সংসদে সংরক্ষিত আসন: নারীর ক্ষমতায়ন নাকি নারীর জন্য লজ্জার?

তত্ত্বাবধায়ক ইস্যু নিয়ে ইদানিং রাজনীতির মাঠ সরগরম। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সংসদে ও সংসদের বাইরে প্রায়ই তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুর কড়া সমালোচনা করে বলেন, গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে অনির্বাচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা অবৈধ। তবে একটা গনতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগনের ভোট ছাড়া সংরক্ষিত আসনব্যবস্থা কতটা গনতান্ত্রিক সে ব্যাপারে প্রশ্ন থেকেই যায়। তবুও পৃথিবীর অনেক দেশে এই ব্যবস্থা আছে এবং এটাকে পজিটিভলি দেখা হচ্ছে, দেখার যথেষ্ট কারনও রয়েছে। এর ফলে যেমন সম্মানিত লোকদের সংসদে পদচারনা পড়েছে, তেমনি অনেক সত্‍, রাজনীতিসচেতন, কিন্তু সরাসরি রাজনীতির সাথে যুক্ত নয় এমন ব্যক্তিদের সংসদে গিয়ে কথা বলার সুযোগ হয়েছে। সংসদ অধিবেশনগুলো এর ফলে আরো ফলপ্রসূ হয়েছে।
এবার আসি বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে। বাংলাদেশে সংরক্ষিত আসনগুলো বন্টন হয় জাতীয় নির্বাচনে কোনো দলের প্রাপ্ত আসনসংখ্যার উপর ভিত্তি করে। এরপর দলগুলো নিজ নিজ পছন্দানুসারে সদস্য নির্বাচন করে। আমার প্রশ্নটাও এইখানে। এখানে কি নারীর ক্ষমতায়ন হচ্ছে নাকি জয়ী দলের আসনসংখ্যা ভারী হয়ে দলের ক্ষমতায়ন হচ্ছে? যোগ্যতার ভিত্তিতে কতজন নারীকে সংসদে নেয়া হচ্ছে? এদের একটাই যোগ্যতা আছে, শুধু অন্ধ দলীয় আনুগত্য। সুতরাং সংসদে এখন যে গালির বাহার চলছে এটা তো স্বাভাবিকই। দেখুন, নির্বাচিত মহিলা সাংসদদের তুলনায় এই সংরক্ষিত আসনের মহিলারা অনেক বেশি আগ্রাসী, গালিবাজ। এরা সংসদে গিয়ে শালীন, সংসদীয় ভাষার ধার ধারে না। এমনও তথ্য আছে যে, কোনো একটা আসনে আওয়ামী লীগের দুইটা গ্রুপ। এক গ্রুপ থেকে একজন সংসদ সদস্য হল, অন্য গ্রুপকে খুশি রাখার জন্য একজনকে সংরক্ষিত আসনে সদস্য করা হলো। বেশ! উভয় কুল রক্ষা!!
সংরক্ষিত আসন কি এজন্য? “মাইক দে”, “শুয়োরের বাচ্চা”, “জিভ টেনে ছিড়ে ফেলবো”, “চুতমারানী”, এটা কি নারীর ক্ষমতায়ন? নাকি নারীর জন্য লজ্জার? অথচ এরকম কি না করলে হতো না? আমাদেরও তো সুযোগ ছিলো ৪৫ টি আসনে ৪৫ জন রাজনীতিসচেতন, সম্মানিত নারীকে মনোনয়ন করা। এটা নারীর ক্ষমতায়নের সাথে সাথে নারীদের সম্মানও বাড়াতো। কোনো নারীকে বর্তমান সংসদের গালিবাজ নারীদের জন্য লজ্জায় পড়তে হতো না।

হয় সংরক্ষিত আসনে দলীয় রাজনীতির দিকে না তাকিয়ে যোগ্য কোনো নারীকে বসাতে হবে, নতুবা যদি দলীয় লোকদের বসাতেই হয়, তবে সংরক্ষিত আসনেও দলীয় মনোনয়ন দিয়ে নির্বাচন দিতে হবে। ক্ষুদ্র একজন ব্লগপাঠকের এইটাই দাবি।

৫ thoughts on “সংসদে সংরক্ষিত আসন: নারীর ক্ষমতায়ন নাকি নারীর জন্য লজ্জার?

  1. সংরক্ষিত নারী আসন থেকেই ডঃ
    সংরক্ষিত নারী আসন থেকেই ডঃ শিরিন শারমিন চৌধুরী কে আমরা জাতীয় সংসদের সম্মানিত স্পীকার হিসেবে অধিষ্ঠিত হতে দেখেছি! তাঁর যোগ্যতা একটু দেখে নেই…

    SSC: First Position in Combined Merit List
    HSC: Second Position in Combined Merit List
    LL.B (Honours): First Class First
    LL.M: First Class First
    PhD: University Of Essex…

    আমাদের সংসদের এযাবৎ কালের সবচে বেশী শিক্ষায় শিক্ষিতদের মধ্যে একজন!!
    এইটা একটা চলমান প্রক্রিয়া,যখন আমাদের সরাসরি নির্বাচিত সংসদদের মধ্যে নারীর সংখ্যায় একটা উল্লেখযোগ্য আসন আসবে তখন এমনিতেই তা রহিত হয়ে যাবে…
    আর দেখুন মাথা ব্যাথায় মাথা কাটার বদলে অন্য কিছু ভাবাই শ্রেয়!! ঐ আদর্শ বঞ্চিত দেওলিয়া দলটিতে এমনিতেই কোন সভ্য মানুষ নাই…
    আমদের সংসদ অকার্যকর একমাত্র দায়িত্ব-জ্ঞানহীন এই বিরোধীদলটির জন্যে…
    আপনি সত্য বলতে গেলে যদি তথাকথিত নিরপেক্ষতার মানদণ্ড আপনার লিখায় প্রভাব ফেলে তবে বুঝবেন আপনার মানদণ্ডেই সমস্যা।।
    আমি চাই সভ্যদের রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে আসুক…

    1. সভ্যদের রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে

      সভ্যদের রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরে আসুক

      সহমত। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হচ্ছে, সংরক্ষিত আসনে সাংসদ হিসেবে সিলেকশন দেওয়ার ক্ষেত্রে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার এবং শিক্ষাগত যোগ্যতার একটা মানদণ্ড ঠিক করে দেওয়া উচিৎ।

    2. ঐ আদর্শ বঞ্চিত দেওলিয়া দলটিতে

      ঐ আদর্শ বঞ্চিত দেওলিয়া দলটিতে এমনিতেই কোন সভ্য মানুষ নাই…

      হাচা কইচেন লিঙ্কন ভাই । :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে: :হাহাপগে:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *