খাঁটি নিজস্ব ]

  1. আমার প্রিয় খাদ্য ‘ ভাত , ডাল
    আমার প্রিয় খাদ্য ‘ ভাত , ডাল আর আলু ভর্তা ।

    অন্যরকম স্বাদ এর একটা পোস্ট দিলেন । ভাল লাগল । লিখতে থাকুন । :ফুল:

    1. আপনারে এতো রাতে পড়তে কইছে কে
      :ভেংচি: আপনারে এতো রাতে পড়তে কইছে কে ? ভরা পেটে আরেকবার পইড়েন 😀

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *