বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও করণীয় ।(২য় কিস্তি)

প্রথম কিস্তির পর…

৪/শেয়ার বাজার কেলেংকারি এই সরকারের জন্য নতুন নয়।৯৬ সালেও একবার শেয়ার কেলেংকারি ঘটেছিল।সে সময় শেয়ার বাজার সম্পর্কে সাধারন মানুষের কোন ধারনা না থাকলেও বহু রাজনীতি বিশ্লষক মনে করেন,পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভরাডুবির পেছনে এই কেলংকারিও যতেষ্ট ভুমিকা রেখেছিল।

প্রথম কিস্তির পর…

৪/শেয়ার বাজার কেলেংকারি এই সরকারের জন্য নতুন নয়।৯৬ সালেও একবার শেয়ার কেলেংকারি ঘটেছিল।সে সময় শেয়ার বাজার সম্পর্কে সাধারন মানুষের কোন ধারনা না থাকলেও বহু রাজনীতি বিশ্লষক মনে করেন,পরবর্তী নির্বাচনে আওয়ামীলীগের ভরাডুবির পেছনে এই কেলংকারিও যতেষ্ট ভুমিকা রেখেছিল।
বর্তমানে তো শেয়ার বাজার আমজনতার একেবারে নাগালে চলে এসেছে।বলতে গেলে দেশের প্রতিটি পরিবারই এখন এই বাজারের সাথে সংযুক্ত।বর্তমানে এই বাজারে আছেন প্রায় ৩০লাখ বিও একাউন্টধারী।প্রত্যেকের পরিবারে গড়ে ৫জন করে ধরলেও প্রায় দেড় কোটি লোককে এই বাজারের সাথে সম্পর্কযুক্ত পাওয়া যায়।নির্মম হলেও সত্য, বাজারে ব্যাপক ধ্বসের কারনে এই বিপুল জনগোষ্টি তাদের পুজি তো হারিয়েছেই,ঋনের দায়ে এখন ভিটে মাটি ছাড়া।তাদের সবারই অভিযোগ এই ক্ষতির জন্য সরকার দায়ী।আসলেও তাই।সরকার সময়োপযোগী পদক্ষেপ নিলে হয়তো এরকম ঘটত না।তাই এখন আর দরবেশ বাবাদের স্বার্থ না দেখে অবশিষ্ট সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারিদের সহযোগিতার পাশাপাশি এই বাজারকে যে কোন মুল্যেই চাঙা রাখতে হবে।সব মহল থেকে এই বাজারের প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে।
৫/নেতা ও কর্মী সমর্থকদের মাঝে আস্থাহীনতা দুর করতে হবে।এজন্য ঘন ঘন বৈঠকই দ্রুত সমাধান আনতে পারে ।তৃণমুলকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের দাবী দাওয়া শুনে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।মনে রাখুন,কর্মী সর্মথক আছে বলেই দল টিকে আছে এবং আপনিও নেতা হতে পেরেছেন।মেয়াদ শেষে এদেরকেই আপনার বড় প্রয়োজন।সর্বক্ষেত্রে গুরুত্ব দিয়ে এবং আন্তরিকতার সহিত কর্মী সমর্থকদের মুল্যায়ন করুন।
৬/৫নং এ উল্লেখিত কারন সমুহ ও স্বার্থবাজীর জন্য দলীয় কোন্দলের সৃষ্টি হয়।যেভাবেই হয়ে থাকুক,সৃষ্ট কোন্দল মেটাতে দলের উচ্চ পর্যায় থেকে উদ্যেগ নিলে তা সহজেই দুর করা সম্ভব।
৭/এই বিষয়টি আমি আর কি বলব, স্বয়ং প্রধানমন্ত্রীই এমপিদের বার বার বলতেছেন এলাকায় যাওয়ার জন্য।তাই ঢাকায় বসে না থেকে এলাকায় আসুন,জনতার কথা শুনুন।জনতার আশা আকাংখাকে গুরুত্ব দিন।পরের বার সংসদে পা রাখতে হলে নিজ এলাকার জনতাকেই প্রয়োজন, ঢাকার কুতুবদের নয়।
৮/জামাত নিষিদ্ধ,ইসলামি ব্যাংক জাতীয়করন,মাহমুদুরকে গ্রেফতার ও আমারদেশ পত্রিকা বন্ধ করা,দিগন্ত টেলিভিশন বন্ধ করা,ফেসবুকে সাম্প্রদায়িকতা সৃষ্টিকারী পেজ বাঁশের কেল্লা বন্ধ করা সহ বেশ কয়েকটি জন দাবী সরকার সময় মত গ্রহন করেনি।যার ফলশ্রুতিতে হেফাজত ও আস্তিক নাস্তিক ইস্যুর সৃষ্টি হয়।যাইহোক,বর্তমানে ইহা সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে।তবে চাপের কাছে নতি স্বীকার ও সুবিধাবাদীদের পরামর্শে যদি দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি,আমার দেশ পত্রিকা আবার খুলে দেয়া হয় তবে কেয়ামত পর্যন্ত মহাজোটকে এর খেসারত দিতে হবে।তাই এগুলো বন্ধ রাখার পাশাপাশি বাঁশের কেল্লা,মিডিয়া ওয়াচ,বখতিয়ারের ঘোড়া,ব্রেকিং সহ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সৃষ্টিকারী ফেসবুক পেজ গুলো দ্রুত বন্ধ করা জরুরি এবং জনদাবীর অন্যান্য বিষয়গুলিও খতিয়ে দেখার প্রয়োজন।
৯/গতবার আওয়ামীলীগকে এত বেশি ভোট দেয়ার একমাত্র কারন ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার।এই বিচার শুরু করতে পারলেও শেষ করতে পারবে কি না বা অপরাধীদের আদৌ শাস্তি হবে কি না তা নিয়ে জনগনের মাঝে উৎকন্টা দিন দিন বাড়ছেই।এই বিচার আগামী নির্বাচনের জন্য প্রধান ফ্যাক্টর হয়ে দাড়িয়েছে।তাই সরকারকে এই বিচার দ্রুত শেষ করার পদক্ষেপ নিতে হবে।কমপক্ষে ৪/৫ জন শীর্ষ অপরাধীর রায় দ্রুত কার্যকর করে জনগনের আস্থাটাকে ধরে রাখতে হবে।রায় কার্যকরের মাধ্যমে জামাত প্রীতির যে মিথ্যা দুর্নাম জনতার মনে বদ্ধমুল হয়েছে তা দুর করতে হবে।সরকারকে মনে রাখতে হবে,সব রাজাকারদের মুক্তি দিলেও জামাত হেফাজতের ভোট মহাজোটের বাক্সে পড়বে না এবং এদের শাস্তি নিশ্চিত না করলে আগামী নির্বাচনে জয়লাভের স্বপ্ন দেখাও হবে অমুলক।
১০/জামাত নিষিদ্ধে আদালতের রায় ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনার আলোকে দ্রুততার সহিত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।সময় যেহেতু কম সেহেতু এর জন্য আগাম প্রস্তুতিও নিয়ে রাখতে পারেন।
১১/প্রশানের উপর কতৃত্ব ও নজরদারি আরো বাড়াতে হবে।দুর্নীতিবাজ ও জামাতি প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের চিহ্নিত করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বহিস্কার করে সৎ ও যোগ্যদের দ্রুততার সহিত নিয়োগ দিতে হবে।খুটি মজবুত না থাকলে হালকা ঝড়েও ঘর পড়ার সম্ভাবনা থাকে প্রবল!
১২/থাবা বাবার আসল পরিচয়,সাগর রুনি হত্যা রহস্য,ত্বকী হত্যা রহস্য ইত্যাদি উদগাটন করে তা দেশবাসীকে জানাতে হবে।অপরাধী যে দলেরই হোক না কেন সম্ভব হলে এসবের সাথে জড়িতদের খুজে বের করে গ্রেফতার ও শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
১৩/সংখ্যালগু নির্যাতন রোধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহনপূর্বক এদের ভোট প্রদানের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।মনে রাখতে হবে এই ভোটগুলি মহাজোটের পরিক্ষিত ভোট।
১৪/মন্ত্রীদের অযথা কথা বলা বন্ধ করতে হবে।বিতর্কিত মন্তব্য না করতে নির্দেশ দেয়া যেতে পারে।
১৫/ইসলামী ব্যাংক জাতীয়করন যদি অসম্ভব!হয় তবে ব্যাংকটির উপর নজরদারি বাড়াতে হবে।খামোখা এই সময়ে গ্রামীন ব্যাংকের সাথে বিবাদে না জড়িয়ে ইসলামী ব্যাংকের দিকে নজর দিতে হবে।
১৬/স্বাদের পদ্মা সেতু তো পদ্মায় ডুবে গেলই,সাথে সরকারের মান কুলমান ও ডোবালো।বিশ্ব ব্যাংক টাকা তো দিলই না উপরন্তু মিথ্যা বদনাম ঘাড়ে চাপিয়ে, ফাও কয়েকজনকে জেল খাটিয়ে ছাড়ল!হায় সেলুকাস!এই সেতু নিয়ে অনেক নাটক হয়েছে ।এবার নাটক বাদ দিয়ে বাজেটে বরাদ্ধ অর্থটুকু দিয়েই যত দ্রুত সম্ভব কাজ শুরু করুন।আগামী ৫মাসে যদি এই টাকা শেষ হয়ে যায় তবে রিজার্ভ থেকে কিছু টাকা নিয়ে নির্বাচন পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যান।এরপর নির্বাচনে জিতলে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন আর না জিতলে যার দিন তার দোহাই।বিগত সরকারের আমলে ৪০০কোটি ডলার রিজার্ভে যদি দেশের অর্থনীতি চলতে পারে তবে বর্তমান ১৫০০+ কোটি ডলার থেকে ২০০কোটি ডলার খরচ হলে কি এমন মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে যায়?
যাইহোক,আম জনতা অর্থনীতি,বিশ্ব ব্যাংক,আই এম এফ,এডিবি,জাইকা,রিজার্ভ ইত্যাদি বুঝে না,তারা এই সেতুর কাজ শুরু হওয়া দেখতে চায়।তাদের আশা আকাংখার প্রতিফলন চায়।সেতুর নির্মানকাজ শুরু হলে পেছনের বদনাম সমুহ ও ঘোচানো সম্ভব হবে।
…. (চলবে)

(৩য় কিস্তি আগামীকাল)
প্রথম কিস্তির লিংক…
http://istishon.blog/node/2881

৯ thoughts on “বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা ও করণীয় ।(২য় কিস্তি)

  1. গতানুগতিক বিশ্লেষণতো ভাই আমরা
    গতানুগতিক বিশ্লেষণতো ভাই আমরা দৈনিকেই পড়ি!!
    ভিন্ন কিছু হলেই ভাল হত! কোন উদ্যোগ বা প্রস্তাব হলেই ভাল লাগত…

    1. পোস্টটিতে সরল ভাষায় সমালোচনার
      পোস্টটিতে সরল ভাষায় সমালোচনার পাশাপাশি সমস্যা সমাধানের কিছু দিক নির্দেশনা বা পরামর্শ প্রদান করার চেষ্টা করেছি ।গতানুগতিক হলেও ইহাই বাস্তবতা ।দৈনিকে প্রতিদিন এসব বিষয়ে আলোচনা হলেও তা খন্ড খন্ড ভাবে হচ্ছে কিন্তু আমি চিহ্নিত সবগুলো বিষয় এক সাথে প্যাকেজ আকারে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি ।
      আগামীকাল শেষ কিস্তি পড়ার অনুরোধ রইলো ।
      পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ ।

  2. আপনার এই কথাগুলো বললেই অনলাইন
    আপনার এই কথাগুলো বললেই অনলাইন আওয়ামী যোদ্ধারা চিংকু বাম বলে হারে রে রে রে করে তেড়ে আসে। এদেরই যদি এই অবস্থা হয়, তাইলে চাটুকার পরিবৃত মন্ত্রীদের অবস্থা কি হবে বুঝাই যায়।

    1. ভাই, এই সমস্যাটা প্রকট আকার
      ভাই, এই সমস্যাটা প্রকট আকার ধারন করেছে ।এ ব্যাপারে ফেসবুকে তো বলেছিই ইস্টিশন ব্লগেও একটা পোস্ট দিয়েছি ।আমি মনে করি, মহামান্য(আজম)ভাই ও অমি পিয়াল ভাই একসাথে অফলাইনে আলোচনায় বসলে এই কাদাছুড়াছুড়ি বন্ধ করতে পারতেন ।পিয়াল ভাই তো আজম ভাইকে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসে বলেছেন যে, মহামান্য ভাইকে তিনি অনেক শ্রদ্ধা করেন এবং এসব ব্যাপারে অনলাইন ছাড়া তিনি চায়ের টেবিলকেই উপযুক্ত মনে করেন ।
      যাইহোক, শফির উপর অভিমান করে যদি নামাজ কালাম ছেড়ে দিই, গয়েস্বরের উপর রাগ করে যদি পুজা অর্চনা ছেড়ে দিই তবে আখেরে ক্ষতিটুকু কিন্তু আমাদেরই হবে ।
      তাই এসব কাদাছুড়াছুড়িকে পেছনে ফেলে যার যার অবস্থান থেকে সরকারকে সমালোচনার মাধ্যমেই সহযোগিতা করতে পারি ।
      ধন্যবাদ

    1. স্যরি ।ধারাবাহিকতার দরুন ২য়
      স্যরি ।ধারাবাহিকতার দরুন ২য় কিস্তিতে বর্ননা করতে পারিনি ।৩য় বা শেষ কিস্তিতে পাবেন ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *