দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে যে দলটি বিশ্বে পরিচিত !

আজ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৬৪তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী । দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে যে দলটি বিশ্বে পরিচিত । ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার টিকাটুলীর কেএম দাস লেন রোডের রোজ গার্ডেন প্যালেসে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যার সভাপতি ছিলেন মওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী এবং সাধারণ সম্পাদক টাঙ্গাইলের শামসুল হক । পরবর্তীকালে, ১৯৫৫ সালে মওলানা ভাসানীর উদ্যোগে ধর্মনিরপেক্ষতার চর্চা এবং অসাম্প্রদায়িক চেতনা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সংগঠনটির নাম থেকে পরে ‘মুসলিম’ শব্দটি বাদ দেওয়া হয়; নাম রাখা হয়: ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। ১৯৭১ খ্রীস্টাব্দে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পর এই সংগঠনটির নামাকরণ করা হয় ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ’।

বাঙালি জাতীয়তাবাদ, গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা তথা সকল ধর্মের স্বাধীনতা নিশ্চিতকরণ ও অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি এবং সমাজতন্ত্র তথা শোষণমুক্ত সমাজ ও সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা বাংলাদেশ যার মূলনীতি।

আওয়ামী লীগের ইতিহাস ও ঐতিহ্য : (সংক্ষিপ্তাকারে)

* পটভূমি : পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর বাঙালি বিদ্বেষ, শোষণ বঞ্চনা রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার চক্রান্ত….।
* ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন। শেখ মুজিবের কারাবরণ।
* ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন। ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে পাকিস্তানের প্রথম বৈধ বিরোধী দল গঠন।
* ১৯৫২ : আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে ভাষা আন্দোলন। কারাবন্দি শেখ মুজিবের নির্দেশনা।
* ১৯৫৪ : যুক্তফ্রন্ট গঠন। আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ২১ দফা প্রণয়ন। নির্বাচনে বিজয়।
* ১৯৫৫ : মুসলিম শব্দ বাদ দিয়ে ধর্মনিরপেক্ষ দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আত্মপ্রকাশ।
* ১৯৫৬-৫৭ : আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা (৬ সেপ্টেম্বর কেন্দ্রে, ২১ সেপ্টেম্বর প্রদেশে)

* ১৯৫৭ : ভাসানীর দল ত্যাগ ও ন্যাপ গঠন। শেখ মুজিব মন্ত্রিত্ব ত্যাগ করে দল সংগঠিত করার দায়িত্ব নেন।
* ১৯৫৭-’৬২ : মার্শাল ল। শেখ মুজিবসহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ কারার্বদ্ধ। গণতন্ত্র নির্বাসিত।
* ১৯৬২ : সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলন।
* ১৯৬৪ : সামপ্রদায়িক দাঙ্গা। ‘বাঙালি র্বখিয়া দাঁড়াও’- শেখ মুজিবের নেতৃত্বে প্রতিরোধ।
* ১৯৬৬ : শেখ মুজিবের ৬-দফা উত্থাপন। তীব্র দমননীতি। গ্রেফতার। আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা।
* ১৯৬৯ : ১১-দফার গণ অভ্যুত্থান। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিলাভ।
* ১৯৭০ : সাধারণ নির্বাচন। ৬ দফার পক্ষে ম্যান্ডেট
* ১৯৭১ : মুক্তিযুদ্ধ- বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণা। গ্রেফতার। মুজিবনগর সরকার, বিজয়।
* ১৯৭২ : বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। সংবিধান প্রণয়ন। যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠন। জাতীয় আন্তর্জাতিক চক্রান্ত। বাকশাল গঠন। ১৫ আগস্ট জাতির জনকের সপরিবারে হত্যাকান্ড। ৩ নভেম্বর কারাগারে ৪ জাতীয় নেতাকে হত্যা।
* ১৯৭৫-৮১ : জিয়ার শাসনামল। সংবিধান পরিবর্তন। পাকিস্তানি ধারায় ফিরে যাওয়া।
* ১৯৮১ : জননেত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তন। জিয়ার হত্যাকান্ড।
* ১৯৮২-৯০ :এরশাদের ক্ষমতা গ্রহণ। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচারের পতন।
১৯৯১-৯৬ : সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা। খালেদা-বিএনপির স্বৈরশাসন। কারচুপি। শেখ হাসিনার তত্ত্ববধায়ক সরকারের ধারণা। গণআন্দোলন। খালেদার পদত্যাগ।
১৯৯৬-২০০১ : ১৯৯৬-এর ১২ জুন নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন। ২১ বছর পর আওয়ামী লীগের সরকার গঠন।
সরকারের সাফল্য : খাদ্যে আত্মনির্ভরশীলতা অর্জন। গঙ্গা চুক্তি। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি। স্থিতিশীল দ্রব্যমূল্য। ৬.৪% প্রবৃদ্ধি অর্জন। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার শুর্ব ইত্যাদি।
* ২০০১-২০০৬ : ১ অক্টোবর কারচুপির নির্বাচন। বিএনপি-জামাত জোটের ক্ষমতা দখল। হত্যা, নির্যাতন, দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কালো অধ্যায়। হাওয়া ভবনে সমান্তরাল ক্ষমতা কেন্দ্রের অকল্পনীয় লুটপাট। সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ কিবরিয়া, আহসানউল্লা মাস্টারসহ অগণিত হত্যা, জঙ্গিবাদের উত্থান, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এর প্র’তি।
– ২০০৪, ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা। আইভি রহমানসহ ২৪ জন নেতা-কর্মী নিহত। শেখ হাসিনার কানের পর্দা ফেটে গিয়ে আহত।
– ২০০৬, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিরুদ্ধে আন্দোলন।
– ২০০৭, ১১ জানুয়ারি আন্দোলনের মুখে বিএনপি-জামাতের নীলনকশার নির্বাচন বাতিল, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বঘোষিত প্রধানের পদ থেকে ইয়াজউদ্দিনের পদত্যাগ। জরুরি অবস্থা ঘোষণা।
– ড. ফখরুদ্দিনের নেতৃত্বে নতুন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দায়িত্বভার গ্রহণ।
– শেখ হাসিনাকে রাজনীতি থেকে অপসারণের উদ্দেশ্যে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা প্রদান। দেশে ফিরতে বাধাদান করে ব্যর্থ।
– ১৬ জুলাই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেফতার।
– ২০০৮ : গণআন্দোলনের মুখে ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা ব্যর্থ। শেখ হাসিনাকে মুক্তি দান। ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত। ৩০০টির মধ্যে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোটের ২৬৪টি আসন লাভ।
– ২০০৯, ৬ জানুয়ারি জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মহাজোট সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ। ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার কর্মযজ্ঞ শুরু। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি। ২৮ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার দন্ডপ্রাপ্ত ৫ খুনির মৃত্যুদন্ড কার্যকর। জাতি কলঙ্কমুক্ত।
– সরকারের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বিডিআর বিদ্রোহ। বিদ্রোহের শান্তিপূর্ণ সমাধান।
– ২০০৯, ২৪ জুলাই আওয়ামী লীগের কাউন্সিল অনুষ্ঠিত। জননেত্রী শেখ হাসিনা পুনরায় দলের সভাপতি এবং সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত।
– মহাজোট সরকারের প্রথম বাজেট বাস্তবায়ন ও দ্বিতীয় বাজেট প্রদান। বিশ্বমন্দা মোকাবিলা। দ্রব্যমূল্য হ্রাস ও জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে স্থিতিশীল। কৃষিতে বিপুল ভর্তুকি, ধানের বাম্পার ফলন। সর্বকালের সর্বোচ্চ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ। প্রবৃদ্ধির হার ৬ শতাংশে উন্নীত।
– নতুন শিক্ষানীতি প্রণয়ন। বিনামূল্যে ১৯ কোটি বই প্রদান। প্রাথমিক স্তরে প্রথম সফল পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত।
– বিদ্যুৎ ও জ্বালানী সংকট সমাধানে জর্বরী পদক্ষেপ গ্রহণ।
– কর্মসংস্থান ও হত-দরিদ্র্যদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনি সমপ্রসারণ।
– যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া শুরু।
– ক্রীড়া ক্ষেত্রে সাফল্যের সূচনা। বাংলাদেশের তর্বণের এভারেস্ট জয়।
– উন্নয়নশীল বিশ্বে বাংলাদেশেই প্রথম সোনালী আঁশ পাটের জিন প্রযুক্তির আবিষ্কার। সম্ভাবনার স্বর্ণদুয়ার উন্মোচিত।
– জাতিসংঘ সহস্রাব্দ উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাফল্য। শিশু মৃত্যুর হার হ্রাস। জাতিসংঘ কর্তৃক বাংলাদেশকে এমডিজি পুরস্কার প্রদান।
– বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের ভূমিকা পালন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের উজ্জ্বল ভাবমূর্তি।
-দেশ হতে সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ নির্মূল। দুনীর্তি হ্রাস।

৯ thoughts on “দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল হিসেবে যে দলটি বিশ্বে পরিচিত !

  1. আগের আওয়ামীলীগ দেশের গর্ব
    আগের আওয়ামীলীগ দেশের গর্ব ছিল।আর বর্তমানের আওয়ামীলীগ কেন ,যে কোন দল ই দেশকে ডুবানোয় ওস্তাদ

  2. আওয়ামীলীগ তার স্বকীয়তা
    আওয়ামীলীগ তার স্বকীয়তা হারিয়েছে। যেটা জাতির জন্য এক অভিশাপ।

  3. আওয়ামী লীগ আবার আওয়ামী মুসলিম
    আওয়ামী লীগ আবার আওয়ামী মুসলিম লীগ হওয়ার পথে হাঁটছে। ভালো তো… ভালো না?

Leave a Reply to মুকুল Cancel reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *