“মডারেট” মুসলিমদের অমুসলিম নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে ।

এই বছরের এপ্রিল মাসে ইন্টারনেটে একটি ভিডিও পাওয়া যায়। যে ভিডিও দেখা যায় যে ঘটনার দিন মিশরের কায়রো নগরীর এক জনবহুল রাস্তায় একদল লোকের ধাওয়ার শিকার হন এক সাথে হেঁটে নিজের গন্তব্যের দিকে যাওয়া দুই খ্রিষ্টান নারী। যাদের মাঝে একজন পালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও আরেকজন পড়েন তাদের ফাঁদে। জীবন নিয়ে পালানোর চেষ্টার এক পর্যায়ে তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়লে শিকার হন তাদের রোষের। তাকে টেনে এনে রাস্তার উপরে ফেলে তার উপরে হামলা করে কতিপয় ব্যক্তি। এই হামলার সময় ৰ্ধষনকারীরা “আল্লাহু আকবার, আল্লাহু আকবার” বলে উল্লাস করছিল। ভিডিওতে দেখা গেছে দিনের আলোতে কায়রো নগরীর মত বড় শহরের এক রাস্তায় এত বড় একটি ঘটনা ঘটতে দেখেও মেয়েটিকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি কেউ। অনেককেই দেখা গেছে ঘটনার সময় তার পাশ দিয়ে হেটে যেতে। অথচ তারা সম্পূর্ণ ব্যাপারটি এমনভাবে এড়িয়ে গেছেন যেন সেখানে কিছুই ঘটছিল না। এমন ঘটনা এটিই প্রথম হলেও মিশরে সাধারন মানুষদের তুলনায় কোপটিক খ্রিষ্টান বা মিশরীয় খ্রিষ্টানদের বিশেষ করে নারীদের অবস্থা বেশি নাজুক। খ্রিষ্টান নারীদের জোরপূর্বক উঠিয়ে নিয়ে যেয়ে শারীরিক, মানসিক এবং যৌন নির্যাতন করে ধর্মান্তরিত করার ঘটনা সেখানে খুবি স্বাভাবিক বলে বিবেচিত হচ্ছে সাম্প্রতিককালে। গত মার্চ মাসের মাঝামাঝিতে দেশটির পক্ষ থেকে মুসলিম ব্রাদারহুড(যা একটি “মডারেট” মুসলিমদের দল) এর এক সদস্য বলেন জাতিসংঘ প্রদত্ত নারী অধিকারের (নারীদের কাজ করা, একা ভ্রমন করা এমনকি পরিবারের পুরুষদের অনুমতি ছাড়া সংসারের খরচপাতি চালানোর অধিকার) নীতি তাদের দেশে চালু হলে তাদের দেশ ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। তারও আগে এ বছরের জানুয়ারি মাসের প্রথম দিকে দেশটির এক ধর্মীয় নেতা ‘হেশাম-আল-আসরি’ টেলিভিশনের পর্দায় এই বলে বয়ান দেন যে,

“মিশরের মাটিতে খ্রিষ্টান নারীরা বেপর্দা হয়ে চলাচল করলে তাদের ধর্ষণ করা জায়েজ হবে ” ।

অন্যদিকে কিছুদিন আগে বাংলাদেশে ১১ বছর বয়সী এক অমুসলিম বালিকা ৫৫ দিন ধরে গনৰ্ধষনের শিকার হয় এবং পরৰ্বতীতে তাকে ৰ্ধমান্তরিত করে বিবাহের মাধ্যমে ঐ ৰ্ধষনকে জায়েজ করার চেষ্টা করা হয় । বাংলাদেশের এই পৈশাচিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে আমারদেশের মডারেট মুসলিমদলের অনুসারীর বক্তব্য:

ঐ ৰ্ধষনকারী এক অমুসলিমকে ৰ্ধমান্তরিত করে শোয়াবের কাজ করেছে, সেই ৰ্ধষনকারী বেহেশতবাসী হবেন।

এখন প্রশ্ন হল ঐসব মডারেট মুসলিমদের সাথে অশিক্ষিত ৰ্ধমান্ধ মুসলিমদের দৃষ্টিভঙ্গির আদৌ কি কোন ৰ্পাথক্য রয়েছে ??? নাকি সব রসুনেই এক গোড়া !!!
তথ্যসূত্র: আল্লাহু আকবার ; আল্লাহু আকবার
তথ্যসূত্র: এখানে

২১ thoughts on ““মডারেট” মুসলিমদের অমুসলিম নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি প্রসঙ্গে ।

    1. অমিত লাবণ্য >>>
      ম্যাডাম,

      অমিত লাবণ্য >>>
      ম্যাডাম, আপনার শিক্ষনীয় মন্তব্যের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ।
      আমার মূল-বক্তব্যের ব্যাপারে কিছু বলার থাকলে ৰ্নিদ্বিধায় বলতে পারেন ।

  1. পৃথিবীতে ধর্মভিত্তিক যতগুলো
    পৃথিবীতে ধর্মভিত্তিক যতগুলো সন্ত্রাসী দল আছে তাদের মধ্যে মুসলিমই সবচেয়ে ভয়ঙ্কর।

    আর মডারেট মুসলিম? সে তো ভণ্ডের শিরোমণি।

      1. না শকুন যথার্থ শব্দ না। বাংলা
        না শকুন যথার্থ শব্দ না। বাংলা ভাষায় সবচেয়ে খারাপ শব্দটি। *********** দিয়ে চালায় দিতে হবে।

    1. ম্যাডাম, ঐসব ভন্ডের জন্য
      ম্যাডাম, ঐসব ভন্ডের জন্য আপনার এই উক্তিটাই যৰ্থাথ :

      “শ​য়তান মানুষকে প্ররোচনা দেয় না, মানুষই শ​য়তান​।”

      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

  2. এ আর নতুন কি? এইটাইতো
    এ আর নতুন কি? এইটাইতো প্রত্যাশিত, যতই তা অনাকাঙ্ক্ষিত হোক না কেন!!
    বিশ্বাসীদের কাছে এর থেকে ভাল কিছু কখনই আশা করি না…

    1. জী তারিক ভাই, শুধু কষ্ট হয়
      জী তারিক ভাই, শুধু কষ্ট হয় ঐসব মহিলাদের জন্য ।
      ঐসব ভন্ডের জন্য আমরা গালি খাই, বুঝেন না আমরাওতো জন্মসূত্রে মুসলিম ।
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

  3. এইসব জানোয়ারদের কথা শুনলে
    এইসব জানোয়ারদের কথা শুনলে নিজেকে মানুষ ভাবতে ঘেন্না লাগে । একটারে যদি সামনে পাইতাম ফুডা কয়রা দিতাম……… :ক্ষেপছি:

    1. ঐসব জানোয়ারের সংখ্যা কিন্তু
      ঐসব জানোয়ারের সংখ্যা কিন্তু কম নয়, দিনে দিনে আরোও বাড়ছে । এখন মানুষকে এদের ব্যাপারে সচেতন করে তোলা দরকার আর ঐসব ধর্মভিত্তিক দলগুলোকে সামাজিক, অৰ্থনৈতিক এবং অবশ্যই রাজনৈতিকভাবে পঙ্গু করে দিতে হবে ।
      মন্তব্যের জন্য ধন্যবাদ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *