কবির ফ্রেমে ‘কালোরাত’

পূর্ব ঝিগাতলা, বাড়ি নম্বর ২৫/৩
দোতলার চিলে ঘরটার জানালা খোলা
কিছুটা দূরেই মূমুর্ষের মত থেমে থেমে ডাকছে চেনা কুকুরটা
রোড লাইটের নিভু আলো এসে পড়ছে ফাঁক গলে,
ডায়েরি, কলম, চায়ের কাপ টেবিলে অলস সময় কাটাচ্ছে



পূর্ব ঝিগাতলা, বাড়ি নম্বর ২৫/৩
দোতলার চিলে ঘরটার জানালা খোলা
কিছুটা দূরেই মূমুর্ষের মত থেমে থেমে ডাকছে চেনা কুকুরটা
রোড লাইটের নিভু আলো এসে পড়ছে ফাঁক গলে,
ডায়েরি, কলম, চায়ের কাপ টেবিলে অলস সময় কাটাচ্ছে
ঘর ধোঁয়াটে করে রাখা জ্বলন্ত নিকোটিন পুড়ছেই অবিরত
ঘড়ির কাঁটার বিরামহীন শব্দ শরীরের উষ্ণতায় পরিবর্তন আনছে
চোখ রাখা জানালার মুখোমুখি রাস্তার ওপারের বারান্দায় …

কবির যেন ভ্রমরোগ হয়েছে আজকাল
আবছা আলোতে লোভাতুর দৃষ্টিতে কুমারীর কোমরের ভাঁজ,
উন্নত বক্ষ থেকে তো চোখ ফেরানোই যায় না আর
কবিতার পিঠে তরবারি চালানোর কথা বেমালুম ভুলে বসেন!
ভ্রান্ত যৌবনের অতৃপ্ত বাসনা জেগে উঠল তুমুল শিহরনে
কিন্তু ছায়াটা দৃশ্যমান হয়েও যেন পলকে মিলিয়ে যায়
মূহুর্তের মধ্যে কামনার শির নেতিয়ে পড়ে বিষন্নতায়।

বিষন্নতা কাটিয়ে চোখে ভেসে উঠে ধানমন্ডি ৩২ নম্বর
‘কবি সন্ধ্যায় দেখে এসেছেন সেখানে জনতার ঢল
সবার চোখে কৌতুহল, প্রতীক্ষা শেখ সাহেবের আর
প্রতিটা চোখ যেন মুক্তির নেশায় জ্বলছিল ক্ষুধার্ত বাঘের মত।
বাড়তি রাতে বাড়ি ফিরেছেন তেমন কোনো প্রাপ্তি ছাড়াই’
চোখ আবারও ফিরল নিচের রাস্তার দিকে
খেয়াল করলেন কালো আলোতে কিছু ছায়ার ঘন ছুটোছুটি
আহত কুকুরের ডাকটাও কানে আসছে না আর
ক্ষনিকেই কেমন যেন ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশ!

দৃষ্টি ফেললেন জানালার বাইরে, অজানা ভয়ে শঙ্কিত
ঘোর তছনছ করে রাস্তার ওপারের বাসায়,
বাতাস কাঁপিয়ে ঝনঝন শব্দে মেতে উঠল রাইফেল
দৃষ্টি সরানোর আগেই চোখে এলো সেই কুমারী
আর্তচিৎকারে মৃতপ্রায় শরীরে লাফিয়ে পড়ল বারান্দা থেকে
ধাওয়া করে ফিরে গেল কিছু খাকি পোশাকি হিংস্র নেকড়ে!

স্বম্বিত ফিরে পাবার আগেই চিলের দরজায় কড়াঘাত
কবি কালো ফ্রেমের চশমাটা শেষ বারের মত ঠিক করে নিলেন, কলম হাতে
পা বাড়াবেন দরজার দিকে, তার আগেই ভেঙ্গে পড়ল তক্তার পাল্লা
সাঁই করে কানের কাছ দিয়ে একটা যেন একটা বিরাট মাছি উড়ে গেল
কবির ঠোঁট নড়ল, কে? কি চাও?
এর বেশি বলার সুযোগ দিল না ঘাতকের হৃদপিন্ড সন্ধানী বুলেট!
দৃষ্টি মিলিয়ে যাবার আগে শুধু ভাবলেন,
“আমি পরাজিত নই। আমি যোদ্ধা হয়ে ফিরব এর বদলা নিতে।
কুমারীর রেখে যাওয়া স্বতীত্ব আমার প্রান ফিরিয়ে দিবে শত প্রানে,
আমি পরাজিত নই, আমি মৃত ন…”
শেষ মূহুর্ত পর্যন্ত শানিত তরবারিটি আঙুলের ফাঁকে শক্ত করে ধরা …

কালোরাত পেরিয়ে আজ ৪২ বছর পরও সেই তরবারী
লাখো কবির মুষ্ঠিতে জায়গা করে নেয়,
কুমারীর স্বতিত্ব রক্ষার প্রতিজ্ঞায় …

২৫/০৩/২০১৩

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

১৩ thoughts on “কবির ফ্রেমে ‘কালোরাত’

  1. “দৃষ্টি ফেললেন জানালার বাইরে,
    “দৃষ্টি ফেললেন জানালার বাইরে, অজানা ভয়ে শঙ্কিত
    ঘোর তছনছ করে রাস্তার ওপারের বাসায়,
    বাতাস কাঁপিয়ে ঝনঝন শব্দে মেতে উঠল রাইফেল
    দৃষ্টি সরানোর আগেই চোখে এলো সেই কুমারী
    আর্তচিৎকারে মৃতপ্রায় শরীরে লাফিয়ে পড়ল বারান্দা থেকে
    ধাওয়া করে ফিরে গেল কিছু খাকি পোশাকি হিংস্র নেকড়ে!”

    সুন্দর অনেক।

  2. কি বলব – এক কথায় অসাধারন ।
    কি বলব – এক কথায় অসাধারন । কাব্য , বাস্তবতার অলঙ্করনে পংতিগুলার আড়ালে নতুন মাত্রা পেয়েছে । শেয়ার দিয়ে রাখলাম পোস্ট টা । :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ: :থাম্বসআপ:

    বায় দা ওয়ে ইষ্টিশন এ স্বাগতম । আরও চমৎকার লেখা পাব আশা করছি । :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল: :ফুল:

  3. আমি ব্লগে কবিতা তেমন পড়ি না।
    আমি ব্লগে কবিতা তেমন পড়ি না। কবিতা লেখা খুব কঠিন কাজ। বিশিষ্ট কবিদের কবিতা ছাড়া আমি আর কারো কবিতা তেমন একটা পড়ি না।

    আপনার এই কঠিন কাজ আমার অসাধারণ লেগেছে।

  4. এক কথায় অনবদ্য…
    লিখতে

    এক কথায় অনবদ্য…
    লিখতে থাকুন!! ইস্টিসনে স্বাগতম… :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ: :গোলাপ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *