আবোল তাবোল ধারাবাহিক

আবোল তাবোল :২০০০সালে আমি তখন সবে মাত্র কলেজে ঢুকেছি। চারদিকে কৌতূহল চোখ নিয়ে তাকাই। স্কুলের বন্ধন ছিন্ন করায় স্বাধীনতার কোন অংশই মিস করতে চাইনা।একদিন দুপুরে স্যারের বাসা থেকে একটা নোট নিয়ে ফটোকপি দোকানে হাজির। আমার কোন কাজ নেই বলে ফটোকপি করার পরেও বসে আছি। আমার সাথেই এক বয়স্ক মানুষ বসে আছে একই বেঞ্চিতে। অল্প অল্প কথা শুরু করেছি। একটু পরেই তিনি হাত নেড়ে বক্তৃতার ভঙ্গিতে আমার সাথে কথা বলা শুরু করেছে। অবাক বিষয় ফটোকপি দোকানে একজন মাত্র মানুষ আমি দোকানদার কোথায় জানি ঘুরতে গেছে। একজন মানুষের সাথে কথা শুনাইতে এত চিৎকার করে আঙ্গুল তুলে কথা বলার কারণটা কি? এই কারণ অনুসন্ধান করতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। আমার সাথে পাগলদের একটা ভাব খুব দ্রুতই হয়। তারও হয়ে গেছে। পর সমাচার জানতে পারলাম তার নিজস্ব একটা রাজনৈতিক দল আছে। দলের নামটা মনে করতে পারছি না কিন্তু তার প্রতীক ছিল পেপে। তার দলের তিনিই সভাপতি,মেম্বার,এবং এডভাইজার। তবে দেশে প্রচুর জনসমর্থন আছে,কিন্তু তিনি সময়ের অভাবে সবার কাছে তার ভোট চাইতে পারছেন না বলে ভোট পাচ্ছেন না। তিনি আল্লর ইশারায় সব কিছু করেন। ভোট দেয়ার মালিক আল্লা । আল্লা যদি চান তবে ফেরেস্তারা এসে দলে বেঁধে ভোট দিবে। পাস করা কোন বিষয় না। অনেক কথা বলার পর সিদ্ধান্ত আসল আমি এবার নির্বাচন করতে যাচ্ছি তার জেলার একটা নির্বাচনী এলাকা থেকে। তিনি গাজীপুর সদর থেকে প্রার্থী হবেন। আমাকে পাশের একটা উপজেলা ছেড়ে দিবেন।আমাকে তার পছন্দ হয়েছে। এই জন্য আমাকে নির্বাচন ব্যপারে, রাজনীতি ব্যপারে অনেক কিছু জানতে হবে। আমি সেই যাত্রায় অন্য দোকানদারের হস্তক্ষেপে রক্ষা পাই। না হলে আজ হয়তো এই সংসদে বসে এই গালাগাল শুনতে হতো।

আজ গাজীপুরের সিটিকর্পোরেশনের এমনই এক নেতার সাক্ষাতকার ছাপা হল বাংলানিউজে

আবোল আবোল:২
আমার বাসটা একটা হাইওয়ে রেস্টুরেন্টে থামল।সবাই খেতে গেল ভেতরে আমি পাইচারি করছি,ফুল গাছের ছবি তুলছি। একটু পরেই পাশে একটা কার এসে থামল। গাড়ি স্টার্ট রেখে দ্রুত বের হতে গিয়ে দুই দিকেই দরজা লক করে দিল। এবার উপায় গাড়ি তো চলছেই। তারাও এর ওপর কাছে চাবি চেয়ে এনে নানাভাবে চেষ্টা করছে। আমি এক মনে দেখে যাচ্ছি। সবাই যখন হাল ছেড়ে দিল,আমি আমার মানিব্যাগের চাবিটা দিয়ে ট্রাই দিলাম এবং খুলে গেল। সবাই সস্তি পেল। এবার স্টার্ট বন্ধ করে ভেতরে খেতে যাবে কিন্তু ড্রাইভার কোন ক্রমেই যাবে না। সে গাড়িতেই থাকবে। যে আমি তাদের উপকার করলাম এখন সেই আমিই তাদের কাছে বিপদজনক হয়ে আছি। তারা খেতে গেলে আমি গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাব না এই গ্যারান্টি কে দিবে? গাড়ির চাবি অন্যের হাতে রেখে ভেতরে গিয়ে স্বস্তিতে খাওয়া সম্ভব না সেটাই তো স্বাভাবিক?আমি ব্যপারটা বুঝতে পেরে যতক্ষন আমার গাড়ি না ছাড়ে ততক্ষন রহস্যজনক ভাবে পায়চারি করে কাটালাম। হা হা হা….

আবোল তাবোল :৩
আষাঢ় মাসে চৈত্র মাসের মতো রুধ। গরমে অতিষ্ঠ মধ্যবিত্ত। চামড়া পুরে যাওয়া রোদে রাস্তা দিয়ে হাঁটাই যাচ্ছে না। অল্প দূরত্বও বাহন দরকার হয়। মধ্যবিত্তের বাহন তো রিকসা। এই প্রচন্ড রোদের মাঝে মাথায় একটা গামছা দিয়ে রিকশাওয়ালা রাস্তায় ছুটে চলেছে। গরম তাকে স্পর্শ করে নাই, বসন্ত রোগের দুর্বল জীবাণু(টিকা) শরীরে দিলে বড় বসন্ত আর ভর করতে পারেনা। জীবনে যদি অভাব স্পর্শ করে রোদ,গরম,ঠাণ্ডা তখন গায়ে লাগে না।তাই সবার গরম সমান নয়।আমাদের প্রধান মন্ত্রী গরম হলে যা হবে। মিস্টার হাবলু গরম হলে কি একই ব্যপার হয়?

আবোল তাবোল :৪
সরকার যখন বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের জেলে দেয় অনেকে দেখি হা হুতাশ করে। আমার তখন প্রশ্ন থাকে। এই যে মন্ত্রী,আমলা,রাজনীতিবিদরা বড় বড় চেয়ারে বসে দেশ চালায়। তাদের জীবনে ত্যাগ বলতে আসলে কি কিছু আছে? এই কয়দিন যদি তারা জেলে না যায় তাহলে মাইকে বড় গলায় কি বলবে? তাই এই কয়েক দিন জেল মানে হলো তাদের জীবনে কিছু ত্যাগ। আরামের এসি বাসা ছেড়ে জেলের বিছানায় ঘুমানোর। বেশির ভাগ সময় তো হাসপাতালের বেডেই থাকে।

যা হোক। এই যে প্রায় সব নেতারাই জেলে যায়। জেলে কিছু দিন হলেও থাকে। কিন্তু তারা এই জেলের ব্যপারে কি কিছু করেছে? জেলে যাবার আগে যেমন আমাদের দেশের নেতা কর্মীরা জেলে যাওয়ার কোন সম্ভাবনাও মাথায় রাখেন না। যেমন আওয়ামীলীগ তাদের কোন নেতার মনে কি পরবর্তীতে জেলে যাওয়ার কোন চিন্তা আছে? নাই। তাই জেল থেকে যখন বের হয়ে আসে, তারা ধরে নেয় আর কখনো জেলে আসতে হবে না। তাই জেলের জীবন যাত্রার মান এখনো বৃটিশ আমলের মতোই আছে।

৫ thoughts on “আবোল তাবোল ধারাবাহিক

  1. আবোল তাবোল ধারাবাহিক হুমায়ূন
    আবোল তাবোল ধারাবাহিক হুমায়ূন আহমেদের বহুব্রীহি ধারাবাহিকের মতো সুস্বাদু হইছে। আপ্নে মিয়া আইলসা। লেখেন না ক্যারে? :টাইমশ্যাষ:

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *